আল কুরআন


সূরা আল-আম্বিয়া (আয়াত: 40)

সূরা আল-আম্বিয়া (আয়াত: 40)



হরকত ছাড়া:

بل تأتيهم بغتة فتبهتهم فلا يستطيعون ردها ولا هم ينظرون ﴿٤٠﴾




হরকত সহ:

بَلْ تَاْتِیْهِمْ بَغْتَۃً فَتَبْهَتُهُمْ فَلَا یَسْتَطِیْعُوْنَ رَدَّهَا وَ لَا هُمْ یُنْظَرُوْنَ ﴿۴۰﴾




উচ্চারণ: বাল তা’তীহিম বাগতাতান ফাতাবহাতুহুম, ফালা-ইয়াছতাতী‘উনা রাদ্দাহা-ওয়া লা-হুম ইউনজারূন।




আল বায়ান: বরং অকস্মাৎ তাদের উপর তা এসে পড়বে। অতঃপর তাদেরকে হতবাক করে দেবে। ফলে তারা তা ফিরাতে সক্ষম হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪০. বরং তা তাদের উপর আসবে অতর্কিতভাবে এবং তাদেরকে হতভম্ব করে দেবে। ফলে তারা তা রোধ করতে পারবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।




তাইসীরুল ক্বুরআন: বরং তা তাদের উপর হঠাৎ এসে যাবে আর তা তাদেরকে হতবুদ্ধি করে দেবে। অতঃপর তারা তা রোধ করতে পারবে না, আর তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।




আহসানুল বায়ান: (৪০) বরং হঠাৎ করেই ওটা তাদের উপর আসবে এবং তাদেরকে হতভম্ব করে দেবে; [1] ফলে তারা ওটা রোধ করতে পারবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না। [2]



মুজিবুর রহমান: বস্তুতঃ ওটা তাদের উপর আসবে অতর্কিতে এবং তাদেরকে হতভম্ব করে দিবে; ফলে তারা ওটা রোধ করতে পারবেনা এবং তাদেরকে অবকাশ দেয়া হবেনা।



ফযলুর রহমান: বরং আগুন তাদের কাছে অতর্কিতে এসে তাদেরকে হতবাক করে দেবে। তাই তারা তা রোধও করতে পারবে না এবং তাদেরকে সময়ও দেওয়া হবে না।



মুহিউদ্দিন খান: বরং তা আসবে তাদের উপর অতর্কিত ভাবে, অতঃপর তাদেরকে তা হতবুদ্ধি করে দেবে, তখন তারা তা রোধ করতেও পারবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।



জহুরুল হক: বস্তুতঃ তা তাদের উপরে এসে পড়বে অতর্কিতভাবে, ফলে তাদের তা হতবুদ্ধি করে দেবে, সেজন্যে তা এড়াবার ক্ষমতা থাকবে না, এবং তাদের অবকাশও দেওয়া হবে না।



Sahih International: Rather, it will come to them unexpectedly and bewilder them, and they will not be able to repel it, nor will they be reprieved.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪০. বরং তা তাদের উপর আসবে অতর্কিতভাবে এবং তাদেরকে হতভম্ব করে দেবে। ফলে তারা তা রোধ করতে পারবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪০) বরং হঠাৎ করেই ওটা তাদের উপর আসবে এবং তাদেরকে হতভম্ব করে দেবে; [1] ফলে তারা ওটা রোধ করতে পারবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেওয়া হবে না। [2]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, তারা কিছুই বুঝতে পারবে না যে, তারা কি করবে। (তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় বা হতবুদ্ধি হয়ে পড়বে।)

[2] অর্থাৎ, তাদেরকে তওবা বা ওজর-অজুহাত পেশ করার অবসর দেওয়া হবে না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৩৮-৪০ নং আয়াতের তাফসীর:



কাফিরদেরকে যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করতেন তখন তারা উপহাস করে বলত: এ শাস্তি কখন আসবে? তাদের এ কথার উত্তরে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তারা যদি এ শাস্তি সম্পর্কে অবগত থাকত তাহলে এ ব্যাপারে তারা তাড়াহুড়া করত না। সেদিন তারা কোন সাহায্যকারী পাবে না, যে তাদেরকে এ শাস্তি থেকে রক্ষা করবে। আর এ শাস্তি অতর্কিতভাবে আসবে। তখন তাদেরকে আর অবকাশ দেয়া হবে না। সেখানে সর্বদিক থেকে তারা আগুনের শাস্তি ভোগ করবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لَهُمْ مِّنْ فَوْقِهِمْ ظُلَلٌ مِّنَ النَّارِ وَمِنْ تَحْتِهِمْ ظُلَلٌ)



“তাদের জন্য তাদের ওপর দিক থেকে ঘিরে ধরবে আগুনের শিখা এবং তাদের নীচের দিক থেকেও ঘিরে ধরবে আগুনের শিখা।” (সূরা যুমার ৩৯:৪)

আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:



(لَهُمْ مِّنْ جَهَنَّمَ مِهَادٌ وَّمِنْ فَوْقِهِمْ غَوَاشٍ)



“তাদের শয্যা হবে জাহান্নামের এবং তাদের ওপরে আচ্ছাদনও।” (সূরা আ‘রাফ ৭:৪১)



সুতরাং বুঝা গেল যে, জাহান্নামের শাস্তি বড়ই যন্ত্রণায়ক। এ শাস্তি থেকে পরিত্রাণের কোনই পথ নেই একনিষ্ঠ ঈমান ও আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে কৃত সৎ আমল ব্যতীত। তাই আমাদের সচেতন হওয়া দরকার। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের তাওফীক দিন। আমীন!



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. শাস্তির ব্যাপারে তাড়াহুড়া করা যাবে না।

২. জাহান্নামে জাহান্নামীরা সর্বদিক থেকে আগুনের শাস্তি ভোগ করবে।

৩. শাস্তি এসে গেলে কাউকে অবকাশ দেয়া হবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৩৮-৪০ নং আয়াতের তাফসীর:

মুশরিকদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা খবর দিচ্ছেন যে, তারা কিয়ামত সংঘটিত হওয়াকে অসত্ব মনে করতে বলে আম্পর্ধা দেখিয়ে বলতোঃ “তুমি আমাদেরকে যা থেকে ভয় প্রদর্শন করছে তা কখন সংঘটিত হবে এবং এই প্রতিশ্রুতি কখন পূর্ণ হবে? মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাদেরকে জবাব দিচ্ছেনঃ তোমরা যদি বিবেকবান হতে এবং ঐ দিনের ভয়াবহ অবস্থা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে তবে কখনো এর জন্যে তাড়াহুড়া করতে না! ঐ সময় শাস্তি তোমাদেরকে তোমাদের উপর হতে ও তোমাদের পায়ের নীচে হতে আচ্ছন্ন করে ফেলবে। তখন তোমরা তোমাদের সম্মুখ ও পশ্চাৎ হতে ঐ শাস্তিকে প্রতিরোধ করতে পারবে না। ঐ দিন তোমরা গন্ধকের পোশাক পরিহিত থাকবে এবং ঐ অবস্থায় তোমাদের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হবে। তোমাদেরকে চতুর্দিক হতে জাহান্নাম পরিবেষ্টন করে ফেলবে। কেউই তোমাদেরকে সাহায্য করার জন্যে এগিয়ে আসবে না।

ঐ শাস্তি তাদের উপর অতর্কিতভাবে এসে পড়বে এবং তাদেরকে হতভম্ব ও হতবুদ্ধি করে দিবে। ফলে তারা তা রোধ করতে পারবে না এবং তাদেরকে মোটেই অবকাশও দেয়া হবে না।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।