আল কুরআন


সূরা ত্ব-হা (আয়াত: 133)

সূরা ত্ব-হা (আয়াত: 133)



হরকত ছাড়া:

وقالوا لولا يأتينا بآية من ربه أولم تأتهم بينة ما في الصحف الأولى ﴿١٣٣﴾




হরকত সহ:

وَ قَالُوْا لَوْ لَا یَاْتِیْنَا بِاٰیَۃٍ مِّنْ رَّبِّهٖ ؕ اَوَ لَمْ تَاْتِهِمْ بَیِّنَۃُ مَا فِی الصُّحُفِ الْاُوْلٰی ﴿۱۳۳﴾




উচ্চারণ: ওয়া কা-লূলাওলা-ইয়া’তীনা-বিআ-য়াতিম মির রাব্বিহী আওয়ালাম তা’তিহিম বাইয়িনাতুমা-ফিসসুহুফিল ঊলা-।




আল বায়ান: আর তারা বলে, ‘সে তার রবের কাছ থেকে আমাদের নিকট কোন নিদর্শন নিয়ে আসে না কেন’? পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে যে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে তা কি তাদের কাছে আসেনি?




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৩৩. আর তারা বলে, সে তার রব-এর কাছ থেকে আমাদের কাছে কোন নিদর্শন নিয়ে আসে না কেন? তাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণ আসেনি যা আগেকার গ্রন্থসমূহে রয়েছে?(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা বলে, ‘সে তার প্রতিপালকের নিকট থেকে আমাদের কাছে কোন নিদর্শন নিয়ে আসে না কেন? তাদের কাছে কি আসেনি স্পষ্ট প্রমাণ যা ছিল পূর্ববর্তী (ওয়াহীকৃত) কিতাবগুলোতে।’




আহসানুল বায়ান: (১৩৩) ওরা বলে, ‘সে তার প্রতিপালকের নিকট হতে আমাদের নিকট কোন নিদর্শন আনে না কেন?’[1] তাদের নিকট কি পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহের সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত হয়নি? [2]



মুজিবুর রহমান: তারা বলেঃ সে তার রবের নিকট হতে আমাদের জন্য কোন নিদর্শন কেন আনয়ন করেনা? তাদের নিকট কি আসেনি সুস্পষ্ট প্রমাণ যা আছে পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে?



ফযলুর রহমান: তারা বলে, “সে তার প্রভুর কাছ থেকে আমাদের জন্য কোন নিদর্শন (প্রমাণ) নিয়ে আসে না কেন?” তবে কি পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে যা কিছু (লেখা) আছে তার প্রমাণ তাদের কাছে আসেনি?



মুহিউদ্দিন খান: এরা বলেঃ সে আমাদের কাছে তার পালনকর্তার কাছ থেকে কোন নিদর্শন আনয়ন করে না কেন? তাদের কাছে কি প্রমাণ আসেনি, যা পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে আছে?



জহুরুল হক: আর তারা বলে -- "কেন সে তার প্রভুর কাছ থেকে আমাদের জন্য একটি নিদর্শন নিয়ে আসে না?" কী! তাদের কাছে কি পূর্ববর্তী গ্রন্থগুলোয় যা আছে সে সন্বন্ধে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসে নি?



Sahih International: And they say, "Why does he not bring us a sign from his Lord?" Has there not come to them evidence of what was in the former scriptures?



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৩৩. আর তারা বলে, সে তার রব-এর কাছ থেকে আমাদের কাছে কোন নিদর্শন নিয়ে আসে না কেন? তাদের কাছে কি সুস্পষ্ট প্রমাণ আসেনি যা আগেকার গ্রন্থসমূহে রয়েছে?(১)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ এটা কি কোন ছোটখাটো মু'জিযা যে, তাদের মধ্য থেকে এক নিরক্ষর ব্যক্তি এমন একটি কিতাব পেশ করেছেন, যাতে শুরু থেকে নিয়ে এ পর্যন্তকার সমস্ত আসমানী কিতাবের বিষয়বস্তু ও শিক্ষাবলীর নির্যাস বের করে রেখে দেয়া হয়েছে তাওরাত, যবুর, ইঞ্জল ও ইবরাহিমী সহীফা ইত্যাদি। আল্লাহর গ্রন্থসমূহ সৰ্বকালেই শেষ নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত ও রেসালাতের সাক্ষ্য দিয়েছে। এগুলোর বহিঃপ্রকাশ অবিশ্বাসীদের জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ নয় কি? [ফাতহুল কাদীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৩৩) ওরা বলে, ‘সে তার প্রতিপালকের নিকট হতে আমাদের নিকট কোন নিদর্শন আনে না কেন?’[1] তাদের নিকট কি পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহের সুস্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত হয়নি? [2]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, তাদের ইচ্ছামত কোন নিদর্শন; যেমন সামূদ জাতির জন্য উটনী আনা হয়েছিল।

[2] ‘পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহ’ বলতে তাওরাত, ইঞ্জীল, যাবূর ইত্যাদিকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ ঐগুলোতে কি নবী (সাঃ)-এর গুণাবলীর কথা উল্লেখ নেই, যার দ্বারা তাঁর নবী হওয়ার সত্যতা প্রমাণিত হয়? অথবা অর্থ এই যে, এদের কি পূর্ববর্তী জাতিদের অবস্থা জানা নেই যে, তারা যখন তাদের ইচ্ছামত মু’জিযা প্রদর্শনের দাবি করল এবং তাদেরকে তা দেখানো হল, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা ঈমান আনল না বলে তাদেরকে ধ্বংস করা হল?


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৩৩-১৩৫ নং আয়াতের তাফসীর:



মক্কার কাফির-মুশরিকরা বলত: মুহাম্মাদ যদি সত্য রাসূল হয়ে থাকে তাহলে তাঁর রবের থেকে কোন নিদর্শন নিয়ে আসে না কেন? অর্থাৎ তাদের মনমত নিদর্শন নিয়ে আসতে হবে। যেমন সূরা ইসরার ৯০-৯৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন: পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে তথা তাওরাত ইনজিল, যাবুর ইত্যাদিতে কি সুস্পষ্ট প্রমাণ আসেনি? সেখানে বলা হয়েছিল, আহমাদ নামে একজন নাবী আসবে, তাঁর কী কী গুণ থাকবে তাও আলোচনা করা হয়েছে। তারপরেও তাদের ঈমান আনতে বাধা কোথায়? মূলত যাদের ওপর আল্লাহর আযাবের কথা নির্ধারিত হয়ে গেছে তারা ঈমান আনবে না।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِنَّ الَّذِيْنَ حَقَّتْ عَلَيْهِمْ كَلِمَةُ رَبِّكَ لَا يُؤْمِنُوْنَ لا وَلَوْ جَا۬ءَتْهُمْ كُلُّ اٰيَةٍ حَتّٰي يَرَوُا الْعَذَابَ الْأَلِيْمَ)‏‏



“নিশ্চয়ই যাদের বিরুদ্ধে তোমার প্রতিপালকের বাক্য সাব্যস্ত হয়ে গিয়েছে, তারা ঈমান আনবে না, যদিও তাদের নিকট প্রত্যেকটি নিদর্শন আসে (তবুও তারা ঈমান আনবে না) যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে।” (সূরা ইউনুস ১০:৯৬)



(مِّنْ قَبْلِھ۪)



তার পূর্বে বলতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বুঝানো হয়েছে।



(كُلٌّ مُّتَرَبِّصٌ)



অর্থাৎ তোমরা আমার মৃত্যুর অপেক্ষা কর, আমি তোমাদের শাস্তির অপেক্ষা করি।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(قُلْ ھَلْ تَرَبَّصُوْنَ بِنَآ اِلَّآ اِحْدَی الْحُسْنَیَیْنِﺚ وَنَحْنُ نَتَرَبَّصُ بِکُمْ اَنْ یُّصِیْبَکُمُ اللہُ بِعَذَابٍ مِّنْ عِنْدِھ۪ٓ اَوْ بِاَیْدِیْنَاﺢ فَتَرَبَّصُوْٓا اِنَّا مَعَکُمْ مُّتَرَبِّصُوْنَ)‏



“বল:‎ ‘তোমরা আমাদের দু’টি মঙ্গলের একটির প্রতীক্ষা করছ এবং আমরা প্রতীক্ষা করছি যে, আল্লাহ তোমাদেরকে শাস্তি দেবেন সরাসরি নিজ পক্ষ হতে অথবা আমাদের হস্ত দ্বারা। অতএব তোমরা প্রতীক্ষা কর‎, আমরাও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষা করছি।’’ (সূরা তাওবা ৯:৫২)



মূলত যারা ঈমান না আনার তাদেরকে শত নিদর্শন দেখালেও ঈমান আনবে না। যারা আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে তারাই দাওয়াতের মাধ্যমে উপকৃত হয়।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর গুণাগুণের বর্ণনা পূর্ববর্তী কিতাবেও এসেছিল।

২. যাদের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে হিদায়াত নেই তারা দাওয়াতের মাধ্যমেও কোন উপকৃত হয় না। যেমন রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চাচা আবূ তালিব হয়নি।

সূরা ত্ব-হা-র তাফসীর সমাপ্ত


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৩৩-১৩৫ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা কাফিরদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, তারা বলতোঃ এই নবী (সঃ) তার সত্যবাদিতার প্রমাণ স্বরূপ কোন মু'জিযা দেখাচ্ছেন না কেন? তাদেরকে উত্তরে বলা হচ্ছেঃ এটা হচ্ছে ঐ কুরআন যা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের খবর অনুযায়ী আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবী উম্মীর (সঃ) উপর অবতীর্ণ করেছেন, যিনি লেখা পড়া জানেন না। দেখো, এতে পূর্ববর্তী লোকদের অবস্থা লিপিবদ্ধ রয়েছে এবং ঠিক ঐ সব কিতাব মুতাবেকই রয়েছে যেগুলি ইতিপূর্বে আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে অবতীর্ণ হয়েছিল। কুরআন কারীম এ সবগুলোর রক্ষক। পূর্ববর্তী কিতাব গুলি হ্রাস বৃদ্ধি হতে পবিত্র নয় বলে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে, যেন এটা ওগুলির শুদ্ধ ও অশুদ্ধকে পৃথক করে দেখিয়ে দেয় সূরায়ে আকাবৃতে কাফিরদের এই প্রতিবাদের জবাবে বলা হছেঃ (আরবী) অর্থাৎ তুমি বলঃ নিদর্শন আল্লাহর ইচ্ছাধীন, আমি তো একজন প্রকাশ্য সতর্ককারী মাত্র। এটা কি তাদের জন্যে যথেষ্ট নয় যে, আমি তোমার নিকট কুরআন অবতীর্ণ করেছি যা তাদের নিকট পাঠ করা হয়? এতে অবশ্যই মু'মিন সম্প্রদায়ের জন্যে অনুগ্রহ ও উপদেশ রয়েছে।” (২৯:৫০-৫১)

রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “প্রত্যেক নবীকে (আঃ) এমন মু'জিযা দেয়া। হয় যে, তা দেখে মানুষ তাঁর নুবওয়াতের উপর ঈমান আনয়ন করে। কিন্তু আমাকে (মু'জিযারূপে) ওয়াহীর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা এই কিতাব অর্থাৎ কুরআন দান করেছেন। আমি আশা করি যে, কিয়ামতের দিন সমস্ত নবীর (আঃ) অনুসারী অপেক্ষা আমার অনুসারীদের সংখ্যা বেশী হবে।” (এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে)

এটা স্মরণীয় বিষয় যে, এখানে রাসূলুল্লাহর (সঃ) সবচেয়ে বড় মুজিযা’র বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। এর অর্থ এটা নয় যে, এ ছাড়া তাঁর অন্য কোন মুজিযা ছিলই না। এই পবিত্র কুরআন ছাড়াও তার মাধ্যমে বহু মু'জিযা প্রকাশ পেয়েছে যা গণনা করা যাবে না। কিন্তু ঐ অসংখ্য মুজিযার উপর সবেচেয়ে বড় মু'জিযা হলো এই কুরআন কারীম।

মহান আল্লাহ বলেনঃ যদি আমি এই সম্মানিত ও মর্যাদা সম্পন্ন শেষ নবীকে (সঃ) প্রেরণ করার পূর্বেই এই কাফিরদেরকে শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করে দিতাম তবে তারা ওজর পেশ করে বলতোঃ যদি আমাদের কাছে কোন নবী আসতেন এবং আল্লাহ তাআলার কোন ওয়াহী অবতীর্ণ হতো তবে অবশ্যই আমরা তাঁর উপর ঈমান আনয়ন করতাম এবং তার অনুসরণ করতাম। আর তাহলে এই লাঞ্ছনা ও অপমান থেকে বাঁচতে পারতাম।” এ জন্যে আমি তাদের ঐ ওজরও কেটে দিলাম। তাদের কাছে রাসূল (সঃ) পাঠালাম এবং কিতাবও অবতীর্ণ করলাম। কিন্তু তথাপি ঈমান আনয়নের সৌভাগ্য তারা লাভ করলো না। আমি খুব ভালই জানি যে, একটি কেন, হাজার হাজার নিদর্শন দেখলেও তারা ঈমান আনবেন না! হাঁ,তবে যখন শাস্তি স্বচক্ষে দেখবে তখন ঈমান আনবে। কিন্তু তখন ঈমান আনা বৃথা। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি এই পবিত্র ও কল্যাণময় কিতাব অবতীর্ণ করেছি, সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ কর ও ভয় কর, তাহলে তোমাদের উপর করুণা বর্ষণ করা হবে।` (৬:১৫৫) তিনি আরো বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলে যে, যদি তাদের কাছে। কোন নিদর্শন আসে তবে তারা অবশ্যই ওর উপর ঈমান আনয়ন করবে।” (৬:১০৯)

এরপর আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীকে (সঃ) বলেনঃ হে মুহাম্মদ (সঃ) ! যারা তোমাকে মিথ্যা প্রতিপাদন করছে, তোমার বিরুদ্ধাচরণ করছে এবং তাদের কুফরী ও হঠকারিতার উপর স্থির থাকছে তাদেরকে বলে দাওঃ প্রত্যেকেই প্রতীক্ষা করছে, সুতরাং তোমরাও প্রতীক্ষা কর, অতঃপর তোমরা জানতে পারবে কারা রয়েছে সরল পথে এবং কারা সৎপথ অবলম্বন করেছে।

এটা আল্লাহ তাআলার নিম্নের উক্তির মতইঃ (আরবী) অর্থাৎ “যখন তারা শাস্তি অবলোকন করবে তখন কারা পথভ্রষ্ট তা তারা সত্বরই জানতে পারবে।” (২৫:৪২) মহান আল্লাহ আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আগামী কল্য তারা জানবে, কে মিথ্যাবাদী, দাম্ভিক।”(৫৪:২৬)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।