সূরা ত্ব-হা (আয়াত: 13)
হরকত ছাড়া:
وأنا اخترتك فاستمع لما يوحى ﴿١٣﴾
হরকত সহ:
وَ اَنَا اخْتَرْتُکَ فَاسْتَمِعْ لِمَا یُوْحٰی ﴿۱۳﴾
উচ্চারণ: ওয়া আনাখ তারতুকা ফাছতামি‘লিমা-ইউহা-।
আল বায়ান: ‘আর আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, সুতরাং যা ওহীরূপে পাঠানো হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শুন’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৩. আর আমি আপনাকে মনোনীত করেছি। অতএব যা ওহী পাঠানো হচ্ছে আপনি তা মনোযোগের সাথে শুনুন।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি তোমাকে বেছে নিয়েছি, কাজেই তুমি মনোযোগ দিয়ে শুনো যা তোমার প্রতি ওয়াহী করা হচ্ছে।
আহসানুল বায়ান: (১৩) আমি তোমাকে মনোনীত করেছি;[1] অতএব যে অহী (প্রত্যাদেশ) প্রেরণ করা হচ্ছে তুমি তা মনোযোগের সাথে শ্রবণ কর।
মুজিবুর রহমান: এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব যা অহী প্রেরণ করা হচ্ছে তুমি তা মনোযোগের সাথে শ্রবণ কর।
ফযলুর রহমান: “এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি। অতএব, যে ওহী পাঠানো হয় তা মনোযোগ দিয়ে শোন।
মুহিউদ্দিন খান: এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, অতএব যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে, তা শুনতে থাক।
জহুরুল হক: "আর আমি তোমাকে মনোনীত করেছি, তাই শোনো যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে।
Sahih International: And I have chosen you, so listen to what is revealed [to you].
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৩. আর আমি আপনাকে মনোনীত করেছি। অতএব যা ওহী পাঠানো হচ্ছে আপনি তা মনোযোগের সাথে শুনুন।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৩) আমি তোমাকে মনোনীত করেছি;[1] অতএব যে অহী (প্রত্যাদেশ) প্রেরণ করা হচ্ছে তুমি তা মনোযোগের সাথে শ্রবণ কর।
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, নবুঅত, রিসালত ও কথোপকথনের জন্য।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৯-৩৫ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতগুলোতে মূসা (عليه السلام) মাদইয়ানে দশ বছর অবস্থান করার পর যখন মিসরের উদ্দেশ্যে সস্ত্রীক ফিরে আসছিলেন তখন পথিমধ্যে আল্লাহ তা‘আলার সাথে তাঁর কথোপকথন, রিসালাত প্রাপ্তি ও সংশ্লিষ্ট ঘটনা বর্ণিত হয়েছে যার সারসংক্ষেপ হলো
মূসা (عليه السلام) সস্ত্রীক মাদইয়ান থেকে আসতে পথিমধ্যে রাত হয়ে গেল, রাস্তাও ছিল অজানা, রাস্তা খুঁজে পাচ্ছিলেন না, হয়তো কোন দিক নির্দেশনা পেলে রাস্তা পেতেন। কেউ কেউ বলেছেন, স্ত্রীর প্রসবের সময় ছিল আসন্ন, শীতও ছিল কনকনে। সব মিলিয়ে আগুনের প্রয়োজন। যখন তুর পাহাড়ের কাছে আসলেন তখন আগুন দেখতে পেলেন, পরিবারকে বললেন: তোমরা এখানে অবস্থান কর, আমি ঐখানে আগুন দেখতে পাচ্ছি, আগুন নিয়ে আসলে হয়তো শীত কাটানো যাবে অথবা একটা পথ খুঁজে পাব। অতঃপর যখন তিনি ঐ আগুনের নিকট পৌঁছলেন, তখন আওয়াজ এল, হে মূসা! আমিই তোমার পালনকর্তা। অতএব তুমি তোমার জুতো খুলে ফেল। কারণ তুমি পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় রয়েছ। আওয়াজটি এসেছিল গাছের আড়াল থেকে, যেমন সূরা ক্বাসাসের ৩০ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। জুতো খোলার নির্দেশ এ জন্য দেয়া হয়েছে যে, এতে বিনয় বেশি প্রকাশ পাবে এবং অধিক সম্মান প্রদর্শন করা হবে।
আর আমি তোমাকে রাসূল হিসেবে মনোনীত করেছি। অতএব তোমাকে যা প্রত্যাদেশ করা হচ্ছে তা মনোযোগ দিয়ে শোন। আমিই আল্লাহ তা‘আলা। আমি ব্যতীত আর কোন সত্যিকার মা‘বূদ নেই। অতএব একমাত্র আমার ইবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর।
(وَأَقِمِ الصَّلٰوةَ لِذِكْرِيْ)
‘আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর’ প্রথমে ব্যাপকভাবে ইবাদতের নির্দেশ দেয়ার পর বিশেষভাবে সালাত আদায় করার নির্দেশ দেয়া হল কেন অথচ ইবাদতের মাঝে সালাত শামিল? কারণ হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলাকে স্মরণ করার যত ইবাদত রয়েছে বা আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য হাসিল করার যত ইবাদত রয়েছে সকল ইবাদতের মাঝে সালাত সর্বোত্তম পন্থা। তাছাড়া এভাবে ব্যক্ত করে সালাতের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
(لِذِكْرِيْ) এর একটি অর্থ হল- আমার স্মরণার্থে, অর্থাৎ আমার স্মরণার্থে সালাত আদায় কর। কেননা আল্লাহ তা‘আলাকে স্মরণ করার প্রধান মাধ্যম হল সালাত।
দ্বিতীয় অর্থ হল যখনই আমার কথা স্মরণ হবে তখনই সালাত আদায় কর। অর্থাৎ যদি কোন সময় উদাসীনতায় বা ভুলে অথবা ঘুমে আমার স্মরণ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাও স্মরণ হওয়ার সাথে সাথেই সালাত আদায় কর। যেমন হাদীসে এসেছে: যদি তোমাদের কেউ সালাত আদায় করতে ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে যায় তাহলে যখনই স্মরণ হবে তখনই সালাত আদায় করে নেবে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন: ‘আমার স্মরণার্থে সালাত কায়েম কর’। (সহীহ বুখারী হা: ৫৯৭, সহীহ মুূসলিম হা: ৬৯৭)
তারপর মহান আল্লাহ বলেন: কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, আমি এটা গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেকেই নিজ কর্মানুযায়ী ফলাফল লাভ করতে পারে। সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাস করে না এবং নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে সে যেন তোমাকে (কিয়ামত বিষয়ে সতর্ক থাকা হতে) নিবৃত্ত না করে। তাহলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে। মূসা (عليه السلام)-কে ঈমানের মূলনীতির বর্ণনা দেয়ার পর কয়েকটি মু’জিযাহর বর্ণনা দিচ্ছেন যাতে তাঁর অন্তর প্রশান্তি লাভ করে।
(هِيَ عَصَايَ) মূসা (عليه السلام)-এর হাতে কী ছিল তা আল্লাহ তা‘আলা ভাল করেই জানেন, তারপরেও জিজ্ঞেস আকারে বলার কারণ হল মূসা (عليه السلام) যেন আল্লাহ তা‘আলার কথা মনযোগসহ শুনেন আর তাঁর প্রতি আল্লাহ তা‘আলা যে নেয়ামত দান করেছেন তার গুরুত্ব তুলে ধরা। মূসা (عليه السلام) ছাগল চরাতেন, ফলে এমন একটি মু’জিযাহ দেয়া হল যা তাঁর ব্যক্তিগত কাজেও উপকারে আসে। তিনি এ লাঠির ওপর প্রয়োজনে ভর দিতেন এবং ছাগলের খাবার পাতা পেড়ে দিতেন। আল্লাহ তা‘আলা মূসা (عليه السلام)-কে কেবল জিজ্ঞেস করেছেন তোমার হাতে কী? কিন্তু মূসা (عليه السلام) এত উত্তর দিলেন কেন! কারণ হল তিনি আল্লাহ তা‘আলার সাথে কথা বলার একটি সুযোগ পেলেন, যে কেউ বড়দের সাথে কথা বলতে ভালবাসে। তাই তিনি এ সুযোগে আল্লাহ তা‘আলার সাথে অনেক কথা বলে নিলেন।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে নির্দেশ প্রদান করে বলেন: তুমি তোমার হাত বগলে রাখ। তারপর দেখবে তা বের হয়ে আসবে উজ্জ্বল ও নির্মল আলো হয়ে, অন্য একটি নিদর্শনরূপে। এটা এজন্য যে, আমি তোমাকে আমার বড় বড় নির্দশনাবলীর কিছু অংশ দেখাতে চাই। এটা ছিল মূসা (عليه السلام)-কে দেয়া দ্বিতীয় মু‘জিযাহ।
মূসা (عليه السلام)-কে নবুওয়াত ও মু‘জিযাহ প্রদান করার পর আল্লাহ তা‘আলা দাওয়াতী কাজের নির্দেশ দিয়ে ফির‘আউনের কাছে প্রেরণ করলেন। طَغٰي অর্থ সীমালঙ্ঘন করা, অর্থাৎ ফির‘আউন বানী-ইসরাঈলদেরকে দাসে পরিণত করত, নানাভাবে নির্যাতন করত, পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা করত এবং কন্যাদেরকে জীবিত রাখত। এভাবে সে জমিনে সীমালংঘন করত।
মূসা (عليه السلام)-এর মুখে জড়তা ছিল, ভালভাবে কথা বলতে পারতেন না। তাই আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করলেন: হে আমার পালনকর্তা! আমার বক্ষ উন্মোচন করে দিন এবং আমার কাজ সহজ করে দিন, আমার মুখের জড়তা দূর করে দিন। যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে। আর আমার পরিবারের মধ্য থেকে আমার ভাই হারূনকে আমার সাহায্যকারী নিযুক্ত করে দিন। তার মাধ্যমে আমার শক্তিকে আরো বাড়িয়ে দিন। আর তাকে নবুওয়াত দিয়ে আমার দাওয়াতী কর্মে অংশীদার করুন। যাতে আমরা বেশি বেশি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করতে পারি এবং অধিক পরিমাণে আপনাকে স্মরণ করতে পারি। হারূন (عليه السلام) মূসা (عليه السلام) থেকে তিন অথবা চার বছরের বয়োজ্যেষ্ঠ ছিলেন এবং তিন বছর পূর্বেই মারা যান। মূসা (عليه السلام) যখন হারূন (عليه السلام)-এর জন্য দু‘আ করেন তখন তিনি মিসরে ছিলেন। (কুরতুবী)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে একটি বর্ণনা রয়েছে: যখন মূসা (عليه السلام) ফির‘আউনের বাড়িতে ছিলেন তখন একদা ফির‘আউনের মুখে মূসা (عليه السلام) চড় মারেন এবং তার দাড়ি ধরে টান মারেন। ফলে ফির‘আউন রাগান্বিত হয়ে আসিয়াকে বলে: সে আমার শত্র“, জল্লাদদেরকে ডেকে আন, তাকে মেরে ফেলব। আসিয়া বলল: সে তো একটি ছোট বাচ্চা, এর অপরাধের কারণে পাকড়াও করবেন? সে তো ভাল-মন্দ বুঝে না। তারপর পরীক্ষা করার জন্য একটি পাত্রে জ্বলন্ত অঙ্গার অপর পাত্রে মণিমুক্তা নিয়ে আসা হল। মূসা (عليه السلام) মণিমুক্তায় হাত দিতে গেলে জিবরীল (عليه السلام) হাত ধরে ফেলেন, হাতটি নিয়ে আগুনের অঙ্গারে রাখেন, মূসা (عليه السلام) তা থেকে অঙ্গার তুলে মুখে নিয়ে নেন ফলে হাত ও মুখ পুড়ে যায়। এভাবে তিনি তোতলা হয়ে যান। (কুরতুবী)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মূসা (عليه السلام) ও হারূন (عليه السلام)-এর নবুওয়াতের সত্যতা ও তাঁদেরকে দেয়া কয়েকটি মু’জিযাহর বিবরণ জানতে পারলাম।
২. দাওয়াতী কাজে অন্যের সহযোগিতা নেয়া যাবে।
৩. কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময় গোপন রাখার হিকমত জানলাম।
৪. ঘুম বা অজান্তে সালাতের সময়-ক্ষণ চলে গেলে স্মরণ হলেই সালাত আদায় করে নিবে।
৫. মুখে জড়তা বা ভাব প্রকাশে সমস্যা হলে এবং জ্ঞান বৃদ্ধির দু‘আ হল
رَبِّ اشْرَحْ لِیْ صَدْرِیْﭨﺫوَیَسِّرْ لِیْٓ اَمْرِیْﭩﺫوَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِّسَانِیْﭪﺫیَفْقَھُوْا قَوْلِیْ
এবং এ দু‘আ বেশি বেশি পড়তে হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১১-১৬ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হযরত মূসা (আঃ) যখন আগুনের কাছে পৌঁছলেন তখন ঐ বরকতময় মাঠের ডান দিকের গাছগুলির নিকট থেকে শব্দ আসলোঃ হে মূসা (আঃ)! আমি তোমার প্রতিপালক। তুমি তোমার পায়ের জুতা খুলে ফেলো। তাকে জুতা খুলে ফেলার নির্দেশ দেয়ার কারণ হয়তো এই যে, তার ঐ জুতা গাধার চামড়া দ্বারা নির্মিত ছিল, কিংবা হয়তো ঐ স্থানের সম্মানের কারণেই এই নিদের্শ দেয়া হয়েছিল যেমন কাবা গৃহে প্রবেশের সময় লোকেরা জুতা খুলে নেয়। অথবা ঐ বরকতময় জায়গায় পা পড়বে বলেই তাকে এই হুকুম দেয়া হয়। আরো কারণ বর্ণনা করা হয়েছে।
ঐ উপত্যকার নাম ছিল তুওয়া। কিংবা ভাবার্থ হচ্ছেঃ তুমি তোমার পা এই যমীনের সাথে মিলিয়ে নাও। অথবা ভাবার্থ হলোঃ এই যমীনকে কয়েকবার পাক করা হয়েছে এবং তাতে বরকত পরিপূর্ণ করে দেয়া হয়েছে। এভাবে বারবার করা হয়েছে এর পুনরাবৃতি। কিন্তু প্রথম উক্তিটিই সঠিকতম। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “যখন তাঁর প্রতিপালক তাঁকে পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় আহবান করেন। (৭৯:১৬)
মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি তোমাকে (রাসূল রূপে) মনোনীত করেছি। এই সময়ের সমস্ত লোকের উপর আমি তোমার মর্যাদা বাড়িয়ে দিয়েছি। বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তাআলা হযরত মূসাকে (আঃ) জিজ্ঞেস করেনঃ “আমি তোমাকে সমস্ত মানুষের উপর মর্যাদা দান করে তোমার সাথে আমি কথা বলেছি এর কারণ তুমি জান কি?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহ! এর কারণ তো আমার জানা নেই। তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে বলেনঃ “এর কারণ এই যে, তোমার মত কেউ আমার দিকে ঝুঁকে পড়ে নাই।” এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ যা ওয়াহী প্রেরণ করা হচ্ছে তুমি তা মনোযোগের সাথে শ্রবণ কর। আমিই তোমার মা'বূদ, আমি ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই। এটাই হলো তোমার প্রথম কর্তব্য যে, তুমি শুধু আমারই ইবাদত করবে। আর কারো কোন প্রকারের ইবাদত করবে না। আমাকে স্মরণার্থে নামায কায়েম কর। আমাকে স্মরণ করার সর্বোত্তম পন্থা হলো এটাই। অথবা এটা ভাবার্থ হবেঃ যখন আমাকে স্মরণ হবে তখন নামায কায়েম কর। যেমন হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের যদি কারো ঘুম এসে যায় বা গাফেল হয়ে পড়ে তবে যখন স্মরণ হয়ে যাবে তখন যেন নামায পড়ে নেয়। কেননা, আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ “আমার স্মরণাথে তোমরা নামায কায়েম কর।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)
হযরত আনাস (রাঃ) হতেই বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি নামায হতে ঘুমিয়ে পড়ে বা ভুলে যায় সে যেন স্মরণ হওয়া মাত্রই তা আদায় করে নেয়। তার কাফফারা এটা ছাড়া আর কিছুই নয়।` (এ হাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে)
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, আমি এটা গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেকেই নিজ কর্মানুযায়ী ফল লাভ করতে পারে। এক কিরআতে (আরবী) এর পরে (আরবী) শব্দও রয়েছে। কেননা আল্লাহ তাআলার সত্ত্বা হতে কোন কিছু গোপন নেই। সুতরাং অর্থ হবেঃ এর জ্ঞান আমি আমা ছাড়া আর কাউকেও প্রদান করবো না। কাজেই সারা ভূ-পৃষ্ঠে এমন কেউ নেই যার কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার নির্ধারিত সময় জানা আছে। এটা এমন একটা বিষয় যে, সম্ভব হলে আমি নিজ হতেও ওটাকে গোপন রাখতাম। কিন্তু আমার কাছে কোন কিছু গোপন থাকা সম্ভব নয়। এটা ফেরেশতাদের হতেও গোপন আছে এবং নবীরাও এটা জানেন না। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ (হে নবী (সঃ)! তুমি বলে দাওঃ আল্লাহ ছাড়া আসমান ও যমীনবাসীদের কেউই গায়েবের খবর জানে না।` (২৭:৬৫) অন্য আয়াতে আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ কিয়ামত) আসমানে ও যমীনে ভারী হয়ে গেছে, ওটা তোমাদের উপর হঠাৎ এসে যাবে।” (৭:১৮৭) অর্থাৎ এর অবগতি কারো নেই। এক কিরআতে (আরবী) রয়েছে। অরফা (রঃ) বলেনঃ “আমাকে হযরত সাঈদ ইবনু জুবাইর (রঃ) এভাবেই পড়িয়েছেন। এর অর্থ হলো (আরবী) অর্থাৎ আমি “ওটাকে প্রকাশ করবো।` সেইদিন প্রত্যেক আমলকারীকে তার আমলের প্রতিদান দেয়া হবে। তা অনুপরিমাণ পুণ্যই হোক অথবা পাপই হোক। ঐদিন প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করতেই হবে।
সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়ামতে বিশ্বাস করে না এবং নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে কিয়ামতে বিশ্বাস স্থাপন হতে নিবৃত্ত না করে। যদি সে তোমাকে নিবৃত্ত করতে সক্ষম হয়ে যায় তবে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।