সূরা ত্ব-হা (আয়াত: 128)
হরকত ছাড়া:
أفلم يهد لهم كم أهلكنا قبلهم من القرون يمشون في مساكنهم إن في ذلك لآيات لأولي النهى ﴿١٢٨﴾
হরকত সহ:
اَفَلَمْ یَهْدِ لَهُمْ کَمْ اَهْلَکْنَا قَبْلَهُمْ مِّنَ الْقُرُوْنِ یَمْشُوْنَ فِیْ مَسٰکِنِهِمْ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی النُّهٰی ﴿۱۲۸﴾
উচ্চারণ: আফালাম ইয়াহদি লাহুম কাম আহলাকনা-কাবলাহুম মিনাল কুরূনি ইয়ামশূনা ফী মাছাকিনিহিম ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়া-তিল লিউলিননুহা-।
আল বায়ান: এটি কি তাদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করল না যে, আমি তাদের পূর্বে কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদের বাসভূমিতে তারা বিচরণ করে? নিশ্চয় এর মধ্যে রয়েছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য নিদর্শন।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১২৮. এটাও কি তাদেরকে(১) সৎপথ দেখাল না যে, আমরা এদের আগে ধ্বংস করেছি বহু মানবগোষ্ঠী যাদের বাসভূমিতে এরা বিচরণ করে থাকে? নিশ্চয় এতে বিবেকসম্পন্নদের জন্য আছে নিদর্শন।(২)
তাইসীরুল ক্বুরআন: এটাও কি তাদেরকে সঠিক পথ প্রদর্শন করল না যে, আমি তাদের আগে কত মানব বংশকে ধ্বংস করে দিয়েছি যাদের বাসস্থানের ভিতর দিয়ে এরা চলাচল করে। বুদ্ধিমানদের জন্য অবশ্যই এতে নিদর্শন রয়েছে।
আহসানুল বায়ান: (১২৮) তবে কি এ কথা তাদেরকে পথনির্দেশ করে না যে, আমি তাদের পূর্বে এরূপ কত জনপদকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদের বাসস্থান দিয়ে তারা অতিক্রম করে থাকে। অবশ্যই এতে বিবেকবানদের জন্য নিদর্শন আছে।
মুজিবুর রহমান: এটাও কি তাদেরকে সৎ পথ দেখালনা যে, আমি তাদের পূর্বে ধ্বংস করেছি কত মানবগোষ্ঠী যাদের বাসভূমিতে তারা বিচরণ করে? অবশ্যই এতে বিবেক সম্পন্নদের জন্য রয়েছে নিদর্শন।
ফযলুর রহমান: আমি যে এদের পূর্বে বহু জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদের বাসস্থানসমূহে এরা চলাচল করছে, তাতেও কি এদের হেদায়েত হল না? এর মধ্যে তো বুদ্ধিমানদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন আছে।
মুহিউদ্দিন খান: আমি এদের পূর্বে অনেক সম্প্রদায়কে ধবংস করেছি। যাদের বাসভুমিতে এরা বিচরণ করে, এটা কি এদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করল না? নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমানদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।
জহুরুল হক: এটি কি তাদের সৎপথ দেখায় না যে তাদের পূর্বে আমরা ধ্বংস করেছি কত জনপদকে যাদের বাসভূমিতে এরা বিচরণ করছে? নিঃসন্দেহ এতে তো নিদর্শন রয়েছে বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্নদের জন্য।
Sahih International: Then, has it not become clear to them how many generations We destroyed before them as they walk among their dwellings? Indeed in that are signs for those of intelligence.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১২৮. এটাও কি তাদেরকে(১) সৎপথ দেখাল না যে, আমরা এদের আগে ধ্বংস করেছি বহু মানবগোষ্ঠী যাদের বাসভূমিতে এরা বিচরণ করে থাকে? নিশ্চয় এতে বিবেকসম্পন্নদের জন্য আছে নিদর্শন।(২)
তাফসীর:
(১) সে সময় মক্কাবাসীদেরকে সম্বোধন করে বক্তব্য রাখা হয়েছিল এবং এখানে তাদের প্রতিই ইংগিত করা হয়েছে। আয়াতের কয়েকটি অর্থ হতে পারে। এক. কুরআন অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি মক্কাবাসীদেরকে এই হেদায়াত দেননি এবং এ সম্পর্কে জ্ঞাত করেননি যে, তোমাদের পূর্বে অনেক সম্প্রদায় ও দল নাফরমানীর কারণে আল্লাহর আযাবে গ্রেফতার হয়ে ধ্বংস হয়ে গেছে, যাদের বাসভূমিতে এখন তোমরা চলাফেরা কর? দুই. আল্লাহ কি তাদেরকে হেদায়াত দেননি বা তাদেরকে সঠিক পথ দেখাননি? এ অর্থের উপর আরো প্রমাণ হল- কোন কোন কিরাআতে نَهْدِ পড়া হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর]
(২) অর্থাৎ ইতিহাসের এ ঘটনাবলী, প্রাচীন ধ্বংসাবশেষের এ পর্যবেক্ষণ, মানব জাতির এ অভিজ্ঞতায় তাদের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে যেগুলো থেকে তারা শিক্ষা নিতে পারে। যেমন অন্য আয়াতে বলেছেন, “তারা কি দেশ ভ্রমণ করেনি? তাহলে তারা জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন হৃদয় ও শ্রুতিশক্তিসম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হতে পারত। বস্তুত চোখ তো অন্ধ নয়, বরং অন্ধ হচ্ছে বুকের মধ্যে অবস্থিত হৃদয়।” [সূরা আল-হাজ্জ: ৪৬] [ইবন কাসীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১২৮) তবে কি এ কথা তাদেরকে পথনির্দেশ করে না যে, আমি তাদের পূর্বে এরূপ কত জনপদকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদের বাসস্থান দিয়ে তারা অতিক্রম করে থাকে। অবশ্যই এতে বিবেকবানদের জন্য নিদর্শন আছে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১২৪-১৩০ নং আয়াতের তাফসীর:
কিয়ামতের দিন একশ্রেণির মানুষ অন্ধ হয়ে উত্থিত হবে, অথচ তারা দুনিয়ায় চোখবিশিষ্ট ছিল, তার কারণ এ আয়াতগুলোতে বর্ণনা করা হচ্ছে। যারা আল্লাহ তা‘আলার যিকির ذِكْرِيْ তথা কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অমান্য করে, ইসলাম ও ঈমানের পরওয়া করে না তারাই কিয়ামতের দিন অন্ধ হয়ে উত্থিত হবে, তাদের জীবন হবে সংকটময়।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلٰي وُجُوْهِهِمْ عُمْيًا وَّبُكْمًا وَّصُمًّا ط مَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ ط كُلَّمَا خَبَتْ زِدْنٰهُمْ سَعِيْرًا )
“কিয়ামতের দিন আমি তাদেরকে সমবেত করব তাদের মুখে ভর দিয়ে চলা অবস্থায় অন্ধ, বোবা ও বধির করে। তাদের আবাসস্থল জাহান্নাম; যখনই তা স্তিমিত হবার উপক্রম হবে আমি তখনই তাদের জন্য অগ্নিশিখা বৃদ্ধি করে দেব” (সূরা ইসরা ১৭:৯৭)
(مَعِيْشَةً ضَنْكًا)
সংকীর্ণময় জীবন বলতে কেউ বলেছেন, কবরের জীবন উদ্দেশ্য। কেউ বলেছেন; দুনিয়াতে অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা ও ভয়-ভীতি অবস্থায় জীবন যাপন করবে।
কাফিররা কিয়ামতের দিন তাদের এ অন্ধত্বের কারণ জানতে চাইলে আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: তোমাদের কাছে দুনিয়াতে আমার নিদর্শনাবলী এসেছিল, কিতাব দিয়েছিলাম, রাসূল দিয়েছিলাম। তোমরা তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার মাধ্যমে আমাকে ভুলে ছিলে আজ আমিও তোমাদেরকে ভুলে যাব। অর্থাৎ জাহান্নামে দেয়া হবে, তার কোন কথাই শোনা হবে না। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(الَّذِيْنَ اتَّخَذُوْا دِيْنَهُمْ لَهْوًا وَّلَعِبًا وَّغَرَّتْهُمُ الْحَيٰوةُ الدُّنْيَا ج فَالْيَوْمَ نَنْسٰهُمْ كَمَا نَسُوْا لِقَا۬ءَ يَوْمِهِمْ هٰذَا لا وَمَا كَانُوْا بِاٰيٰتِنَا يَجْحَدُوْنَ )
“যারা তাদের দীনকে ক্রীড়া-কৌতুকরূপে গ্রহণ করেছিল এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে প্রতারিত করেছিল।’ সুতরাং আজ আমি তাদেরকে ভুলে যাব, যেভাবে তারা তাদের এদিনের সাক্ষাতকে ভুলে গিয়েছিল এবং যেভাবে তারা আমার নিদর্শনকে অস্বীকার করেছিল।” (সূরা আ‘রাফ ৭:৫১)
(وَكَذٰلِكَ نَجْزِيْ)
অর্থাৎ যারা কুফরী করে নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে, আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান আনেনি তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকেন। তাছাড়া তাদের জন্য পরকালে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি তো রয়েছেই।
তারপর আল্লাহ তা‘আলা আশ্চর্যবোধক শব্দে বলছেন: তাদের পূর্বে কত জাতি ধ্বংস করেছি। তারা এখনও তাদের জনপদে হাঁটা-চলা করে, এগুলোও কি তাদেরকে হিদায়াত দিল না! নিশ্চয়ই জ্ঞানীদের জন্য এগুলোর মধ্যে নিদর্শন রয়েছে। একটু চিন্তা করলেই অনুধাবন করতে পারত আমাদের পূর্বের এসব জাতিকে কেন ধ্বংস করা হল? নিশ্চয়ই তারা আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য হয়েছিল, তাই আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। কিয়ামতের দিন ও জাহান্নামের শাস্তি পূর্ব থেকেই নির্ধারণ করা না থাকলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সাথে সাথেই ধ্বংস করে দিতেন।
(قَبْلَ طُلُوْعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوْبِهَا)
সূর্যোদয়ের পূর্বে কথা দ্বারা ফজর ও সূর্যাস্তের পূর্বে কথা দ্বারা আসরের সালাত উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা ও তাসবীহসহ সালাত আদায় কর। যেমন হাদীসে এসেছে: জারীর বিন আবদুল্লাহ আল-বাজালী (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বসেছিলাম। তিনি পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন: তোমরা সত্বরই তোমাদের রবকে এভাবেই দেখতে পাবে যেভাবে এ চাঁদকে কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই দেখতে পাচ্ছ। সুতরাং সম্ভব হলে তোমরা সূর্যোদয়ের পূর্বের ও সূর্যাস্তের পূর্বের সালাতের হেফাযত কর। এরপর তিনি উক্ত আয়াতটি পাঠ করেন। (সহীহ বুখারী হা: ৫৫৪, সহীহ মুসলিম হা: ৪৩৯)
(وَمِنْ اٰنَآئِ اللَّيْلِ فَسَبِّحْ وَأَطْرَافَ النَّهَارِ)
এখানে রাত্রিকালে বলতে তাহাজ্জুদের সালাত বুঝানো হয়েছে। তবে কেউ কেউ বলেন, এর দ্বারা মাগরিব ও এশার সালাত বুঝানো হয়েছে। আর দিবসের প্রান্তসমূহেও, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হতে পার। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَلَسَوْفَ يُعْطِيْكَ رَبُّكَ فَتَرْضٰي)
“তোমার পালনকর্তা সত্বরই তোমাকে দান করবেন, অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন।” (সূরা যুহা ৯৩:৫) হাদীসে এসেছে আল্লাহ তা‘আলা বলবেন: হে জান্নাতবাসীরা! তারা উত্তরে বলবে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা হাজির আছি। তখন তিনি বলবেন: তোমরা খুশী হয়েছ কি? তারা জবাব দেবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের কী হয়েছে যে, আমরা খুশী হব না? আপনি তো আমাদেরকে এমন কিছু দিয়েছেন যা আপনার সৃষ্টজীবের আর কাউকেও দেননি। আল্লাহ তা‘আলা তখন বলবেন, এগুলো অপেক্ষাও উত্তম জিনিস আমি তোমাদেরকে প্রদান করবো। তারা উত্তরে বলবে: এর চেয়েও উত্তম জিনিস আর কী আছে? আল্লাহ তা‘আলা জবাব দেবেন: আমি তোমাদেরকে আমার সন্তুষ্টি প্রদান করছি। এরপরে আর কোন দিন আমি তোমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হব না। (সহীহ বুখারী হা: ৬৫৪৯, সহীহ মুসলিম হা: ২৮২৯)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলার বিধান থেকে যে বিমুখ হবে তাকে পরকালে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।
২. আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সাথে কথা বলবেন।
৩. আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেকের জন্য একটি নির্দিষ্ট কাল ঠিক করে রেখেছেন।
৪. বিপদে-আপদে ধৈর্যধারণ করতে হবে।
৫. ফজর ও আসর এবং তাহাজ্জুদ সালাতের গুরুত্ব সম্পর্কে জানা গেল।
৬. আল্লাহ তা‘আলার তাসবীহ পাঠ করার গুরুত্ব জানা গেল।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১২৮-১৩০ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে নবী (সঃ)! যারা তোমাকে মানে না এবং তোমার শরীয়তকে অস্বীকার করে তারা কি এর দ্বারা শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করে না যে, তাদের পূর্বে যারা এইরূপ আচরণ করেছিল, আমি তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছিলাম? আজ তাদের মধ্যে চোখ দিয়ে দেখার মত, শ্বাস গ্রহণ করার মত এবং মুখে কিছু বলার মত কেউ অবশিষ্ট আছে কি? তাদের সুউচ্চ, সুদৃশ্য এবং আঁকজমকপূর্ণ প্রাসাদ গুলির ধ্বংসাবশেষ রয়ে গেছে মাত্র। সেখান দিয়ে তো এরা চলা ফেরা করে থাকে। তাদের যদি জ্ঞান বুদ্ধি থাকতো তবে এর দ্বারা তারা বহু কিছু শিক্ষাগ্রহণ করতে পারতো। তারা কি যমীনে ঘোরাফেরা করে আল্লাহ তাআলার নিদর্শনাবলীর উপর চিন্তা গবেষণা করে না? কাফিরদের এ সব যন্ত্রণাদায়ক কাহিনী শুনে কি তারা শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে না? তাদের বস্তিগুলির ধ্বংসাবশেষ দেখেও কি তাদের চক্ষু খুলে না? এরা চোখের অন্ধ নয়, বরং অন্তরের অন্ধ। সূরায়ে আলিফ-লাম-মীম সিজদায়ও উপরোল্লিখিত আয়াতের মত আয়াত রয়েছে। আল্লাহ তাআলা স্বীয় বান্দাদের উপর একটা কাল নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এই কাল নির্ধারিত কাল না থাকলে তাদের প্রতি আশু শাস্তি অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়তো। ঐ নির্ধারিত কাল এসে গেলেই তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল দেয়া হবে। সুতরাং হে নবী (সঃ)! তারা যে তোমাকে মিথ্যা প্রতিপাদন করছে তার উপর ধৈর্য ধারণ কর। জেনে রেখো যে, তারা আমার আয়ত্তের বাইরে নয়।
‘সূর্যোদয়ের পূর্বে একথা দ্বারা ফজরের নামায উদ্দেশ্য এবং সুর্যাস্তের পূর্বে একথা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আসরের নামায।
হযরত জারীর ইবনু আবদিল্লাহ বাজালী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “একদা আমরা রাসূলুল্লাহর (সঃ) নিকট বসেছিলাম। তিনি চৌদ্দ তারিখের চাদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ “তোমরা সত্বরই তোমাদের প্রতিপালককে এভাবেই দেখতে পাবে যেভাবে এই চাদকে কোন প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই দেখতে পাচ্ছ। সুতরাং সম্ভম্ব হলে তোমরা সূর্যোদয়ের পূর্বের ও সূর্যাস্তের পূর্বের নামাযের হিফাযত করো।” অতঃপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন।” (এহাদীসটি সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে)
হযরত আম্মারা ইবনু রাবিয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহকে (সঃ) বলতে শুনেছেনঃ “এমন কেউই কখনো জাহান্নামে যাবে না যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের পূর্বের নামায আদায় করলো।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)
হযরত ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “সবচেয়ে নিম্নমানের জান্নাতী হলো ঐ ব্যক্তি যে দুই হাজার বছরের রাস্তা পর্যন্ত নিজের অধিকারভুক্ত জায়গায়ই দেখতে পাবে। সবচেয়ে দুরবর্তী জিনিস তার জন্যে এমনই হবে যেমন হবে সবচেয়ে নিকটবর্তী জিনিস। আর সবচেয়ে উচ্চমানের জান্নাতী তো প্রতি দিন দু'বার করে আল্লাহ তাআলার দর্শন লাভ করবে।” (এ হাদীসটি মুসনাদে ও সুনান গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে)
মহান আল্লাহ বলেনঃ এবং রাত্রিকালে (তোমার প্রতিপালকের) পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর। অর্থাৎ রাত্রে তাহাজ্জুদের নামায পড়। কেউ কেউ বলেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মাগরিব ও এশার নামায। আর দিনের প্রান্ত সমূহেও আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা কর, যাতে তার পুরস্কার ও প্রতিদান পেয়ে তুমি সন্তুষ্ট হতে পার। যেমন আল্লাহ তাআলা এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “অচিরেই তোমার প্রতিপালক তোমাকে অনুগ্রহ দান করবেন, আর তুমি সন্তুষ্ট হবে।” (৯৩:৫)
সহীহ হাদীসে রয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ “হে জান্নাতবাসীরা!” তারা উত্তরে বলবেঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা হাজির আছি।` তখন তিনি বলবেনঃ “তোমরা খুশী হয়েছে কি?” তারা জবাব দিবেঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের কি হয়েছে যে, আমরা খুশী হবো না? আপনি তো আমাদেরকে এমন কিছু দিয়েছেন যা আপনার সৃষ্টজীবের আর কাউকেও দেন নি!” আল্লাহ তাআলা তখন বলবেনঃ “এগুলি অপেক্ষাও উত্তম জিনিস আমি তোমাদেরকে প্রদান করবো।` তারা উত্তরে। বলবেঃ “এর চেয়েও উত্তম জিনিস আর কি আছে?” আল্লাহ তাআলা জবাব দিবেনঃ “আমি তোমাদেরকে আমার সন্তুষ্টি প্রদান করছি। এরপরে আর কোনও দিন আমি তোমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হবে না।”
অন্য হাদীসে আছে যে, বলা হবেঃ “হে জান্নাতীরা! আল্লাহ তাআলা তোমাদের সাথে যে ওয়াদা করেছিলেন তা তিনি পূর্ণ করতে চান। তারা বলবেঃ “আল্লাহ তাআলার সব ওয়াদা তো পূর্ণ হয়েই গেছে। আমাদের চেহারা উজ্জ্বল হয়েছে, আমাদের পুণ্যের পাল্লা ভারী হয়ে গেছে, আমাদেরকে জাহান্নাম থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে এবং জান্নাতে প্রবিষ্ট করা হয়েছে। সুতরাং আর কিছুই তো বাকী নেই।” তৎক্ষণাৎ পর্দা উঠে যাবে এবং তারা। মহামহিমান্বিত আল্লাহকে দেখতে পাবে। আল্লাহর শপথ! এর চেয়ে উত্তম নিয়ামত আর কিছুই হবে না এটাই প্রচুর।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।