সূরা ত্ব-হা (আয়াত: 112)
হরকত ছাড়া:
ومن يعمل من الصالحات وهو مؤمن فلا يخاف ظلما ولا هضما ﴿١١٢﴾
হরকত সহ:
وَ مَنْ یَّعْمَلْ مِنَ الصّٰلِحٰتِ وَ هُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا یَخٰفُ ظُلْمًا وَّ لَا هَضْمًا ﴿۱۱۲﴾
উচ্চারণ: ওয়া মাইঁ ইয়া‘মাল মিনাসসা-লিহা-তি ওয়া হুওয়া মু’মিনুন ফালা-ইয়াখা-ফুজুলমাওঁ ওয়ালাহাদমা-।
আল বায়ান: এবং যে মুমিন অবস্থায় ভাল কাজ করবে সে কোন যুলম বা ক্ষতির আশংকা করবে না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১২. আর যে মুমিন হয়ে সৎকাজ করে, তার কোন আশংকা নেই অবিচারের এবং অন্য কোন ক্ষতির।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যে সৎ কাজ করবে মু’মিন হয়ে, তার অবিচার বা ক্ষতির কোন আশংকা নেই।
আহসানুল বায়ান: (১১২) আর যে বিশ্বাসী হয়ে সৎকাজ করে তার কোন অবিচার ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চনার আশঙ্কা নেই। [1]
মুজিবুর রহমান: এবং যে সৎ কাজ করে মু’মিন হয়, তার আশংকা নেই অবিচারের এবং ক্ষতিরও।
ফযলুর রহমান: ঈমানদার অবস্থায় যে সৎকাজ করে সে কোন অবিচার কিংবা ক্ষতির আশংকা করবে না।
মুহিউদ্দিন খান: যে ঈমানদার অবস্থায় সৎকর্ম সম্পাদন করে, সে জুলুম ও ক্ষতির আশঙ্কা করবে না।
জহুরুল হক: আর যে কেউ সৎকর্ম থেকে কাজ করে যায় আর সে মুমিন হয়, সে তবে আশঙ্কা করবে না কোনো অবিচারের, আর না কোনো ক্ষতি হবার।
Sahih International: But he who does of righteous deeds while he is a believer - he will neither fear injustice nor deprivation.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১১২. আর যে মুমিন হয়ে সৎকাজ করে, তার কোন আশংকা নেই অবিচারের এবং অন্য কোন ক্ষতির।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১১২) আর যে বিশ্বাসী হয়ে সৎকাজ করে তার কোন অবিচার ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চনার আশঙ্কা নেই। [1]
তাফসীর:
[1] বে-ইনসাফি (অন্যায় বা অবিচার) এই যে, অন্যের পাপের বোঝা কারো ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হবে। আর অধিকার হনন বা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এই যে, নেকীর বদলা কম করে দেওয়া হবে। কিয়ামতে এ উভয় জিনিসই হবে না।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১০৯-১১২ নং আয়াতের তাফসীর:
কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ছাড়া কেউ কারো জন্য শাফাআত করতে পারবে না। এমনকি নাবী-রাসূলগণও নয়।
গ্রহণযোগ্য শাফায়াত: এর জন্য তিনটি শর্ত। যথা
১. শাফাআতকারীর ওপর আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি। যেমন অত্র আয়াত।
২. যার জন্য শাফাআত করা হবে তার ওপর আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(وَكَمْ مِنْ مَلَكٍ فِي السَّمَاوَاتِ لَا تُغْنِي شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِنْ بَعْدِ أَنْ يَأْذَنَ اللَّهُ لِمَنْ يَشَاءُ وَيَرْضَي)
“আকাশসমূহে কত ফেরেশতা রয়েছে! তাদের কোন সুপারিশ কাজে আসবে না যতক্ষণ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা এবং যার প্রতি সন্তুষ্ট তাকে অনুমতি না দেন।” (সূরা নাজম ৫৩:২৬)
৩. শাফাআত করার অনুমতি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ)
“কে সে যে তাঁর নিকট (আল্লাহর) সুপারিশ করবে তার অনুমতি ছাড়া।” (সূরা বাক্বারাহ ২:২৫৫)
এসব শর্তসাপেক্ষে শাফাআত করা যাবে এবং পাওয়া যাবে। সুতরাং যে সব নামধারী মুসলিম শাফাআত করার ও পাওয়ার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, তা বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘন ছাড়া কিছুই নয়।
এ শাফাআত সম্পর্কে সূরা বাকারার ৪৮ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
অতঃপর আল্লাহ বলেন, তিনি মানুষের সকল বিষয় অবগত আছেন। মানুষ যা অতীতে করে এসেছে তাও জানেন, মানুষের সামনে যা আছে তাও জানেন। সেদিন তাঁর সম্মুখে সকলেই অবনত হবে এবং সেই ব্যর্থ হবে, যে দুনিয়াতে নিজের প্রতি জুলুম করেছে, আল্লাহ তা‘আলার সাথে শির্ক করে জুলুম করেছে, মানুষের প্রতি জুলুম করেছে, ফলে কিয়ামতের দিন জুলুমের ভার বহন করতে হবে।
পক্ষান্তরে যারা ঈমান আনবে ও সৎ কাজ করবে তাদের কোন প্রকার ক্ষতির ভয় বা আশঙ্কা থাকবে না। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(إِنَّ اللّٰهَ لَا يَظْلِمُ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ ج وَإِنْ تَكُ حَسَنَةً يُّضٰعِفْهَا وَيُؤْتِ مِنْ لَّدُنْهُ أَجْرًا عَظِيْمًا )
“আল্লাহ অণু পরিমাণও জুলুম করেন না। আর কোন পুণ্য কর্ম হলে আল্লাহ তাকে দ্বিগুণ করেন এবং আল্লাহ তাঁর নিকট হতে মহাপুরস্কার প্রদান করেন।” (সূরা নিসা ৪:৪০)
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(أَلَآ إِنَّ أَوْلِيَا۬ءَ اللّٰهِ لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُوْنَ )
“জেনে রেখ! আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।” (সূরা ইউনুস ১০:৬২)
সুতরাং যেদিন কারো সুপারিশ করার ক্ষমতা থাকবে না, কোন সম্পদ, সন্তান-সন্ততি কাজে আসবে না, সেদিনের সম্বল হিসেবে ঈমান ও সৎ আমল করা উচিত। যারা ঈমান ও সৎ আমল নিয়ে যাবে তাদের কোন ভয় ও শংকা থাকবে না ।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. সেদিন আল্লাহ তা‘আলা যাকে অনুমতি দেবেন সে ব্যতীত কেউ কোন প্রকার সুপারিশ করতে পারবে না।
২. আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সকল বিষয় অবগত আছেন।
৩. মানুষের জ্ঞান দ্বারা আল্লাহ তা‘আলাকে আয়ত্ত করা যায় না।
৪. সেদিন সকলে আল্লাহ তা‘আলার সম্মুখে অবনমিত অবস্থায় থাকবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১০৯-১১২ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা বলেনঃ কিয়ামতের দিন কারো ক্ষমতা হবে না যে, সে অন্যের জন্যে সুপারিশ করে। তবে যাকে তিনি অনুমতি দিবেন সে করতে পারে। আকাশের ফেরেশতা অথবা কোন বুযুর্গ ব্যক্তিও আল্লাহ তাআলার অনুমতি ছাড়া কারো জন্যে সুপারিশ করতে পারবে না। সবাই সেদিন তীত সন্ত্রস্ত থাকবে। অনুমতি ছাড়া কারো সুপারিশ চলবে না। ফেরেশতামণ্ডলী ও রুহ (জিবরাঈল (আঃ) সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাবেন। আল্লাহ তাআলার অনুমতি ছাড়া কেউ যুবান খুলতে পারবে না স্বয়ং সাইয়্যেদুল মুরসালীন হযরত মহাম্মদ (সঃ) আরশের নীচে আল্লাহর সামনে সিজদায় পড়ে যাবেন। খুব বেশী তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করবেন। দীর্ঘক্ষণ তিনি সিজদায় পড়ে থাকবেন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলবেনঃ “হে মুহাম্মদ (সঃ)! মাথা উঠাও, কথা বল, তোমার কথা শোনা হবে। শাফাআত কর, তোমার শাফাআত কবুল করা হবে। তারপর সীমা নির্ধারণ করা হবে। তিনি সুপারিশ করে তাদেরকে জান্নাতে নিয়ে যাবেন। আবার তিনি ফিরে আসবেন এবং এটাই হবে। চার বার এরূপই ঘটবে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) এবং সমস্ত নবীর উপর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
হাদীসে আরো আছে যে, আল্লাহ তাআলা হুকুম করবেনঃ “ঐ লোকদেরকেও জাহান্নাম হতে বের করে আনো যাদের অন্তরে এক দানা পরিমাণও ঈমান আছে।” তখন তার (ফেরেশতারা) বহু সংখ্যক লোককে
জাহান্নাম হতে বের করে আনবেন। আবার তিনি বলবেনঃ “যাদের অন্তরে অর্ধদানা পরিমাণও ঈমান আছে তাদেরকেও বের করে আনো। যাদের অন্তরে অনুপরিমাণও ঈমান আছে তাদেরকেও বের করে নিয়ে এসো। যাদের অন্তরে এর চেয়েও কম ঈমান রয়েছে তাদেরকেও জাহান্নাম হতে বের করে নিয়ে এসো। এর চেয়েও কম ঈমানদারদের বের করো।”
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তিনি সমস্ত সৃষ্টজীবকে নিজের জ্ঞান দ্বারা পরিবেষ্টন করে রেখেছেন, কিন্তু সৃষ্টজীব তাদের জ্ঞান দ্বারা তাকে পরিবেষ্টন করতে পারে না। যেমন তিনি বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যা তিনি ইচ্ছা করেন তদ্ব্যতীত তাঁর জ্ঞানের কিছুই তারা আয়ত্ত করতে পারে না।` (২:২৫৫)
তিনি বলেনঃ তার নিকট সবাই হবে অধোবদন এবং সেই ব্যর্থ হবে যে জুলুমের ভার বহন করবে। কেননা, তিনি মৃত্যু ও ধ্বংস হতে পবিত্র ও মুক্ত। তিনি চিরঞ্জীব ও চির বিদ্যমান। তিনি ঘুমও যান না এবং তাঁকে তন্দ্রাও আচ্ছন্ন করে না। তিনি নিজে সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছেন এবং কৌশল ও ক্ষমতা বলে সবকিছুকেই প্রতিষ্ঠিত রেখেছেন। সবকিছুর দেখা শোনা ও রক্ষণাবেক্ষণ তিনিই করে থাকেন। সবারই উপর তিনি পূর্ণ ক্ষমতাবান এবং সমস্ত সৃষ্টজীব তাঁরই মুখাপেক্ষী। মহান আল্লাহর মর্জি বা ইচ্ছা ছাড়া কেউ সৃষ্টও হতে পারে না এবং বাকীও থাকতে পারে না। এখানে যে জুলুম করবে সেখানে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। কেননা, সেইদিন আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক হকদারকে তার হক আদায় করে দিবেন। এমন কি শিং বিহীন বকরীকেও তিনি শিং বিশিষ্ট বকরী হতে প্রতিশোধ গ্রহণ করাবেন।
হাদীসে রয়েছে যে, মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলবেনঃ “আমার মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের শপথ! আজ জালিমের জুলুম আমাকে অতিক্রম করতে পারবে না।” সহীহ্ হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা জুলুম থেকে দূরে থাকো। কেননা, কিয়ামতের দিন জুলুম অন্ধকাররূপে প্রকাশ পাবে। আর সেইদিন সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হবে ঐ ব্যক্তি যে মুশরিক অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে। কেননা, শিক হচ্ছে বড় জুলুম।`।
জালিমদের পরিণাম ফল বর্ণনা করার পর আল্লাহ তাআলা সৎকর্মশীলদের প্রতিদানের বর্ণনা দিচ্ছেন যে, যারা মু'মিন অবস্থায় সকার্যাবলী সম্পাদন করে তাদের অবিচারেরও কোন আশংকা নেই এবং ক্ষতিরও কোন ভয় নেই।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।