আল কুরআন


সূরা আল-কাহফ (আয়াত: 36)

সূরা আল-কাহফ (আয়াত: 36)



হরকত ছাড়া:

وما أظن الساعة قائمة ولئن رددت إلى ربي لأجدن خيرا منها منقلبا ﴿٣٦﴾




হরকত সহ:

وَّ مَاۤ اَظُنُّ السَّاعَۃَ قَآئِمَۃً ۙ وَّ لَئِنْ رُّدِدْتُّ اِلٰی رَبِّیْ لَاَجِدَنَّ خَیْرًا مِّنْهَا مُنْقَلَبًا ﴿۳۶﴾




উচ্চারণ: ওয়ামাআজুন্নুছছা-‘আতা কাইমাতাওঁ ওয়ালাইর রুদিততুইলা-রাববী লাআজিদান্না খাইরাম মিনহা-মুনকালাবা-।




আল বায়ান: ‘আর আমি মনে করি না যে, কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর আমাকে যদি ফিরিয়ে নেয়া হয় আমার রবের কাছে, তবে নিশ্চয় আমি এর চেয়ে উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল পাব’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৬. আমি মনে করি না যে, কেয়ামত সংঘটিত হবে। আর আমাকে যদি আমার রব-এর কাছে ফিরিয়ে নেয়াও হয়, তবে আমি তো নিশ্চয় এর চেয়ে উৎকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল পাব।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি মনে করি না যে কিয়ামাত হবে। আর যদি আমাকে আমার প্রতিপালকের কাছে ফিরিয়ে নেয়া হয়ই, তাহলে অবশ্য অবশ্যই আমি পরিবর্তে আরো উৎকৃষ্ট স্থান পাব।




আহসানুল বায়ান: (৩৬) আমি মনে করি না যে, কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে। আর আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবৃত্ত হই-ই, তাহলে আমি অবশ্যই এটা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট স্থান পাব। [1]



মুজিবুর রহমান: আমি মনে করিনা যে, কিয়ামাত হবে, আর আমি যদি আমার রবের নিকট প্রত্যাবৃত্ত হই-ই তাহলে আমিতো নিশ্চয়ই এটা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট স্থান পাব।



ফযলুর রহমান: “আমি মনে করি না, কেয়ামত (কখনও) সংঘটিত হবে। আর (আসলেই) যদি আমাকে আমার প্রভুর নিকট ফিরিয়ে নেওয়া হয় তাহলে (সেখানে) আমি অবশ্যই এর চেয়ে ভাল প্রত্যাবর্তনস্থল পাব।”



মুহিউদ্দিন খান: এবং আমি মনে করি না যে, কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। যদি কখনও আমার পালনকর্তার কাছে আমাকে পৌঁছে দেয়া হয়, তবে সেখানে এর চাইতে উৎকৃষ্ট পাব।



জহুরুল হক: আর আমি মনে করি না যে ঘড়িঘন্টা বলবৎ হবে, আর যদিবা আমার প্রভুর কাছে আমাকে ফিরিয়ে নেয়া হয় তবে আমি তো নিশ্চয়ই এর চেয়েও ভাল প্রত্যাবর্তনস্থল পাব।



Sahih International: And I do not think the Hour will occur. And even if I should be brought back to my Lord, I will surely find better than this as a return."



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩৬. আমি মনে করি না যে, কেয়ামত সংঘটিত হবে। আর আমাকে যদি আমার রব-এর কাছে ফিরিয়ে নেয়াও হয়, তবে আমি তো নিশ্চয় এর চেয়ে উৎকৃষ্ট প্রত্যাবর্তনস্থল পাব।(১)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ যদি আখেরাত থেকেই থাকে তাহলে আমি সেখানে এখানকার চেয়েও বেশী সচ্ছল থাকবো। কারণ এখানে আমার সচ্ছল ও ধনাঢ্য হওয়া এ কথাই প্ৰমাণ করে যে, আমি আল্লাহর প্ৰিয়। অন্য আয়াতেও ধনবান কাফেরদের এধরনের কথা এসেছে, যেমন, “আর আমি যদি আমার রবের কাছে ফিরেও যাই তাঁর কাছে নিশ্চয় আমার জন্য কল্যাণই থাকবে।” [সূরা ফুসসিলাত: ৫০]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩৬) আমি মনে করি না যে, কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে। আর আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবৃত্ত হই-ই, তাহলে আমি অবশ্যই এটা অপেক্ষা উৎকৃষ্ট স্থান পাব। [1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, সেই কাফের কেবল তার অহংকার ও দাম্ভিকতাতেই পতিত ছিল না, বরং তার উন্মত্ততা ও ভবিষ্যতের সৌন্দর্যময় ও সুদীর্ঘ আশা-আকাঙ্ক্ষা তাকে আল্লাহর পাকড়াও এবং কুকর্মের প্রতিফল পাওয়ার ব্যাপারে একেবারে উদাসীন করে রেখেছিল। এমন কি সে কিয়ামতকেও অস্বীকার করল এবং বড়ই ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে বলল যে, কিয়ামত যদি সংঘটিত হয়ও, তবে সেখানেও আমার ভাগ্যে জুটবে উত্তম পরিণাম। যার কুফরী ও অবাধ্যতা সীমা অতিক্রম করে যায়, সে মাতালের মত এই ধরনের অহংকারমূলক দাবী করে। যেমন, অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন, وَلَئِنْ رُجِعْتُ إِلَى رَبِّي إِنَّ لِي عِنْدَهُ لَلْحُسْنَى (فصلت: ৫০) ‘‘আমি যদি আমার পালনকর্তার কাছে যাই, তবে অবশ্যই তাঁর কাছে আমার জন্য কল্যাণ রয়েছে।’’ (সূরা হা-মীম সাজদাহ ৫০ আয়াত) أَفَرَأَيْتَ الَّذِي كَفَرَ بِآياتِنَا وَقَالَ لَأُوتَيَنَّ مَالًا وَوَلَدًا (مريم:৭৭) ‘‘তুমি কি তাকে লক্ষ্য করেছ, যে আমার নিদর্শনাবলীতে অবিশ্বাস করে এবং বলে, আমাকে অর্থ-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি অবশ্যই দেওয়া হবে।’’ (সূরা মারয়্যাম ৭৭ আয়াত)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৩২-৪৪ নং আয়াতের তাফসীর:



উক্ত আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা দু’ ব্যক্তির উদাহরণ দেয়ার মাধ্যমে যারা গর্ব-অহঙ্কার ও আল্লাহ তা‘আলার সাথে শির্ক করে তাদের পরিণাম এবং যারা আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করে ও তাঁর শুকরিয়া আদায় করে আর তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে না তাদের প্রতিদানের কথা তুলে ধরেছেন।



তাহল আল্লাহ তা‘আলা এক ব্যক্তিকে দুটি উদ্যান দান করেছিলেন আর ঐ উদ্যানকে খর্জুর বৃক্ষ দ্বারা পরিবেষ্টিত করে দিয়েছেন এবং এ দু’ বাগানের মধ্যবর্তী স্থানে ছিল শস্যক্ষেত্র। উভয় বাগান থেকে ফল আসত আর তার ফাঁকে ফাঁকে ছিল নহর প্রবাহিত। এই সকল কারণে বাগানের মালিক অহঙ্কারী হয়ে পড়ে এবং আল্লাহ তা‘আলার সাথে শরীক করে ও কিয়ামতকে অস্বীকার করে বসে। এমনকি সে অহঙ্কার করে বলে যে, আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তন করি তবে আমাকে তার চেয়ে আরও উত্তম জিনিস দেয়া হবে। যেমন সে বলত:



(وَّلَئِنْ رُّجِعْتُ إِلٰي رَبِّيْٓ إِنَّ لِيْ عِنْدَه۫ لَلْحُسْنٰي)



“আর আমি যদি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিত হইও তবে তাঁর নিকট তো আমার জন্য কল্যাণই থাকবে।” (সূরা হা-মীম সাজদাহ ৪১:৫০)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(أَفَرَأَيْتَ الَّذِيْ كَفَرَ بِاٰيٰتِنَا وَقَالَ لَأُوْتَيَنَّ مَالًا وَّوَلَدًا ‏)‏



“তুমি কি লক্ষ্য করেছ সে ব্যক্তিকে, যে আমার আয়াতসমূহ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সে বলে, ‘আমাকে ধন-সম্পদ ও সন্ত‎ান-সন্ত‎তি দেয়া হবেই।’’ (সূরা মারইয়াম ১৯:৭৭)



কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তার এই অহঙ্কারের কারণে তার সকল কিছু ধ্বংস করে দিলেন। তখন আল্লাহ তা‘আলার এই আযাব থেকে কেউ তা রক্ষা করতে পারেনি এবং সেও পারেনি। সেক্ষেত্রে সে যদি গর্ব-অহঙ্কার না করত এবং আল্লাহ তা‘আলার সাথে কাউকে শরীক না করত ও আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায় করত তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তার এই সমস্ত জিনিস ধ্বংস করতেন না। বরং তাকে তার চেয়েও আরো উত্তম জিনিস দান করতেন।



সুতরাং ধন-সম্পদ যতই হোক না কেন, সেজন্য গর্ব-অহঙ্কার করা যাবে না, বরং আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায় করতে হবে এবং সম্পদের হক তথা যাকাত আদায় করতে হবে। আর আল্লাহ তা‘আলার সাথে শির্ক করা থেকে বেঁচে থাকতে হবে। তাহলেই সে সম্পদ আখিরাতে উপকারে আসবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সকল ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার হাতে।

২. আল্লাহ তা‘আলার সাথে কাউকে শরীক করা যাবে না।

৩. যে কোন কাজ করার জন্য আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য অন্বেষণ করতে হবে।

৪. কোন প্রকার গর্ব-অহঙ্কার করা যাবে না।

৫. কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে।

৬. শাস্তি আসার পূর্বে ঈমান আনতে হবে, শাস্তি এসে গেলে ঈমান এনে আর কোন লাভ হবে না।

৭. কেউ সৎ পরামর্শ দিলে তা গ্রহণ করা উচিত।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৩২-৩৬ নং আয়াতের তাফসীর:

পূর্বে দরিদ্র মুসলমান ও সম্পদশালী কাফিরের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এখানে তাদের একটি দৃষ্টান্ত আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করছেন। দুটি লোকছিল, তাদের একজন ছিল সম্পদশালী। তার ছিল আঙ্গুর ও খেজুরের বাগান এবং এই দুয়ের মাঝে ছিল শস্যক্ষেত্র। বাগান ছিল ফলে ফুলে ভরপুর এবং শস্যক্ষেত্র ছিল শ্যামল-সবুজ। ক্ষতির কোন আশংকা ছিল না। এদিকে ওদিকে নদীনালা প্রবাহিত ছিল। তার কাছে সব সময় নানা প্রকারের শস্য ও ফলমল বিদ্যমান থাকতো। এরকম ছিল সে সম্পদশালী (আরবী) শব্দটির দ্বিতীয় পঠন (আরবী) ও রয়েছে। এটা (আরবী) শব্দের বহুবচন। যেমন (আরবী) শব্দের বহু বচন (আরবী) সে থাকে।

মোট কথা, এই ধনী লোকটি একদিন তার এক বন্ধুকে ফখর ও গর্ব করে বললোঃ “আমি ধন-সম্পদে, মান-সম্মানে, সন্তান-সন্ততিতে, জায়গাজমিতে এবং চাকর-বাকরে তোমা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।” পাপাচারী ব্যক্তির আশা। আকাংখা এইরূপই হয়ে থাকে যে, দুনিয়ার এই জিনিসগুলি যেন তার কাছে প্রচুর পরিমাণে থাকে। একদা সে নিজের বাগানে গেল এভাবে নিজের উপর যুলুমকৃত অবস্থায়। অর্থাৎ সে গর্ব ও অহংকার, কিয়ামতকে অস্বীকার এবং কুফরী করার কাজে এতো মত্ত ছিল যে, তার মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেলঃ “আমার এই সবজ-শ্যামল শস্য ক্ষেত্র, ফলফলে ভরপর বাগান এবং প্রবাহিত নদীনালা যে কখনো ধ্বংস হয়ে যাবে এটা অসম্ভব। প্রকৃতপক্ষে এটা ছিল তার নির্বুদ্ধিতা, বেঈমানী, দুনিয়ার প্রতি কঠিন আকর্ষণ এবং আল্লাহর সাথে কুফরী করারই কারণ। এই জন্যেই সে বলে ফেললোঃ “আমার ধারণা তো কিয়ামত সংঘটিত হবেই না। আর যদি হয়ও বা তবে এটা তো স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান যে, আমি আল্লাহর একজন প্রিয় বান্দা। তা না হলে তিনি আমাকে এতে বেশী ধন-সম্পদ দান করলেন কি রূপে? কাজেই তিনি পরকালেও আমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করবেন। যেমন অন্য আয়াতে রয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “যদি আমি আমার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবৃত্ত হই, তবে সেখানে আমার জন্যে উত্তম ব্যবস্থা থাকবে।` (৪১:৫০) আর এক আয়াতে আছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “তুমি কি তাকে দেখেছো, যে আমার আয়াতসমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তা সত্ত্বেও সে বলেঃ কিয়ামতের দিনেও আমাকে প্রচুর ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দেয়া হবে?” (১৯:৭৭) সে আল্লাহ তাআলার সামনে বীরত্বপনা প্রকাশ করছে এবং তার পক্ষ থেকে বানিয়ে কথা বলছে, অর্থাৎ আল্লাহ বলেন নাই, অথচ সে আল্লাহর নাম দিয়ে কথা বলছে। এই আয়াতটি আস ইবনু ওয়ায়েলের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে। এটা যথা স্থানে বর্ণিত হবে ইনশা আল্লাহ।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।