আল কুরআন


সূরা আল-কাহফ (আয়াত: 107)

সূরা আল-কাহফ (আয়াত: 107)



হরকত ছাড়া:

إن الذين آمنوا وعملوا الصالحات كانت لهم جنات الفردوس نزلا ﴿١٠٧﴾




হরকত সহ:

اِنَّ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ کَانَتْ لَهُمْ جَنّٰتُ الْفِرْدَوْسِ نُزُلًا ﴿۱۰۷﴾ۙ




উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি কা-নাত লাহুম জান্না-তুল ফিরদাওছি নুযুলা-।




আল বায়ান: নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে, তাদের মেহমানদারির জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৭. নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে তাদের আপ্যায়নের জন্য আছে ফিরদাউসের বাগান।




আহসানুল বায়ান: (১০৭) নিশ্চয় যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে তাদের অভ্যর্থনার জন্য আছে ফিরদাউস বেহেশ্ত।[1]



মুজিবুর রহমান: যারা ঈমান আনে ও সৎ কাজ করে তাদের আপ্যায়নের জন্য আছে জান্নাতুল ফিরদাউস।



ফযলুর রহমান: যারা (সত্যকে) বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে (পরকালে) তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে বেহেশতের বাগ-বাগিচা।



মুহিউদ্দিন খান: যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের অভ্যর্থনার জন্যে আছে জান্নাতুল ফেরদাউস।



জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করছে তাদের জন্য রয়েছে বেহেশতের বাগান অভ্যর্থনার কারণে, --



Sahih International: Indeed, those who have believed and done righteous deeds - they will have the Gardens of Paradise as a lodging,



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০৭. নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদের আতিথেয়তার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস।(১)


তাফসীর:

(১) فردوس এর অর্থ সবুজে ঘেরা উদ্যান। এটি আরবী শব্দ, না অনারব এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ “তোমরা যখন আল্লাহর কাছে প্রার্থনা কর, তখন জান্নাতুল ফিরদাউসের প্রার্থনা কর। কেননা, এটা জান্নাতের সর্বোৎকৃষ্ট স্তর। এর উপরেই আল্লাহর আরশ এবং এখান থেকেই জান্নাতের সব নহর প্রবাহিত হয়েছে।” [বুখারীঃ ২৭৯০, ৭৪২৩, মুসনাদে আহমাদঃ ২/৩৩৫]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০৭) নিশ্চয় যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে তাদের অভ্যর্থনার জন্য আছে ফিরদাউস বেহেশ্ত।[1]


তাফসীর:

[1] ফিরদাউস জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন স্থানকে বলা হয়। নবী (সাঃ) বলেছেন, যখন তোমাদের কেউ জান্নাত প্রার্থনা করবে তখন জান্নাতুল ফিরদাউস প্রার্থনা কর। কারণ ওটা হচ্ছে জান্নাতের সর্বোচ্চ অংশ, যেখান হতে জান্নাতের নহর (নদী)সমূহ প্রবাহিত হয়। (বুখারী, তাওহীদ অধ্যায়)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০৭-১০৮ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামীদের কথা বর্ণনা করার পর উক্ত আয়াতগুলোতে যারা সৎ আমল করবে তাদের পুরস্কারের কথা বর্ননা করছেন। যারা ঈমানের সাথে সৎ আমল করবে তাদের আপ্যায়নস্বরূপ জান্নাতুল ফিরদাউস প্রদান করা হবে, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَنُوْدُوْآ أَنْ تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُوْرِثْتُمُوْهَا بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ)‏



“এবং তাদেরকে আহ্বান করে বলা হবে, ‘তোমরা যা করতে তারই জন্য তোমাদেরকে এ জান্নাতের উত্তরাধিকারী করা হয়েছে।’’ (সূরা আ‘রাফ ৭:৪৩)



রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে, সালাত কায়েম করবে, রমযান মাসে সিয়াম পালন করবে আল্লাহ তা‘আলার ওপর দায়িত্ব হল তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো। সে আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় জিহাদ করুক, অথবা জন্মস্থানে বসে থাকুক। সাহাবীরা বললেন: হে আল্লাহ তা‘আলার রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমরা কি মানুষকে এ সুসংবাদ দেব না? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই জান্নাতে একটি মর্তবা রয়েছে যা আল্লাহ তা‘আলা মুজাহিদদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। প্রত্যেক মর্তবার মাঝে পার্থক্য হল আকাশ-জমিনের মত। সুতরাং যখন আল্লাহ তা‘আলার কাছে জান্নাত চাইবে তখন জান্নাতুল ফিরদাউস চাইবে। কারণ তা সবার মাঝে ও সর্বোচ্চ জান্নাত। তার ওপরেই দয়াময় আল্লাহ তা‘আলার আরশ এবং সেখান থেকেই জান্নাতের নহরসমূহ প্রবাহিত হয়। (সহীহ বুখারী হা: ২৭৯০)



সুতরাং প্রতিটি মুমিনের উচিত বেশি বেশি সৎ আমল করা। কেননা জান্নাতে যাওয়ার প্রধান উপায় হল ঈমান ও সৎ আমল।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. যারা ভাল কাজ করবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তারা তথায় চিরকাল অবস্থান করবে ও সেখান থেকে কোথাও যাওয়ার কামনা করবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০৭-১০৮ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা তার সৎকর্মশীল বান্দাদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন। তারা হচ্ছে, ওরাই যারা আল্লাহর উপর বিশ্বাস রাখে, তাঁর রাসূলদেরকে সত্যবাদী বলে স্বীকার করে এবং তাদের কথা ও নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে। তাদের জন্যে রয়েছে ফিরদাউসের উদ্যান। মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, ফিরদাউস হচ্ছে রোমীয় বাগান। কা'ব (রাঃ) সুদ্দী (রঃ) এবং যহ্হাক (রঃ) বলেন, যে, ওটা হলো এমন বাগান যাতে আঙ্গুরের গাছ রয়েছে। আবূ উমামা (রঃ) বলেন যে, ফিরদাউস হলো বেহেশতের নাভী স্বরূপ। কাতাদা (রঃ) বলেন যে, ফিরদাউস হলো সর্বোত্তম জান্নাত। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যখন তোমরা আল্লাহ তাআলার নিকট জান্নাতের জন্যে প্রার্থনা করবে, তখন তাঁর কাছে ফিরদাউসের জন্যে প্রার্থনা করো। কেননা, ওটাই সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম জান্নাত। ওখান হতেই জান্নাতের নহরগুলি প্রবাহিত হয়।”

এটাই হবে তাদের অতিথিশালা। সেখানে তারা অতিথি হিসেবে চিরকাল অবস্থান করবে। সেখান থেকে তাদেরকে বের করা হবে না এবং বের হবার তারা কামনাও করবে না। কেননা, ওর চেয়ে সুখময় স্থান আর নেই। সেখানে সর্বপ্রকারের উচ্চমানের জীবনোপকরণের সুব্যবস্থা রয়েছে। কোন কিছুরই অভাব নেই। একের পর এক রহমত আসতেই থাকবে। সুতরাং দৈনন্দিন আগ্রহ, প্রেম-প্রীতি এবং আকর্ষণ বৃদ্ধি পেতেই থাকবে। মনে কোন বিরক্তি আসবে না বরং ওরই প্রতি আগ্রহ বেড়ে যাবে। এ জন্যেই মহান আল্লাহ বলেন, তারা এর পরিবর্তে অন্য স্থান কামনা করবে না। অর্থাৎ তারা এটা ছাড়া অন্যটা পছন্দ করবে না এবং এটা ব্যতীত অন্য কিছু ভালবাসবে না। এখান ছেড়ে অন্য কোন জায়গায় তারা যেতেও চাবে না।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।