সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 96)
হরকত ছাড়া:
قل كفى بالله شهيدا بيني وبينكم إنه كان بعباده خبيرا بصيرا ﴿٩٦﴾
হরকত সহ:
قُلْ کَفٰی بِاللّٰهِ شَهِیْدًۢا بَیْنِیْ وَ بَیْنَکُمْ ؕ اِنَّهٗ کَانَ بِعِبَادِهٖ خَبِیْرًۢا بَصِیْرًا ﴿۹۶﴾
উচ্চারণ: কুল কাফা-বিল্লা-হি শাহীদাম বাইনী ওয়া বাইনাকুম ইন্নাহূকা-না বি‘ইবা-দিহী খাবীরাম বাসীরা-।
আল বায়ান: বল, ‘আল্লাহই যথেষ্ট আমার ও তোমাদের মধ্যে স্বাক্ষী হিসেবে; নিশ্চয় তিনি তাঁর বান্দাদের ব্যাপারে পূর্ণ জ্ঞাত, পূর্ণ দ্রষ্টা’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯৬. বলুন, আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট(১); নিশ্চয় তিনি তার বান্দাদের সম্পর্কে পূর্ণ অবহিত, পূর্ণদ্রষ্টা।
তাইসীরুল ক্বুরআন: বল, ‘আমার ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর সাক্ষ্যই যথেষ্ট, তিনি তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিফহাল, আর তিনি সর্বদ্রষ্টা।’
আহসানুল বায়ান: (৯৬) বল, ‘আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট,[1] নিশ্চয় তিনি তাঁর দাসদেরকে সবিশেষ জানেন ও দেখেন।’
মুজিবুর রহমান: বলঃ আমার ও তোমাদের মধ্যে স্বাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট; তিনি তাঁর দাসদেরকে সবিশেষ জানেন ও দেখেন।
ফযলুর রহমান: বল, “আমার ও তোমাদের মাঝে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি তাঁর বান্দাদের সব খবর রাখেন, তাদের সবকিছু দেখেন।”
মুহিউদ্দিন খান: বলুনঃ আমার ও তোমাদের মধ্যে সত্য প্রতিষ্ঠাকারী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি তো স্বীয় বান্দাদের বিষয়ে খবর রাখেন ও দেখেন।
জহুরুল হক: বলো -- "আল্লাহই আমার মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষীরূপে যথেষ্ট। নিঃসন্দেহ তিনি তাঁর বান্দাদের সন্বন্ধে চির- ওয়াকিফহাল, সর্বদ্রষ্টা।"
Sahih International: Say, "Sufficient is Allah as Witness between me and you. Indeed he is ever, concerning His servants, Acquainted and Seeing."
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৯৬. বলুন, আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট(১); নিশ্চয় তিনি তার বান্দাদের সম্পর্কে পূর্ণ অবহিত, পূর্ণদ্রষ্টা।
তাফসীর:
(১) আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “বনী ইসরাঈলের এক লোক বনী ইসরাঈলের অপর এক লোকের নিকট এক হাজার দীনার কার্জ চাইল। কৰ্জদাতা বললঃ কয়েকজন সাক্ষী আনুন, আমি তাদেরকে সাক্ষী রাখব। কার্জগ্রহীতা বললঃ সাক্ষীর জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তখন কর্জাদাতা বলল, তবে একজন যামিন উপস্থিত করুন। কর্জাগ্ৰহীতা বললঃ যামিন হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট। তখন কৰ্জদাতা বললঃ আপনি ঠিকই বলেছেন। তারপর সে নির্ধারিত সময়ে পরিশোধের শর্তে তাকে এক হাজার দীনার কর্জ দিয়ে দিল। তারপর কর্জাগ্ৰহীতা সমূদ্র যাত্রা করল এবং তার ব্যবসায়িক প্রয়োজন সমাধা করল।
তারপর সে বাহন খুঁজতে লাগল, যাতে নির্ধারিত সময়ে সে কর্জাদাতার নিকট এসে পৌঁছতে পারে। কিন্তু কোন রূপ বাহন সে পেল না। অগত্যা সে এক টুকরা কাঠ নিয়ে তা ছিদ্র করে কর্জদাতার নামে একখানা চিঠি ও এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা তার মধ্যে পুরে ছিদ্রটি বন্ধ করে দিল। তারপর ঐ কাঠখন্ডটা নিয়ে সমুদ্র তীরে গিয়ে বললঃ হে আল্লাহ্! তুমি তো জান, আমি অমুকের কাছে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা কৰ্জ চাইলে সে আমার কাছে যামিন চেয়েছিল। আমি বলেছিলাম, যামিন হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট, এতে সে রাযী হয়েছিল। সে আমার কাছে সাক্ষী চেয়েছিল। আমি বলেছিলাম, স্বাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। এতে সে রাযী হয়ে যায়। আমি তার প্রাপ্য তার কাছে পৌছে দেয়ার উদ্দেশ্যে বাহনের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করলাম কিন্তু পেলাম না।
আমি ঐ এক হাজার স্বর্ণমুদ্ৰা আপনার নিকট আমানত রাখছি। এই বলে সে কাঠখন্ডটি সমুদ্রে নিক্ষেপ করল। তৎক্ষণাৎ তা সমুদ্রের মধ্যে নিমজ্জিত হয়ে গেল। তারপর লোকটি ফিরে গেল এবং নিজের শহরে যাবার জন্য বাহন খুঁজতে লাগল। ওদিকে কৰ্জদাতা নির্ধারিত দিনে এ আশায় সমুদ্রতীরে গেল যে, হয়ত বা দেনাদার তার পাওনা নিয়ে এসে পড়েছে। ঘটনাক্রমে ঐ কাঠখন্ডটি তার নজরে পড়ল। যার ভিতরে স্বর্ণমুদ্রা ছিল। সে তা পরিবারের জ্বালানির জন্য বাড়ি নিয়ে গেল। যখন কাঠের টুকরাটি চিরল তখন ঐ স্বর্ণমুদ্রা ও চিঠি সে পেয়ে গেল। কিছুকাল পর দেনাদার লোকটি এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে পাওনাদারের নিকট এসে হাজির হলো এবং বললঃ আল্লাহর কসম! আমি আপনার মাল যথা সময়ে পৌছে দেয়ার উদ্দেশ্যে বাহনের খোঁজে সর্বদা চেষ্টিত ছিলাম।
কিন্তু যে জাহাজটিতে করে আমি এখন এসেছি এটির আগে আর কোন জাহাজই পেলাম না। কৰ্জদাতা বললঃ আপনি কি আমার কাছে কিছু পাঠিয়েছিলেন? দেনাদার বললঃ আমি তো আপনাকে বললামই যে, এর আগে আর কোন জাহাজই আমি পাইনি। কর্জাদাতা বললঃ আপনি কাঠের টুকরোর ভিতরে করে যা পাঠিয়েছিলেন তা আল্লাহ আপনার হয়ে আমাকে আদায় করে দিয়েছেন। তখন সে এক হাজার স্বর্ণমুদ্রা নিয়ে প্রশান্ত চিত্তে ফিরে চলে আসল। [বুখারীঃ ২২৯১]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৯৬) বল, ‘আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট,[1] নিশ্চয় তিনি তাঁর দাসদেরকে সবিশেষ জানেন ও দেখেন।’
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, দাওয়াত ও তবলীগের যে কাজ আমার দায়িত্বে ছিল, তা আমি পালন করেছি। এ ব্যাপারে আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী হওয়ার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। কারণ, প্রত্যেক জিনিসের ফায়সালা তিনিই করবেন।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৯৪-৯৬ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতগুলোতে অধিকাংশ মানুষের ঈমান না আনার কারণ এবং মানুষের মধ্য হতে রাসূল প্রেরণের হিকমত বর্ণনা করা হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ রাসূলদের প্রতি ঈমান আনেনি। কারণ হল তাদের মত একজন রক্ত-মাংসে গড়া মানুষকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের কথা হল একজন রাসূল আমাদের মত হতে পারে না। রাসূল একজন ফেরেশতা হবেন অথবা তাদের সাথে কোন ফেরেশতা থাকবে। অতএব আমরা যদি একজন মানুষের অনুসরণ করি তাহলে অবশ্যই পথভ্রষ্ট হব, ক্ষতিগ্রস্থ হব। এ সম্পর্কে সূরা ইবরাহীমের ১০ নং, সূরা মু’মিনূনের ৪৭ নং, সূরা কামারের ২৪ নং এবং সূরা তাগাবুনের ৬ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
মানুষের মধ্য হতে রাসূল প্রেরণ করার হিকমত বর্ণনা ও তাদের প্রশ্নের জবাব দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: ‘ফেরেশতাগণ যদি নিশ্চিন্ত হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করত তবে আমি আকাশ হতে তাদের নিকট অবশ্যই ফেরেশ্তা রাসূল করে পাঠাতাম।’ যেহেতু পৃথিবীতে মানুষ বাস করে সেহেতু আমি মানুষকেই রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছি। রাসূল মানুষ না হলে রিসালাতের দায়িত্ব্ পালন করতে পারবে না এবং যাদের কাছে প্রেরণ করবেন তারাও কোন উপকৃত হতো না। সুতরাং মানুষের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার দয়া যে, মানুষের মধ্য হতেই রাসূল প্রেরণ করেছেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(لَقَدْ مَنَّ اللہُ عَلَی الْمُؤْمِنِیْنَ اِذْ بَعَثَ فِیْھِمْ رَسُوْلًا مِّنْ اَنْفُسِھِمْ یَتْلُوْا عَلَیْھِمْ اٰیٰتِھ۪ وَیُزَکِّیْھِمْ وَیُعَلِّمُھُمُ الْکِتٰبَ وَالْحِکْمَةَﺆ وَاِنْ کَانُوْا مِنْ قَبْلُ لَفِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ)
“নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বাসীর প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের নিজেরদেরই মধ্য হতে একজন রাসূল তাদের কাছে প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর নিদর্শনাবলী (আয়াতসমূহ) পাঠ করেন ও তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও বিজ্ঞান শিক্ষা দান করেন যদিও তারা এর পূর্বে প্রকাশ্য ভ্রান্তির মধ্যে ছিল।” (সূরা আলি ইমরান ৩:১৬৪)
অতঃপর তাদের আচরণে রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উত্তর কী হবে তা বলে দিচ্ছেন যে, তুমি বল, তোমরা আমাকে মানুষ বলে প্রত্যাখ্যান করছ; জেনে রেখ, আল্লাহ তা‘আলা বান্দার সকল কাজকর্ম প্রত্যক্ষ করছেন ও খবর রাখেন। তিনি সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট, তিনিই আমাদের মাঝে ফায়সালা করবেন। সুতরাং মানুষের মধ্য থেকে রাসূল প্রেরণ করা এটা মানুষের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার একটি অনুগ্রহ। নাবীরা আমাদের মত রক্ত-মাংসের মানুষ এ কথা পূর্বের জাতিরাও জানত। কিন্তু আমাদের সমাজে একশ্রেণির মুসলিম দাবীদার রয়েছে যারা আমাদের নাবীকে মাটির মানুষ বলতে চায় না। তারা বলে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাকি নূরের তৈরী। এদেরকে পূর্ববর্তী জাতিদের থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাধারণ মানুষের মতই একজন মানুষ, কোন ফেরেশতা বা জিন নন, পার্থক্য হল তাঁকে রিসালাত দিয়ে রাসূলের মর্যাদা দেয়া হয়েছে।
২. মানুষ মানুষের দুঃখ-বেদনা, সমস্যা ইত্যাদি বুঝে। কোন ফেরেশতা বা জিন মানুষের সমস্যা বুঝবে না, তাই মানুষকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করাই যুক্তিযুক্ত।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীকে (সঃ) বলছেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি এই কাফিদেরকে বলে দাও আমার সত্যতার ব্যাপারে আমি অন্য কোন সাক্ষী খোজ করবো কেন? আল্লাহর সাক্ষ্যই যথেষ্ট। আমি যদি তাঁর পবিত্র সত্তার উপর অপবাদ আরোপ করে থাকি তবে তিনি আমার উপর প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন। যেমন কুরআন কারীমের সূরায়ে আল-হাক্কাহতে রয়েছেঃ “যদি সে (নবী সঃ) আমার উপর কোন (মিথ্যা) আরোপ করতো, তবে আমি তার ডান হাত (দৃঢ়ভাবে) ধরতাম; অতঃপর তার প্রাণ শিরা কেটে ফেলতাম। অতঃপর তোমাদের মধ্যে কেউই তার এই শাস্তি হতে রক্ষাকারী হতো না।” এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ তাআলার কাছে তাঁর কোন বান্দার অবস্থা গোপন নেই। কারা ইনআম, ইহসান, হিদায়াত ও স্নেহ পাওয়ার যোগ্য এবং কারা পথ ভ্রষ্ট ও হতভাগ্য হওয়ার যোগ্য তা আল্লাহ তাআলা ভালভাবেই জানেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।