আল কুরআন


সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 70)

সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 70)



হরকত ছাড়া:

ولقد كرمنا بني آدم وحملناهم في البر والبحر ورزقناهم من الطيبات وفضلناهم على كثير ممن خلقنا تفضيلا ﴿٧٠﴾




হরকত সহ:

وَ لَقَدْ کَرَّمْنَا بَنِیْۤ اٰدَمَ وَ حَمَلْنٰهُمْ فِی الْبَرِّ وَ الْبَحْرِ وَ رَزَقْنٰهُمْ مِّنَ الطَّیِّبٰتِ وَ فَضَّلْنٰهُمْ عَلٰی کَثِیْرٍ مِّمَّنْ خَلَقْنَا تَفْضِیْلًا ﴿۷۰﴾




উচ্চারণ: ওয়ালাকাদ কাররামনা-বানীআ-দামা ওয়া হামালনা-হুম ফিল বাররি ওয়াল বাহরি ওয়া রাযাকনা হুম মিনাততাইয়িবা-তি ওয়া ফাদ্দালনা-হুম ‘আলা কাছীরিম মিম্মান খালাকনাতাফদীলা-।




আল বায়ান: আর আমি তো আদম সন্তানদের সম্মানিত করেছি এবং আমি তাদেরকে স্থলে ও সমুদ্রে বাহন দিয়েছি এবং তাদেরকে দিয়েছি উত্তম রিয্ক। আর আমি যা সৃষ্টি করেছি তাদের থেকে অনেকের উপর আমি তাদেরকে অনেক মর্যাদা দিয়েছি।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭০. আর অবশ্যই আমরা আদম-সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি(১); স্থলে ও সাগরে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি; এবং তাদেরকে উত্তম রিযক দান করেছি এবং আমরা যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের উপর তাদেরকে শ্ৰেষ্ঠত্ব দিয়েছি।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি আদাম সন্তানকে সম্মানিত করেছি, তাদের জন্য জলে স্থলে যানবাহনের ব্যবস্থা করেছি, তাদেরকে পবিত্র রিযক দিয়েছি আর আমি তাদেরকে আমার অধিকাংশ সৃষ্টির উপর মর্যাদায় শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।




আহসানুল বায়ান: (৭০) আমি তো আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি,[1] স্থলে ও সমুদ্রে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি;[2] তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছি[3] এবং যাদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি, তাদের অনেকের উপর তাদেরকে যথেষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। [4]



মুজিবুর রহমান: আমিতো আদম-সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, স্থলে ও সমুদ্রে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি; আর তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছি এবং আমি যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের উপর তাদেরকে শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।



ফযলুর রহমান: অবশ্যই আমি আদম-সন্তানদেরকে (মানবজাতিকে) সম্মানিত করেছি, তাদেরকে স্থলে ও সাগরে চলাচলের বাহন দিয়েছি, উৎকৃষ্ট দ্রব্যাদি থেকে তাদের জীবিকার ব্যবস্থা করেছি এবং আমি যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের চেয়ে তাদেরকে অধিক মর্যাদা দিয়েছি।



মুহিউদ্দিন খান: নিশ্চয় আমি আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি, আমি তাদেরকে স্থলে ও জলে চলাচলের বাহন দান করেছি; তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ প্রদান করেছি এবং তাদেরকে অনেক সৃষ্ট বস্তুর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।



জহুরুল হক: আর আমরা অবশ্য আদমসন্তানদের মর্যাদাদান করেছি, আর আমরা তাদের বহন করি স্থলে ও জলে, এবং তাদের রিযেক দান করেছি উৎকৃষ্ট বস্তু দিয়ে, আর আমরা যাদের সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের উপরে আমরা তাদের প্রাধান্য দিয়েছি শ্রেষ্ঠত্বের সাথে।



Sahih International: And We have certainly honored the children of Adam and carried them on the land and sea and provided for them of the good things and preferred them over much of what We have created, with [definite] preference.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭০. আর অবশ্যই আমরা আদম-সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি(১); স্থলে ও সাগরে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি; এবং তাদেরকে উত্তম রিযক দান করেছি এবং আমরা যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের অনেকের উপর তাদেরকে শ্ৰেষ্ঠত্ব দিয়েছি।


তাফসীর:

(১) আল্লাহ্ তা'আলা আদম-সন্তানকে বিভিন্ন দিক দিয়ে এমন সব বৈশিষ্ট্য দান করেছেন, যেগুলো অন্যান্য সৃষ্টজীবের মধ্যে নেই। উদাহরণতঃ সুশ্ৰী চেহারা, সুষম দেহ, সুষম প্রকৃতি এবং অঙ্গসৌষ্ঠব। [ইবন কাসীর]। যেমন অন্য আয়াতে বলেছেন, “অবশ্যই আমরা সৃষ্টি করেছি মানুষকে সুন্দরতম গঠনে” [সূরা আত-তীন: ৪] তাকে দু' পায়ে সম্পূর্ণ সোজা হয়ে দাঁড়াবার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। তাকে হাতে খাওয়ার শক্তি দেয়া হয়েছে। অন্যান্য প্ৰাণী চারপায়ে এবং মুখ দিয়ে খায়। মানুষের মধ্যে যে চোখ, কান ও অন্তর দেয়া হয়েছে সে এসবগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে। দ্বীনী ও দুনিয়াবী বিষয়ে সে এগুলো দ্বারা ভাল-মন্দ বিচার করতে পারে। [ইবন কাসীর]

বস্তুত এ বুদ্ধি ও চেতনায় মানুষকে বিশেষ স্বাতন্ত্র্য দান করা হয়েছে। এর সাহায্যে সে সমগ্ৰ উর্ধ্ব-জগত ও অধঃজগতকে নিজের কাজে নিয়োজিত করতে পারে। আল্লাহ্ তাআলা তাকে বিভিন্ন সৃষ্টবস্তুর সংমিশ্রণে বিভিন্ন শিল্পদ্রব্য প্রস্তুত করার শক্তি দিয়েছেন, সেগুলো তার বসবাস, চলাফেরা, আহার্য ও পোশাক-পরিচ্ছদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাকশক্তি ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার যে নৈপুণ্য মানুষ লাভ করেছে, তা অন্য কোন প্রাণীর মধ্যে নেই। বিবেক-বুদ্ধি ও চেতনা মানুষের সর্বপ্রধান শ্রেষ্ঠত্ব। এর মাধ্যমে সে স্বীয় সৃষ্টিকর্তা ও প্রভুর পরিচয় এবং তার পছন্দ ও অপছন্দ জেনে পছন্দের অনুগমন করে এবং অপছন্দ থেকে বিরত থাকে। [দেখুন, ফাতহুল কাদীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭০) আমি তো আদম সন্তানকে মর্যাদা দান করেছি,[1] স্থলে ও সমুদ্রে তাদের চলাচলের বাহন দিয়েছি;[2] তাদেরকে উত্তম জীবনোপকরণ দান করেছি[3] এবং যাদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি, তাদের অনেকের উপর তাদেরকে যথেষ্ট শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি। [4]


তাফসীর:

[1] এই মর্যাদা ও অনুগ্রহ মানুষ হিসাবে প্রত্যেক মানুষ পেয়েছে; তাতে সে মুমিন হোক অথবা কাফের। কেননা, এ মর্যাদা অন্য সৃষ্টিকুল, জীবজন্তু, জড়পদার্থ ও উদ্ভিদ ইত্যাদির তুলনায়। আর এ মর্যাদা বিভিন্ন দিক দিয়ে। যে আকার-আকৃতি, এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ শারীরিক গঠন ও ধরন মহান আল্লাহ মানুষকে দান করেছেন, তা অন্য কোন সৃষ্টি পায়নি। যে জ্ঞান মানুষকে দেওয়া হয়েছে, যার দ্বারা তারা নিজেদের আরাম ও আয়েশের জন্য অসংখ্য জিনিস আবিষ্কার করেছে, জীবজন্তু ইত্যাদি তা থেকে বঞ্চিত। এ ছাড়া এই জ্ঞান দ্বারা তারা ঠিক-বেঠিক, উপকারী-অপকারী এবং ভাল-মন্দের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম। এই জ্ঞান দ্বারা তারা আল্লাহর অন্যান্য সৃষ্টিকুল থেকে উপকৃত হয় এবং তাদেরকে নিজেদের বশে রাখে। এই জ্ঞান ও মেধারই মাধ্যমে তারা এমন অট্টালিকা নির্মাণ করে, এমন পোশাক আবিষ্কার করে এবং এমন সব জিনিস বানায় যা তাদেরকে গ্রীষ্মের তাপ, শীতের ঠান্ডা এবং মৌসুমের অন্যান্য ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে। অনুরূপ বিশ্বজাহানের সমস্ত জিনিসকে মহান আল্লাহ মানুষের সেবায় লাগিয়ে রেখেছেন। চাঁদ, সূর্য, হাওয়া, পানি এবং অন্যান্য অসংখ্য জিনিস রয়েছে যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হচ্ছে।

[2] স্থলে ঘোড়া, খচ্চর, গাধা, উট এবং নিজেদের তৈরী করা (ট্রেন, মোটরগাড়ী, উড়োজাহাজ, সাইকেল এবং মোটর সাইকেল ইত্যাদি) বাহনে আরোহণ করে এবং সমুদ্রে রয়েছে নৌকা ও জলজাহাজ যাতে তারা আরোহণ করে এবং পণ্যসামগ্রী আমদানি-রফতানি করে।

[3] মানুষের পানাহারের জন্য যেসব খাদ্য জাতীয় দ্রব্য শস্য ও ফল-মূলাদি তিনি উৎপন্ন করেছেন এবং তাতে যে স্বাদ, তৃপ্তি এবং শক্তি নিহিত রেখেছেন, রকমারি এই খাদ্য, সুস্বাদু ও মজাদার ফলমূল, শক্তিবর্ধক ও পরিতৃপ্তিকর উপাদেয় নানা যৌগিক খাদ্য ও পানীয়, চূর্ণিত, পিষ্ট ও খামির জাতীয় কত শত রকমের খাবার মানুষ ব্যতীত অন্য আর কোন্ সৃষ্টি পেয়েছে?

[4] উল্লিখিত আলোচনা থেকে বহু সৃষ্টির উপর মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের কথা পরিষ্কার হয়ে যায়।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৬৬-৭০ নং আয়াতের তাফসীর:



প্রথম আয়াতে বান্দার প্রতি আল্লাহ তা‘আলা দয়া ও অনুগ্রহের বর্ণনা দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলার দয়া ও অনুগ্রহে সমুদ্রে নৌকা ও জাহাজ চলাচল করে। মানুষ এসব যানের মাধ্যমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াত করে থাকে। مِنْ فَضْلِه তাঁর অনুগ্রহ বলতে দুনিয়াতে আল্লাহ তা‘আলা যে সব রিযিকের ব্যবস্থা রেখেছেন সেসব রিযিক অন্বেষণ করা। পূর্বের যুগের মানুষের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অধিকাংশ যাতায়াত নৌ পথে করত। এখনো বড় বড় মালামালগুলো নৌ পথে আমদানি করা হয়ে থাকে। সুতরাং এটা আল্লাহ তা‘আলার একটি অনুগ্রহ। তিনি ইচ্ছা করলে জাহাজসহ মানুষকে ডুবিয়ে দিতে পারতেন। সমুদ্রের এই উত্তাল তরঙ্গ আল্লাহ তা‘আলা নিয়ন্ত্রণ না করলে বান্দার পক্ষে এই সমুদ্র পথে ভ্রমণ করা মোটেও সম্ভব হতনা। এটা বান্দার প্রতি আল্লাহ তা‘আলার একটা বড় অনুগ্রহ ।



দ্বিতীয় আয়াতে মানুষের জন্য আল্লাহ তা‘আলার আরো একটি নেয়ামতের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। তা হল সমুদ্রে ভ্রমণকালে যখন উত্তাল তরঙ্গ তাদেরকে ঘিরে ফেলে তাদের অবস্থা এমন হয়ে যায় যে, মনে হয় সেখান থেকে তারা আর রেহাই পাবে না, তখন তাদের মাথা থেকে ضَلَّ তথা এক আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া সকল মা‘বূদের কথা চলে যায়, তখন আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মা‘বূদকে আহ্বান করে না। কারণ তারা জানে, এ বিপদ থেকে একক আল্লাহ ছাড়া তাদেরকে কেউ মুক্তি দিতে পারবে না। তাদের কাকুতি-মিনতির ডাক শুনে আল্লাহ সে বিপদ থেকে নাজাত দিলে স্থলে এসে আবার শিরকে লিপ্ত হয় এবং এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এ সম্পর্কে সূরা আনআমের ৬৩-৬৪ নং, সূরা ইউনুসের ২২-২৩ নং, সূরা লুকমানের ৩২ নং আয়াতসহ অনেক স্থানে উল্লেখ রয়েছে।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ক্ষমতার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তোমরা সমুদ্রে নিমজ্জিত হওয়া থেকে আল্লাহ তা‘আলার রহমতে বেঁচে যাও, তারপরে স্থলে এসে আল্লাহ তা‘আলাকে ভুলে যাও, তাঁর সাথে র্শিক কর, তোমরা কি জান না, তিনি তোমাদেরকে স্থলেও শাস্তি দিতে সক্ষম? তিনি তোমদেরকে জমিনে ধ্বসিয়ে দিতে পারেন অথবা পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করে সমূলে ধ্বংস করে দিবেন। তাহলে তোমরা কোন্ নিরাপত্তার কথা ভেবে আল্লাহ তা‘আলার সাথে স্থলে শিরক কর? তিনি তো আবার তোমাদেরকে কোন প্রয়োজনে সমুদ্রে নিয়ে যেতে পারেন, অতপর প্রবল ঝটিকা বায়ু প্রবাহিত করে জাহাজ ডুবিয়ে তোমাদেরকে মারতে পারেন। তখন তোমরা কোন সাহায্যকারী পাবে না। অতএব আল্লাহ তা‘আলা সকল বিষয়ের উপরই ক্ষমতাবান। তাই তাঁর শাস্তি থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করা মোটেও ঠিক নয়। সুতরাং তোমাদের সতর্ক হওয়া উচিত।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِنْ نَّشَأْ نَخْسِفْ بِهِمُ الْأَرْضَ أَوْ نُسْقِطْ عَلَيْهِمْ كِسَفًا مِّنَ السَّمَا۬ءِ)



“আমি যদি ইচ্ছা করি তবে তাদেরসহ পৃথিবীকে ধ্বসিয়ে দিতে পারি অথবা তাদের ওপর আকাশের খণ্ডসমূহ পতিত করতে পারি।” (সূরা সাবা ৩৪:৯)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلٰٓي أَنْ يَّبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِّنْ فَوْقِكُمْ أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ)



“বল:‎ ‘তিনি তোমাদের ঊর্ধ্বদেশ অথবা পাদদেশ হতে শাস্তি প্রেরণ করতে সক্ষম।” (সূরা আনয়াম ৬:৬৫)



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আদম সন্তানের মর্যাদা উল্লেখ করেছেন, তবে এ মর্যাদায় মু’মিন, কাফির সকলে শামিল। কারণ এ মর্যাদা অন্যান্য সৃষ্টিকুল, জীবজন্তু, জড়পদার্থ, উদ্ভিদ ইত্যাদির তুলনায়। তাহল মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা উত্তম আকৃতি ও অবয়বে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়েছেন। কিন্তু অন্যান্য প্রাণীর ভাল-মন্দ বিচার করার মতো জ্ঞান-বুদ্ধি নেই। দেখা যায় মানুষ দেহ, শক্তি ও অন্যান্য তুলনায় অনেক প্রাণী থেকে নগণ্য ও দুর্বল, তাহলে তাদের থেকে মর্যাদাবান হল কিভাবে? উত্তর, মানুষ জ্ঞান ও বুদ্ধি খাটিয়ে ঐ বিশাল দেহ ও শক্তিশালী প্রাণীকে নিজের করায়ত্ত করে নিচ্ছে। যে পাখি ডানা মেলে ঘন্টার পর ঘন্টা উড়ে হাজার হাজার মাইল চলে যাচ্ছে, মানুষ জ্ঞানের সাহায্যে উড়ো জাহাড় আবিষ্কার করে কম সময়ে আরো বেশি রাস্তা চলে যাচ্ছে। এমনিভাবে বিজ্ঞানের অসংখ্য আবিষ্কার আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক মানুষকে দেয়া জ্ঞানেরই প্রমাণ বহন করে, সেই সাথে প্রমাণ বহন করে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বেরও। সুতরাং অন্যান্য প্রাণীর চেয়ে আদম সন্তানের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা অনেক বেশি। তবে সাধারণ মানুষের মধ্য হতে যারা মু’মিন তাদের মর্যাদা আরো বেশি। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে তাঁর দেয়া জ্ঞানের সদ্ব্যবহার করার ও মু’মিন হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন!



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে অসংখ্য নেয়ামত দান করেছেন, কিন্তু মানুষ সেসব নেয়ামতের সাথে কুফরী করে।

২. মানুষ সৃষ্টির সেরা জাতি, তবে যদি ঈমান ও সৎআমলের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।

৩. আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে যেমন সমুদ্রে ডুবিয়ে মারতে সক্ষম তেমনি তাদেরকে জমিনে ধ্বসিয়ে দিতেও সক্ষম। সুতরাং তাঁর আযাব থেকে নিরাপদ হওয়ার সুযোগ নেই, তাই তাঁকে সর্বদা ভয় করে চলতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ইবনু আসাকির (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, ফেরেস্তাগণ বলেনঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকেও সৃষ্টি করেছেন এবং বান্ আদমেরও সৃষ্টিকর্তা আপনিই। তাদেরকে আপনি খাদ্য ও পানীয় দান করেন। তারা কাপড় পরিধান করে থাকে, বিয়ে শাদী করে, তাদের জন্যে সওয়ারী রয়েছে এবং বিভিন্ন দিক দিয়ে তারা সুখ ও আরাম ভোগ করছে। আমরা এগুলো হতে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত রয়েছি। ভাল কথা, দুনিয়ায় যখন তাদের জন্যে এগুলো রয়েছে তখন আখেরাতে আমাদেরকে এগুলো দান করুন!” তাঁদের এই প্রার্থনার জবাবে মহান আল্লাহ বলেনঃ “যাকে আমি নিজের হাতে সৃষ্টি করেছি এবং যার মধ্যে নিজের রূহ ফুকে দিয়েছি তার সমকক্ষ আমি ওদেরকে করবো না যাদেরকে আমি বলেছিঃ ‘হও’ আর তেমনই হয়ে গেছে।”

তিবরাণী (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার কাছে আদম সন্তান অপেক্ষা বেশী মর্যাদাবান আর কেউই হবে না। জিজ্ঞেস করা হয়ঃ “ফেরেশতারাও নয়?”উত্তরে বলেনঃ “না, ফেরেশতারাও নয়। তারা তো বাধ্য, যেমন সূর্য ও চন্দ্র।” (এই রিওয়াইয়াতটি খুবই গরীব বা দুর্বল)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।