আল কুরআন


সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 56)

সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 56)



হরকত ছাড়া:

قل ادعوا الذين زعمتم من دونه فلا يملكون كشف الضر عنكم ولا تحويلا ﴿٥٦﴾




হরকত সহ:

قُلِ ادْعُوا الَّذِیْنَ زَعَمْتُمْ مِّنْ دُوْنِهٖ فَلَا یَمْلِکُوْنَ کَشْفَ الضُّرِّ عَنْکُمْ وَ لَا تَحْوِیْلًا ﴿۵۶﴾




উচ্চারণ: কুলিদ‘উল্লাযীনা যা‘আমতুম মিন দূনিহী ফালা- ইয়ামলিকূনা কাশফাদদুররি ‘আনকুম ওয়ালা-তাহবীলা-।




আল বায়ান: বল, ‘তাদেরকে ডাক, আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদেরকে (উপাস্য) মনে কর। তারা তো তোমাদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করার ও পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে না’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৬. বলুন, “তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে ইলাহ মনে কর তাদেরকে ডাক, অতঃপর দেখবে যে, তোমাদের দুঃখ-দৈন্য দূর করার বা পরিবর্তন করার শক্তি তাদের নেই।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: বল, ‘তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে ইলাহ মনে কর তাদেরকে ডাক, (ডাকলেও দেখতে পাবে) তারা তোমাদের দুঃখ-বেদনা দূর করতে বা বদলাতে সক্ষম নয়।




আহসানুল বায়ান: ৫৬) বল, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে উপাস্য মনে কর, তাদেরকে আহবান কর; করলে দেখবে তোমাদের দুঃখ-দৈন্য দূর করবার অথবা পরিবর্তন করবার শক্তি তাদের নেই।



মুজিবুর রহমান: বলঃ তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে মা‘বূদ মনে কর তাদেরকে আহবান কর; করলে দেখবে তোমাদের দুঃখ দৈন্য দূর করার অথবা পরিবর্তন করার শক্তি তাদের নেই।



ফযলুর রহমান: বল, “আল্লাহ ব্যতীত তোমরা যাদেরকে উপাস্য মনে করো তাদেরকে ডাক। দেখবে, তারা তোমাদের কষ্ট দূর করার কিংবা তা পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখে না।”



মুহিউদ্দিন খান: বলুনঃ আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে তোমরা উপাস্য মনে কর, তাদেরকে আহবান কর। অথচ ওরা তো তোমাদের কষ্ট দুর করার ক্ষমতা রাখে না এবং তা পরিবর্তনও করতে পারে না।



জহুরুল হক: বলো -- "তাঁকে ছেড়ে দিয়ে তোমরা যাদের প্রতি ঝোঁকো তাদের ডাকো, কিন্তু তারা তোমাদের থেকে বিপদ-আপদ দূর করার কোনো ক্ষমতা রাখে না, আর তা বদলাবারও না।"



Sahih International: Say, "Invoke those you have claimed [as gods] besides Him, for they do not possess the [ability for] removal of adversity from you or [for its] transfer [to someone else]."



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৬. বলুন, “তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে ইলাহ মনে কর তাদেরকে ডাক, অতঃপর দেখবে যে, তোমাদের দুঃখ-দৈন্য দূর করার বা পরিবর্তন করার শক্তি তাদের নেই।(১)


তাফসীর:

১. এ থেকে পরিষ্কার জানা যায়, কেবল গায়রুল্লাহকে (আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্তা) সিজদা করাই শির্ক নয় বরং আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন সত্তার কাছে দোআ চাওয়া বা তাকে সাহায্য করার জন্য ডাকাও শির্ক। দো'আ ও সাহায্য চাওয়া ইবাদতেরই অন্তর্ভুক্ত। কাজেই গায়রুল্লাহর কাছে প্রার্থনাকারী একজন মূর্তি পূজকের সমান অপরাধী। তাছাড়া এ থেকে একথাও জানা যায় যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ কোন আপদ-বিপদ থেকে বাঁচাতে পারে না এবং কোন খারাপ অবস্থাকে ভাল অবস্থায় পরিবর্তিত করে দিতেও পারে না। আল্লাহ ছাড়া অন্য যে কোন সত্তা সম্পর্কে এ ধরনের বিশ্বাস রাখা ভ্ৰষ্টতা ছাড়া আর কিছুই নয়।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: ৫৬) বল, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে উপাস্য মনে কর, তাদেরকে আহবান কর; করলে দেখবে তোমাদের দুঃখ-দৈন্য দূর করবার অথবা পরিবর্তন করবার শক্তি তাদের নেই।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৬-৫৮ নং আয়াতের তাফসীর:



(قُلِ ادْعُوا الَّذِيْنَ زَعَمْتُمْ مِّنْ... )



আয়াতের শানে নুযূল:



ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, কিছু কিছু কাফির-মুশরিক কতিপয় জিনের ইবাদত করত। অতঃপর ঐ জিনগুলো মুসলিম হয়ে যায়। আর ঐ কাফির-মুশরিকরা নিজেদেরকে কুফরীর উপরই প্রতিষ্ঠিত রাখে। অতঃপর আল্লাহ এই আয়াত নাযিল করেন। (সহীহ বুখারী হা: ৪৭১৪, সহীহ মুসলিম হা: ৩০৩০)



উক্ত আয়াতগুলোতে মূলত বর্ণনা করা হচ্ছে আল্লাহ ব্যতীত যে সমস্ত মূর্তি, ফেরেশতা, পাথর, জিন ও মানুষের উপাসনা করা হয় তাদের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন যে, তারা কিছুই করতে পারে না। তারা কারো কষ্ট দূর করতে পারে না, কারো অবস্থার পরিবর্তনও করতে পারে না। বরং তারাও আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করে এবং সৎ আমলের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য লাভের ইচ্ছা করে। কারণ তারা জানে যে, ভাল-মন্দ, লাভ-ক্ষতি সবকিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ, অন্য কেউ নয়।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “বল, তোমরা তাদেরকে আহ্বান কর, যাদেরকে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে (মা‘বূদ) মনে করতে, তারা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর অণু পরিমাণ কিছুরও অধিকারী নয়, এতদুভয়ে তাদের কোন অংশও নেই এবং তাদের মধ্য থেকে কেউ আল্লাহর সহায়তাকারীও নয়। আল্লাহর কাছে কারও সুপারিশ উপকারে আসবে না, কিন্তু তার সুপারিশ উপকারে আসবে যাকে তিনি অনুমতি দেবেন।” (সূরা সাবা ৩৪:২২-২৩)



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “তোমরা কি ভেবে দেখেছ যে আল্লাহ আমার অনিষ্ট চাইলে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাক তারা কি সেই অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি অনুগ্রহ করতে চাইলে তারা কি সে অনুগ্রহকে বন্ধ করতে পারবে? বল: আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তাঁর উপরই নির্ভর করে। ” (সূরা যুমার ৩৯:৩৮)



সুতরাং মানুষের বানানো মা‘বূদেরা কারো কোন কল্যাণ ও ক্ষতির ক্ষমতা রাখে না। তাই তারা ইবাদত পাওয়ারও যোগ্যতা রাখে না। الوسيلة বা মাধ্যম গ্রহণ করার ব্যাপারে কিছু শর্ত রয়েছে যা সূরা মায়িদার ৩৫ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, তিনি কিয়ামত সংঘটিত হবার পূর্বেই প্রত্যেক জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দেবেন। কেউ তখন আর পৃথিবীর বুকে জীবিত থাকবে না।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন, অতএব সমস্ত উপকার-ক্ষতি, ভাল-মন্দ সকল কিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই, অন্য কেউ নয়। আর তিনিই একমাত্র উপাসনার যোগ্য। তাঁকে ব্যতীত আর যাদের ইবাদত করা হয় তারা সকলেই ভ্রান্ত ও বাতিল। তাই একমাত্র তাঁরই উপাসনা করতে হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সকল ক্ষমতার অধিকারী কেবলমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।

২. কিয়ামতের পূর্বে পৃথিবীর সকল বস্তু ধ্বংস/শেষ হয়ে যাবে।

৩. দুনিয়াতে যা কিছু সংঘটিত হবে সকল বিষয় পূর্বে থেকেই লিপিবদ্ধ করা আছে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৬-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীকে (সঃ) বলেছেনঃ হে নবী (সঃ)! যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের ইবাদত করে তাদেরকে বলে দাওঃ তোমরা তাদেরকে খুব ভাল করে আহবান করতঃ দেখে নাও যে, তারা তোমাদের কোন উপকার করতে পারে কি না তাদের এই শক্তি আছে যে, তোমাদের কষ্ট কিছু লাঘব করে? জেনে রেখো যে, তাদের কোনই ক্ষমতা নেই। ব্যাপক ক্ষমতাবান একমাত্র আল্লাহ। তিনি এক। তিনিই সবার সৃষ্টিকর্তা এবং হুকুম দাতা একমাত্র তিনিই। এই মুশরিকরা বলতো যে, তারা ফেরেশতাদের হযরত ঈসার (আঃ) -এবং হযরত উযায়েরের (আঃ) ইবাদত করে। তাই মহান আল্লাহ তাদেরকে বলেনঃ তোমরা যাদের ইবাদত কর তারা নিজেরাই তো আল্লাহর নৈকট্য অনুসন্ধান করে।

সহীহ বুখারী শরীফে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “এই মুশরিকরা যে জ্বিনদের ইবাদত করতো তারা নিজেরাই মুসলমান হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এরা এখন পর্যন্ত নিজেদের কুফরীর উপরই প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।”এ জন্যেই তাদেরকে সতর্ক করে বলা হচ্ছেঃ তোমাদের মা’বূদরা নিজেরাই আল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়েছে। হযরত ইবনু মাসঊদ (রাঃ) বলেন যে, এই জ্বিনেরা ফেরেশতাদের একটি শ্ৰেণীভূক্ত ছিল। হযরত ঈসা (আঃ), হযরত মরিয়ম (আঃ), হযরত উযায়ের (আঃ), সূর্য, চন্দ্র এবং ফেরেশতা সবাই আল্লাহর নৈকট্যের অনুসন্ধিৎসু।

ইমাম ইবনু জারীর (রঃ) বলেন যে, সঠিক ভাবার্থ হচ্ছেঃ এই মুশরিকরা যে। জ্বিনদের ইবাদত করতো এই আয়াতে তারাই উদ্দেশ্য। কেননা, হযরত ঈসা (আঃ) প্রভৃতির যুগতো শেষ হয়ে গিয়েছিল এবং ফেরেশতারা পূর্ব হতেই আল্লাহ তাআলার ইবাদতে মশগুল থাকতেন। সুতরাং এখানে জ্বিনেরাই উদ্দেশ্য।

(আরবি) এর অর্থ হচ্ছে নৈকট্য, যেমন কাতাদা (রঃ) বলেছেন। এই বুযুর্গদের একমাত্র চিন্তা ছিল যে, কে বেশী আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভ করতে পারেন? তারা আল্লাহর করুণার আকাংখী এবং তাঁর শাস্তি হতে ভীত সন্ত্রস্ত। বাস্তবিক এ দুটো ছাড়া ইবাদত পূর্ণ হয় না। ভয় পাপ থেকে বিরত রাখে এবং আশা-আকাংখা আনুগত্যে উদ্বুদ্ধ করে। প্রকৃতপক্ষেই তার শাস্তি ভীত সন্ত্রস্ত হওয়ার যোগ্য। আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করুন!





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।