সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 85)
হরকত ছাড়া:
وإذا رأى الذين ظلموا العذاب فلا يخفف عنهم ولا هم ينظرون ﴿٨٥﴾
হরকত সহ:
وَ اِذَا رَاَ الَّذِیْنَ ظَلَمُوا الْعَذَابَ فَلَا یُخَفَّفُ عَنْهُمْ وَ لَا هُمْ یُنْظَرُوْنَ ﴿۸۵﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইযা-রাআল্লাযীনা জালামুল ‘আযা-বা ফালা-ইউখাফফাফুআনহুম ওয়ালা-হুম ইউনজারূন।
আল বায়ান: আর যা যুলম করেছে, তারা যখন আযাব দেখবে, তখন তাদের উপর থেকে তা শিথিল করা হবে না এবং তাদেরকে অবকাশও দেয়া হবে না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৫. আর যারা যুলুম করেছে, তারা যখন শাস্তি দেখবে তখন তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না(১) এবং তাদেরকে কোন অবকাশও দেয়া হবে না।
তাইসীরুল ক্বুরআন: সীমালঙ্ঘনকারীরা যখন ‘আযাব প্রত্যক্ষ করবে তাদের থেকে তখন তা কমানো হবে না, আর তাদেরকে সময়-সুযোগও দেয়া হবে না।
আহসানুল বায়ান: (৮৫) যখন সীমালংঘনকারীরা তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে কোন ঢিল দেওয়াও হবে না। [1]
মুজিবুর রহমান: যখন যালিমরা শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে তখন তাদের শাস্তি লঘু করা হবেনা এবং তাদেরকে কোন বিরাম দেয়া হবেনা।
ফযলুর রহমান: আর জালেমরা যখন শাস্তি দেখতে পাবে তখন তা আর লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে কোন অবকাশও দেওয়া হবে না।
মুহিউদ্দিন খান: যখন জালেমরা আযাব প্রত্যক্ষ করবে, তখন তাদের থেকে তা লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে কোন অবকাশ দেয়া হবে না।
জহুরুল হক: আর যারা অন্যায়াচরণ করেছে তারা যখন শাস্তি দেখতে পাবে তখন তাদের থেকে তা লাঘব করা হবে না, আর তারা অব্যাহতিও পাবে না।
Sahih International: And when those who wronged see the punishment, it will not be lightened for them, nor will they be reprieved.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৮৫. আর যারা যুলুম করেছে, তারা যখন শাস্তি দেখবে তখন তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না(১) এবং তাদেরকে কোন অবকাশও দেয়া হবে না।
তাফসীর:
(১) আয়াতের অর্থ, যখন মুশরিকরা আযাব পাবে, তখন তা তাদের থেকে সামান্য সময়ের জন্যও বন্ধ করা হবে না। আর তাদের কাছে সে আযাব পৌছতে দেরীও হবে না। বরং তাদেরকে দ্রুত সেটা গ্রাস করবে। হাশরের মাঠ থেকে পাকড়াও করে হিসাব বাদেই জাহান্নামে নিয়ে যাবে। [ইবন কাসীর] যেমন হাদীসে এসেছে, কিয়ামতের মাঠে জাহান্নামকে এমতাবস্থায় নিয়ে আসা হবে যে, এর সত্তর হাজার লাগাম থাকবে, প্রত্যেক লাগামের সাথে থাকবে সত্তর হাজার ফিরিশতা। [মুসলিম: ২৮৪২]
অন্য বর্ণনায় এসেছে, তখন জাহান্নাম থেকে এমন কিছু ঘাড় বের হবে যেগুলো সমস্ত সৃষ্টির উপর থেকে সুস্পষ্টভাবে দেখা যাবে। সেগুলো বলতে থাকবে, আমার উপর এমন প্রত্যেক সীমালঙ্ঘনকারী, দুর্দান্ত প্রতাপশীলের ভার ন্যস্ত হয়েছে যে আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহ সাব্যস্ত করবে।’ [মুসনাদে আহমাদ: ২/৩৩৬] তারপর জাহান্নাম তাদেরকে ঝাপটে ধরবে এবং হাশরের মাঠের অবস্থান থেকে খুঁজে খুঁজে নিবে যেমন কোন পাখি কোন দানাকে খুঁজে নেয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন, “দূর থেকে আগুন যখন তাদেরকে দেখবে তখন তারা শুনতে পাবে এর ক্রুদ্ধ গর্জন ও হুঙ্কার। এবং যখন তাদেরকে শৃংখলিত অবস্থায় সেটার কোন সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে তখন তারা সেখানে ধ্বংস কামনা করবে। বলা হবে, আজ তোমরা এক ধ্বংসকে ডেকো না, বরং বহু ধ্বংসকে ডাক।” [সূরা আল-ফুরকান: ১২–১৪] [ইবন কাসীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৮৫) যখন সীমালংঘনকারীরা তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে, তখন তাদের শাস্তি লঘু করা হবে না এবং তাদেরকে কোন ঢিল দেওয়াও হবে না। [1]
তাফসীর:
[1] শাস্তি লঘু বা কম না করার অর্থ, মাঝে কোন বিরতি দেওয়া হবে না; বরং অবিরাম শাস্তি হতে থাকবে। যেমন তাদেরকে কোন ঢিল বা অবকাশও দেওয়া হবে না; বরং তাদেরকে তৎক্ষণাৎ লাগাম দিয়ে ধরে লোহার শিকলে বেঁধে জাহান্নামে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হবে। অথবা তওবা করার সুযোগ দেওয়া হবে না। কারণ পরকাল কর্মস্থল নয়; প্রতিদান দিবস।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৮৪-৮৯ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতে মানুষের পাপের কারণে আখিরাতে তাদের কিরূপ অবস্থা হবে সে কথা বর্ণনা করছেন।
شَهِيْدًا একজন সাক্ষী বলতে সে জাতির নাবীকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ প্রত্যেক নাবী তাঁর জাতির জন্য সাক্ষ্য দেবে যে, তিনি তাদের নিকট আল্লাহ তা‘আলার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু তারা তা অগ্রাহ্য করেছিল। ঐ সকল কাফিরদেরকে অজুহাত পেশ করার কোন সুযোগ দেয়া হবে না। কারণ তাদের গ্রহণযোগ্য কোন অজুহাত থাকবে না। আর না তাদেরকে প্রত্যাবর্তন বা অসন্তোষ দূর করার সময় দেয়া হবে। কারণ তার প্রয়োজন তখন হয়, যখন কাউকে সুযোগ দেয়ার উদ্দেশ্য থাকে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(هٰذَا يَوْمُ لَا يَنْطِقُوْنَ - وَلَا يُؤْذَنُ لَهُمْ فَيَعْتَذِرُوْنَ)
“এটা এমন একদিন যেদিন তারা কিছু বলতে পারবে না। এবং না তাদেরকে অনুমতি দেয়া হবে ওযর পেশ করার।” (সূরা মুরসালাত ৭৭:৩৫-৩৬)
(وَلَا هُمْ يُسْتَعْتَبُوْنَ)
এর অন্য আরেকটি অর্থ হল তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টি অর্জন করার কোন সুযোগ দেয়া হবে না। কারণ সে সুযোগ তাদেরকে পৃথিবীতে দেয়া হয়েছিল, যা ছিল কর্মস্থল। আখিরাত কর্মস্থল নয়, বরং প্রতিদান দেয়ার দিন। সেখানে মানুষ পৃথিবীতে যা করেছে তার প্রতিদান পাবে। সেখানে কাউকেই কিছু আমল করার সুযোগ দেয়া হবে না।
(وَلَا هُمْ يُنْظَرُوْنَ)
অর্থাৎ শাস্তি হালকা করা হবে না এবং বিরতি দেয়া হবে না। বরং অবিরাম শাস্তি দেয়া হবে।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলছেন যে, কিয়ামতের দিন যখন মুশরিকরা তাদের মা‘বূদদেরকে দেখতে পাবে তখন তারা বলবে: হে আল্লাহ তা‘আলা! এরা হল আমাদের মা‘বূদ, আপনাকে বাদ দিয়ে এদের ইবাদত করেছি। তখন মা‘বূদেরা অস্বীকার করে বলবে: তোমরা মিথ্যা বলছ, তোমরা আমাদের ইবাদত করনি, কারণ আমরা কখনো তোমাদেরকে আমাদের ইবাদত করতে বলিনি।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنْ يَّدْعُوْا مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مَنْ لَّا يَسْتَجِيْبُ لَه۫ٓ إِلٰي يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَنْ دُعَا۬ئِهِمْ غٰفِلُوْنَ - وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوْا لَهُمْ أَعْدَا۬ءً وَّكَانُوْا بِعِبَادَتِهِمْ كٰفِرِيْنَ)
“সে ব্যক্তির চেয়ে বেশি গোমরাহ আর কে হতে পারে, যে আল্ল¬াহকে বাদ দিয়ে এমন কাউকে ডাকে, যে কিয়ামতের দিন পর্যন্তও সাড়া দেবে না। বরং তারা তাদের আহ্বান সম্পর্কে গাফেল। (হাশরের ময়দানে) যখন সব মানুষকে একত্রিত করা হবে তখন যারা যাদেরকে ডাকত তারা তাদের দুশমন হয়ে যাবে এবং তাদের ইবাদতকে অস্বীকার করবে।” (সূরা আহক্বাফ ৪৬:৫-৬)
আর যদি শরীক আল্লাহ তা‘আলার নেক বান্দা হয়, যেমন বহু নেক বান্দা যাদেরকে কেন্দ্র করে মাযার তৈরি করা হয়েছে কিংবা তাদের নামে মানত করা হয়, নযর মানা হয় বা তাদের কাছে চাওয়া হয় এবং সিজদা করা হয় তাহলে কিয়ামতের দিন হাশরের মাঠে নির্দোষ প্রমাণ করা হবে। আর যারা তাদের ইবাদত করত তাদেরকে জাহান্নামে ঠেলে দেয়া হবে। যেমন ঈসা (عليه السلام)-এর সাথে আল্লার প্রশ্নোত্তর সূরা মায়িদার ১১৬-১১৮ নং আয়াতে উল্লেখ রয়েছে।
আর যারা নিজেরা আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করত এবং মানুষকে আল্লাহ তা‘আলার পথে চলতে বাধা প্রদান করত তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা শাস্তির ওপর শাস্তি বৃদ্ধি করে দেবেন। কারণ যাদেরকে বাধা দিয়েছে তাদের পাপের ভারও বহণ করতে হবে। যদি বাধা না দিত তাহলে হয়তো তারা ঈমান আনত।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(وَلَيَحْمِلُنَّ أَثْقَالَهُمْ وَأَثْقَالًا مَّعَ أَثْقَالِهِمْ)
“তারা অবশ্যই নিজেদের পাপের ভার বহন করবে এবং নিজেদের বোঝার সাথে আরও কিছু বোঝা।” (সূরা আনকাবুত ২৯:১৩)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, তিনি প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে একজন সাক্ষী উপস্থিত করবেন এবং তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিয়ে আসবেন। আর তখন পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(فَکَیْفَ اِذَا جِئْنَا مِنْ کُلِّ اُمَّةٍۭ بِشَھِیْدٍ وَّجِئْنَا بِکَ عَلٰی ھٰٓؤُلَا۬ئِ شَھِیْدًاﭸﺛیَوْمَئِذٍ یَّوَدُّ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا وَعَصَوُا الرَّسُوْلَ لَوْ تُسَوّٰی بِھِمُ الْاَرْضُﺚ وَلَا یَکْتُمُوْنَ اللہَ حَدِیْثًاﭹﺟ)
“যখন আমি প্রত্যেক উম্মত হতে একজন সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব তখন কী অবস্থা হবে? যারা কুফরী করেছে এবং রাসূলের অবাধ্য হয়েছে তারা সেদিন কামনা করবে, যদি তারা মাটির সঙ্গে মিশে যেতে পারত! আর তারা আল্লাহ হতে কোন কথাই গোপন করতে পারবে না।” (সূরা নিসা ৪:৪১-৪২) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(فَلَنَسْئَلَنَّ الَّذِيْنَ أُرْسِلَ إِلَيْهِمْ وَلَنَسْئَلَنَّ الْمُرْسَلِيْنَ)
“অতঃপর যাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করা হয়েছিল তাদেরকে আমি অবশ্যই জিজ্ঞেস করব এবং রাসূলগণকেও জিজ্ঞেস করব।” (সূরা আ‘রাফ ৭:৬)
অতএব সেদিনের অবস্থা হবে খুবই কঠিন। সেদিন প্রত্যেক অপরাধীকে তার কৃতকর্মের জন্য কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। যে শাস্তি থেকে রেহাই পাবার কোনই পথ থাকবে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে সাক্ষী উপস্থিত করা হবে।
২. কোন ওযর-আপত্তি পেশ করা যাবে না।
৩. আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় মানুষকে বাধা দেয়া যাবে না।
৪. জাহান্নামে শাস্তির কোন কম-বেশি করা হবে না।
৫. দুনিয়ায় যাদের ইবাদত করা হত তারা তাদের অনুসারীদের কথা অস্বীকার করবে।
৬. কুরআনে সকল বিষয় স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৮৪-৮৮ নং আয়াতের তাফসীর
কিয়ামতের দিন মুশরিকদের যে দূরবস্থা ও দুর্গতি হবে, আল্লাহ তাআলা এখানে তারই খবর দিচ্ছেন। ঐদিন প্রত্যেক উম্মতের বিরুদ্ধে তার নবী সাক্ষ্য প্রদান করবেন যে, তিনি তাদের কাছে আল্লাহর কালাম পৌঁছিয়ে দিয়েছেন।
অতঃপর কাফিরদেরকে কোন ওযর পেশ করার অনুমতি দেয়া হবে না। কেননা, তাদের ওযর যে বাতিল ও মিথ্যা এটা তো স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “এটা এমন একদিন যেদিন কারো বাকস্ফুর্তি হবে না, এবং তাদেরকে অনুমতি দেয়া হবে না অপরাধ স্থালনের।” (৭৭:৩৫-৩৬)
মুশরিকরা আযাব দেখবে, তাদের আযাব হ্রাস করা হবে না এবং এক ঘন্টার জন্যেও শাস্তি হালকা হবে না এবং তারা অবকাশও পাবে না। অকস্মাৎ তাদেরকে পাকড়াও করা হবে। জাহান্নাম এসে পড়বে যা সত্তর হাজার লাগাম বিশিষ্ট হবে। একটি লাগামের উপর নিযুক্ত থাকবেন সত্তর হাজার ফেরেশতা। তাদের মধ্যে একজন গ্রীবা বের করে এমনভাবে ক্রোধ প্রকাশ করবেন যে, সমস্ত হাশরবাসী ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে হাটুর ভরে পড়ে যাবে। এ সময় জাহান্নাম নিজের ভাষায় সশব্দে ঘোষণা করবেঃ “আমাকে প্রত্যেক অবাধ্য ও হঠকারীর জন্যে নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকেও শরীক করেছে এবং এরূপ এরূপ কাজ করেছে। এভাবে সে কয়েক প্রকারের পাপীর কথা উল্লেখ করবে, যেমন হাদীসে রয়েছে। অতঃপর সে সমস্ত লোককে জড়িয়ে ধরবে এবং হাশরের মাঠে তাদেরকে লাফিয়ে ধরবে যেমন পাখী চঞ্চু দ্বারা খাদ্য ধরে খেয়ে থাকে। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “দূর হতে অগ্নি যখন তাদেরকে দেখবে তখন তারা শুনতে পাবে ওর ক্রুদ্ধ গর্জন ও চীৎকার। আর যখন তাদেরকে শৃংখলিত অবস্থায় ওর কোন সংকীর্ণ স্থানে নিক্ষেপ করা হবে তখন তারা তথায় ধ্বংস কামনা করবে। তাদেরকে বলা হবেঃ আজ তোমরা একবারের জন্যে ধ্বংস কামনা করো না। বহুবার ধ্বংস হওয়ার কামনা করতে থাকো।” (২৫:১২-১৪)
আর এক জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “অপরাধীরা জাহান্নাম দেখে ধারণা করবে যে, তাদেরকে ওর মধ্যে নিক্ষেপ করা হবে এবং তারা ওর থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন উপায় দেখতে পাবে না। অন্য আয়াতে রয়েছেঃ “যদি কাফিররা ঐ সময়ের কথা জানতে পারতো! যখন তারা নিজেদের চেহারা ও কোমরের উপর হতে জাহান্নামের আগুন দূর করতে পারবে না, তারা কোন সাহায্যকারীও পাবে না, হঠাৎ আল্লাহর শাস্তি তাদেরকে হতভম্ব করে ফেলবে!
ঐ শাস্তি দূর করার তাদের ক্ষমতা থাকবে, না তাদেরকে এক মুহূর্তকাল অবকাশ দেয়া হবে।”
ঐ সময় মুশরিকরা তাদের ঐ বাতিল মা’বূদদের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়বে যাদের তারা জীবন ধরে ইবাদত করে এসেছিল। কারণ, এ সময় তারা তাদের কোনই কাজে আসবে না। তাদের মা’বূদদেরকে দেখে তারা বলবেঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! এরা তারাই যাদের আমরা দুনিয়ায় ইবাদত করতাম।” তখন তারা উত্তরে বলবেঃ “তোমরা মিথ্যাবাদী। আমরা কখন তোমাদেরকে বলেছিলাম যে, তোমরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমাদেরই ইবাদত করো?” এ সম্পর্কেই আল্লাহ পাক বলেনঃ “ওদের চেয়ে বেশী পথভ্রষ্ট আর কে হতে পারে, যারা আল্লাহ ছাড়া এমন কিছুকে আহ্বান করে যারা কিয়ামত পর্যন্তও তাদের আহ্বানে সাড়া দিতে পারবে না। বরং তাদের ডাক থেকেও তারা। উদাসীন? হাশরের দিন তারা তাদের শত্রু হয়ে যাবে এবং তাদের ইবাদতের কথা অস্বীকার করবে।” অন্য জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ “তারা আল্লাহ ব্যতীত অন্য মাবুদ গ্রহণ করে, যেন তারা তাদের সহায় হয়। কখনই নয়; তারা তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে এবং তাদের বিরোধী হয়ে যাবে।” হযরত খলীলও (আঃ) একথাই বলেছিলেনঃ (আরবি), অর্থাৎ “অতঃপর কিয়ামতের দিন তোমাদের একে অপরকে অস্বীকার করবে।” (২৯:২৫) আর এক আয়াতে আছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “বলা হবেঃ তোমরা তোমাদের শরীকদেরকে আহবান কর।” (২৮:৬৪) এ বিষয়ের আরো বহু আয়াত কুরআন কারীমে বিদ্যমান রয়েছে। এ দিন সবাই মুসলমান ও অনুগত হয়ে যাবে। যেমন মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “যেদিন তারা আমার নিকট আসবে সেইদিন তারা খুবই শ্রবণকারী ও দর্শনকারী হয়ে যাবে।” (১৯:৩৮) অন্য এক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “হায়! তুমি যদি দেখতে! যখন অপরাধীরা তাদের প্রতিপালকের সম্মুখে অধোবদন হয়ে বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা প্রত্যক্ষ করলাম ও শ্রবণ করলাম। (৩২:১২) অন্য একটি আয়াতে রয়েছেঃ “ঐ দিন। সমস্ত চেহারা চিরঞ্জীব, স্বাধিষ্ঠ বিশ্বধাতার সামনে অধোমুখী হবে।” অর্থাৎ বাধ্য ও অনুগত হবে। তাদের সমস্ত অপবাদ প্রদান দূর হয়ে যাবে। শেষ হবে সমস্ত ষড়যন্ত্র ও চাতুরী। কোন সহায় সাহায্যকারী সাহায্যের জন্যে দাঁড়াবে না।
মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “আমি শাস্তির উপর শাস্তি বৃদ্ধি করবো কাফিরদের ও আল্লাহর পথে বাধাদানকারীদের; কারণ, তারা অশান্তি সৃষ্টি করতো। প্রকৃতপক্ষে তারা নিজেরাই ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে, কিন্তু তারা বুঝে না।
এর দ্বারা জানা যাচ্ছে যে, কাফিরদের শাস্তিরও শ্রেণী বিভাগ থাকবে, যেমন মুমিনদের পুরস্কারের শ্রেণী বিভাগ হবে। আল্লাহ তাআলা যেমন বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “প্রত্যেকের জন্যে রয়েছে দ্বিগুণ শাস্তি, কিন্তু তোমরা অবগত নও।” (৭:৩৮)
হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, জাহান্নামের শাস্তির সাথে সাথেই বিষাক্ত সর্পের দংশন বৃদ্ধি পাবে। সর্পগুলি এতো বড় বড় হবে যেমন বড় বড় খেজুরের গাছ। (এটা হাফিয আবু ইয়ালা (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেনঃ “আরশের নীচে পাঁচটি নদী রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে জাহান্নামীদেরকে শাস্তি দেয়া হবে। দিনেও এবং রাত্রেও।”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।