সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 74)
হরকত ছাড়া:
فلا تضربوا لله الأمثال إن الله يعلم وأنتم لا تعلمون ﴿٧٤﴾
হরকত সহ:
فَلَا تَضْرِبُوْا لِلّٰهِ الْاَمْثَالَ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یَعْلَمُ وَ اَنْتُمْ لَا تَعْلَمُوْنَ ﴿۷۴﴾
উচ্চারণ: ফালা-তাদরিবূলিল্লা-হিল আমছা-লা ইন্নাল্লা-হা ইয়া‘লামুওয়া আনতুম লা-তা‘লামূন।
আল বায়ান: সুতরাং তোমরা আল্লাহর জন্য অন্য কোন দৃষ্টান্ত স্থাপন করো না। নিশ্চয় আল্লাহ জানেন আর তোমরা জান না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৪. কাজেই তোমরা আল্লাহর কোন সদৃশ স্থির করো না।(১) নিশ্চয় আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।
তাইসীরুল ক্বুরআন: কাজেই কারো সাথে আল্লাহর তুলনা দিও না। আল্লাহ জানেন, আর তোমরা জান না।
আহসানুল বায়ান: (৭৪) সুতরাং তোমরা আল্লাহর সদৃশাবলী স্থির করো না।[1] নিশ্চয় আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।
মুজিবুর রহমান: সুতরাং তোমরা আল্লাহর কোন সদৃশ স্থির করনা; নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জাননা।
ফযলুর রহমান: অতএব, তোমরা আল্লাহর কোন উপমা দিও না। বস্তুত আল্লাহ (সবকিছু) জানেন, তোমরা জান না।
মুহিউদ্দিন খান: অতএব, আল্লাহর কোন সদৃশ সাব্যস্ত করো না, নিশ্চয় আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।
জহুরুল হক: অতএব আল্লাহ্র সঙ্গে কোনো সদৃশ স্থির করো না। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ জানেন আর তোমরা জান না।
Sahih International: So do not assert similarities to Allah. Indeed, Allah knows and you do not know.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭৪. কাজেই তোমরা আল্লাহর কোন সদৃশ স্থির করো না।(১) নিশ্চয় আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।
তাফসীর:
(১) আল্লাহর জন্য সদৃশ স্থির করো না- মুফাসসির যাজ্জাজ এর তাফসীরে বলেন, তোমরা আল্লাহর জন্য উদাহরণ ও দৃষ্টান্ত পেশ করো না। কেননা, তিনি এক, তার কোন দৃষ্টান্ত নেই। আর তারা বলত যে, জগতের মা’বুদ এতই মহিয়ান যে তাকে আমাদের কেউ ইবাদত করতে পারে না। সুতরাং তারা মূর্তি-প্রতিমা, দেব-দেবী ও তারকারাজির মাধ্যম গ্রহণ করত। যেমন সাধারণ ছোট ছোট লোকেরা বাদশার দরবারে যেতে বড় বড় লোকদের দ্বারস্থ হয়ে থাকে। আর এ বড় বড় লোকগুলো বাদশার খেদমত করে, সুতরাং তাদের কথা শুনবে। এ আয়াতে তাদেরকে তা থেকে নিষেধ করা হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর] অর্থাৎ আল্লাহকে দুনিয়ার রাজা-মহারাজা ও বাদশাহ-শাহানশাহদের সমপর্যায়ে রেখে বিচার করো না। রাজা-বাদশাহদের অনুচর, সভাসদ ও মোসাহেবদের মাধ্যম ছাড়া তাদের কাছে কেউ নিজের আবেদন নিবেদন পৌছাতে পারে না। ঠিক তেমনি আল্লাহর ব্যাপারেও তোমরা এ ধারণা করতে থাকো যে, তিনি নিজের শাহী মহলে ফেরেশতা, আউলিয়া ও অন্যান্য সভাসদ পরিবৃত হয়ে বিরাজ করছেন এবং এদের মাধ্যমে ছাড়া তাঁর কাছে কারোর কোন কাজ সম্পন্ন হতে পারে না।
আলোচ্য বাক্যটি তাদের সন্দেহের মূল উপড়ে দিয়ে বলেছে যে, আল্লাহ তা'আলার জন্য সৃষ্টজীবের দৃষ্টান্ত পেশ করা একান্তই নিৰ্বুদ্ধিতা। তিনি দৃষ্টান্ত, উদাহরণ এবং আমাদের ধারণা-কল্পনার অনেক উর্ধ্বে। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা তার জন্য দৃষ্টান্ত পেশ করতে নিষেধ করার কারণ হিসেবে বলেছেন যে, আল্লাহ জানেন তোমাদের উপর কি ইবাদাত করণীয়, তোমরা জান না তিনি ব্যতীত অন্যদের ইবাদত করলে কি কঠিন পরিণতির সম্মুখীন তোমাদের হতে হবে। [ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭৪) সুতরাং তোমরা আল্লাহর সদৃশাবলী স্থির করো না।[1] নিশ্চয় আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।
তাফসীর:
[1] যেমন, মুশরিকরা উদাহরণ দিয়ে থাকে যে, যদি রাজার সাথে সাক্ষাৎ করতে হয় বা তাঁর নিকট থেকে কোন কাজ নিতে হয়, তাহলে রাজার নিকট সরাসরি যাওয়া যায় না; বরং তাঁর নিকটতম লোকেদের সাথে সম্পর্ক ও যোগাযোগ করতে হয়, (উকিল ধরতে হয়,) তবেই রাজার নিকট পৌছনো সম্ভব হয়। অনুরূপ আল্লাহ অত্যন্ত মহান ও বিশাল রাজা। তাঁর নিকট পৌছনোর জন্য আমরা এই সব উপাস্যদের উপাসনা করি বা বুযুর্গদেরকে অসীলা ও মাধ্যমরূপে ব্যবহার করি। মহান আল্লাহ এর উত্তরে বলেন, তোমরা আল্লাহকে নিজেদের উপর অনুমান করো না এবং তাঁর জন্য কোন উপমা, দৃষ্টান্ত বা সদৃশ পেশ করো না। কারণ তিনি অনুপম; তাঁর কোন উপমা নেই। তিনি একক; তাঁর কোন সদৃশ নেই। তারপর মানুষ রাজা না গায়বী খবর জানে, আর না সে সব সময় সবার নিকট উপস্থিত, না সে সর্বশ্রোতা সর্বজ্ঞাতা যে, বিনা কোন মাধ্যমে প্রজাদের অবস্থা ও তাদের প্রয়োজন জানতে সক্ষম। অন্যথা মহান আল্লাহ প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য, দৃশ্য-অদৃশ্য প্রত্যেক বস্তুর খবর রাখেন। রাত্রির অন্ধকারে সংঘটিত কর্মও তিনি দেখতে পান। প্রত্যেকের অভাব-অভিযোগও জানতে-শুনতে সক্ষম। অতএব কিভাবে একজন পার্থিব রাজা ও শাসকের সাথে মহান রাজা আল্লাহর তুলনা ও সাদৃশ্য হতে পারে?
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: b> ৭৩-৭৯ নং আয়াতের তাফসীর:
অত্র আয়াতগুলোতে কাফির-মুশরিকদের বাতিল মা‘বূদের দুর্বলতা ও অক্ষমতার পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। তারা এমন মা‘বূদের ইবাদত করে যারা আকাশ-জমিন কোথাও থেকে একটু রিযিকের ব্যবস্থা করতে সক্ষম নয়। আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করতে পারে না, কোন খাদ্য নিয়ে আসতে পারে না। জমিন থেকে কোন ফসল উৎপন্ন করতে পারে না, কোন খাদ্য সরবরাহ করতে পারে না। বরং সকল রিযিকের ব্যবস্থা করে থাকেন একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।
আল্লাহ বলেন:
(إِنَّ الَّذِيْنَ تَعْبُدُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ لَا يَمْلِكُوْنَ لَكُمْ رِزْقًا فَابْتَغُوْا عِنْدَ اللّٰهِ)
“তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদের পূজো কর তারা তোমাদের জীবনোপকরণের ক্ষমতা রাখে না, তোমরা রিযিক কামনা কর আল্লাহর নিকট এবং তাঁরই ‘ইবাদত কর ও তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।” (সূরা আনকাবুত ২৯:১৭)
তাই আল্লাহ তা‘আলার জন্য কোন উপমা, শরীক ও মাধ্যম সাব্যস্থ কর না। কারণ আল্লাহ তা‘আলা একাই সকলকে সৃষ্টি করেছেন, রিযিক দিয়ে থাকেন এবং পরিচালনা করে থাকেন। তাই তার কোন সহযোগী, শরীক ও মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(لَيْسَ كَمِثْلِه۪ شَيْءٌ)
“কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।” (সূরা শুরা ৪২:১১)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(وَلَمْ يَكُنْ لَّه۫ كُفُوًا أَحَدٌ)
“আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।” (সূরা ইখলাস ১১২:৪)
অনেকে বলে থাকে বান্দা পাপ করতে করতে এমন পর্যায়ে চলে যায় যে, আল্লাহ তা‘আলার কাছে সরাসরি চাইলে তিনি তা কবূল করেন না, বা তাঁর কাছে পৌঁছা সম্ভব নয়। সুতরাং কোন বুযুর্গ বা ওলী-আওলীয়াকে ধরতে হবে যেমন কোন রাজা বা বড় ধরণের ব্যক্তির কাছে যেতে পিয়ন বা নৈকট্যশীল ব্যক্তির প্রয়োজন হয়। এরূপ বিশ্বাস ও কর্ম সম্পূর্ণ শিরক ও কুফরী কাজ। বান্দা সরাসরি আল্লাহ তা‘আলার কাছে চাইবে এ নির্দেশ কুরআনে আল্লাহ তা‘আলাই দিয়েছেন। যেমন সূরা মু’মিন ৬০ নং, সূরা বাকারাহ ১৮৬ নং-সহ অনেক আয়াত রয়েছে। হাদীসে এসেছে রাতের এক তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে আল্লাহ তা‘আলা স্বয়ং বলেন: কে আছো আমাকে ডাকবে আমি তার ডাকে সাড়া দেবো, কে আছো আমার কাছে ক্ষমা চাইবে তাকে ক্ষমা করে দেবো, কে আছো আমার কাছে সম্পদ চাইবে তাকে আমি দেবো। এভাবে ফজর হওয়া পর্যন্ত বলতে থাকেন। (সহীহ বুখারী হা: ১১৪৫, সহীহ মুসলিম হা: ৭৫৮)
আল্লাহ তা‘আলার কাছে চাইতে কোন পীর-ফকীর বা মাজারে শায়িত ব্যক্তিসহ কারো মাধ্যম লাগে না, বরং সরাসরি আল্লাহ তা‘আলার কাছে চাইলেই আল্লাহ তা‘আলা খুশি হন ও তা পাওয়া যায়।
রিযিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। তাই সকলের উচিত সব কিছু ছেড়ে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার কাছে চাওয়া।
(ضَرَبَ اللّٰهُ مَثَلًا عَبْدًا)
অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলার ও যারা আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্যের ইবাদত করে তাদের দুটি উপমা বর্ণিত হয়েছে:
একটি উপমা হল-
১. কৃতদাস, যে দুনিয়ার কোন কিছু তো দূরের কথা নিজেরও মালিক না।
২. স্বাধীন ধনী ব্যক্তি যাকে আল্লাহ তা‘আলা অনেক সম্পদ দান করেছেন এবং সম্মানিত করেছেন। সে তার সম্পদ থেকে প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে আল্লাহ তা‘আলার পথে দান করে। এ দু’জন ব্যক্তি কি সমান? না, কখনো সমান হতে পারে না, অথচ দু’জনেই মাখলুক। তাহলে কিভাবে আল্লাহ তা‘আলা ও বান্দা সমান হতে পারে, যে বান্দার কোন ক্ষমতা ও সামর্থ্য নেই, সব দিক থেকে আল্লাহ তা‘আলার মুখাপেক্ষী। এজন্য আল্লাহ তা‘আলা নিজের প্রশংসা করেছেন।
দ্বিতীয় উপমা হল দু’জন ব্যক্তির একজন কোন কিছু শুনতে পায় না এবং কোন কথা বলতে পারে না, এমনকি কোন কিছু করতে সক্ষম নয়, সে তার মালিকের বোঝাস্বরূপ। এ ব্যক্তি কি ঐ ব্যক্তির মত হবে যে ন্যায়ের নির্দেশ দেয় এবং যে নিজে সঠিক পথে প্রতিষ্ঠিত। তাঁর কথাগুলো ন্যায়সঙ্গত এবং কাজগুলো সঠিক। এ দু’জন যেমন সমান হতে পারে না তেমনি যারা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ইবাদত করে আর যারা এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করে তারা কক্ষনো সমান হতে পারে না ।
(وَلِلّٰهِ غَيْبُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ....)
অর্থাৎ আকাশ ও জমিনে যত গায়েবের বিষয় রয়েছে সব আল্লাহ তা‘আলা জানেন, অন্য কেউ নয়। এসব গায়েবের বিষয়ের মধ্যে অন্যতম হল কিয়ামত দিবস সংঘটিত হওয়ার সময়কাল আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কেউ জানে না।
কিয়ামতের বিষয়টি আল্লাহ তা‘আলার কাছে একটি পলকের ন্যায় বরং তার চেয়েও সত্বর। তা সংঘটিত করতে আল্লাহ তা‘আলার এক মূহুর্তের ব্যাপার নয়।
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمَآ أَمْرُنَآ إِلَّا وَاحِدَةٌ كَلَمْحٍۭ بِالْبَصَرِ)
“আমার আদেশ তো একটি কথায় নিষ্পন্ন, চক্ষুর পলকের মত।” (সূরা ক্বামার ৫৪:৫০)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(إِنَّهُمْ يَرَوْنَه۫ بَعِيْدًا - وَّنَرَاهُ قَرِيْبًا)
“নিশ্চয়ই তারা ঐ দিনকে অনেক দূরে মনে করে, কিন্তু আমি তা দেখছি নিকটে।” (সূরা মায়া‘রিজ ৭০:৬-৭)
সুতরাং বুঝা গেল যে, কিয়ামত অতি সন্নিকটে, তা যেকোন মুহূর্তে সংঘটিত হতে পারে।
(وَاللّٰهُ أَخْرَجَكُمْ مِنْ.....)
অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে মায়ের পেট থেকে এমন অবস্থায় বের করে আনেন যে,সে অবস্থায় তার কোন জ্ঞান থাকে না। কোনটা ভাল-মন্দ, কোন্টা সঠিক, কোন্টা বেঠিক ইত্যাদি সম্পর্কে থাকে একেবারেই অজ্ঞ। কিন্তু সৃষ্টির সময় আল্লাহ তা‘আলা কান, চোখ ও অন্তর দিয়ে দিয়েছেন যাতে কান দ্বারা শোনে, চোখ দ্বারা দেখে এবং অন্তর দ্বারা উপলদ্ধি করে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। মানুষ যখন ধীরে ধীরে বড় হয় তখন তার সব কিছু বাড়তে থাকে এবং দৈহিক শক্তি ও জ্ঞানের পরিমাণও বাড়তে থাকে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(قُلْ هُوَ الَّذِيْٓ أَنْشَأَكُمْ وَجَعَلَ لَكُمُ السَّمْعَ وَالْأَبْصَارَ وَالْأَفْئِدَةَ ط قَلِيْلًا مَّا تَشْكُرُوْنَ - قُلْ هُوَ الَّذِيْ ذَرَأَكُمْ فِي الْأَرْضِ وَإِلَيْهِ تُحْشَرُوْنَ)
“বল: তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে দিয়েছেন শ্রবণশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও অন্তঃকরণ। তোমরা অল্পই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাক। বল: তিনিই পৃথিবীব্যাপী তোমাদেরকে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে।” (সূরা মুলক ৬৭:২৩-২৪)
(أَلَمْ يَرَوْا إِلَي....)
উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে আবারো তাঁর ক্ষমতার কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তিনিই আকাশের এই শূন্য গর্ভে পাখিকে উড়ার ক্ষমতা দিয়েছেন, তাদেরকে স্থির রাখেন, কোন ইঞ্জিন নেই, কোন সংযোগ নেই। এসব কে করেন, একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা। তাই নয় কী?
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(اَوَ لَمْ یَرَوْا اِلَی الطَّیْرِ فَوْقَھُمْ صٰ۬فّٰتٍ وَّیَقْبِضْنَﺔ مَا یُمْسِکُھُنَّ اِلَّا الرَّحْمٰنُﺚ اِنَّھ۫ بِکُلِّ شَیْءٍۭ بَصِیْرٌﭢ)
“তারা কি লক্ষ্য করে না তাদের উপরে পাখিসমূহের প্রতি, যারা ডানা বিস্তার করে ও সঙ্কুচিত করে? দয়াময় আল্লাহই তাদেরকে শূন্যে স্থির রাখেন। তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক দ্রষ্টা।” (সূরা মুলক ৬৭:১৯)
উপরোক্ত আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্যের কথাই বর্ণনা করছেন যে, তিনি সকল কিছুর সৃষ্টিকর্তা এবং তিনি তাদের রক্ষণাবেক্ষণ এর দায়িত্ব পালন করেন। সুতরাং ইবাদত পাবার যোগ্য একমাত্র তিনিই, অন্য কেউ নয়। তাই সকলের উচিত তাঁরই উপাসনা করা।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. রিযিকের মালিক একমাত্র আল্লাহ।
২. আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় দান করতে হবে।
৩. আল্লাহ তা‘আলার নিকট সকল কিছুর জ্ঞান রয়েছে।
৪. মানুষকে অস্তিত্বহীন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
৫. আল্লাহ তা‘আলা প্রদত্ত ক্ষমতায় পাখিরা শূন্য আকাশে উড়ে বেড়ায়।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৭৩-৭৪ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যারা তার সাথে অন্যের ইবাদত করে। তিনি বলেনঃ “নিয়ামত দানকারী, সষ্টিকারী, রুযী দাতা একমাত্র আল্লাহ। তার কোন অংশীদার নেই। আর এই মুশরিকরা আল্লাহর সাথে যাদের ইবাদত করছে তারা না পারে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করতে, না পারে যমীন থেকে শস্য ও গাছ পালা জন্মাতে। তারা যদি সবাই মিলিতভাবেও চেষ্টা করে, তবুও এক ফোঁটা পানি পর্যন্ত বর্ষণ করতে সক্ষমহবে না। তারা একটা পাতাও পয়দা করার ক্ষমতা রাখে না। সুতরাং হে মুশরিকদের দল! তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকেও তুলনা করো না এবং তাঁর শরীক ও তাঁর মত কাউকেও মনে করো না। আল্লাহ আলেম ও জ্ঞানী। তিনি তার জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে নিজের তাওহীদের সাক্ষ্য দিচ্ছেন। আর তোমরা নিজেদের অজ্ঞতার কারণে অন্যদেরকে আল্লাহর শরীক বানিয়ে নিয়েছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।