আল কুরআন


সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 66)

সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 66)



হরকত ছাড়া:

وإن لكم في الأنعام لعبرة نسقيكم مما في بطونه من بين فرث ودم لبنا خالصا سائغا للشاربين ﴿٦٦﴾




হরকত সহ:

وَ اِنَّ لَکُمْ فِی الْاَنْعَامِ لَعِبْرَۃً ؕ نُسْقِیْکُمْ مِّمَّا فِیْ بُطُوْنِهٖ مِنْۢ بَیْنِ فَرْثٍ وَّ دَمٍ لَّبَنًا خَالِصًا سَآئِغًا لِّلشّٰرِبِیْنَ ﴿۶۶﴾




উচ্চারণ: ওয়া ইন্না লাকুম ফিল আন‘আ-মি লা‘ইবরাতান নুছকীকুম মিম্মা-ফী বুতূনিহী মিম বাইনি ফারছিওঁ ওয়া দামিল লাবানান খা-লিসান ছাইগাল লিশশা-রিবীন ।




আল বায়ান: আর নিশ্চয় চতুষ্পদ জন্তুতে রয়েছে তোমাদের জন্য শিক্ষা। তার পেটের ভেতরের গোবর ও রক্তের মধ্যখান থেকে তোমাদেরকে আমি দুধ পান করাই, যা খাঁটি এবং পানকারীদের জন্য স্বাচ্ছ্যন্দকর।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬৬. আর নিশ্চয় গবাদি পশুর মধ্যে তোমাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। তার পেটের গোবর ও রক্তের মধ্য থেকে(১) তোমাদেরকে পান করাই বিশুদ্ধ দুধ, যা পানকারীদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যকর।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমাদের জন্য গবাদি পশুতেও অবশ্যই শিক্ষা নিহিত আছে। তোমাদেরকে পান করাই ওদের পেটের গোবর আর রক্তের মাঝ থেকে বিশুদ্ধ দুগ্ধ যা পানকারীদের জন্য খুবই উপাদেয়।




আহসানুল বায়ান: (৬৬) অবশ্যই (গৃহপালিত) চতুষ্পদ জন্তুর[1] মধ্যে তোমাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে; ওগুলির উদরস্থিত গোবর ও রক্তের মধ্য হতে তোমাদেরকে আমি পান করাই বিশুদ্ধ দুধ; যা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।[2]



মুজিবুর রহমান: অবশ্যই (গৃহপালিত) চতুস্পদ জন্তুর মধ্যে তোমাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে; ওগুলির উদরস্থিত গোবর ও রক্তের মধ্য হতে তোমাদেরকে আমি পান করাই বিশুদ্ধ দুগ্ধ, যা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।



ফযলুর রহমান: গবাদিপশুর মধ্যেও তোমাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। আমি তাদের পেটের ভিতরের গোবর ও রক্তের মধ্য থেকে খাঁটি দুধ (বের করে) তোমাদেরকে পান করাই, যা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু ও তৃপ্তিদায়ক।



মুহিউদ্দিন খান: তোমাদের জন্যে চতুস্পদ জন্তুদের মধ্যে চিন্তা করার অবকাশ রয়েছে। আমি তোমাদেরকে পান করাই তাদের উদরস্থিত বস্তুসমুহের মধ্যে থেকে গোবর ও রক্ত নিঃসৃত দুগ্ধ যা পানকারীদের জন্যে উপাদেয়।



জহুরুল হক: আর নিঃসন্দেহ গবাদি-পশুর মধ্যে তোমাদের জন্য তো শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। আমরা তোমাদের পান করাই যা রয়েছে তাদের পেটের মধ্যে -- গোবর ও রক্তের মধ্যে থেকে -- খাঁটি দুধ, পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।



Sahih International: And indeed, for you in grazing livestock is a lesson. We give you drink from what is in their bellies - between excretion and blood - pure milk, palatable to drinkers.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৬৬. আর নিশ্চয় গবাদি পশুর মধ্যে তোমাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। তার পেটের গোবর ও রক্তের মধ্য থেকে(১) তোমাদেরকে পান করাই বিশুদ্ধ দুধ, যা পানকারীদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যকর।


তাফসীর:

(১) গোবর ও রক্তের মাঝখান দিয়ে পরিস্কার দুধ বের করা সম্পর্কে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেনঃ জন্তুর ভক্ষিত ঘাস তার পাকস্থলীতে একত্রিত হলে পাকস্থলী তা সিদ্ধ করে। পাকস্থলীর এই ক্রিয়ার ফলে খাদ্যের বিষ্ঠা নীচে বসে যায় এবং দুধ উপরে থেকে যায়। দুধের উপরে থাকে রক্ত। এরপর যকৃত এই তিন প্রকার বস্তুকে পৃথকভাবে তাদের স্থানে ভাগ করে দেয়, রক্ত পৃথক করে রগের মধ্যে চালায় এবং দুধ পৃথক করে জন্তুর স্তনে পৌছে দেয়। এখন পাকস্থলীতে শুধু বিষ্ঠা থেকে যায়, যা গোবর হয়ে বের হয়ে আসে। [ইবন কাসীর] প্রকৃতিতে এমন কে আছে যে চতুষ্পদ জন্তুরা যে খাবার খায়, যে পানীয় গ্রহণ করে সেটাকে দুধে রুপান্তরিত করতে পারে? [সা’দী] এ আয়াত থেকে আরও জানা গেল যে, সুস্বাদু ও উপাদেয় খাদ্য ব্যবহার করা দ্বীনদারীর পরিপন্থী নয়। [কুরতুবী]

তবে শর্ত এই যে, হালাল পথে উপার্জন করতে হবে এবং অপব্যয় যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা যখন আহার করবে তখন বলবেঃ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَأَطْعِمْنَا خَيْرًا مِنْهُ وَفي رِوَايَةٍ: وَارْزُقْنٰا خَيْراً مِنْهُ (অর্থাৎ হে আল্লাহ্‌! আমাদেরকে এতে বরকত দিন এবং ভবিষ্যতে আরও উত্তম খাদ্য দিন। অন্য বর্ণনায়, ভবিষ্যতে আরও উত্তম রিযিক দিন।) আর যখন তোমাদেরকে দুধ পান করানো হয়, তখন বলবে, اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِيهِ وَزِدْنَا مِنْهُ (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদেরকে এতে বরকত দিন এবং আরো বেশী দান করুন।) (এর চাইতে উত্তম খাদ্য চাওয়া হয়নি।) কারণ, মানুষের খাদ্য তালিকায় দুধের চাইতে উত্তম কোন খাদ্য নেই। [আবু দাউদঃ ৩৭৩০, তিরমিযীঃ ৩৪৫৫, ইবনে মাজাহঃ ৩৩২২] তাই আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক মানুষ ও জন্তুর প্রথম খাদ্য করেছেন দুধ, যা মায়ের স্তন্য থেকে সে লাভ করে।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৬৬) অবশ্যই (গৃহপালিত) চতুষ্পদ জন্তুর[1] মধ্যে তোমাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে; ওগুলির উদরস্থিত গোবর ও রক্তের মধ্য হতে তোমাদেরকে আমি পান করাই বিশুদ্ধ দুধ; যা পানকারীদের জন্য সুস্বাদু।[2]


তাফসীর:

[1] أنعام (গৃহপালিত চতুষ্পদ জন্তু) বলতে উট, গরু, ছাগল ও ভেঁড়াকে বুঝানো হয়েছে।

[2] এই চতুষ্পদ জন্তুরা যা কিছু খায় তা পেটে যায়, আর তা থেকে দুধ, রক্ত, গোবর ও প্রস্রাব তৈরী হয়। রক্ত শিরা-উপশিরায়, দুধ স্তনে, অনুরূপ গোবর ও প্রস্রাব নিজ নিজ জায়গায় পৌঁছে যায়। দুধে না রক্তের মিশ্রণ থাকে, আর না গোবর ও প্রস্রাবের দুর্গন্ধ; বরং তা নির্মল সাদা ও পরিষ্কার হয়ে বের হয় এবং তা পানকারীর জন্য হয় সুস্বাদু।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৬৬-৬৭ নং আয়াতের তাফসীর:



... الْأَنْعَامِ তথা চতুষ্পদ জন্তু যেমন উট, গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদির মাঝে রয়েছে মানুষের জন্য শিক্ষা। এসব জন্তু যা কিছু খায় তা পেটে চলে যায়, আর তা থেকে দূধ, রক্ত, গোবর ও প্রস্রাব তৈরি হয়। রক্ত শিরা-উপশিরায়, দুধ স্তনে, অনুরূপ গোবর ও প্রস্রাব নিজ নিজ জায়াগায় চলে যায়। দুধের সাথে রক্ত মিশ্রিত হয় না, গোবর ও প্রস্রাবও মিশ্রণ হয় না, বরং প্রত্যেকটাকে আলাদা আলাদা পথে বের করে দুধকে নির্মল সাদা ও পরিস্কার করে বের করে আনেন। এত সূক্ষ্ম ও নিপুণতার সাথে আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ কি সৃষ্টি করতে পারে? না, আল্লাহ ছাড়া কেউ সৃষ্টি করতে পারে না। সুতরাং যে আল্লাহ তা‘আলা এত সুক্ষ্ম করে সৃষ্টি করতে পারেন তিনি ছাড়া কি অন্য কেউ ইবাদত পাওয়ার হকদার? না, অন্য কেউই পেতে পারে না। তাই সকল ইবাদত আল্লাহ তা‘আলার জন্যই করতে হবে।



এরূপ অনেক আয়াতে রয়েছে যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَإِنَّ لَكُمْ فِي الْأَنْعَامِ لَعِبْرَةً ط نُسْقِيْكُمْ مِّمَّا فِيْ بُطُوْنِهَا وَلَكُمْ فِيْهَا مَنَافِعُ كَثِيْرَةٌ وَّمِنْهَا تَأْكُلُوْنَ)



“এবং তোমাদের জন্য অবশ্যই শিক্ষণীয় বিষয় আছে চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে, তোমাদেরকে আমি পান করাই তাদের উদরে যা আছে তা হতে এবং তাতে তোমাদের জন্য রয়েছে প্রচুর উপকারিতা; তোমরা তা হতে আহার কর‎।” (সূরা মু’মিনুন ২৩:২১)



অনুরূপভাবে মানুষের প্রতি আল্লাহ তা‘আলার অন্যতম অনুগ্রহ হল তাদেরকে খেজুর, আঙ্গুর ইত্যাদি ফল-ফলাদি দিয়েছেন, তারা এসব থেকে মদ ও উত্তম খাদ্য যেমন শুকনো খেজুর, কিসমিস গ্রহণ করে। এ সকল জিনিস আল্লাহ তা‘আলাই সৃষ্টি করেছেন, অন্য কেউ নয়।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَجَعَلْنَا فِیْھَا جَنّٰتٍ مِّنْ نَّخِیْلٍ وَّاَعْنَابٍ وَّفَجَّرْنَا فِیْھَا مِنَ الْعُیُوْنِﭱﺫلِیَاْکُلُوْا مِنْ ثَمَرِھ۪ﺫ وَمَا عَمِلَتْھُ اَیْدِیْھِمْﺚ اَفَلَا یَشْکُرُوْنَﭲسُبْحٰنَ الَّذِیْ خَلَقَ الْاَزْوَاجَ کُلَّھَا مِمَّا تُنْۭبِتُ الْاَرْضُ وَمِنْ اَنْفُسِھِمْ وَمِمَّا لَا یَعْلَمُوْنَﭳ)



“আমি তাতে সৃষ্টি করি খেজুর ও আঙ্গুরের বাগান এবং প্রবাহিত করি তাতে ঝরণাধারা। যেন তারা এর ফলমূল থেকে খাদ্য গ্রহণ করতে পারে। তাদের হাত এটা সৃষ্টি করেনি। তবুও কি তারা কৃতজ্ঞ হবে না?” (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৩৪-৩৫)



سَكَرًا অর্থ মদ, এটাই অধিকাংশ আলেমের মত। মদ হারাম হওয়ার পূর্বে তা এ উম্মাতের জন্য একটি নেয়ামত ছিল। তাই হালাল (পবিত্র) জিনিসের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে। এ আয়াতটি মাক্কী, এরপরে তিনটি মাদানী আয়াত অবতীর্ণ হয়ে মদকে সম্পূর্ণ হারাম করে দেয়া হয়। যেমন সূরা বাকারার ২১৯, সূরা নিসার ৪৩ এবং সূরা মায়িদার ৯০-৯১ নং আয়াত।



অতএব মানুষের উচিত আল্লাহ তা‘আলার দেয়া এই সমস্ত নেয়ামত ভোগ করার পর কেবল তাঁরই ইবাদত করা। আর তাঁর সাথে কাউকে অংশীদার না করা।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. দুধ একটি স্বচ্ছ ও নির্মল সুস্বাদু খাদ্য যা আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে দিয়েছেন।

২. যিনি সকল কিছুর স্রষ্টা, তিনিই সকল ইবাদত পাওয়ার হকদার।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৬৬-৬৭ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “আনআম অর্থাৎ উট, গরু, ছাগল ইত্যাদিও আমার ক্ষমতা ও নিপুণতার নিদর্শন। (আরবি) এর সর্বনাম টি কে হয়তোবা নিয়ামতের অর্থের দিকে ফিরানো হয়েছে অথবা (আরবি) এর দিকে ফিরানো হয়েছে। চতুষ্পদ জন্তুগুলিও (আরবি) -ই বটে। এই চতুষ্পদ জন্তুগুলির পেটের মধ্যে যে আজে বাজে খারাপ জিনিস রয়েছে ওরই মধ্য হতে বিশ্ব প্রতিপালক আল্লাহ তোমাদের জন্যে অত্যন্ত সৃদৃশ্য ও সুস্বাদু দুগ্ধ পান করিয়ে থাকেন। অন্য জায়গায় (আরবি) রয়েছে। দু'টোই জায়েয। যেমন রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “না, এই আচরণ অনুচিত, এটা তো উপদেশ বাণী। যে ইচ্ছা করবে সে এটা স্মরণ করবে।” (৮০:১১) অন্য এক জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “আমি তাদের নিকট উপঢৌকন পাঠাচ্ছি; দেখি, দূতেরা কি নিয়ে ফিরে আসে।” (২৭:৩৫-৩৬) এরপর বলা হয়েছে (আরবি) ব্যাপক ক্ষমতা এবং মহিমার পরিচয় পেতে পারে। প্রকৃতপক্ষে জ্ঞানই হচ্ছে মানুষের প্রকৃতগুণ, তাই ইসলামী শরীয়ত এই জ্ঞানের রক্ষণাবেক্ষণের জন্যেই নেশা আনয়নকারী ও জ্ঞান লোপকারী জিনিসকে হারাম করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “ওতে (যমীনে) আমি সৃষ্টি করি খজুর ও আঙ্গুরের উদ্যান এবং উৎসারিত করি প্রস্রবণ। যাতে তারা ভক্ষণ করতে পারে এর ফলমূল হতে, অথচ তাদের হস্ত ওটা সৃষ্টি করে নাই; তবুও কি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না? পবিত্র ও মহান তিনি, যিনি উদ্ভিদ, মানুষ এবং তারা যাদেরকে জানে না তাদের প্রত্যেককে সৃষ্টি করেছেন জোড়া জোড়া করে।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।