সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 64)
হরকত ছাড়া:
وما أنزلنا عليك الكتاب إلا لتبين لهم الذي اختلفوا فيه وهدى ورحمة لقوم يؤمنون ﴿٦٤﴾
হরকত সহ:
وَ مَاۤ اَنْزَلْنَا عَلَیْکَ الْکِتٰبَ اِلَّا لِتُبَیِّنَ لَهُمُ الَّذِی اخْتَلَفُوْا فِیْهِ ۙ وَ هُدًی وَّ رَحْمَۃً لِّقَوْمٍ یُّؤْمِنُوْنَ ﴿۶۴﴾
উচ্চারণ: ওয়ামাআনযালনা-‘আলাইকাল কিতা-বা ইল্লা লিতুবাইয়িনা লাহুমুল লাযীখ তালাফূফীহি ওয়াহুদাওঁ ওয়া রাহমাতাল লিকাওমিইঁ ইউ’মিনূন।
আল বায়ান: আর আমি তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি, শুধু এ জন্য যে, যে বিষয়ে তারা বিতর্ক করছে, তা তাদের জন্য তুমি স্পষ্ট করে দেবে এবং (এটি) হিদায়াত ও রহমত সেই কওমের জন্য যারা ঈমান আনে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬৪. আর আমরা তো আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যারা এ বিষয়ে মতভেদ করে তাদেরকে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য এবং যারা ঈমান আনে এমন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও দয়াস্বরূপ।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি তোমার প্রতি কিতাব এজন্য নাযিল করেছি যাতে তুমি সে সকল বিষয় স্পষ্ট করে দিতে পার যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছিল, আর (এ কিতাব) বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য পথপ্রদর্শক ও রহমাত স্বরূপ।
আহসানুল বায়ান: (৬৪) আমি তো তোমার প্রতি গ্রন্থ এ জন্যই অবতীর্ণ করেছি; যাতে তারা যে বিষয়ে মতভেদ করে, তাদেরকে তুমি তা সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিতে পার[1] এবং বিশ্বাসীদের জন্য পথ নির্দেশ ও দয়া স্বরূপ।
মুজিবুর রহমান: আমিতো তোমার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছি যারা এ বিষয়ে মতভেদ করে তাদেরকে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য এবং মু’মিনদের জন্য পথ-নির্দেশ ও দয়া স্বরূপ।
ফযলুর রহমান: তোমার কাছে কিতাব নাযিল করেছি শুধু এজন্য যে, তারা যে বিষয়ে মতভেদ করে তুমি তাদের জন্য তা স্পষ্ট করবে; আর ঈমানদার লোকদের জন্য তা এক পথ-নির্দেশ ও অনুগ্রহস্বরূপ হবে।
মুহিউদ্দিন খান: আমি আপনার প্রতি এ জন্যেই গ্রন্থ নাযিল করেছি, যাতে আপনি সরল পথ প্রদর্শনের জন্যে তাদের কে পরিষ্কার বর্ণনা করে দেন, যে বিষয়ে তারা মতবিরোধ করছে এবং ঈমানদারকে ক্ষমা করার জন্যে।
জহুরুল হক: আর তোমার কাছে আমরা এই গ্রন্থ পাঠাই নি এইজন্য ছাড়া যে তুমি তাদের কাছে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করবে যে-বিষয়ে তারা মতভেদ করে, আর একটি পথনির্দেশ ও করুণা সেই লোকদের জন্য যারা বিশ্বাস করে।
Sahih International: And We have not revealed to you the Book, [O Muhammad], except for you to make clear to them that wherein they have differed and as guidance and mercy for a people who believe.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৬৪. আর আমরা তো আপনার প্রতি কিতাব নাযিল করেছি যারা এ বিষয়ে মতভেদ করে তাদেরকে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য এবং যারা ঈমান আনে এমন সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও দয়াস্বরূপ।(১)
তাফসীর:
(১) অন্য কথায় এ কিতাব নাযিল হওয়ার কারণে এরা একটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে গেছে। তাওহীদ ও পুনরুত্থানের বিভিন্ন অবস্থা ও শরীআতের বিধানের মধ্যে যে সব মতবাদ ও ধর্মে এরা বিভক্ত হয়ে গেছে সেগুলোর পরিবর্তে সবাই একমত হতে পারে এ কুরআনের কাছে ফিরে আসার মাধ্যমে। [ফাতহুল কাদীর] এখন এ নিয়ামতটি এসে যাওয়ার পরও যারা অতীতের অবস্থাকেই প্রাধান্য দিয়ে যাওয়ার মত নিৰ্বুদ্ধিতার পরিচয় দিচ্ছে তাদের পরিণাম ধ্বংস ও লাঞ্ছনা ছাড়া আর কিছু নয়। এখন যারা এ কিতাবকে মেনে নেবে একমাত্র তারাই সত্য-সরল পথ পাবে এবং তারাই অঢেল বরকত ও রহমতের অধিকারী হবে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৬৪) আমি তো তোমার প্রতি গ্রন্থ এ জন্যই অবতীর্ণ করেছি; যাতে তারা যে বিষয়ে মতভেদ করে, তাদেরকে তুমি তা সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দিতে পার[1] এবং বিশ্বাসীদের জন্য পথ নির্দেশ ও দয়া স্বরূপ।
তাফসীর:
[1] এতে নবী (সাঃ)-এর দায়িত্ব বিবৃত হয়েছে যে, বিশ্বাস ও শরীয়তের বিধি-বিধানের ব্যাপারে ইয়াহুদী-খ্রিষ্টানদের মাঝে, অনুরূপ অগ্নিপূজক ও মুশরিকদের মাঝে এবং অনান্য ধর্মাবলম্বী লোকেদের মাঝে যে সব মতপার্থক্য রয়েছে, তা এমনভাবে আলোচনা কর, যাতে ন্যায়-অন্যায় ও হক-বাতিল স্পষ্ট হয়ে যায়। যাতে মানুষ হককে গ্রহণ করতে ও বাতিলকে বর্জন করতে পারে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৬৩-৬৫ নং আয়াতের তাফসীর:
যখন কাফির-মুশরিকরা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মিথ্যাবাদী, জাদুকর ও পাগল ইত্যাদি বলে ব্যঙ্গ করতে লাগল তখন আল্লাহ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন: আমি (আল্লাহ তা‘আলার শপথ) করে বলছি; তোমার পূর্বে বিভিন্ন জাতির নিকট রাসূল প্রেরণ করেছিলাম, তারা মানুষকে তাওহীদের দিকে আহ্বান করেছিল, কিন্তু শয়তান তাদের কাছে খারাপ আমলগুলো সুশোভিত করে তুলে ধরেছিল, ফলে তারা রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে। সুতরাং মক্কার কাফির-মুশরিকসহ পৃথিবীতে যত কাফির আগমন করবে সকলের নিকটই শয়তান খারাপ আমলকে চাকচিক্যময় করে তুলে ধরেছে ও ধরবে, ফলে তারা ঈমান আনতে পারেনি এবং পারবেও না। সুতরাং আজ দুনিয়াতে শয়তান তাদের অভিভাবক, তারা শয়তানের অনুসরণ করছে, তার সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে, কিন্তু কিয়ামতের দিন তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
(إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوْا فِيْهِ)
অর্থাৎ কুরআন নাযিলের অন্যতম একটি লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বর্ণনা করে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দায়িত্ব বিবৃত করে বলেন: বিশ্বাস ও শরীয়তের বিধি-বিধানের ব্যাপারে ইয়াহূদী-খ্রিস্টানদের মাঝে, অনুরূপ অগ্নিপূজক ও মুশরিকদের মাঝে এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বী লোকদের মাঝে যে সব মতপার্থক্য রয়েছে, তা এমনভাবে আলোচনা কর, যাতে ন্যায়-অন্যায় ও হক-বাতিল স্পষ্ট হয়ে যায়। যাতে মানুষ হককে গ্রহণ করতে পারে, বাতিলকে বর্জন করতে পারে। সুতরাং যারা কুরআনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং তার প্রতি আমল করবে তাদের জন্য হিদায়াত ও রহমত।
(أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً....)
এখানে আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে মৃত জমিনকে জীবিত করেন। অর্থাৎ জমিন একসময় শুকিয়ে ফেটে চৌচির হয়ে যায়, তাতে কিছুই জন্মানোর ক্ষমতা থাকে না। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন এবং তার দ্বারা ভূমিকে জীবিত করে তোলেন, ফলে তাতে ফসল জন্মাতে থাকে। এটা আল্লাহ তা‘আলারই একটি নিদর্শন; যা মানুষের মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের প্রমাণ বহন করে। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা মৃত ভূমিকে যেমন জীবিত করেন তেমনি মানুষকেও পুনরায় জীবিত করবেন। তাই যারা আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনাবলী হতে উপদেশ গ্রহণের জন্য শ্রবণ করে তাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. প্রত্যেক জাতির নিকট নবী-রাসূল প্রেরণ করা হয়েছে।
২. যারা মন্দ কাজ করে তাদের বন্ধু হচ্ছে শয়তান।
৩. জমিন ধূ-ধূ মরুভূমিতে পরিণত কিংবা ফেটে চৌচির হওয়ার পর যেমন বৃষ্টির পানি দ্বারা জীবিত হয় তেমনি মানুষকে মৃত্যুর পর জীবিত করা হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৬৩-৬৫ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীকে (সঃ) সান্ত্বনার সুরে বলছেনঃ “হে মুহাম্মদ (সঃ)! তোমার পূর্বে আমি উম্মত বর্গের নিকট রাসূলদেরকে পাঠিয়েছিলাম, তাদের সকলকেই মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছিল। সুতরাং তোমাকেও যে এরা মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে এতে বিস্ময়ের কিছুই নেই। এই অবিশ্বাসকারীরা শয়তানের শিষ্য। শয়তানী কুমন্ত্রণার কারণে তাদের খারাপ কাজগুলি তাদের কাছে শোভনীয় হচ্ছে। তাদের বন্ধু হচ্ছে শয়তান। সে কিন্তু তাদের কোনই উপকার করবে না। সে সব সময় তাদেরকে বিপদের মুখে ফেলে দিয়ে পগার পার হয়ে যাবে।
কুরআন কারীম হচ্ছে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী কিতাব। প্রত্যেক ঝগড়া-বিবাদ ও মতভেদের ফায়সালা এতে বিদ্যমান রয়েছে। এটা অন্তরের জন্যে হিদায়াত স্বরূপ এবং যে সব ঈমানদার এর উপর আমল করে তাদের জন্যে এটা রহমত স্বরূপ।
এই কুরআন কারীমের মাধ্যমে কিভাবে মৃত অন্তর জীবন লাভ করে থাকে, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে মৃত যমীন ও মেঘের বৃষ্টি। যারা কথা শুনে ও বুঝে তারা এর দ্বারা অনেক কিছু উপদেশ লাভ করতে পারে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।