সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 122)
হরকত ছাড়া:
وآتيناه في الدنيا حسنة وإنه في الآخرة لمن الصالحين ﴿١٢٢﴾
হরকত সহ:
وَ اٰتَیْنٰهُ فِی الدُّنْیَا حَسَنَۃً ؕ وَ اِنَّهٗ فِی الْاٰخِرَۃِ لَمِنَ الصّٰلِحِیْنَ ﴿۱۲۲﴾ؕ
উচ্চারণ: ওয়া আ-তাইনা-হু ফিদদুনইয়া-হাছানাতাওঁ ওয়া ইন্নাহূফিল আ-খিরাতি লামিনাসসালিহীন।
আল বায়ান: আর আমি তাকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করেছি এবং নিঃসন্দেহে সে আখিরাতে নেককারদের দলভুক্ত।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১২২. আর আমরা তাকে দুনিয়ায় দিয়েছিলাম মঙ্গল। আর নিশ্চয় তিনি আখিরাতে সৎকর্মপরায়ণদের দলভুক্ত।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি তাকে দুনিয়াতে কল্যাণ দান করেছিলাম, আর আখেরাতেও সে অবশ্যই সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।
আহসানুল বায়ান: (১২২) আমি তাকে ইহকালে দিয়েছিলাম মঙ্গল এবং নিশ্চয়ই পরকালেও সে হবে সৎকর্মপরায়ণদের অন্যতম।
মুজিবুর রহমান: আমি তাকে দুনিয়ায় দিয়েছিলাম মঙ্গল এবং আখিরাতেও নিশ্চয়ই সে সৎকর্মপরায়ণদের অন্যতম।
ফযলুর রহমান: আমি তাকে দুনিয়ায় কল্যাণ দিয়েছিলাম। আর আখেরাতেও সে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
মুহিউদ্দিন খান: আমি তাঁকে দুনিয়াতে দান করেছি কল্যাণ এবং তিনি পরকালেও সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভূক্ত।
জহুরুল হক: আর আমরা তাঁকে দুনিয়াতে কল্যাণ দিয়েছিলাম, আর তিনি পরকালেও নিশ্চয়ই হচ্ছেন সাধুপুরুষদের অন্তর্ভুক্ত।
Sahih International: And We gave him good in this world, and indeed, in the Hereafter he will be among the righteous.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১২২. আর আমরা তাকে দুনিয়ায় দিয়েছিলাম মঙ্গল। আর নিশ্চয় তিনি আখিরাতে সৎকর্মপরায়ণদের দলভুক্ত।(১)
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ দুনিয়াতে একজন মুমিনের যা প্রয়োজন আমি তাকে তার সবই দান করেছিলাম। [ইবন কাসীর] মুজাহিদ রাহেমাহুল্লাহ বলেনঃ দুনিয়াতে কল্যাণ দানের অর্থঃ সৎ প্রশংসাসূচক বাণী। সবাই তার সম্মান করে, তাকে ভাল বলে জানে। [ইবন কাসীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১২২) আমি তাকে ইহকালে দিয়েছিলাম মঙ্গল এবং নিশ্চয়ই পরকালেও সে হবে সৎকর্মপরায়ণদের অন্যতম।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১২০-১২৩ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা ইবরাহীম (عليه السلام)-এর মর্যাদা সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন। তিনি ছিলেন একজন সৎ ব্যক্তি এবং একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদতকারী। তিনি কোন মূর্তিপূজক ছিলেন না। أُمَّةً অর্থ ইমাম, নেতা। অর্থাৎ তিনি এমন নেতা ছিলেন যে, যার মধ্যে একজন নেতার সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান ছিল এবং তিনি সঠিক পথপ্রাপ্ত ও সঠিক পথের দিশারী ছিলেন।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(قَالَ إِنِّيْ جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا)
“নিশ্চয় আমি তোমাকে মানবমণ্ডলীর নেতা করব।” (সূরা বাকারাহ ২:১২৪)
أُمَّةً শব্দটি জাতি অর্থেও ব্যবহার হয়, সে অর্থে তিনি একাই ছিলেন একটি জাতি। যদি একজন লোকই তাওহীদের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে তাহলে সে একাই একটি জাতি। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে অনেক নেয়ামত দান করেছিলেন, তিনিও আল্লাহ তা‘আলার শুকরগুজার বান্দা ছিলেন।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ইবরাহীম (عليه السلام)-এর তাওহীদের দীন অনুসরণ করার নির্দেশ দিচ্ছেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সকল নাবীদের ইমাম হওয়া সত্ত্বেও ইবরাহীম (عليه السلام)-এর দীনের অনুসরণ করতে বলছেন কারণ তাঁর দীন ছিল সকল শিরকমুক্ত ও তাওহীদভিত্তিক। তাছাড়া এতে ইবরাহীম (عليه السلام) মর্যাদা বর্ণনা করা হয়েছে। যদিও সকল নাবীদের দীন একই ছিল।
অতএব প্রতিটি মুসলিম ব্যক্তির একান্ত কর্তব্য ইবরাহীম (عليه السلام)-এর মত পরিপূর্ণভাবে ঈমানদার হওয়া এবং আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশ পালন করা।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১২০-১২৩ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দা, রাসূল, তার বন্ধু, নবীদের পিতা এবং বড় মর্যাদা সম্পন্ন রাসূল হযরত ইবরাহীমের (আঃ) প্রশংসা করছেন এবং মুশরিক, ইয়াহূদী ও খৃস্টানদের থেকে তাঁকে পৃথক করছেন। (আরবি) এর অর্থ হলো ইমাম, যার অনুসরণ করা হয়। (আরবি) বলা হয় অনুগত ও বাধ্যকে। (আরবি) এর অর্থ হচ্ছে শিরক থেকে সরে গিয়ে তাওহীদের দিকে আগমনকারী। এজন্যেই আল্লাহ তাআলা বলেন যে, তিনি ছিলেন মুশরিকদের থেকে বিমুখ।
হযরত ইবনু মাসঊদকে (রাঃ) (আরবি) এর অর্থ জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেনঃ “মানুষকে ভাল শিক্ষাদানকারী এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য স্বীকারকারী। হযরত ইবনু উমার (রাঃ) বলেন যে, (আরবি) এর অর্থ হলো লোকদের দ্বীনের শিক্ষক।
একবার হযরত ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেনঃ “হযরত মুআয (রাঃ) (আরবি) ও (আরবি) ছিলেন।” তখন একজন লোক মনে মনে বলেনঃ “হযরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) ভুল বলছেন। আল্লাহর সাক্ষ্য অনুযায়ী তো এই গুনের অধিকারী ছিলেন হযরত ইবরাহীম (আঃ)।” তারপর প্রকাশ্যভাবেও তিনি বলেনঃ “আল্লাহ তাআলা হযরত ইবরাহীমকে (আঃ) তো (আরবি) বলেছেন?” তাঁর এ কথার জবাবে হযরত ইবনু মাসউদ (রাঃ) তাঁকে বললেনঃ “তুমি (আরবি) এর অর্থ (আরবি) এর অর্থ জান কি? ‘উম্মত তাকেই বলা হয়, যিনি লোকদেরকে মঙ্গল শিক্ষা দেন আর ‘কানেত’ তাঁকে বলা হয় যিনি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সঃ) আনুগত্যের কাজে লেগে থাকেন। নিশ্চয়ই হযরত মুআয (রাঃ) এই রূপই ছিলেন।” মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, হযরত ইবরাহীম (আঃ) একাকী উম্মাত ছিলেন এবং আল্লাহর হুকুমের অনুগত ছিলেন। তাঁর যুগে তিনি একাই একত্ববাদী ছিলেন, বাকী সব লোকই ছিল সেই সময় কাফির। কাতাদা (রঃ) বলেন যে, তিনি ছিলেন হিদায়াতের ইমাম এবং আল্লাহর গোলাম। তিনি আল্লাহর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন এবং তাঁর সমস্ত হুকুম মেনে চলতেন। যেমন মহান আল্লাহ স্বয়ং বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “সেই ইবরাহীম (আঃ) যে পূর্ণ করেছে।” (৫৩:৩৭) অর্থাৎ আল্লাহর সমস্ত হুকুম পালন করেছে। যেমন তিনি বলেন (আরবি) অর্থাৎ “ইতিপূর্বে আমি অবশ্যই ইবরাহীমকে (আঃ) রুশ ও হিদায়াত। দান করেছিলাম এবং তাকে আমি খুব ভাল রূপেই জানতাম।” (২১:৫১)।
মহান আল্লাহ বলেনঃ “আমি তাকে সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করেছিলাম। সে শুধু এক ও অংশীবিহীন আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্য করতো এবং তাঁর পছন্দনীয় শরীয়তের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। আমি তাকে দ্বীন ও দুনিয়ার মঙ্গল দান করেছিলাম। পবিত্র জীবনের সমস্ত প্রয়োজনীয় উত্তমগুণ তার মধ্যে বিদ্যমান ছিল। আর আখেরাতেও নিশ্চয়ই সে সংশীলদের অন্যতম।”
তাঁর পবিত্র যিকর দুনিয়াতেও বাকী রয়েছে এবং আখেরাতেও তিনি বিরাট মর্যাদার অধিকারী হবেন। তাঁর চরমোৎকর্ষ, তার শ্রেষ্ঠত্ব তাঁর তাওহীদের প্রতি ভালবাসা এবং তাঁর ন্যায় পথে প্রতিষ্ঠিত থাকার প্রতি এমন ভাবে আলোকপাত করা হয়েছে যে, মহামহিমান্বিত আল্লাহ স্বীয় শেষ নবী হযরত মুহাম্মদকে (সঃ) নির্দেশ দিচ্ছেনঃ “হে নবী (সঃ)! তুমি একনিষ্ঠ ইবরাহীমের (আঃ) অনুসরণ কর এবং জেনে রেখো যে, সে মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত ছিল ।” সূরায়ে আনআ’মে এরশাদ হয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “হে নবী (সঃ)! তুমি বলঃ নিশ্চয় আমার প্রতিপালক আমাকে সরল-সঠিক পথ প্রদর্শন করেছেন, যা হচ্ছে প্রতিষ্ঠিত ধর্ম ও একনিষ্ঠ ইবরাহীমের (আঃ) ধর্ম, আর সে মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত ছিল না।” (৬:১৬১) অতঃপর ইয়াহূদীদের উক্তির প্রতিবাদে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।