সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 111)
হরকত ছাড়া:
يوم تأتي كل نفس تجادل عن نفسها وتوفى كل نفس ما عملت وهم لا يظلمون ﴿١١١﴾
হরকত সহ:
یَوْمَ تَاْتِیْ کُلُّ نَفْسٍ تُجَادِلُ عَنْ نَّفْسِهَا وَ تُوَفّٰی کُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ وَ هُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ ﴿۱۱۱﴾
উচ্চারণ: ইয়াওমা তা’তী কুল্লুনাফছিন তুজা-দিলু‘আন নাফছিহা-ওয়া তুওয়াফফা-কুল্লুনাফছিম মা‘আমিলাত ওয়া হুম লা-ইউজলামূন।
আল বায়ান: (স্মরণ কর সে দিনের কথা) যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের পক্ষে যুক্তি-তর্ক নিয়ে উপস্থিত হবে এবং প্রত্যেককে ব্যক্তি সে যা আমল করেছে তা পরিপূর্ণরূপে দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি যুলম করা হবে না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১১. স্মরণ করুন সে দিনকে, যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি-তর্ক নিয়ে উপস্থিত হবে এবং প্রত্যেককে সে যা আমল করেছে তা পরিপূর্ণরূপে দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।
তাইসীরুল ক্বুরআন: সেদিন প্রত্যেক লোক নিজের পক্ষে যুক্তি পেশ করবে আর প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কৃতকর্মের প্রতিফল পূর্ণমাত্রায় দেয়া হবে, তাদের প্রতি কোন যুলম করা হবে না।
আহসানুল বায়ান: (১১১) (স্মরণ কর,) যে দিন প্রত্যেক ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি উপস্থিত করতে আসবে[1] এবং প্রত্যেকের তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না। [2]
মুজিবুর রহমান: স্মরণ কর সেই দিনকে যেদিন আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি উপস্থিত করতে আসবে প্রত্যেক ব্যক্তি এবং প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি যুলম করা হবেনা।
ফযলুর রহমান: (সে দিনটি স্মরণ করো) যেদিন প্রত্যেকেই আত্মপক্ষ সমর্থন করার জন্য উপস্থিত হবে, প্রত্যেককে তার কাজের ফল পুরোপুরি দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি কোন অন্যায় করা হবে না।
মুহিউদ্দিন খান: যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি আত্ন-সমর্থনে সওয়াল জওয়াব করতে করতে আসবে এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাদের কৃতকর্মের পূর্ণ ফল পাবে এবং তাদের উপর জুলুম করা হবে না।
জহুরুল হক: সেইদিন প্রত্যেক সত্ত্বা আপন আত্মার জন্য ওকালতি ক’রে আসবে, আর প্রত্যেক সত্ত্বাকে পুরো প্রাপ্য দেওয়া হবে যা সে করেছে তার জন্য, আর তাদের প্রতি অন্যায় করো হবে না।
Sahih International: On the Day when every soul will come disputing for itself, and every soul will be fully compensated for what it did, and they will not be wronged.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১১১. স্মরণ করুন সে দিনকে, যেদিন প্রত্যেক ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি-তর্ক নিয়ে উপস্থিত হবে এবং প্রত্যেককে সে যা আমল করেছে তা পরিপূর্ণরূপে দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১১১) (স্মরণ কর,) যে দিন প্রত্যেক ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি উপস্থিত করতে আসবে[1] এবং প্রত্যেকের তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেওয়া হবে এবং তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না। [2]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, কেউ অপরের সমর্থনে সামনে আসবে না। না পিতা, না ভাই, না স্ত্রী, না পুত্র আর না অন্য কেউ। বরং একে অন্য হতে পলায়ন করবে। ভাই ভাই হতে, পুত্র মাতা-পিতা হতে, স্বামী স্ত্রী হতে পলায়ন করবে। প্রত্যেক ব্যক্তি শুধু নিজের চিন্তাই করবে, যা তাকে অন্য থেকে ব্যস্ত রাখবে।{لِكُلِّ امْرِئٍ مِّنْهُمْ يَوْمَئِذٍ شَأْنٌ يُغْنِيهِ} অর্থাৎ, সেদিন প্রত্যেকের এমন গুরুতর অবস্থা হবে যা তাকে সম্পূর্ণরূপে ব্যস্ত রাখবে। (সূরা আবাস ৩৭)
[2] অর্থাৎ, নেকীর প্রতিদান কম করা হবে ও পাপের বদলা বেশী দেওয়া হবে --এ রকম হবে না। কারো উপর বিন্দুমাত্র অত্যাচার করা হবে না। পাপের প্রতিদান পাপ সমতুল্য দেওয়া হবে। অবশ্য নেকীর বদলা মহান আল্লাহ খুব বেশি বেশি দিবেন। আর এটি হবে তাঁর দয়ার প্রকাশ যা পরকালে শুধুমাত্র মু’মিনদের জন্য হবে। جعلنا الله منهم
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১১০-১১৩ নং আয়াতের তাফসীর:
(ثُمَّ اِنَّ رَبَّکَ لِلَّذِیْنَ ھَاجَرُوْا... وَھُمْ لَا یُظْلَمُوْنَ)
আল্লাহ তা‘আলা এখানে ঘোষণা করেন যে, যদি কেউ হিজরত করতে গিয়ে বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং নির্যাতিত হয় ও পরে আবার হিজরত করে মুসলিমদের দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় এবং ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন।
উক্ত আয়াতগুলোতে তাদের কথাই আলোচনা করা হয়েছে যারা তাদের ঘর-বাড়ি, সম্পদ ছেড়ে আল্লাহ তা‘আলার পথে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য হিজরত করেছে। আর হিজরত করার পর পুনরায় ইসলাম ত্যাগ করে কুফরী ধর্ম গ্রহণ করার জন্য কাফিরদের হাতে অত্যাচারিত হয়েছে তথাপি ইসলাম ত্যাগ করেনি। বরং তাদের ঈমান আরও মজবুত হয়েছে। প্রচণ্ড কষ্টের সময় ধৈর্য ধারণ করেছে এবং আল্লাহ তা‘আলার পথে তাঁর শত্র“দের সাথে যুদ্ধ করেছে এখানে তাদের কথাই বলা হয়েছে।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন, কিয়ামতের দিন মানুষ তাদের নিজেদের কৃতকর্মের পক্ষে যুক্তি পেশ করবে। আর আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেককে তাদের কৃতকর্মের ফলাফল দান করবেন। কারো ওপর বিন্দু পরিমাণ জুলুম করবেন না।
(وَضَرَبَ اللہُ مَثَلًا قَرْیَةً کَانَتْ اٰمِنَةً... وَھُمْ ظٰلِمُوْنَ)
এখানে قرية বা জনপদ বলে মক্কা নগরীকে বুঝানো হয়েছে। তারা তথায় নিরাপদে ও শান্তিতে বসবাস করছিল। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সেখানে বিভিন্ন স্থান হতে জীবিকা দানসহ তাদের ওপর আরো অসংখ্য নেয়ামত দান করলেন।
যেমন ইবরাহীম (عليه السلام)-এর কথা:
(وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيْمُ رَبِّ اجْعَلْ هٰذَا بَلَدًا اٰمِنًا وَّارْزُقْ أَهْلَه۫مِنَ الثَّمَرٰتِ)
“আর স্মরণ কর! যখন ইবরাহীম বললেন: হে আমার রব! এ স্থানকে তুমি নিরাপত্তাময় শহরে পরিণত কর এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখিরাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তাদেরকে জীবিকার জন্য ফল-শস্য প্রদান কর।” (সূরা বাকারাহ ২:১২৬)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(لِاِیْلٰفِ قُرَیْشٍﭐﺫ ا۪لٰفِھِمْ رِحْلَةَ الشِّتَا۬ئِ وَالصَّیْفِﭑﺆ فَلْیَعْبُدُوْا رَبَّ ھٰذَا الْبَیْتِﭒﺫ الَّذِیْٓ اَطْعَمَھُمْ مِّنْ جُوْعٍﺃ وَّاٰمَنَھُمْ مِّنْ خَوْفٍﭓﺟ)
“কুরাইশদের অনুকূল (ও নিরাপদ) হওয়ার কারণে। শীত ও গ্রীষ্ম কালের (ব্যবসায়িক) সফরে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে। অতএব তাদের এ ঘরের প্রতিপালকেরই ইবাদত করা উচিত। যিনি ক্ষুধায় তাদের খাবার দান করেছেন এবং তাদেরকে ভয়-ভীতি থেকে নিরাপদ রেখেছেন।” (সূরা কুরাইশ ১০৬:১-৪)
আর তাদের ওপর সবচেয়ে বড় নেয়ামত ছিল, তাদের স্বগোত্র থেকে আল্লাহ তা‘আলা তাদের নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন। অতঃপর তারা যখন আল্লাহ তা‘আলার এই নেয়মাত তথা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অস্বীকার করল তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে আস্বাদন করালেন ক্ষুধা ও ভীতির স্বাদ। এমনকি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বদ দু‘আর ফলে তাদের অবস্থা এমন হয়েছিল যে, তারা হাড় ও গাছের পাতা খেয়ে জীবন ধারণ করত।
যেমন হাদীসে এসেছে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে অভিশাপ করে বলেছিলেন:
(اللّٰهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَي مُضَرَ وَاجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ سِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ)
হে আল্লাহ! মুযার গোত্রকে কঠিনভাবে ধর এবং তাদের ওপর এমন অনাববৃষ্টি দাও যেমন ইউসুফ (عليه السلام)-এর যুগে মিসরে হয়েছিল। (সহীহ বুখারী হা: ৪৮২১, সহীহ মুসলিম হা: ২১৫৩)
সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং তাঁর দাওয়াতকে বর্জন করে তাঁকে কষ্ট দেয়ার ফলে তাদের প্রতি এ শাস্তি নেমে এসেছিল।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মক্কার মর্যাদা সম্পর্কে জানা গেল।
২. নেয়ামতসমূহের শুকরিয়া আদায় করতে হবে।
৩. নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অস্বীকার করার ফলে তৎকালীন মক্কার মুযার গোত্র যে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হয়েছিল তা জানতে পারলাম।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১১০-১১১ নং আয়াতের তাফসীর
এরা হচ্ছেন দ্বিতীয় শ্রেণীর লোক যারা দুর্বলতা ও দারিদ্রের কারণে মক্কায় মুশরিকদের অত্যাচারের শিকার ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তারা হিজরত করেন। মাল, সন্তান-সন্ততি এবং দেশ ত্যাগ করে তারা আল্লাহর পথে বের হয়ে পড়েন। ও মুসলমানদের দলে মিলিত হয়ে আবার জিহাদের জন্যে বেরিয়ে যান। অতঃপর ধৈর্যের সাথে আল্লাহর কালেমাকে সমুন্নত রাখার জন্যে ব্যস্তহয়ে পড়েন। তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেয়ার ও তাঁদের প্রতি করুণা বর্ষণ করার খবর দিচ্ছেন। কিয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তি নিজের পরিত্রাণের চিন্তায় ব্যস্ত থাকবে। তার পক্ষ সমর্থনে তার পিতা, ছেলে, ভাই এবং স্ত্রী কেউই যুক্তি পেশ করবে না। এ দিন প্রত্যেককে তার আমলের পূর্ণ প্রতিফল দেয়াহবে এবং কারো প্রতি মোটেই যুলুম করা হবে না। না পূণ্য কমবে, না পাপ বাড়বে। আল্লাহ তাআলা যুলুম হতে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।