সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 11)
হরকত ছাড়া:
ينبت لكم به الزرع والزيتون والنخيل والأعناب ومن كل الثمرات إن في ذلك لآية لقوم يتفكرون ﴿١١﴾
হরকত সহ:
یُنْۢبِتُ لَکُمْ بِهِ الزَّرْعَ وَ الزَّیْتُوْنَ وَ النَّخِیْلَ وَ الْاَعْنَابَ وَ مِنْ کُلِّ الثَّمَرٰتِ ؕ اِنَّ فِیْ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّقَوْمٍ یَّتَفَکَّرُوْنَ ﴿۱۱﴾
উচ্চারণ: ইউমবিতুলাকুম বিহিযযার‘আ ওয়াযযাইতূনা ওয়ান্নাখীলা ওয়াল আ‘না-বা ওয়া মিন কুল্লিছছামারা-ত ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিকাওমিইঁ ইয়াতাফাক্কারূন।
আল বায়ান: তার মাধ্যমে তিনি তোমাদের জন্য উৎপন্ন করেন ফসল, যাইতুন, খেজুর গাছ, আঙ্গুর এবং সকল ফল-ফলাদি। নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে এমন কওমের জন্য, যারা চিন্তা করে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১. তিনি তোমাদের জন্য তা(১) দ্বারা জন্মান শস্য, যায়তূন, খেজুর গাছ, আঙ্গুর এবং সব রকমের ফল। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।(২)
তাইসীরুল ক্বুরআন: তিনি তা দিয়ে তোমাদের জন্য জন্মান শস্য, যায়তূন, খেজুর, আঙ্গুর এবং সর্বপ্রকার ফল। এতে চিন্তাশীল মানুষদের জন্য নিদর্শন রয়েছে।
আহসানুল বায়ান: (১১) ওর দ্বারা তিনি তোমাদের জন্য উৎপন্ন করেন শস্য, যায়তুন, খর্জুর বৃক্ষ, আঙ্গুর এবং সর্বপ্রকার ফল; অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।[1]
মুজিবুর রহমান: তিনি তোমাদের জন্য ওর দ্বারা উৎপন্ন করেন শস্য, যাইতূন, খেজুর বৃক্ষ, আঙ্গুর এবং সর্বপ্রকার ফল; অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।
ফযলুর রহমান: ঐ বৃষ্টি দ্বারা তিনি তোমাদের জন্য (নানারকম) শস্য এবং জলপাই, খেজুর, আঙ্গুর ও সবরকম ফল উৎপন্ন করেন। এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্য অবশ্যই নিদর্শন আছে।
মুহিউদ্দিন খান: এ পানি দ্বারা তোমাদের জন্যে উৎপাদন করেন ফসল, যয়তুন, খেজুর, আঙ্গুর ও সর্বপ্রকার ফল। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীলদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
জহুরুল হক: তিনি তোমাদের জন্য তার দ্বারা জন্মান শস্য ও জলপাই, আর খেজুর ও আঙুর, আর হরেক রকমের ফলফসল। নিঃসন্দেহ এতে অবশ্যই আছে নিদর্শন সেই লোকদের জন্য যারা চিন্তা করে।
Sahih International: He causes to grow for you thereby the crops, olives, palm trees, grapevines, and from all the fruits. Indeed in that is a sign for a people who give thought.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১১. তিনি তোমাদের জন্য তা(১) দ্বারা জন্মান শস্য, যায়তূন, খেজুর গাছ, আঙ্গুর এবং সব রকমের ফল। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।(২)
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ একই পানি দিয়ে আল্লাহ তা'আলা বহু প্রকার ফল-ফলাদি, ভিন্ন ভিন্ন স্বাদে ও গন্ধে, ভিন্ন ভিন্ন আকৃতি ও প্রকৃতিতে উৎপন্ন করেন এটা নিশ্চয়ই এক বিস্ময়কর ব্যাপার। [এ ব্যাপারে আরো দেখুন সূরা আন-নামলঃ ৬০]
(২) এসব আয়াতে আল্লাহ তা'আলার নেয়ামত ও অভিনব রহস্য সহকারে জগত সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। যারা এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করে, তারা এমন সাক্ষ্য-প্রমাণ পায়, যার ফলে আল্লাহ্ তা'আলার তাওহীদ যেন চোখের সামনে ফুটে উঠে। এ কারণেই নেয়ামতগুলোর উল্লেখ করে বার বার এ বিষয়ের প্রতি হুশিয়ার করা হয়েছে। এ আয়াতের শেষে বলা হয়েছে যে, এতে চিন্তাশীলদের জন্য প্রমাণ রয়েছে। কেননা, ফসল ও বৃক্ষ এসবের ফল ও ফুলের যে সম্পর্ক আল্লাহ তা'আলার কারিগরি ও রহস্যের সাথে রয়েছে তা কিছুটা চিন্তা-ভাবনার দাবী রাখে। মানুষের চিন্তা করা দরকার যে, শস্য কণা কিংবা আঁটি মাটির নিচে ফেলে রাখলে এবং পানি দিলে আপনা-আপনি বিরাট মহীরূহে পরিণত হতে পারে না এবং তা থেকে রঙ-বেরঙয়ের ফুল-ফল উৎপন্ন হতে পারে না। যা হয়, তাতে কোন কৃষক-ভূস্বামীর কর্মের দখল নেই। বরং সবই সর্বশক্তিমানের কারিগরি ও রহস্য।
তিনি একই পানি দ্বারা সেগুলোকে উৎপন্ন করেন, অথচ সেগুলোর প্রকার, স্বাদ, গন্ধ, রং, প্রকৃতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এগুলো সবই প্রমান করছে যে, তিনি ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ নেই। [ইবন কাসীর] অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “নাকি তিনি, যিনি সৃষ্টি করেছেন আসমানসমূহ ও যমীন এবং আকাশ থেকে তোমাদের জন্য বর্ষণ করেন বৃষ্টি, তারপর আমরা তা দ্বারা মনোরম উদ্যান সৃষ্টি করি, তার গাছ উদগত করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। আল্লাহর সাথে অন্য কোন ইলাহ আছে কি? তবুও তারা এমন এক সম্প্রদায় যারা (আল্লাহর) সমকক্ষ নির্ধারণ করে।” [সূরা আন-নামল: ৬০]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১১) ওর দ্বারা তিনি তোমাদের জন্য উৎপন্ন করেন শস্য, যায়তুন, খর্জুর বৃক্ষ, আঙ্গুর এবং সর্বপ্রকার ফল; অবশ্যই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য রয়েছে নিদর্শন।[1]
তাফসীর:
[1] এতে বৃষ্টির উপকারিতা বর্ণিত হয়েছে, যা প্রত্যেক মানুষের নিকট বিদিত ও পরীক্ষিত, যা বর্ণনার অপেক্ষা রাখে না। তাছাড়া এর উল্লেখ পূর্বেও হয়েছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১০-১১ নং আয়াতের তাফসীর:
চতুষ্পদ জন্তু ও অন্যান্য জন্তু সৃষ্টিতে মানুষের উপরকারিতা বর্ণনা করার পর অত্র আয়াতে বৃষ্টির পানিতে মানুষের জন্য যে সকল উপকার নিহিত রেখেছেন তার বিবরণ তুলে ধরেছেন। বৃষ্টির পানি থেকে মানুষ খাবারের পানি সংগ্রহ করে। বৃষ্টির পানি জমিনে পড়ে ঘাস উৎপন্ন হয়, তা চতুষ্পদ জন্তুর খাবার। বৃষ্টির পানি দ্বারা বিভিন্ন শস্য ও বৃক্ষের পানি সঞ্চালনের ব্যবস্থা করেন, ফলে ফসল ও ফল-ফলাদি উৎপাদিত হয়। যেমন আয়াতে অনেক ফলের কথা উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়াও অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা এ সম্পর্কে বলেন:
(أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّا نَسُوْقُ الْمَا۬ءَ إِلَي الْأَرْضِ الْجُرُزِ فَنُخْرِجُ بِه۪ زَرْعًا تَأْكُلُ مِنْهُ أَنْعَامُهُمْ وَأَنْفُسُهُمْ ط أَفَلَا يُبْصِرُوْنَ)
“তারা কি লক্ষ্য করে না যে, আমি শুষ্ক জমিনে পানি প্রবাহিত করি, তারপর তার সাহায্যে শস্য উৎপাদন করি, তা থেকে খায় তাদের চতুষ্পদ জন্তুরা (চার পা-বিশিষ্ট পশু) এবং তারা নিজেরাও? তবুও কি তারা দেখে না?” (সূরা সিজদাহ ৩২:২৭)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(الَّذِیْ جَعَلَ لَکُمُ الْاَرْضَ مَھْدًا وَّسَلَکَ لَکُمْ فِیْھَا سُبُلًا وَّاَنْزَلَ مِنَ السَّمَا۬ئِ مَا۬ئًﺚ فَاَخْرَجْنَا بِھ۪ٓ اَزْوَاجًا مِّنْ نَّبَاتٍ شَتّٰیﮄکُلُوْا وَارْعَوْا اَنْعَامَکُمْﺚ اِنَّ فِیْ ذٰلِکَ لَاٰیٰتٍ لِّاُولِی النُّھٰیﮅﺟ)
“যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন বিছানা এবং তাতে করে দিয়েছেন তোমাদের চলার পথ, তিনি আকাশ হতে বারি বর্ষণ করেন।’ এবং আমি তা দ্বারা বিভিন্ন প্রকারের উদ্ভিদ উৎপন্ন করি। তোমরা আহার কর ও তোমাদের গবাদি পশু চরাও; অবশ্যই এতে নিদর্শন আছে বিবেকসম্পন্নদের জন্য।” (সূরা ত্বহা ২০:৫৩-৫৪)
فِيْهِ تُسِيْمُوْنَ অর্থ পশু চরানো। অর্থাৎ যে ঘাস হয় তাতে তোমরা পশু চরাও।
সুতরাং এ নিদর্শনের মাঝে রয়েছে চিন্তাশীল জাতির জন্য শিক্ষা। তার অন্যতম একটি শিক্ষা হল মৃত জমিনকে বৃষ্টির পানি দ্বারা যেমন জীবিত করা হয় তেমনি মানুষকে মৃত্যুর পর জীবিত করা হবে। এই সকল বস্তুই সৃষ্ট জীবের উপকারার্থে আল্লাহ তা‘আলা উৎপন্ন করেন। যা খেয়ে তারা জীবনধারণ করে থাকে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলা আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে মানুষের বিভিন্ন উপকার করে থাকেন ।
২. বৃষ্টির পানি দ্বারা যেমন মৃত জমিন জীবিত হয় তেমনি মানুষের মৃত্যুর পর আবার জীবিত করা হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১০-১১ নং আয়াতের তাফসীর
চতুষ্পদ ও অন্যান্য জন্তু সৃষ্টির নিয়ামত বর্ণনা করার পর আল্লাহ তাআলা অন্যান্য নিয়ামতের বর্ণনা দিচ্ছেন। তা এই যে, তিনি আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষাণ এবং তাদের উপকারের জন্তুগুলিও তা থেকে ফায়েদা উঠায়। মিষ্ট ও স্বচ্ছ পানি তাদের পান কার্যে ব্যবহৃত হয়। মহান আল্লাহর অনুগ্রহ না হলে এই পানি তিক্ত ও লবণাক্ত হতো। আকাশের বৃষ্টির ফলে গাছ-পালা ও তরুলতা জন্ম লাভ করে থাকে। এই গাছ-পালা মানুষের গৃহ পালিত পশুগুলির খাদ্য রূপেও ব্যবহৃত হয়। (আরবি) শব্দের অর্থ হচ্ছে চরা। এ কারণেই যে সব উট মাঠে চরে খায় ওগুলিকে (আরবি) বলা হয়।
হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) সূর্যোদয়ের পূর্বে (পশুকে) চরাতে নিষেধ করেছেন। মহান আল্লাহর ব্যাপক ক্ষমতার প্রতি লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, তিনি একই পানি হতে বিভিন্ন স্বাদের বিভিন্ন আকারের এবং বিভিন্ন গন্ধের নানা প্রকারের ফল-ফুল মানুষের জন্যে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং এই সব নিদর্শন একজন মানুষের পক্ষে আল্লাহ তাআলার একত্ববাদকে বিশ্বাস করে নেয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট। এই বর্ণনা অন্যান্য আয়াতে নিম্নরূপে দেয়া হয়েছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।