আল কুরআন


সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 104)

সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 104)



হরকত ছাড়া:

إن الذين لا يؤمنون بآيات الله لا يهديهم الله ولهم عذاب أليم ﴿١٠٤﴾




হরকত সহ:

اِنَّ الَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِاٰیٰتِ اللّٰهِ ۙ لَا یَهْدِیْهِمُ اللّٰهُ وَ لَهُمْ عَذَابٌ اَلِیْمٌ ﴿۱۰۴﴾




উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিআ-য়া-তিল্লা-হি লা-ইয়াহদীহিমুল্লা-হু ওয়া লাহুম ‘আযাবুন আলীম।




আল বায়ান: নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে বিশ্বাস করে না, আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াত করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রদায়ক আযাব।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৪. নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে ঈমান আনে না, তাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।




তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলীতে বিশ্বাস করে না, আল্লাহ তাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন না, আর তাদের জন্য আছে ভয়ানক শাস্তি।




আহসানুল বায়ান: (১০৪) যারা আল্লাহর নিদর্শনে বিশ্বাস করে না, তাদেরকে আল্লাহ পথনির্দেশ করেন না এবং তাদের জন্য আছে বেদনাদায়ক শাস্তি।



মুজিবুর রহমান: যারা আল্লাহর আয়াত বিশ্বাস করেনা তাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত করেননা এবং তাদের জন্য রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি।



ফযলুর রহমান: যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ বিশ্বাস করে না তাদেরকে আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।



মুহিউদ্দিন খান: যারা আল্লাহর কথায় বিশ্বাস করে না, তাদেরকে আল্লাহ পথ প্রদর্শন করেন না এবং তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।



জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ যারা আল্লাহ্‌র বাণীসমূহে বিশ্বাস করে না আল্লাহ্ তাদের পথ দেখাবেন না, আর তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।



Sahih International: Indeed, those who do not believe in the verses of Allah - Allah will not guide them, and for them is a painful punishment.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০৪. নিশ্চয় যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে ঈমান আনে না, তাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০৪) যারা আল্লাহর নিদর্শনে বিশ্বাস করে না, তাদেরকে আল্লাহ পথনির্দেশ করেন না এবং তাদের জন্য আছে বেদনাদায়ক শাস্তি।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০৪-১০৯ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, তিনি শুধু ঈমানদারদেরকেই হিদায়াত দান করেন। কোন কাফির-মুশরিককে নয়। তারা তো শুধু মিথ্যা ও বানোয়াট কথাই বলে বেড়ায়। তারা কখনো সুপথ লাভ করবে না। প্রশ্ন হতে পারে ঈমানদাররা তো সঠিক পথে রয়েছে, তাদের হিদায়াতের প্রয়োজন নেই, হিদায়াত তো দরকার হল কাফির-মুশরিকদের। উত্তর হল কাফির-মুশরিকরা হিদায়াত গ্রহণ করতে উৎসাহী নয় এবং হিদায়াতের প্রয়োজনও মনে করে না, তাই আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে হিদায়াত দেন না। আর মু’মিনদেরকে হিদায়াত দান করেন এর অর্থ তাদেরকে হিদায়াতের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখেন।



(مَنْ كَفَرَ بِاللّٰهِ....)



আয়াতের শানে নুযূল:



ইবনু আব্বাস (রা:) বলেন, এ আয়াতটি আম্মার ইবনু ইয়াসিরের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। ঘটনা হল মুশরিকরা তাকে কঠিন শাস্তি দিতে থাকে যে পর্যন্ত না রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে অস্বীকার করেন। তখন তিনি অত্যন্ত নিরূপায় ও বাধ্য হয়ে তাদেরকে সমর্থন করেন। অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গমন করে ওযর পেশ করেন। ঐ সময় আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। (ইবনে কাসীর ১/৬১১, মুসতাদরাক হাকেম ২/৩৫৭, হাদীসটি বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুপাতে সহীহ)



আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করেন, যদি কেউ ঈমান আনার পর মুরতাদ হয়ে যায় তাহলে তাকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে। দুনিয়াতে মুরতাদের শাস্তি হিসেবে হত্যা করা হবে। আর আখিরাতে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামে থাকবে। কারণ হল তারা আখিরাতের ওপর দুনিয়াকে প্রাধান্য দিয়ে আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করেছে। ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের অন্তরে, শ্রবণশক্তিতে এবং দর্শনশক্তিতে মোহর মেরে দিয়েছেন যার কারণে তারা ঈমান থেকে গাফেল হয়ে গেছে।



তবে যদি কেউ জীবন নাশের আশঙ্কা থেকে বাঁচার জন্য শুধু মুখে কুফরী বাক্য উচ্চারণ করে কিন্তু তার অন্তর ঈমানে পরিপূর্ণ তাহলে সে মুরতাদ বলে গণ্য হবে না এবং তার ওপর মুরতাদের বিধান কার্যকর হবে না।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমার উম্মতের তিনটি বিষয় থেকে কলম তুলে নেয়া হয়েছে

১. ভুল করে কোন কাজ করলে,

২. কোন কাজ করতে ভুলে গেলে

৩. কোন কিছু করতে বা না করতে বাধ্য করা হলে।

(ইরওয়ারুল গালীল হা: ২৫৬৬, সহীহুল জামে হা: ৩৫১৫)



এ সুবিধা অনেকে অনাকাক্সিক্ষত স্থানে ব্যবহার করে নিজের উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়। এটা মোটেও ঠিক নয়। বরং ঈমান নিয়ে মারা গেলে সেটাই উত্তম, যেমন কেউ দুনিয়ার স্বার্থে ঈমান ছেড়ে দিয়ে বলে কুফরী করতে বাধ্য হয়েছি। এ সম্পর্কে সূরা বাকারায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ঈমান আনার পর কুফরী করা যাবে না। ২. কেউ জীবন বাঁচানোর জন্য কুফরী কথা বললে মুরতাদ হবে না, তবে অন্তরে ঈমান দৃঢ়ভাবে থাকতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০৪-১০৫ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা খবর দিচ্ছেন যে, যারা আল্লাহর যিকর হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তাঁর কিতাবের প্রতি অবহেলা প্রদর্শন করে ও তাঁর কথার উপর বিশ্বাসই রাখে না, এইরূপ লোকদেরকে আল্লাহ তাআলাও দূরে নিক্ষেপ করে থাকেন। তারা সত্য দ্বীনের উপর আসার তাওফীক লাভ করে না। পরকালে তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করবে।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেন যে, এই রাসূল (সঃ) আল্লাহ তাআলার উপর মিথ্যা আরোপ করতে পারেন না। এই কাজ তো হচ্ছে নিকৃষ্টতম মাখলুকের। যারা ধর্মত্যাগী ও কাফির তাদের মিথ্যা কথা লোকদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হয়ে থাকে। হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (সঃ) তো সমস্ত মাখলুকের মধ্যে সবচেয়ে বেশী উত্তম দ্বীনদার, খোদাভীরু এবং সত্যবাদী। তিনি সর্বাপেক্ষা বেশী জ্ঞানী, ঈমানদার এবং পূণ্যবান। সত্যবাদীতায়, কল্যাণ সাধনে, বিশ্বাসে এবং মারেফাতে তিনি অদ্বিতীয়। কাফিরদেরকে জিজ্ঞেস করলে তারাও তাঁর সত্যবাদীতার কথা অকপটে স্বীকার করবে। তারা তাঁর বিশ্বস্ততার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তাদের মধ্যেই তিনি ‘আমীন’ বা আমানতদার উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। রোমক সম্রাট হিরাক্লিয়াস যখন আবু সুফিয়ানকে (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ) সম্পর্কে অনেকগুলি প্রশ্ন করেছিলেন তখন একটি প্রশ্ন এটাও ছিলঃ “নুবওয়তের পূর্বে তোমরা তাঁকে কোন দিন মিথ্যা বলতে শুনেছো কি?” উত্তরে তিনি বলেছিলেনঃ “না, কখনো নয়। এ সময় তিনি মন্তব্য করেছিলেনঃ “যে ব্যক্তি পার্থিব ব্যাপারে কখনো মিথ্যা কথা বলেন নাই, তিনি আল্লাহ তাআলার উপর কি করে মিথ্যা আরোপ করতে পারেন?”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।