সূরা ইবরাহীম (আয়াত: 7)
হরকত ছাড়া:
وإذ تأذن ربكم لئن شكرتم لأزيدنكم ولئن كفرتم إن عذابي لشديد ﴿٧﴾
হরকত সহ:
وَ اِذْ تَاَذَّنَ رَبُّکُمْ لَئِنْ شَکَرْتُمْ لَاَزِیْدَنَّکُمْ وَ لَئِنْ کَفَرْتُمْ اِنَّ عَذَابِیْ لَشَدِیْدٌ ﴿۷﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইয তাআযযানা রাব্বুকুম লাইন শাকারতুম লাআযীদান্নাকুম ওয়া লাইন কাফারতুম ইন্না ‘আযা-বী লাশাদীদ ।
আল বায়ান: আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয় আমার আযাব বড় কঠিন’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭. আর স্মরণ করুন, যখন তোমাদের রব ঘোষণা করেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমি তোমাদেরকে আরো বেশী দেব আর অকৃতজ্ঞ হলে নিশ্চয় আমার শাস্তি তো কঠোর।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: স্মরণ কর, যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেন, যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের জন্য (আমার নি‘য়ামাত) বৃদ্ধি করে দেব, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও (তবে জেনে রেখ, অকৃতজ্ঞদের জন্য) আমার শাস্তি অবশ্যই কঠিন।
আহসানুল বায়ান: (৭) যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেছিলেন,[1] তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদেরকে অবশ্যই অধিক দান করব,[2] আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’ [3]
মুজিবুর রহমান: যখন তোমাদের রাব্ব ঘোষণা করেনঃ তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদেরকে অবশ্যই অধিক দিব, আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর।
ফযলুর রহমান: (স্মরণ করো) যখন তোমাদের প্রভু ঘোষণা করেছিলেন, “যদি তোমরা কৃতজ্ঞ থাক তাহলে তোমাদেরকে আরো দেব, কিন্তু যদি অকৃতজ্ঞ হও তাহলে (মনে রাখবে) অবশ্যই আমার শাস্তি বড় কঠোর।”
মুহিউদ্দিন খান: যখন তোমাদের পালনকর্তা ঘোষণা করলেন যে, যদি কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর, তবে তোমাদেরকে আরও দেব এবং যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি হবে কঠোর।
জহুরুল হক: আর স্মরণ করো! তোমাদের প্রভু ঘোষণা করলেন -- "তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো তাহলে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেবো, কিন্তু তোমরা যদি অকৃতজ্ঞ হও তাহলে আমার শাস্তি নিশ্চয়ই সুকঠোর।
Sahih International: And [remember] when your Lord proclaimed, 'If you are grateful, I will surely increase you [in favor]; but if you deny, indeed, My punishment is severe.' "
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭. আর স্মরণ করুন, যখন তোমাদের রব ঘোষণা করেন, তোমরা কৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমি তোমাদেরকে আরো বেশী দেব আর অকৃতজ্ঞ হলে নিশ্চয় আমার শাস্তি তো কঠোর।(১)
তাফসীর:
(১) تأذن শব্দটির অর্থ সংবাদ দেয়া ও ঘোষণা করা। [ইবন কাসীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭) যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করেছিলেন,[1] তোমরা কৃতজ্ঞ হলে তোমাদেরকে অবশ্যই অধিক দান করব,[2] আর অকৃতজ্ঞ হলে অবশ্যই আমার শাস্তি হবে কঠোর।’ [3]
তাফসীর:
[1] تَأذَّنَ এর অর্থ أعْلَمَكُمْ بِوَعْدِهِ لَكُمْ তিনি তোমাদেরকে তাঁর প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। আর এও হতে পারে যে, এটা শপথের অর্থে, অর্থাৎ যখন তোমাদের প্রতিপালক স্বীয় গৌারব-মর্যাদার শপথ করে বলেছিলেন। (ইবনে কাসীর)
[2] অর্থাৎ, নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা করলে তোমাদেরকে অধিক পুরস্কারে পুরস্কৃত করব।
[3] এর অর্থ এই যে, নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা আল্লাহ অত্যন্ত অপছন্দ করেন। যার জন্য তিনি কঠিন শাস্তির ধমক দিয়েছেন। এই জন্য নবী (সাঃ)ও বলেছেন যে, অধিকাংশ মহিলারা স্বামীর অকৃতজ্ঞ হওয়ার কারণে জাহান্নামে যাবে। (মুসলিম, আল-ঈদাইন)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৬-৮ নং আয়াতের তাফসীর:
(وَإِذْ قَالَ مُوْسٰي...)
পূর্বের আয়াতে মূসা (عليه السلام) ও বানী ইসরাঈলদেরকে প্রদত্ত নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার পর অত্র আয়াতে কয়েকটি নেয়ামতের বিবরণ দেয়া হচ্ছে। তা হল ফির‘আউন ও তার ক্ষমতাসীন দল বানী ইসরাঈলদেরকে নিকৃষ্টতম শাস্তি দিত, দাস বানিয়ে রাখত, ছেলেদেরকে জবাই করে ফেলত আর মেয়েদেরকে জীবিত রাখত। আল্লাহ তা‘আলা তাদের হাত থেকে বানী ইসরাঈলদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। এটা আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে একদিক থেকে যেমন পরীক্ষা ছিল তেমনি অনুগ্রহও ছিল। এ সম্পর্কে সূরা বাক্বারার ৪৯ নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
(وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ...)- تَأَذَّنَ
অর্থ ঘোষণা দেয়া, জানিয়ে দেয়া। অর্থাৎ আল্লাহ জানিয়ে দিলেন যদি তোমরা আমার নেয়ামত পেয়ে শুকরিয়া আদায় কর তাহলে আমার নেয়ামত ও কৃতজ্ঞাতর পুরস্কার আরো বাড়িয়ে দেব। আর যদি কুফরী কর তথা নেয়ামত অস্বীকার কর, দাবী কর এটা আমার যোগ্যতায় পেয়েছি, আমার বাপ-দাদাদের থেকে পেয়েছি, আল্লাহর নেয়ামত বলতে কিছু নেই, আমার প্রচেষ্টা বা বাপ-দাদা না থাকলে এসব হতো না তাহলে জেনে রেখ, আল্লাহর শাস্তি বড় কঠিন। তাই মানুষের উচিত নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা ও ভাল-মন্দ সর্বাবস্থায় الحمد لله (আল হামদুলিল্লাহ) পাঠ করা এবং অকৃতজ্ঞ হওয়া থেকে বিরত থাকা। উল্লেখ্য যে, অধিকাংশ নারীরাই তাদের স্বামীর অকৃতজ্ঞ।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিরাজের রাতে অধিকাংশ নারীদেরকে জাহান্নামে দেখতে পান। কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তারা স্বামীর অকৃতজ্ঞ, সারা বছর তাদের সাথে ভাল আচরণ করেও কোন দিন সামান্য কিছুর অভাব হলেই বলে, আমি তোমার কাছে কোন দিন সুখ পায়নি। (সহীহ বুখারী হা: ২৯, মুসলিম হা: ৯০৭)
তাই মূসা (عليه السلام) তাঁর জাতিকে সম্বোধন করে বলেন: শুধু তোমরা নও, সারা পৃথিবীর মানুষ যদি আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করে, আল্লাহ তা‘আলাকে অস্বীকার করে, আল্লাহ তা‘আলার নেয়ামতকে অস্বীকার করে তাহলেও আল্লাহ তা‘আলার কিছু আসে যায় না। তিনি পৃথিবীবাসী থেকে অমুখাপেক্ষী, কেননা আল্লাহ তা‘আলার প্রতি বিশ্বাস করা, তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করার অর্থ হল নিজের উপকার করা, নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া। পক্ষান্তরে আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করা হল নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারা।
হাদীসে কুদসীতে এসেছে: আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে আমার বান্দারা! তোমাদের পূর্বের ও পরের মানব ও দানব সকলেই যদি আমার বান্দাদের মধ্যে সর্বাধিক তাকওয়াবান একজন ব্যক্তির হৃদয়ের মত হয়ে যায়, তাহলে আমার রাজত্বের সামান্য বাড়বে না। হে আমার বান্দারা! তোমাদের পূর্বের ও পরের মানব ও দানব সকলেই যদি আমার বান্দাদের মধ্যে সর্বাধিক পাপীষ্ট একজন ব্যক্তির হৃদয়ের মত হয়ে যায় তাহলে আমার রাজত্বের সামান্য কমবে না। তোমাদের পূর্বের ও পরের মানব ও দানব সকলেই যদি এক জায়গায় একত্রিত হয়ে আমার কাছে চায় আর আমি তাদের সকল চাহিদা পূরণ করি, তাহলেও আমার রাজত্বের সামান্য কমবে না, তবে সমুদ্রে সুঁই ডুবিয়ে তা তুললে যতটুকু পানি সমুদ্র থেকে কমে ততটুকু কমবে। (সহীহ মুসলিম হা: ২৫৭৭)
সুতরাং সারা বিশ্বের মানুষ মিলেও যদি আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর দেয়া বিধানের প্রতি কুফরী করে তাতে আল্লাহ তা‘আলার কিছুই যায় আসে না। আল্লাহ তা‘আলা এগুলো থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। তাই অকৃতজ্ঞ হওয়া থেকে বেঁচে থাকতে হবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কৃতজ্ঞতা স্বীকার করলে নেয়ামত বৃদ্ধি করে দেয়া হয় আর কুফরী করলে তার জন্য শাস্তির অধিকারী হতে হয় এবং নেয়ামতও কমে যায়।
২. মানুষের ঈমান আনা ও কুফরী করাতে আল্লাহ তা‘আলার কোন লাভ বা ক্ষতি নেই।
৩. আল্লাহ তা‘আলা যাবতীয় জিনিস থেকে অভাব মুক্ত।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৬-৮ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআলা হযরত মূসা (আঃ) সম্পর্কে খবর দিচ্ছেন যে, আল্লাহর নির্দেশ অনুসারে হযরত মূসা (আঃ) স্বীয় কওমকে আল্লাহ তাআলার নিয়ামতসমূহ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। যেমন ফিরআউনী সম্প্রদায়ের কবল হতে তাদেরকে রক্ষা করা, যারা তাদেরকে শক্তিহীন করে তাদের উপর বিভিন্ন প্রকারের উৎপীড়ন চালাতো, এমনকি তাদের সমস্ত পুত্র সন্তানদেরক হত্যা করতো এবং কন্যা সন্তানদেরকে জীবিত ছাড়তো। হযরত মূসা (আঃ) তাই স্বীয় কওমকে বলছেনঃ এটা তোমাদের উপর আল্লাহর তাআলার এত বড় নিয়ামত যে, এর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা তোমাদের ক্ষমতার বাইরে। এই বাক্যটির ভাবার্থ এরূপও হতে পারেঃ ফিরাআউনীদের কষ্ট প্রদান প্রকৃতপক্ষে তোমাদের উপর একটা মহাপরীক্ষা ছিল। আবার সম্ভাবনা এও রয়েছে যে, অর্থ দুটোই হবে। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। যেমন আল্লাহ তাআলার বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “আমি তাদেরকে ভাল ও মন্দ দ্বারা পরীক্ষা করেছি, যাতে তারা ফিরে আসে।” (৭:১৬৮)
মহান আল্লাহর উক্তিঃ (আরবি) “যখন তোমাদের প্রতিপালক। তোমাদেরকে অবহিত করলেন। আবার এরূপ অর্থও হতে পারেঃ ‘যখন তোমাদের প্রতিপালক তার মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব ও বিরাটত্বে কসম খেলেন। যেমন অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎঃ “যখন তোমার প্রতিপালক শপথ করে বললেন যে, অবশ্যই তিনি তাদের উপর কিয়ামত পর্যন্ত পাঠাতে থাকবেন।” (৭:১৬৭)
সুতরাং আল্লাহ তাআলার অলংঘনীয় ওয়াদা এবং তাঁর ঘোষণাও বটে যে, তিনি কৃতজ্ঞ বান্দাদের নিয়ামত আরো বাড়িয়ে দিবেন এবং অকৃতজ্ঞ ও নিয়ামত অস্বীকারকারী ও গোপনকারীদের নিয়ামত সমূহ ছিনিয়ে নিবেন, আর তাদেরকে কঠিন শাস্তি প্রদান করবেন। হাদীসে এসেছেঃ “বান্দা পাপের কারণে আল্লাহর রুজী থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে।” বর্ণিত আছে যে, একজন ভিক্ষুক রাসূলুল্লাহর (সঃ) পার্শ্ব দিয়ে গমন করে। তিনি তাকে একটি খেজুর দেন। সে তাতে রাগান্বিত হয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে। অতঃপর অন্য একজন ভিক্ষুক তাঁর পার্শ্ব দিয়ে গেলে তিনি তাকেও একটি খেজুর দেন। সে খুশী হয়ে তা গ্রহণ করে এবং বলেঃ “এটা হচ্ছে আল্লাহর রাসূলের (সঃ) দানা” এরপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে চল্লিশ দিরহাম প্রদানের হুকুম দেন।
অন্য একটি রিওয়াইয়াতে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) দাসীকে বলেনঃ “লোকটিকে উম্মে সালমার (রাঃ) নিকট নিয়ে যাও এবং তার কাছে যে। চল্লিশটি দিরহাম রয়েছে তা নিয়ে একে দিয়ে দাও।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমদ (রঃ) স্বীয় মুসনাদে হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন)
হযরত মূসা (আঃ) বানী ইসরাঈলকে বলেনঃ “তোমরা ভূ-পৃষ্ঠের সমস্ত লোকও যদি আল্লাহ তাআলার অকৃতজ্ঞ বান্দা হয়ে যাও তবে তাঁর কি ক্ষতি হবে? তিনি তো তাঁর বান্দাদের হতে এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ হতে সম্পূর্ণরূপে বেপরোয়া। তিনি তাদের মোটেই মুখাপেক্ষী নন। একমাত্র তিনিই প্রশংসার যোগ্য। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তোমরা যদি অকৃতজ্ঞ হও তবে (জেনে রেখো যে, আল্লাহ। তোমাদের হতে বেপরোয়া।” (৩৯:৭) অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “তারা অকৃতজ্ঞ হলো এবং মুখ ফিরিয়ে নিলো, আর আল্লাহ তাদের থেকে বেপরোয়া হয়ে গেলেন, আল্লাহ হলেন অভাবমুক্ত, প্রশংসাৰ্য।” (৬৪:৬)
হযরত আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) আল্লাহ। তাআলার উক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করেছেঃ “হে আমার বান্দারা! যদি তোমাদের প্রথম এবং শেষ মানব ও দানব সবাই মিলিতভাবে পরহেযগারহয়ে যায় তবুও আমার রাজ্যের একটুও বৃদ্ধি পাবে না। পক্ষান্তরে হে আমার বান্দারা! তোমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মানব এবং দানব সবাই যদি পাপিষ্ঠ হয়ে যায় তবুও এই কারণে আমার রাজ্য অনুপরিমাণ ও হ্রাস পাবে না। হে আমার বান্দাগণ! তোমাদের প্রথম এবং শেষ মানব ও দানব সবাই যদি একত্রিত ভাবে একটা ময়দানে দাঁড়িয়ে যায়, অতঃপর আমার কাছে চাইতে থাকে, আর আমি প্রত্যেকের চাহিদা পূর্ণ করে দিই তবুও আমার ভাণ্ডার হতে এই পরিমাণ কমবে যে পরিমাণ পানি সমুদ্র হতে কমে যায় যখন তাতে সুঁই ডুবিয়ে উঠিয়ে নেয়া হয়। (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ) স্বীয় সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন) সুতরাং আল্লাহ তাআলা পবিত্র অভাব মুক্ত এবং প্রশংসাৰ্হ।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।