আল কুরআন


সূরা ইবরাহীম (আয়াত: 25)

সূরা ইবরাহীম (আয়াত: 25)



হরকত ছাড়া:

تؤتي أكلها كل حين بإذن ربها ويضرب الله الأمثال للناس لعلهم يتذكرون ﴿٢٥﴾




হরকত সহ:

تُؤْتِیْۤ اُکُلَهَا کُلَّ حِیْنٍۭ بِاِذْنِ رَبِّهَا ؕ وَ یَضْرِبُ اللّٰهُ الْاَمْثَالَ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ یَتَذَکَّرُوْنَ ﴿۲۵﴾




উচ্চারণ: তু’তী উকুলাহা-কুল্লা হীনিম বিইযনি রাব্বিহা - ওয়া ইয়াদরিবুল্লা-হুল আমছা-লা লিন্না-ছি লা‘আল্লাহুম ইয়াতাযাক্কারূন।




আল বায়ান: সেটি তার রবের অনুমতিতে সব সময় ফল দান করে; আর আল্লাহ মানুষের জন্য নানা দৃষ্টান্ত প্রদান করেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২৫. যা সব সময়ে তার ফলদান করে তার রবের অনুমতিক্রমে। আর আল্লাহ্‌ মানুষের জন্য উপমাসমূহ পেশ করে থাকেন, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহন করে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তার প্রতিপালকের হুকুমে তা সব সময় ফল দান করে। মানুষদের জন্য আল্লাহ দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেন যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।




আহসানুল বায়ান: (২৫) যা তার প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে অহরহ ফল দান করে।[1] আর আল্লাহ মানুষের জন্য উপমা বর্ণনা করে থাকেন যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।



মুজিবুর রহমান: যা প্রত্যেক মওসুমে ফল দান করে তার রবের অনুমতিক্রমে, এবং আল্লাহ মানুষের জন্য উপমা দিয়ে থাকেন যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।



ফযলুর রহমান: যে গাছ তার প্রভুর নির্দেশে সবসময়ে ফল দেয়। আল্লাহ মানুষের জন্য উপমা দেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।



মুহিউদ্দিন খান: সে পালনকর্তার নির্দেশে অহরহ ফল দান করে। আল্লাহ মানুষের জন্যে দৃষ্টান্ত বর্ণণা করেন-যাতে তারা চিন্তা-ভাবনা করে।



জহুরুল হক: তা তার ফল দিচ্ছে প্রত্যেক মৌসুমে তার প্রভুর অনুমতিক্রমে। আর আল্লাহ্ মানবসমাজের জন্য উপমাসমূহ প্রয়োগ করেন যেন তারা স্মরণ করতে পারে।



Sahih International: It produces its fruit all the time, by permission of its Lord. And Allah presents examples for the people that perhaps they will be reminded.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২৫. যা সব সময়ে তার ফলদান করে তার রবের অনুমতিক্রমে। আর আল্লাহ্– মানুষের জন্য উপমাসমূহ পেশ করে থাকেন, যাতে তারা শিক্ষা গ্রহন করে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২৫) যা তার প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে অহরহ ফল দান করে।[1] আর আল্লাহ মানুষের জন্য উপমা বর্ণনা করে থাকেন যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।


তাফসীর:

[1] এর অর্থ এই যে, মু‘মিনদের উদাহরণ ঐ (বারমেসে ফলদার) গাছের ন্যায়, যে গাছ শীত-গ্রীষ্ম সব সময় ফল দান করে। অনুরূপ মু‘মিনদের সৎ কার্যাবলী দিবানিশির ক্ষণে ক্ষণে আকাশের দিকে (আল্লাহর কাছে) নিয়ে যাওয়া হয়। كَلِمَةٌ طَيِّبَةٌ (সৎবাক্য) থেকে উদ্দেশ্য, ইসলাম অথবা কলেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং شَجَرَة طَيِّبَة (উৎকৃষ্ট বৃক্ষ) বলতে খেজুর বৃক্ষকে বুঝানো হয়েছে, যেমন সহীহ হাদীস থেকে এ কথা প্রমাণিত। (বুখারীঃ কিতাবুল ইলম, মুসলিম, কিতাবু সিফাতিল কিয়ামাহ)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২৪-২৭ নং আয়াতের তাফসীর:



ইবনু আব্বাস বলেন; (كَلِمَةً طَيِّبَةً) দ্বারা উদ্দেশ্য لَا اِلٰهَ اِلَّا اللّٰهُ তথা ‘আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া সত্য কোন মা‘বূদ নেই’ এ সাক্ষ্য দেয়া। এ কালেমা তায়্যিবাকে উপমা দেয়া হয়েছে একটি উৎকৃষ্ট গাছের সাথে, আর সে (شَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ) বা উৎকৃষ্ট গাছটি হল খেজুর গাছ।



একটু খেয়াল করলে আমরা দেখতে পাব সাধারণত ঝড় তুফানে অনেক গাছ-পালা পড়ে যায় ভেঙ্গে যায়, উপড়ে যায়। কিন্তু খেজুর গাছ জমিনে এত মজবুতভাবে থাকে যে, যত শক্তিশালী ঝড় আসুক না কেন সহজেই তা ভেঙ্গে পড়ে না এবং উপড়েও পড়ে না। আল্লাহ তা‘আলা কালেমা তায়্যিবাকে এ খেজুর গাছের সাথে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ খেজুর গাছের গোড়া ও ভিত্তি যেমন মজবুত এবং উপরের শাখা-প্রশাখা আকাশে ছড়ানো ছিটানো, তার ফল-মূল দিয়ে সবাই উপকৃত হয় তেমনি কালেমা তায়্যিবাহ যার অন্তরে প্রবেশ করেছে সে মু’মিনের ঈমানের বিরুদ্ধে যতই ঝড় তুফান আসুক না কেন তার অন্তর থেকে কখনো ঈমান দূরভিত হয় না আর তার শাখা-প্রশাখা সৎ আমলগুলো আকাশের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। আল্লাহ তা‘আলা তা সাদরে গ্রহণ করেন।



ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: আমরা একদা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে ছিলাম, তিনি আমাদেরকে বললেন: আমাকে এমন একটি গাছের সংবাদ দাও যার পাতা শীত-গ্রীষ্ম কোন কালেই ঝড়ে পড়ে না এবং সব মওসুমেই ফল দেয়, ওই গাছের মতই মু’মিনের উদাহরণ। ইবনু উমার (রাঃ) বললেন আমার ইচ্ছা হল যে বলে দিই তা খেজুর গাছ। কিন্তু সেখানে আমার পিতা উমার, আবূ বকর রয়েছেন। তারা চুপ আছেন, তাই আমিও চুপ রইলাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: সেটা হল খেজুর গাছ। (সহীহ বুখারী হা: ৪৬৯৮)



খেজুর গাছের সাথে মু’মিনের দৃষ্টান্ত হল উপকারীতা ও বরকতের দিক থেকে। এভাবে আল্লাহ তা‘আলা উদাহরণ পেশ করেন যাতে মানুষ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।



(كَلِمَةٍ خَبِيثَةٍ)



বা কুবাক্য দ্বারা কুফরীকে বুঝানো হয়েছে। যারা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরী করে তাদের তুলনা হল ঐ তিক্ত মাকাল ফলের বৃক্ষের সাথে যার শিকড় জমিনের ওপরে থাকে। একটু টান দেয়া মাত্রই এটা উঠে যায়, যার কোন স্থায়ীত্ব নেই। কাফিরদের দৃষ্টান্তও অনুরূপ। তারা যে আমল করে তা আকাশে পৌঁছায় না এবং আল্লাহ তা‘আলার দরবারেও গৃহীত হয় না। তাদের আমল সম্পূর্ণ বাতিল। তারা এ আমল দ্বারা কোন উপকার লাভ করতে পারে না।



(يُثَبِّتُ اللّٰهُ الَّذِينَ...)



এ আয়াতের ব্যখ্যায় ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন: বারা বিন আযেব (রাঃ) হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মুসলিম ব্যক্তিকে যখন কবরে জিজ্ঞাসা করা হয় তখন সে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত (সত্য) কোন মা‘বূদ নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহ তা‘আলার রাসূল। এটাই হল আল্লাহ তা‘আলার বাণী, যারা বিশ্বাসী তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা শাশ্বত বাণী দ্বারা দুনিয়াতে ও আখিরাতে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন। (সহীহ বুখারী হা: ৪৬৯৯)



অর্থাৎ মু’মিনরা যেমন দুনিয়াতে কালেমা তায়্যিবাহর ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত, তারা যখন কবরে যাবে আর তাদেরকে রব, দীন ও নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে তখন সঠিক উত্তরের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। সহীহ বুখারী ও মুসলিমসহ অনেক হাদীসের কিতাবে রয়েছে একজন ব্যক্তিকে যখন কবরস্থ করা হয় তখন তার কাছে দুুজন ফেরেশতা আগমন করে এবং তাকে উঠিয়ে বসানোর পর জিজ্ঞাসা করে, তোমার রব কে? সে মু’মিন হলে উত্তর দিবে, আমার রব আল্লাহ তা‘আলা। তারপর জিজ্ঞাসা করা হবে, তোমার দীন কী? সে মু’মিন হলে বলবে: ইসলাম। তারপর বলবে, ইনি কে? সে বলবে, আমাদের নাবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।



অতঃপর আকাশ থেকে আওয়াজ আসবে আমার বান্দা সত্য বলেছে, তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও এবং জান্নাতের দিকে দরজা খুলে দাও। পক্ষান্তরে কাফির হলে অবস্থা সম্পূর্ণ বিপরীত হবে।



কবরের আযাব ও মু’মিনদের পরিত্রাণ সম্পর্কিত আয়াত ও হাদীসসহ বিস্তারিত আলোচনা তাফসীর ইবনু কাসীরে রয়েছে। সুতরাং যারা দুনিয়াতে সঠিক ঈমান ও আমলের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে তারা কবরেও ঈমানের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকতে পারবে।



আয়াত হতে শিক্ষনীয় বিষয়:



১. উত্তম কথার উপমা উত্তম জিনিসের সাথেই হয়।

২. মু’মিনদেরকে খেজুর গাছের সাথে উপকার ও বরকতের দিক থেকে তুলনা করা হয়েছে ।

৩. মু’মিনদের আমল সর্বদা আকাশে নিয়ে যাওয়া হয়।

৪. কবরের আযাব প্রমাণিত হল, মু’মিনরা ঈমানের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে পারবে, অন্যরা পারবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২৪-২৬ নং আয়াতের তাফসীর

হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, লা ইলালাহ ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কেউ উপাস্য নেই) এর সাক্ষ্য দেয়াই বুঝানো হয়েছে কালেমায়ে তায়্যেবা দ্বারা। আর উত্তম ও পবিত্র বৃক্ষ দ্বারা মুমিনকে বুঝানো হয়েছে। এর মূল দৃঢ়, অর্থাৎ মুমিনের অন্তরে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ রয়েছে। এর শাখা রয়েছে ঊর্ধ্বে অর্থাৎ মুমিনের তাওহীদ বা একত্ববাদের কালেমার কারণে তার আমলগুলি আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়। আরো বহু মুফাসির হতে এটাই বর্ণিত হয়েছে যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে মুমিনের আমল, কথা ও সৎ কার্যাবলী। মুমিন খেজুর বৃক্ষের ন্যায়। প্রত্যেক দিন সকালে ও সন্ধ্যায় তার আমলগুলি আকাশে উঠে যায়।

হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহর (সঃ) কাছে একটি খেজুর গুচ্ছ আনয়ন করা হলে তিনি (আরবি) এই অংশটুকু পাঠ করেন এবং বলেনঃ “ওটা খেজুর বৃক্ষ।”

হযরত ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “আমরা (একদা) রাসূলুল্লাহর (সঃ) কাছে ছিলাম। তিনি আমাদেরকে বলেনঃ “ওটা কোন্ গাছ যা মুসলমানের মত, যার পাতা ঝরে পড়ে না, গ্রীষ্ম কালেও না শীতকালেও না; যা সব মওসুমেই ফল ধারণ করে থাকে?” হযরত আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) বলেনঃ “আমি মনে মনে বললাম যে, বলে দিইঃ ওটা খেজুর গাছ। কিন্তু আমি দেখলাম যে, মজলিসে হযরত আবু বকর (রাঃ) , হযরত উমার (রাঃ) রয়েছেন। এবং তাঁরা নীরব আছেন, কাজেই আমিও নীরব থাকলাম। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “ওটা হচ্ছে খেজুরের গাছ।” এখান থেকে বিদায় হয়ে আমি আমার পিতা হযরত উমারকে (রাঃ) এটা বললে তিনি বলেনঃ “হে আমার প্রিয় বৎস! যদি তুমি এই উত্তর দিয়ে দিতে তবে এটা আমার কাছে সমস্ত কিছু পেয়ে যাওয়ার অপেক্ষাও প্রিয় ও পছন্দনীয় ছিল।” (এ হাদিসটি ইমাম বুখারী (রঃ) স্বীয় সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)

হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেনঃ “আমি মদীনায় হযরত ইবনু উমারের (রাঃ) সঙ্গ লাভ করি। আমি তাঁকে একটি মাত্র হাদীস ছাড়া কোন হাদীস রাসূলুল্লাহ (সঃ) হতে বর্ণনা করতে শুনি নাই। তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহর (সঃ) কাছে বসেছিলাম, এমন সময় তাঁর কাছে খেজুর গাছের ভিতরের মজ্জা আনয়ন করা হয়। তখন তিনি বলেনঃ “গাছের মধ্যে এমন এক গাছ রয়েছে যা মুসলমানের মত।” আমি তখন বলবার ইচ্ছা করলাম যে, আমিই হলাম কওমের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ (তাই, আমি বললাম না)। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “ওটা হচ্ছে খেজুর বৃক্ষ।” অন্য রিওয়াইয়াতে রয়েছে যে, ঐ সময় উত্তরদাতাদের খেয়াল বন্য গাছ পালার দিকে গিয়েছিল।

হযরত কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি লোক বলেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! সম্পদশালী লোকেরা তো মর্যাদায় খুব বেড়ে গেল!” যদি দুনিয়ার সমস্ত কিছু নিয়ে স্কুপ করে দেয়া হয় তবুও কি তা আকাশ পর্যন্ত পেঁৗছতে পারবে? (কখনই না) তোমাকে কি এমন আমলের কথা বলবো যার মূল দৃঢ় এবং শাখা গুলি আকাশে (চলে গেছে)?” সে জিজ্ঞেস করলোঃ “ওটা কি?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তরে বললেনঃ “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, সুবহানাল্লাহ এবং আলহামদু লিল্লাহ প্রত্যেক ফরয নামাযের পর দশ বার করে পাঠ করো তা হলেই এটা হবে এমন আমল যার মূল মযবুত এবং শাখা আকাশে।” হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন ঐ পবিত্র গাছ জান্নাতে রয়েছে। আল্লাহ পাকের উক্তিঃ ওটা প্রত্যেক মওসূমে ফলদান করে অর্থাৎ-সকাল-সন্ধ্যায় প্রতি মাসে বা প্রতি দু’মাসে অথবা প্রতি ছ’মাসে বা প্রতি সাত মাসে অথবা প্রতি বছরে। কিন্তু শব্দগুলির বাহ্যিক ভাবার্থ তো হচ্ছেঃ “মুমিনের দৃষ্টান্ত ঐ বৃক্ষের মত যার ফল সব সময় শীতে, গ্রীষ্মে, দিনে, রাতে নেমে থাকে। অনুরূপভাবে মু'মিনের নেক আমল দিনরাত সব সময় আকাশে উঠে থাকে।”

আল্লাহ তাআলা মানুষের শিক্ষা, উপদেশ ও অনুধাবনের জন্যে দৃষ্টান্ত বর্ণনা করে থাকেন।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা মন্দ কালেমা অর্থাৎ কাফিরের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করছেন, যার কোন মূল নেই এবং যা দৃঢ় নয়। এর দৃষ্টান্ত দেয়া হয়েছে ‘হানযাল গাছের সাথে, যাকে ‘শারইয়ান' বলা হয়। হযরত আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, ওটা হান্যাল গাছ। এই রিওয়াইয়াতটি মার’ রূপেও এসেছে। এর মূল ভূ-পৃষ্ঠ হতে বিচ্ছিন্ন যার কোন স্থায়িত্ব নেই। অনুরূপভাবে কুফরী মূলহীন ও শাখাহীন। কাফিরের কোন ভাল কাজ উপরে উঠে না এবং তার থেকে কিছু কবুলও হয় না।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।