সূরা ইউসুফ (আয়াত: 95)
হরকত ছাড়া:
قالوا تالله إنك لفي ضلالك القديم ﴿٩٥﴾
হরকত সহ:
قَالُوْا تَاللّٰهِ اِنَّکَ لَفِیْ ضَلٰلِکَ الْقَدِیْمِ ﴿ٙ۹۵﴾
উচ্চারণ: কা-লূতাল্লা-হি ইন্নাকা লাফী দালা-লিকাল কাদীম।
আল বায়ান: তারা বলল, ‘আল্লাহর কসম, আপনি তো সেই পুরোন ভ্রান্তিতেই আছেন’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯৫. তারা বলল, আল্লাহর শপথ আপনি তো আপনার পুরোন বিভ্রান্তিতেই রয়েছেন।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: বাড়ীতে উপস্থিত ব্যক্তিরা বলল, ‘আল্লাহর কসম! তুমি তো সেই তোমার পুরনো বিভ্রান্তিতেই আছ দেখছি।’
আহসানুল বায়ান: (৯৫) তারা বলল, ‘আল্লাহর শপথ! আপনি তো আপনার পূর্ব বিভ্রান্তিতেই রয়েছেন।’ [1]
মুজিবুর রহমান: তারা বললঃ আল্লাহর শপথ! আপনিতো আপনার পূর্ব বিভ্রান্তিতেই রয়েছেন।
ফযলুর রহমান: উপস্থিত লোকেরা বলল, “আল্লাহর কসম! তুমি আসলে তোমার সেই পুরান বিভ্রান্তির মধ্যেই আছো।”
মুহিউদ্দিন খান: লোকেরা বললঃ আল্লাহর কসম, আপনি তো সেই পুরানো ভ্রান্তিতেই পড়ে আছেন।
জহুরুল হক: তারা বললে -- "আল্লাহ্র কসম! আপনি নিঃসন্দেহ আপনার পুরনো ভ্রান্তিতেই রয়েছেন।"
Sahih International: They said, "By Allah, indeed you are in your [same] old error."
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৯৫. তারা বলল, আল্লাহর শপথ আপনি তো আপনার পুরোন বিভ্রান্তিতেই রয়েছেন।(১)
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ উপস্থিত লোকেরা বললঃ আল্লাহর কসম, আপনি তো সেই পুরোনো ভ্রান্ত ধারণায়ই পড়ে রয়েছেন যে, ইউসুফ জীবিত আছে এবং তার সাথে মিলন হবে। ইবন কাসীর বলেন, তারা তাদের পিতার সাথে এমন কথা বললো যা কোন পিতার সাথে বলা যায় না। আল্লাহর কোন নবীর সাথে বলাই যায় না। কুরতুবী বলেন, যারা এ কথা বলেছিল তারা ঘরের অন্যান্য লোকেরা। ছেলেরা বলেনি। কারণ, তারা তখনও কেনআনে ফিরে আসেনি। পরবর্তী আয়াত থেকে তা বুঝা যাচ্ছে।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৯৫) তারা বলল, ‘আল্লাহর শপথ! আপনি তো আপনার পূর্ব বিভ্রান্তিতেই রয়েছেন।’ [1]
তাফসীর:
[1] ضَلَال এর অর্থ মমতাময় ভালবাসার সেই বিহ্বলতা যা ইয়াকূব (আঃ)-এর স্বীয় পুত্র ইউসুফ (আঃ)-এর সাথে ছিল। পুত্রগণ বলতে লাগলেন, এখনও পর্যন্ত আপনি সেই আগের ভুলে; অর্থাৎ ইউসুফের মহব্বতে বিভোল রয়েছেন। এত দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ার পরও ইউসুফের মহব্বত আপনার মন থেকে দূর হয়নি।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৮৮-১০১ নং আয়াতের তাফসী:
অতঃপর তৃতীয় দফায় তারা তাদের পিতার নির্দেশক্রমে মিসরে আগমন করল। আগমন করে ইউসুফ (عليه السلام) কে তাদের দুরবস্থার কথা অবগত করণার্থে বলল: হে আযীয, আমাদের খাদ্যাভাবে আমাদের পরিবার বিপন্ন হয়ে গেছে, তাছাড়া আমরা যে অর্থ কড়ি নিয়ে এসেছি তা অতি সামান্য, সুতরাং আমাদের অর্থাভাবের কারণে মালামাল কম না দিয়ে পূর্ণমাত্রায় দেবেন এবং আরো কিছু বেশি দেবেন। কেউ কেউ বলেছেন, (وَتَصَدَّقْ عَلَيْنَا) অর্থাৎ বিনয়ামীনকে আমাদের সাথে যেতে দিয়ে অনুগ্রহ করুন। যখন তারা দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরল, এবং পিতার বার্ধক্য, দুর্বলতা ও পুত্র বিচ্ছেদের আঘাতের কথা বর্ণনা করল তখন ইউসুফ (عليه السلام) এর হৃদয় বিগলিত হয়ে গেল। অশ্র“সিক্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বললেন: তোমরা ইউসুফ ও তাঁর সহোদর ভাই-এর সাথে যে ব্যবহার করেছিলে তা কি তোমাদের স্মরণ আছে? তিনি ভাইদের অপরাধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়ার সাথে সাথে উদারতা দেখিয়ে বললেন, তোমরা তখন অজ্ঞ ছিলে। মূলত আল্লাহ তা‘আলার পাপী বান্দারা অজ্ঞই বটে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(ثُمَّ اِنَّ رَبَّکَ لِلَّذِیْنَ عَمِلُوا السُّوْ۬ئَ بِجَھَالَةٍ ثُمَّ تَابُوْا مِنْۭ بَعْدِ ذٰلِکَ وَاَصْلَحُوْٓا اِنَّ رَبَّکَ مِنْۭ بَعْدِھَا لَغَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ)
“যারা অজ্ঞতাবশত মন্দকর্ম করে তারা পরে তাওবাহ করে ও নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয় তাদের জন্য তোমার প্রতিপালক অবশ্যই অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা নাহল ১৬:১১৯)
ইউসুফ (عليه السلام) এর মুখ থেকে নিজের বাল্যকালের সকল ঘটনা তুলে ধরলে তারা ইউসুফ (عليه السلام)-কে চিনে ফেলে এবং বলল যে, তুমি কি তাহলে ইউসুফ? উত্তরে তিনি তাঁর পরিচয় প্রকাশ করলেন। সাথে সাথে আল্লাহ তা‘আলার অনুগ্রহ, ধৈর্য ও সংযমের শুভ পরিণামের কথা বর্ণনা করে বললেন: তোমরা আমাকে নিঃশেষ করার ষড়যন্ত্রের কোন প্রকার ত্র“টি করোনি, কিন্তু এটা আল্লাহ তা‘আলার দয়া যে, তিনি আমাকে শুধু কূপ থেকে পরিত্রাণ দেননি বরং মিসরের রাজত্বও দান করেছেন। তখন ইউসুফ (عليه السلام) এর ভাইয়েরা সকলেই তাদের ভুল স্বীকার করল। ইউসুফও (عليه السلام) তাদেরকে ক্ষমা করে দিলেন এবং আল্লাহ তা‘আলার কাছেও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন, আর বললেন: আজ তোমাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই, কোন নিন্দা ও ভর্ৎসনা করা হবে না। মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কার কাফির ও যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল এমনকি তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিল তাদেরকে একথাই বলে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।
তাদেরকে ইউসুফ (عليه السلام) একটি জামা দিয়ে বললেন: এটা নিয়ে যাও, এটা আমার পিতার মুখমণ্ডলে রাখলেই চোখের জ্যোতি ফিরে আসবে এবং পরিবারের সকলকে মিসরে দাওয়াত দিলেন। এ জামা আল্লাহ তা‘আলা ইবরাহীম (عليه السلام) কে দিয়েছিলেন যখন নমরুদ তাঁকে আগুনে নিক্ষেপ করে। ইবরাহীম (عليه السلام) ইসহাককে প্রদান করে, তিনি ইয়া‘কূব (عليه السلام) কে প্রদান করেন। ইয়া‘কূব (عليه السلام) ইউসুফ (عليه السلام) কে পড়িয়ে দেন যাতে কোন প্রকার বদনজর না লাগে। (কুরতুবী) উক্ত জামা নিয়ে মিসর থেকে কাফেলা রওনা হল এবং ওদিকে আল্লাহ তা‘আলা র পক্ষ থেকে ইয়া‘কূব (عليه السلام) এর কাছে মু‘জিযাহস্বরূপ ইউসুফ (عليه السلام) এর সুগন্ধি আসতে লাগল। তাই তিনি বললেন: আমি ইউসুফের সুঘ্রাণ পাচ্ছি। তখন পরিবারের লোকেরা বলল: আপনি এখনো সে পুরাতন ভ্রষ্টতার মাঝেই আছেন। অর্থাৎ ইউসুফ (عليه السلام) কে হারিয়ে ইয়া‘কূব (عليه السلام) মাঝে মাঝেই এরূপ কথা বলতেন যে, আমার মনে হয় ইউসুফ (عليه السلام) বেঁচে আছে, আমি তার সুঘ্রাণ পাচ্ছি।
অতঃপর যখন সুসংবাদদাতা জামাটি নিয়ে এসে ইয়া‘কূব (عليه السلام) এর মুখে রাখল আল্লাহ তা‘আলার রহমতে চোখের দৃষ্টি ফিরে এল। ইয়া‘কূব (عليه السلام) বললেন: ‘আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, আমি আল্লাহর নিকট হতে যা জানি তোমরা তা জান না?’ অর্থাৎ আমি ওয়াহীর মাধ্যমে জানতে পেরেছি ইউসুফ (عليه السلام) বেঁচে আছে, তোমাদের কাছে তো ওয়াহী আসে না তাই তোমরা আমার মত জানো না। তখন ইউসুফ (عليه السلام) এর ভাইয়েরা পিতার নিকটও নিজেদের অপরাধ স্বীকার করল এবং তাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনার জন্য আবেদন করল। ইয়া‘কূব (عليه السلام) অচিরেই ক্ষমা প্রার্থনা করবেন বলে ওয়াদা দিলেন। উদ্দেশ্য হল রাতের শেষ প্রহরে যখন আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন, সে সময়টি দু‘আ কবূলের সময়। তাছাড়া এত বড় অপরাধ করেছে সে জন্য চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন ছিল। তাই তিনি সাথে সাথে ক্ষমা প্রার্থনা না করে অচিরেই ক্ষমা প্রার্থনা করবেন বলে ওয়াদা দিয়েছেন।
অতঃপর তিনি তাঁর ছেলেদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং তারা সকলে ইউসুফ (عليه السلام)-এর উদ্দেশ্যে মিসরে রওনা করলেন, ইউসুফ (عليه السلام) শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে শান্তির অভিবাদন জানিয়ে নিজের কাছে স্থান দিলেন। এমনকি তিনি তাঁর পিতা-মাতাকে রাজার যে আসন সেখানে বসালেন এবং পিতা-মাতা ও সব ভাই ইউসুফ (عليه السلام) এর সম্মানার্থে সিজদায় পড়ে গেলেন।
এখানে সিজদা করা দ্বারা এমনটি মনে করা যাবে না যে, যেহেতু ইউসুফ (عليه السلام) কে তাঁর ভাইয়েরা সিজদা করেছে সেহেতু মানুষকে সিজদা করা যাবে। অতএব কোন মাজারে বা কবরে সিজদা করা কিংবা উচ্চ মর্যাদাস¤পন্ন কোন ব্যক্তিকে সম্মানার্থে সিজদা করা বৈধ। না, এরূপ বৈধ হবে না। কারণ এই সম্মানসূচক সিজদা ইয়া‘কূব (عليه السلام)-এর শরীয়তে বৈধ ছিল কিন্তু শরীয়তে মুহাম্মাদীতে তা হারাম করে দেয়া হয়েছে।
মুআয বিন যাবাল (রাঃ) শাম থেকে ফিরে এসে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে সিজদা করলেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন একি মুআয! মুআয (রাঃ) বললেন: আমি শামে গিয়ে দেখলাম, সে দেশের লোকজন তাদের যাজক ও পাদ্রীদেরকে সিজদা করে। তাই আমি মনে মনে চাইলাম যে, আমরাও আপনাকে সিজদা করব। তা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: খবরদার! তা করো না। কারণ আমি যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করতে আদেশ করতাম তাহলে মহিলাদেরকে বলতাম, তোমরা তোমাদের স্বামীদেরকে সিজদা কর। (ইবনু মাযাহ হা: ১৮৫৩, ইবনু হিববান হা: ৪১৭১, সিলসিলাহ সহীহাহ হা: ১২০৩) অতএব কোন বস্তু বা ব্যক্তিকে সিজদা করা সম্পূর্ণ শির্ক। সিজদা করতে হবে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাকে।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَّاَنَّ الْمَسٰجِدَ لِلہِ فَلَا تَدْعُوْا مَعَ اللہِ اَحَدًا)
“এবং নিশ্চয়ই সিজদার স্থানসমূহ (সমস্ত ইবাদত) একমাত্র আল্লাহর জন্য। সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকেও ডেকো না।” (সূরা জিন ৭২:১৮) এ সিজদাই ছিল ইউসুফ (عليه السلام) এর সেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা যা আল্লাহ তা‘আলা এতদিন পর বাস্তবে পরিণত করেছেন এবং তাদের বিচ্ছিন্নতার পর পুনরায় আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে একত্রিত করে দিয়েছেন এটা ছিল আল্লাহ তা‘আলা র অনুগ্রহ।
(مِّنَ الْبَدْوِ) মিসরের মত সভ্য এলাকার তুলনায় কেন‘আন একটি মরুভূমির মত এলাকা, তাই তিনি بدو (মরু অঞ্চল) শব্দ ব্যবহার করলেন।
অতঃপর ইউসুফ (عليه السلام) আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করলেন এবং তিনি নিজের জন্য দু‘আ করলেন যাতে তিনি মুসলিম থাকা অবস্থায় ঈমানের সাথে দুনিয়া থেকে বিদায় নিতে পারেন এবং তাকে যেন আল্লাহ তা‘আলা সৎকর্মপরায়ণদের অন্তর্ভুক্ত করেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. যারা অপরাধ করে তারা মূলত অজ্ঞতাবশতই করে থাকে। তবে এর ব্যতিক্রমও হয় কিন্তু তা খুবই বিরল।
২. কেউ মন্দ ব্যবহার করলেও তাঁর সাথে যতদূর সম্ভব ভাল ব্যবহার করতে হবে। যেমন ইউসুফ (عليه السلام) তাঁর ভাইদের ব্যাপারে করেছিলেন।
৩. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত কোন ফেরেশতা, জিন, ইনসান ও বস্তুকে সিজদা করা ইসলামী শরীয়তে জায়েয নেই, বরং বড় শির্ক।
৪. নিজের জন্য দু‘আ করা উচিত যাতে ঈমানের সাথে মৃত্যুবরণ করতে পারে ।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৯৩-৯৫ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহর নবী হযরত ইয়াকুব (আঃ) হযরত ইউসুফের (আঃ) শোকে কেঁদে কেঁদে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন, তাই হযরত ইউসুফ (আঃ) তাঁর ভাইদেরকে বললেনঃ “আমার এই জামাটি নিয়ে আমাদের পিতার কাছে গমন করুন এবং এটা তার মুখের উপর রেখে দেবেন, ইনশা আল্লাহ তিনি তৎক্ষণাৎ দৃষ্টি শক্তি ফিরে পাবেন। অতঃপর আপনারা তাঁকে এবং আপনাদের পরিবারের সকলকেই আমার নিকট নিয়ে আসবেন।” এদিকে এই যাত্রীদল মিসর থেকে যাত্রা শুরু করেছেন, আর ও দিকে আল্লাহ তাআ’লা হযরত ইয়াকুবের (আঃ) কাছে হযরত ইউসুফের (আঃ) সুগন্ধি পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। তখন তিনি তাঁর কাছে অবস্থিত সন্তানদের বললেনঃ “আমার কাছে তো আমার প্রিয় পুত্র ইউসুফের (আঃ) সুগন্ধ আসছে। কিন্তু তোমরা তো আমাকে জ্ঞান শূন্য অতি বৃদ্ধ বলে আমার কথার প্রতি কোনই গুরুত্ব দেবে না।” ঐ সময় যাত্রীদল কিনআন থেকে ৮ (আট) দিনের পথের দূরত্বে ছিল। সেখান থেকেই আল্লাহর হুকুমে বাতাস হযরত ইয়াকুবকে (আঃ) হযরত ইউসুফের (আঃ) জামাটির সুগন্ধি পৌঁছিয়ে দিয়েছিল। ঐ সময় হযরত ইউসুফের (আঃ) হারিয়ে যাওয়ার সময় কাল ৮০ (আশি) বছরে পৌঁছেছিল এবং যাত্রীদল তার নিকট থেকে ৮০ (আশি) ‘ফারসাখ’ দূরে ছিল। কিন্তু পিতার পার্শ্বে অবস্থানকারী ইউসুফের (আঃ) ভ্রাতাগণ পিতাকে বললো: “আপনি ইউসুফের (আঃ) প্রেমের কারণে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে রয়েছেন। সে কোন সময় আপনার মন হতে দূর হয় না এবং কোন সময় আপনি সান্ত্বনাও লাভ করতে পারছেন না।” হযরত ইয়াকুবের (আঃ) কাছে এই ভাষাটি বাস্তবিকই অত্যন্ত কঠোর ছিল। কোন যোগ্য সন্তানের পক্ষে এটা শোভনীয় নয় যে, নিজের পিতার নামে এরূপ ভাষা প্রয়োগ করে এবং উম্মতের জন্যেও এটা শোভা পায় না যে, তারা তাদের নবীকে (সঃ) এরূপ কথা বলে! সুদ্দী (রঃ) প্রভৃতি গুরুজন একথাই বলেছেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।