আল কুরআন


সূরা ইউসুফ (আয়াত: 54)

সূরা ইউসুফ (আয়াত: 54)



হরকত ছাড়া:

وقال الملك ائتوني به أستخلصه لنفسي فلما كلمه قال إنك اليوم لدينا مكين أمين ﴿٥٤﴾




হরকত সহ:

وَ قَالَ الْمَلِکُ ائْتُوْنِیْ بِهٖۤ اَسْتَخْلِصْهُ لِنَفْسِیْ ۚ فَلَمَّا کَلَّمَهٗ قَالَ اِنَّکَ الْیَوْمَ لَدَیْنَا مَکِیْنٌ اَمِیْنٌ ﴿۵۴﴾




উচ্চারণ: ওয়া কা-লাল মালিকু’তূনী বিহীআছতাখলিসহু লিনাফছী ফালাম্মা-কাল্লামাহূকা-লা ইন্নাকাল ইয়াওমা লাদাইনা-মাকীনুন আমীন।




আল বায়ান: আর বাদশাহ বলল, ‘তোমরা তাকে আমার নিকট নিয়ে আস, আমি তাকে নিজের জন্য আপন করে নেব’। অতঃপর যখন সে তার সাথে কথা বলল, তখন বলল, ‘নিশ্চয় আজ তুমি আমাদের নিকট মর্যাদাবান ও আস্থাভাজন’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৪. আর রাজা বলল, ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে আস; আমি তাকে আমার নিজের জন্য আপন করে নেব। তারপর রাজা যখন তার সাথে কথা বলল, তখন রাজা বলল, ‘আজ আপনি তো আমাদের কাছে মর্যাদাশীল আস্থাভাজন।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: রাজা বললেন, ‘তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো, আমি তাকে আমার জন্য বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করে নেব।’ অতঃপর সে (ইউসুফ) যখন তার সাথে কথা বলল, তখন রাজা বলল, ‘আজ তুমি আমাদের কাছে খুবই মর্যাদাশীল ও বিশ্বস্ত হিসেবে পরিগণিত।’




আহসানুল বায়ান: (৫৪) রাজা বলল, ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এস, আমি তাকে আমার একান্ত সহচর নিযুক্ত করব।[1] অতঃপর রাজা যখন তার সাথে কথা বলল, তখন বলল, ‘আজ তুমি আমাদের কাছে মর্যাদাবান ও বিশ্বাসভাজন।’ [2]



মুজিবুর রহমান: বাদশাহ বললঃ ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এসো, আমি তাকে একান্ত সহচর নিযুক্ত করব। অতঃপর বাদশাহ যখন তার সাথে কথা বলল তখন রাজা বললঃ আজ তুমি আমাদের কাছে মর্যাদাবান ও বিশ্বাস ভাজন হলে।



ফযলুর রহমান: রাজা বলল, “তোমরা তাকে (ইউসুফকে) আমার কাছে নিয়ে এসো, আমি তাকে আমার নিজের জন্য রেখে দেব। তারপর রাজার যখন ইউসুফের সাথে কথা হয় তখন সে (তাকে) বলে, “আজ তুমি আমাদের কাছে মর্যাদাবান ও বিশ্বস্ত।”



মুহিউদ্দিন খান: বাদশাহ বললঃ তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো। আমি তাকে নিজের বিশ্বস্ত সহচর করে রাখব। অতঃপর যখন তার সাথে মতবিনিময় করল, তখন বললঃ নিশ্চয়ই আপনি আমার কাছে আজ থেকে বিশ্বস্ত হিসাবে মর্যাদার স্থান লাভ করেছেন।



জহুরুল হক: আর রাজা বললেন -- "তাঁকে আমার কাছে নিয়ে এস, আমি তাঁকে আমার নিজের জন্য একান্তভাবে গ্রহণ করব।" সুতরাং তিনি যখন তাঁর সাথে আলাপ করলেন তখন বললেন -- "আপনি আজ নিশ্চয়ই হলেন আমাদের সমক্ষে সুপ্রতিষ্ঠিত, বিশ্বাসভাজন।"



Sahih International: And the king said, "Bring him to me; I will appoint him exclusively for myself." And when he spoke to him, he said, "Indeed, you are today established [in position] and trusted."



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৪. আর রাজা বলল, ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে আস; আমি তাকে আমার নিজের জন্য আপন করে নেব। তারপর রাজা যখন তার সাথে কথা বলল, তখন রাজা বলল, ‘আজ আপনি তো আমাদের কাছে মর্যাদাশীল আস্থাভাজন।(১)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ বাদশাহ যখন ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর দাবী অনুযায়ী মহিলাদের কাছে ঘটনার তদন্ত করলেন এবং আযীয-পত্নী ও অন্যান্য সব মহিলা বাস্তব ঘটনা স্বীকার করল, তখন বাদশাহ নির্দেশ দিলেনঃ ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-কে আমার কাছে নিয়ে আসো- যাতে তাকে একান্ত উপদেষ্টা করে নেই। নির্দেশ অনুযায়ী তাকে সসম্মানে কারাগার থেকে দরবারে আনা হল। অতঃপর পারস্পরিক আলাপ ও আলোচনার ফলে তার যোগ্যতা ও প্রতিভা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে বাদশাহ বললেনঃ আপনি আজ থেকে আমার কাছে অত্যন্ত সম্মানাহ এবং বিশ্বস্ত। অর্থাৎ আপনার কথা গ্রহণযোগ্য এবং আপনি এমনই বিশ্বস্ত যে আপনার পক্ষ থেকে কোন গাদ্দারীর ভয় নেই। [কুরতুবী, সংক্ষেপিত]

এটা যেন বাদশাহর পক্ষ থেকে এ মর্মে একটি সুস্পষ্ট ইঙ্গিত ছিল যে, আপনার হাতে যে কোন দায়িত্বপূর্ণ কাজ সোপর্দ করা যেতে পারে। স্বপ্ন এবং অনাগত পরিস্থিতির ব্যাপারে বাদশাহ বললেনঃ এখন কি করা দরকার? ইউসুফ আলাইহিস সালাম বললেনঃ প্রথম সাত বছর খুব বৃষ্টিপাত হবে। এ সময় অধিকতর পরিমাণে চাষাবাদ করে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে। জনগণকে অধিক ফসল ফলানোর জন্য নির্দেশ দিতে হবে। উৎপন্ন ফসলের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ নিজের কাছে সঞ্চিতও রাখতে হবে।

এভাবে দুর্ভিক্ষের সাত বছরের জন্য মিসরবাসীর কাছে প্রচুর শস্যভাণ্ডার মজুদ থাকবে এবং আপনি তাদের পক্ষ থেকে নিশ্চিন্ত থাকবেন। রাজস্ব আয় ও খাস জমি থেকে যে পরিমাণ ফসল সরকারের হাতে আসবে, তা ভিনদেশী লোকদের জন্য রাখতে হবে। কারণ এ দুর্ভিক্ষ হবে সুদূরদেশ অবধি বিস্তৃত। ভিনদেশীরা তখন আপনার মুখাপেক্ষী হবে। আপনি খাদ্যশস্য দিয়ে সেসব আর্তমানুষকে সাহায্য করবেন। বিনিময়ে যৎকিঞ্চিৎ মূল্য গ্রহণ করলেও সরকারী ধনভাণ্ডারে অভূতপূর্ব অর্থ সমাগত হবে।

এ পরামর্শ শুনে বাদশাহ মুগ্ধ ও আনন্দিত হয়ে বললেনঃ এ বিরাট পরিকল্পনার ব্যবস্থাপনা কিভাবে হবে এবং কে করবে? ইউসুফ আলাইহিস সালাম বললেন, জমির উৎপন্ন ফসলসহ দেশীয় সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আপনি আমাকে সোপর্দ করুন। আমি এগুলোর পূর্ণ রক্ষণাবেক্ষণ করতে সক্ষম এবং ব্যয়ের খাত ও পরিমাণ সম্পর্কেও আমার পুরোপুরি জ্ঞান আছে। [কুরতুবী থেকে সংক্ষেপিত] যেখানে যে পরিমাণ ব্যয় করা জরুরী, সেখানে সেই পরিমাণ ব্যয় করব এবং এক্ষেত্রে কোন কম-বেশী করব না। حَفِيظ শব্দটি প্রথম প্রয়োজনের এবং عَلِيم শব্দটি দ্বিতীয় প্রয়োজনের নিশ্চয়তা।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৪) রাজা বলল, ইউসুফকে আমার কাছে নিয়ে এস, আমি তাকে আমার একান্ত সহচর নিযুক্ত করব।[1] অতঃপর রাজা যখন তার সাথে কথা বলল, তখন বলল, ‘আজ তুমি আমাদের কাছে মর্যাদাবান ও বিশ্বাসভাজন।’ [2]


তাফসীর:

[1] যখন বাদশা আযীয (রাইয়ান বিন অলীদ)-এর সামনে ইউসুফ (আঃ)-এর জ্ঞান ও মর্যাদা সহ তাঁর চরিত্রের উৎকর্ষতা ও পবিত্রতাও প্রস্ফুটিত হয়ে গেল, তখন তিনি আদেশ করলেন যে, তাঁকে (ইউসুফ (আঃ)-কে) আমার কাছে পেশ কর; আমি তাঁকে আমার সঙ্গী (প্রিয়পাত্র) ও মন্ত্রী (পরামর্শদাতা) বানাতে চাই।

[2] مَكِيْنٌ অর্থাৎ মর্যাদার অধিকারী এবং أمِيْنٌ (বিশ্বস্ত) অর্থাৎ রাষ্ট্র রহস্যবিদ।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫৪-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর:



উক্ত আয়াতগুলোতে মিসরে ইউসুফ (عليه السلام) কে আল্লাহ তা‘আলা যেভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন সে সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।



এভাবে আযীযের স্ত্রী ও নগরীর মহিলারা যখন বাস্তব ঘটনা স্বীকার করল এবং বাদশার নিকট ইউসুফ (عليه السلام) এর নির্দোষিতা, সত্যবাদিতা ও বিচক্ষণতা সুস্পষ্ট হয়ে গেল তখন তিনি ইউসুফ (عليه السلام) কে তার নিকট নিয়ে আসতে বললেন এবং এ সংবাদও দিলেন যে, আমি তাঁকে একান্ত একজন নৈকট্যশীল সহচর ব্যক্তি হিসেবে গ্রহণ করে নেব। অতঃপর ইউসুফ (عليه السلام) কে নিয়ে আসা হলে বাদশা তাঁর সাথে কথা বললেন এবং তাঁর কথায় মুগ্ধ হয়ে বাদশা বললেন: আজ থেকে তুমি আমাদের কাছে একজন মর্যাদাবান ও বিশ্বাসভাজন। বাদশা তাঁকে মন্ত্রী নিযুক্ত করতে চাইলেন। তখন ইউসুফ (عليه السلام) নিজের জন্য একটি জনসেবা মূলক কাজ পছন্দ করলেন এবং তিনি নিজের যোগ্যতা ও আমানতদারীতার কথা বলে খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে চাইলেন। তিনি এ প্রস্তাব করলেন এজন্য যে, যাতে করে আসন্ন দুর্ভিক্ষের জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ শস্য সংরক্ষণ করতে পারেন।



এ আয়াত প্রমাণ করে কাউকে কোন কাজের উপযুক্ত মনে হলে তাকে সে কাজে নিয়োগ দেয়া যাবে। তবে দায়িত্ব চেয়ে নেয়া যাবে না, কারণ হাদীসে নিষেধ রয়েছে, যে দায়িত্ব চাইবে তাকে দায়িত্ব দিও না। (সহীহ মুসলিম হা: ১৮২৪)



অনেকে মনে করতে পারে যে, ইউসুফ (عليه السلام) এখানে দায়িত্ব চেয়ে নিলেন। না, তিনি দায়িত্ব চেয়ে নেননি, যখন বাদশা তাঁকে দায়িত্ব দিতে চাইলেন তখন তিনি যে পদের উপযুক্ত সে পদের কথা বললেন, তিনি আগে চাননি। কারণ বাদশা যদি নিজের ইচ্ছা মত নিয়োগ দেন, আর তিনি যদি সে পদের উপযুক্ত না হন, তাহলে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবেন। তাই তিনি বললেন: আমি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে অভিজ্ঞ, সম্পদ কখন কোথায় কিভাবে সংরক্ষণ ও ব্যয় করতে হবে তা আমার জানা আছে। অনুরূপ অপচয় ও ঘাটতি থেকে সংরক্ষণ করতে পারব। সুতরাং যখন আমাকে নিয়োগ দিতে চাচ্ছেন তখন এ পদেই নিয়োগ দিন। এ ছাড়াও তিনি দেখলেন, এখানে দায়িত্ব না নিলে বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।



خَزَآئِنِ শব্দটি خزانة এর বহুবচন, অর্থ ধন-ভাণ্ডার।



(خَزَا۬ئِنِ الْأَرْضِ)



এমন স্থানকে বলা হয় যেখানে খাদ্য গুদামজাত করে রাখা হয়। আল্লাহ তা‘আলা এসব উপকরণ ও মাধ্যমে ইউসুফ (عليه السلام) কে মিসরের জমিনে প্রতিষ্ঠিত করলেন। তিনি এমনভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করতেন যেন নিজ গৃহে বা এলাকায় বসবাস করছেন। তিনি যেখানে ইচ্ছা সফর করতেন, কোন বাধা ছিল না।



আহলে কিতাবগণের বর্ণনা মতে এ সময় বাদশা তাঁকে কেবল খাদ্য মন্ত্রণালয় নয় বরং সমস্ত মিসরের শাসন ক্ষমতা অর্পণ করেন এবং বলেন, ‘আমি আপনার চেয়ে বড় নই, কেবল সিংহাসন ব্যতীত।’ ইবনু ইসহাকের বর্ণনা মতে, এ বাদশা তাঁর হাতে মুসলিম হয়েছিল। একথাও বলা হয়েছে যে, এ সময় আযীযে মিসর (যুলাইখার স্বামী) মারা যান। ফলে ইউসুফকে উক্ত পদে বসানো হয় এবং তার বিধবা স্ত্রী যুলাইখাকে বাদশা ইউসুফ (عليه السلام) এর সাথে বিবাহ দেন। (আল বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ১/১৯৬-১৯৭) জ্ঞান ও যুক্তি একথা মেনে নিলেও কুরআন-সুন্নাহ এ বিষয়ে কিছু বলেনি। যেমন রাণী বিলকীসের মুসলিম হওয়া সম্পর্কে কুরআন সুস্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে (সূরা নামল ২৭:৪৪)। যেহেতু কুরআন ও হাদীস এ বিষয়ে কিছু বলেনি, অতএব আমাদের চুপ থাকা উচিত। আহলে কিতাবদের ক্ষেত্রে সত্য-মিথ্যা কিছু বলতে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষেধ করেছেন। (সহীহ বুখারী হা: ৪৪৮৫)



নাবী হিসেবে সুলাইমান (عليه السلام) এর যেমন উদ্দেশ্য ছিল বিলকীসের মুসলিম হওয়া ও তার রাজ্য থেকে শির্ক উৎখাত হওয়া। অনুরূপভাবে নাবী হিসেবে ইউসুফ (عليه السلام) এরও উদ্দেশ্য থাকতে পারে বাদশার মুসলিম হওয়া এবং মিসর থেকে শির্ক উৎখাত হওয়া ও সর্বত্র আল্লাহ তা‘আলার বিধান প্রতিষ্ঠিত হওয়া। এভাবে আল্লাহ তা‘আলা ইউসুফ (عليه السلام) কে মিসরের সর্বোচ্চ পদে আসীন করলেন এবং অন্ধকূপে হারিয়ে যাওয়া ইউসুফ পুনরায় দীপ্ত সূর্যের ন্যায় পৃথিবীতে বিকশিত হয়ে উঠলেন।



(نُصِيْبُ بِرَحْمَتِنَا مَنْ نَّشَا۬ءُ)



অর্থাৎ ইউসুফ (عليه السلام) কে এভাবে প্রতিষ্ঠিত করা আল্লাহ তা‘আলার রহমত। যারা সৎকর্মপরায়ণ তিনি তাদের কর্মের প্রতিদান নষ্ট করেন না। বলা হয়, এটা ইউসুফ (عليه السلام) এর সেই ধৈর্যের সুফল যা তার ভাইদের অত্যাচারে ধৈর্য ধরেছিলেন এবং ঐ সুদৃঢ় পদক্ষেপের বদলা যখন তিনি যুলাইখার কুকর্মের আহ্বানে সাড়া দেননি।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সাধারণ অবস্থায় দায়িত্ব চেয়ে নেয়া ঠিক নয়। কিন্তু বিশেষ অবস্থায় যেখানে চেয়ে না নিলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে সেখানে দায়িত্ব চেয়ে নেয়া জায়েয। যেমন ইউসুফ (عليه السلام) চেয়ে নিয়েছিলেন। তবে অবশ্যই পূর্ণ আমানতদার ও সততা থাকতে হবে।

২. সৎকর্মপরায়ণদেরকে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়া ও আখেরাতে উত্তম পুরষ্কার দিয়ে থাকেন, তবে দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতের পুরষ্কারই শ্রেষ্ঠ।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৪-৫৫ নং আয়াতের তাফসীর

হযরত ইউসুফ (আঃ) যখন বাদশাহর কাছে নিরপরাধ প্রমাণিত হয়ে যান তখন তিনি অত্যন্ত খুশী হন এবং দূতকে বলেনঃ “ইউসুফকে (আঃ) আমার কাছে নিয়ে এসো। আমি তাঁকে আমার বিশিষ্ট পরামর্শদাতাদের মধ্যে গণ্য করবো। সুতরাং তিনি বাদশাহ্র নিকট আগমন করেন। বাদশাহ যখন তাঁর অতুলনীয় রূপলাবণ্য লক্ষ্য করলেন, তার মুখের মধুমাখা কথা শুনলেন এবং তাঁকে মহৎ চরিত্রের অধিকারী পেলেন তখন তিনি আবেগে অভিভুত হয়ে পড়লেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর মুখ হতে বেরিয়ে এলো :“আপনি আমাদের কাছে একজন সম্মানিত ও বিশিষ্ট ব্যক্তি।” হযরত ইউসুফ (আঃ) তখন নিজের জন্যে একটি জনসেবা মূলক কাজ পছন্দ করলেন এবং নিজেকে ঐ কাজের যোগ্য ব্যক্তি বলে মত প্রকাশ করলেন। মানুষের জন্যে এটা বৈধও বটে যে, যখন সে অপরিচিত লোকদের মধ্যে অবস্থান করবে তখন প্রয়োজনের সময় তাদের সামনে নিজের যোগ্যতার কথা বর্ণনা করবে। বাদশাহর স্বপ্নের তিনি যে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন তার উপর ভিত্তি করে তিনি তাঁর কাছে এই আকাংখা প্রকাশ করেছিলেন যে, যমীন হতে উৎপাদিত শস্যের যা কিছু জমা করা হবে তার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব তাঁরই উপর যেন অর্পণ করা হয়। তাহলে সেগুলি তিনি বিশ্বস্ততার সাথে হিফাযত করবেন এবং নিজের জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করবেন। এর ফলে দুর্ভিক্ষের বিপদের সময় মানুষ পুরোপুরিভাবে উপকার লাভ করবে। বাদশাহর অন্তরে তো তাঁর সত্যবাদিতা ও বিশ্বস্ততার ছাপ পড়েই গিয়েছিল। সুতরাং তৎক্ষণাৎ তিনি বিনা বাক্য ব্যয়ে তার আবেদন মঞ্জুর করে নেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।