সূরা হূদ (আয়াত: 86)
হরকত ছাড়া:
بقية الله خير لكم إن كنتم مؤمنين وما أنا عليكم بحفيظ ﴿٨٦﴾
হরকত সহ:
بَقِیَّتُ اللّٰهِ خَیْرٌ لَّکُمْ اِنْ کُنْتُمْ مُّؤْمِنِیْنَ ۬ۚ وَ مَاۤ اَنَا عَلَیْکُمْ بِحَفِیْظٍ ﴿۸۶﴾
উচ্চারণ: বাকিইইয়াতুল্লা-হি খাইরুল্লাকুম ইন কুনতুম মু’মিনীনা ওয়ামাআনা ‘আলাইকুম বিহাফীজ।
আল বায়ান: ‘আল্লাহর দেয়া উদ্বৃত্ত লাভ তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা মুমিন হও। আর আমি তো তোমাদের হিফাযতকারী নই’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৬. যদি তোমরা মুমিন হও তবে আল্লাহ অনুমোদিত যা বাকী থাকবে তা তোমাদের জন্য উত্তম; আর আমি তোমাদের তত্ত্বাবধায়ক নই।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহর অনুমোদিত উদ্বৃত্ত (অর্থাৎ লাভ) তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা মু’মিন হও, আমি তোমাদের পর্যবেক্ষক নই।’
আহসানুল বায়ান: (৮৬) যদি তোমরা বিশ্বাসী হও, তাহলে আল্লাহ প্রদত্ত যা অবশিষ্ট থাকে,[1] তাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম। আর আমি তো তোমাদের পাহারাদার নই।’ [2]
মুজিবুর রহমান: আল্লাহ প্রদত্ত যা অবশিষ্ট থাকে তা’ই তোমাদের জন্য অতি উত্তম যদি তোমাদের বিশ্বাস হয়, আর আমি তোমাদের পাহারাদার নই।
ফযলুর রহমান: “(মানুষকে পুরোপুরি দেওয়ার পর) আল্লাহর (অনুমোদিত) অবশিষ্টাংশই তোমাদের জন্য ভাল, যদি তোমরা ঈমানদার হও। আর আমি তো তোমাদের রক্ষক নই।”
মুহিউদ্দিন খান: আল্লাহ প্রদত্ত উদ্ধৃত্ত তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা ঈমানদার হও, আর আমি তো তোমাদের উপর সদা পর্যবেক্ষণকারী নই।
জহুরুল হক: আল্লাহ্র কাছে যা বাকি থাকে তা তোমাদের জন্য উত্তম -- যদি তোমরা বিশ্বাসী হও, আর আমি তোমাদের উপরে রক্ষক নই।
Sahih International: What remains [lawful] from Allah is best for you, if you would be believers. But I am not a guardian over you."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৮৬. যদি তোমরা মুমিন হও তবে আল্লাহ অনুমোদিত যা বাকী থাকবে তা তোমাদের জন্য উত্তম; আর আমি তোমাদের তত্ত্বাবধায়ক নই।(১)
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ ওজন-পরিমাপে হের-ফের করার হীন মানসিকতা দুর করার জন্য শু'আইব আলাইহিস সালাম প্রথমে তার জাতিকে নবীসুলভ স্নেহ ও দরদের সাথে বললেন, বর্তমানে আমি তোমাদের অবস্থা খুব ভাল ও স্বচ্ছল দেখছি। তোমাদের রিযক ও জীবন-জীবিকায় রয়েছে প্রাচুর্য। [ইবন কাসীর] হাসান বসরী বলেন, তাদের জিনিসপত্রের দাম ছিল খুব সস্তা। [কুরতুবী] সুতরাং প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করার মত কোন কারণ দেখি না। তাই আল্লাহ তা'আলার এ অনুগ্রহে শোকর আদায় করার জন্য হলেও তোমাদের পক্ষে তার কোন সৃষ্ট জীবকে ঠকানো উচিত নয়। তোমরা যদি আমার কথা না শোন, আমার নিষেধ অমান্য কর, তাহলে আমার ভয় হয় যে, আল্লাহর আযাব তোমাদেরকে ঘিরে ফেলবে। এখানে আখেরাতের আযাব বুঝানো হয়েছে, দুনিয়ার আযাবও হতে পারে, আবার দুনিয়ার আযাব বিভিন্ন প্রকারও হতে পারে। তন্মধ্যে এক আযাব হচ্ছে, তোমাদের স্বচ্ছলতা খতম হয়ে যাবে। [ইবন কাসীর] তোমরা অভাবগ্রস্ত ও দুর্ভিক্ষ কবলিত হবে। তোমাদের জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। [কুরতুবী]
তিনি আরো বললেনঃ মানুষের পাওনা ঠিকমত ওজন করে পুরোপুরি দিয়ে দেয়ার পর যে লভ্যাংশ উদ্ধৃত্ত থাকে, তোমাদের জন্য তাই উত্তম। [তাবারী] পরিমাণে স্বল্প হলেও আল্লাহ তা'আলা তার মধ্যে বরকত দান করবেন, যদি তোমরা আমার কথা মান্য কর। আর যদি অমান্য কর, তবে মনে রেখ তোমাদের উপর কোন আযাব অবতীর্ণ হলে, তা থেকে তোমাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমার নয়। তোমাদের উপর আমার কোন জোর নেই। আমি তো শুধু একজন কল্যাণকামী উপদেষ্টা মাত্র। বড় জোর আমি তোমাদের বুঝাতে পারি। তারপর তোমরা চাইলে মানতে পারো আবার নাও মানতে পারো। আমার কাছে জবাবদিহি করার ভয় করা বা না করার প্রশ্ন নয়। বরং আসল প্রশ্ন হচ্ছে আল্লাহর সামনে জবাবদিহি করা। [ইবন কাসীর] আল্লাহর কিছু ভয় যদি তোমাদের মনে থেকে থাকে তাহলে তোমরা যা কিছু করছে তা থেকে বিরত থাকো। এভাবে তিনি তার সুললিত বর্ণনা ও অপূর্ব বাগ্মীতার মাধ্যমে নিজ জাতিকে বোঝানো এবং সৎপথে ফিরিয়ে আনার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৮৬) যদি তোমরা বিশ্বাসী হও, তাহলে আল্লাহ প্রদত্ত যা অবশিষ্ট থাকে,[1] তাই তোমাদের জন্য অতি উত্তম। আর আমি তো তোমাদের পাহারাদার নই।’ [2]
তাফসীর:
[1] بقيت الله (আল্লাহ প্রদত্ত অবশিষ্ট) এর অর্থ হল, সেই মুনাফা যা ওজনে কোন প্রকার কম-বেশি না করে সঠিক মাপে ধার্মিকতার সাথে পণ্য দেওয়ার পর অর্জন হয়ে থাকে। যেহেতু তা হালাল ও পবিত্র এবং তাতে বরকত আছে, যার জন্য সেই মুনাফাকে আল্লাহর অবশিষ্ট সম্পদ বলে গণ্য করা হয়েছে।
[2] অর্থাৎ আমি তোমাদেরকে শুধু তবলীগ করতে পারি এবং তাও আল্লাহর আদেশে করছি। কিন্তু তোমাদেরকে অসৎকর্ম থেকে বিরত রাখা ও তার উপর শাস্তি দেওয়া আমার ইচ্ছাধীন নয়। উভয় কর্মের এখতিয়ার একমাত্র আল্লাহর আছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৮৪-৯৫ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::
এখানে শুয়াইব (عليه السلام) ও তাঁর সম্প্রদায়ের সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যাদের বসতি ছিল ফিলিস্তিনের মাদইয়ান শহরে। আল্লাহ তা‘আলা মাদইয়ানবাসীর প্রতি নাবী হিসেবে শুয়াইব (عليه السلام) কে প্রেরণ করলেন। তিনিও তাদেরকে প্রথমে পূর্ববর্তী নাবীদের মতই আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদের দিকে আহ্বান করলেন এবং এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করার জন্য নির্দেশ দিলেন এবং অন্যান্য উপাস্যদেরকে বর্জন করতে বললেন। কারণ আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত সত্য কোন মা‘বূদ নেই। আর তাদেরকে নিষেধ করলেন তারা যেন ওজনে ও পরিমাপে কম না দেয়। তাদের খারাপ আমলের মধ্যে অন্যতম এটিও একটি ছিল। তাদের অভ্যাস ছিল যে, যখন তারা কারো নিকট থেকে কিছু ক্রয় করত তখন ওজনে বেশি নিত এবং যখন কারো নিকট বিক্রয় করত তখন মাপে কম দিত। অথচ আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে প্রচুর পরিমাণ ধন-সম্পদ দিয়েছেন। তখন শুয়াইব (عليه السلام) তাদের এই পাপ কাজের জন্য আল্লাহ তা‘আলার শাস্তির ভয় দেখালেন। بِخَيْرٍ বলতে আর্থিক সচ্ছলতাকে বুঝানো হয়েছে।
নাবীগণের দা‘ওয়াত দুটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত (১) আল্লাহ তা‘আলার হক আদায় করা; (২) বান্দার হক আদায় করা। শু‘আইব (عليه السلام) তাদেরকে যে বললেন তোমরা ন্যায়সঙ্গতভাবে মেপে দেবে ও ওজনকে পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করবে এবং লোকদেরকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দেবে না এর দ্বারা মূলত বান্দার হক বুঝানো হয়েছে। সুতরাং এই কথার তা‘কীদস্বরূপ শু‘আইব (عليه السلام) তাঁর সম্প্রদায়কে পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তারা যেন ওজন ও মাপে কম না দেয় এবং মানুষদেরকে যেন তাদের প্রাপ্য বস্তু কম না দেয়। কেননা আল্লাহ তা‘আলার নিকট এটি একটি বড় ধরনের অপরাধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَیْلٌ لِّلْمُطَفِّفِیْنَﭐﺫ الَّذِیْنَ اِذَا اکْتَالُوْا عَلَی النَّاسِ یَسْتَوْفُوْنَﭑﺘ وَاِذَا کَالُوْھُمْ اَوْ وَّزَنُوْھُمْ یُخْسِرُوْنَﭒﺚ)
“মন্দ পরিণাম তাদের জন্য যারা মাপে কম দেয়, যারা লোকের নিকট হতে নেয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় গ্রহণ করে, এবং যখন তাদের জন্য মেপে অথবা ওজন করে দেয়, তখন কম দেয়।” (সূরা মুত্বাফ্ফিফীন ৮৩:১-৩)
আর তিনি তাদেরকে নিষেধ করলেন তারা যেন জমিনে ফাসাদ সৃষ্টি না করে। কারণ ওজন ও মাপে কম দিয়ে মানুষের হক নষ্ট করা ফাসাদ বা বিশৃঙ্খলার অন্তর্ভুক্ত, তাই তিনি তাদেরকে এ ধরনের ফাসাদ সৃষ্টি করতে নিষেধ করলেন।
(بَقِيَّتُ اللّٰهِ) ‘আল্লাহ প্রদত্ত অবশিষ্ট’ এর অর্থ হল সে মুনাফা যা ওজনে কোন প্রকার কম-বেশি না করে সঠিক মাপে ধার্মিকতার সাথে পণ্য দেয়ার পর অর্জন হয়ে থাকে। যেহেতু তা হালাল ও পবিত্র এবং তাতে বরকত রয়েছে, এ জন্য এ মুনাফাকে আল্লাহ তা‘আলার অবশিষ্ট সম্পদ বলে গণ্য করা হয়েছে। আর যদি আল্লাহ তা‘আলার প্রতি বিশ্বাসী না হয়ে তাঁর নির্দেশ ভঙ্গ করো তাহলে ওজনে যতই কম দাও না কেন তাতে কোন বরকত হবে না। এসব নির্দেশনা দিয়ে শু‘আইব (عليه السلام) বললেন: আমার দায়িত্ব শুধু তোমাদেরকে পৌঁছে দেয়া। মানা না মানা এটা তোমাদের দায়িত্ব, আমি তোমাদের ব্যাপারে কোন পাহারাদার নই। আর তোমাদেরকে বিরত রাখাও আমার পক্ষে সম্ভব নয় যদি তোমরা বিরত না হও।
শু‘আইব (عليه السلام)-এর এই কথার জবাবে তারা বলল; হে শুয়াইব! তোমার ইবাদত কি তোমাকে নির্দেশ দিচ্ছে যে, আমরা আমাদের ঐ সমস্ত উপাস্যদেরকে ছেড়ে দেব যাদের উপাসনা আমাদের পূর্বপুরুষেরা করত অথবা আমরা আমাদের সম্পদ আমাদের ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহার করতে পারব না। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা থাকতে পারে না এবং তার কিছু অংশ নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী বের করব (অর্থাৎ সম্পদের যাকাত আদায় করা) তা হতে পারে না। সুতরাং এ ধরনের নিয়ম বাতিল।
কোন কোন মুফাসসির বলেছেন: সকল জাতির ধর্মেই যাকাত, ফিতরা এবং সাদকা ইত্যাদি আবশ্যক ছিল। সম্পদ উপার্জনের কিছু নিয়মাবলী ছিল। তাদের কথা শুনে শু‘আইব (عليه السلام) বললেন: যদি আমি আমার প্রভুর পক্ষ থেকে হকের ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত থাকি আর তিনি আমাকে উত্তম রিযিক দান করেন তবুও কি আমি তোমাদের কথা মত তোমাদেরকে যেদিকে আহ্বান করছি তার বিপরীত আমল করব। এটা হতে পারে না। আমি তো শুধু আমার সাধ্যমত তোমাদের কল্যাণ করারই ইচ্ছা পোষণ করি। আর তাও আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য ব্যতীত সম্ভব নয়। সুতরাং আমি আমার প্রভুর ওপরই ভরসা করলাম। তিনি তাদেরকে আরো সতর্ক করলেন যে, হে আমার সম্প্রদায়! আমার বিরুদ্ধে তামরা এমন কাজ করে বস না যার ফলে তোমাদের ওপর পূর্ববর্তী জাতির মত শাস্তি নেমে আসে, যেমন শাস্তি এসেছিল নূহ, হূদ, সালেহ ও লূত (عليه السلام)-এর সম্প্রদায়ের ওপর। আর তোমরা লূত (عليه السلام)-এর সম্প্রদায় থেকে বেশি দূরেও নও। সুতরাং তোমরা তোমাদের পাপের কারণে আল্লাহ তা‘আলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাঁরই দিকে ফিরে যাও।
শুআইব (عليه السلام)-এর এ কথার জবাবে তারা বলল, হে শুয়াইব! তুমি আমাদেরকে যেসব কথাবার্তা বল তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। সুতরাং তুমি এসব কথা বলা বন্ধ কর। আর তুমি তো আমাদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল। যদি তোমার আত্মীয় স্বজন না থাকত তবে আমরা তোমাকে পাথর মেরে শেষ করে ফেলতাম। আমরা তোমার গোত্রের লোকদেরকে সম্মান করি, তাই কিছু বলছি না। অতএব তুমি তোমার এসব কথাবার্তা বলা থেকে বিরত হও। তাদের এ কথার জবাবে শু‘আইব (عليه السلام) বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমাকে আমার স্বজনবর্গের কারণে ছেড়ে দিচ্ছ। কিন্তু যে আল্লাহ তা‘আলা আমাকে নবুওয়াতের মর্যাদা দান করেছেন, তাঁর সম্মান ও মর্যাদার কোন খেয়াল তোমাদের অন্তরে নেই এবং তাঁকে তোমরা পিছনে ফেলে রেখে দিয়েছে। এখানে শু‘আইব
(عليه السلام) أعز عليكم مني
আমার থেকে বেশি মর্যাদাবান, এর স্থানে
أعز عليكم من الله
আল্লাহ তা‘আলা থেকে বেশি মর্যাদাবান বলেছেন। এতে একথা বুঝাতে চেয়েছেন যে, নাবীর অসম্মান করা, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তা‘আলারই অসম্মান করা। কারণ নাবীগণ আল্লাহ তা‘আলারই প্রেরিত পুরুষ, আর এই পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে হকপন্থী উলামাদের অসম্মান করা আসলে আল্লাহ তা‘আলার দীনের অসম্মান করা ও তুচ্ছ জ্ঞান করা। মনে রেখ যে, তোমরা যা কর তা সবই আমার প্রতিপালকের আয়ত্তাধীন। তিনি যখন দেখলেন যে, তাঁর ওয়ায-নসীহতে তাদের কোন উপকার হচ্ছে না তখন তিনি আরো বললেন যে, তোমরা তোমাদের মত কাজ করতে থাক আমিও আমার কাজ করে যাই। অচিরেই জানতে পারবে কাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আসে এবং কারা মিথ্যাবাদী। সুতরাং তোমরা অপেক্ষা কর আর আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমান রইলাম। তখন হঠাৎ এক বিকট আওয়াজ ধ্বনিতে তাদের অন্তর ফেটে গেল এবং তারা মৃত্যুবরণ করল। তার পর পরই শুরু হল ভূমিকম্প। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوْا فِيْ دَارِهِمْ جٰثِمِيْنَ)
“সুতরাং তাদেরকে একটি প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প এসে গ্রাস করে নিলো, ফলে তাদের নিজেদের গৃহের মধ্যেই (মৃত অবস্থায় ) উপুড় (অধোমুখী) হয়ে পড়ে রইল।” (সূরা আ‘রাফ ৭:৯১)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
(فَكَذَّبُوْهُ فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوْا فِيْ دَارِهِمْ جٰثِمِيْنَ)
“কিন্তু তারা তার প্রতি মিথ্যারোপ করল, অতঃপর তারা ভূমিকম্প দ্বারা আক্রান্ত হল; ফলে তারা নিজ গৃহে নতজানু অবস্থায় শেষ হয়ে গেল।” (সূরা আনকাবুত ২৯:৩৭)
এভাবেই তারা অভিশপ্ত অবস্থায় দুনিয়া থেকে বিদায় নিল এবং আল্লাহ তা‘আলার রহমত থেকে বঞ্চিত হল।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. ওজন ও পরিমাপে কম দেয়া যাবে না। কারণ এটি বড় ধরনের অপরাধ। আর এতে বরকত নষ্ট হয়ে যায়।
২. হক্ব পন্থী আলেমদেরকে অপমান বা তাদের সাথে বেয়াদবী করা যাবে না। কারণ তাদের সাথে বেয়াদবী করার অর্থই হল আল্লাহ তা‘আলার ধর্মকে তুচ্ছ মনে করা।
৩. সঠিক পথের দায়ীকে অনেক ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপ করা হবে, তাই বলে দাওয়াতী মিশন ছেড়ে দেয়া যাবে না।
৪. আল্লাহ তা‘আলার হক ও বান্দার হক কোনটাই নষ্ট করার সুযোগ নেই। কারণ কিয়ামতের দিন এ ব্যাপারে জবাবদিহীতার সম্মুখীন হতে হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৮৫-৮৬ নং আয়াতের তাফসীর
হযরত শুআ’ইব (আঃ) প্রথমে তাঁর কওমকে মাপে ও ওজনে কম করতে নিষেধ করেন। এরপর পরস্পর লেনদেনের সময় ন্যায় পরায়ণতার সাথে পুরোপুরিভাবে মাপ ও ওজন করার নির্দেশ দিচ্ছেন এবং ভূ-পৃষ্ঠে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও ধ্বংসাত্মক কাজ করতে নিষেধ করছেন। তাঁর কওমের মধ্যে ছিনতাই, ডাকাতি, লুটতরাজ প্রভৃতি বদ অভ্যাস অনুপ্রবেশ করেছিল। তিনি বলেন যে, মানুষের হক নষ্ট করে লাভবান হওয়ার চাইতে আল্লাহ প্রদত্ত লাভ বহুগুণে শ্রেয়। তিনি তাদেরকে বলেনঃ “আল্লাহর এই অসিয়ত তোমাদের জন্যে খুবই কল্যাণকর বটে। শাস্তি দ্বারা মানুষের যেমন ধ্বংস হয়,অনুরূপভাবে রহমতের দ্বারা মানুষের সব কিছু স্থায়ী হয় ও অবশিষ্ট থাকে। ঠিকভাবে ওজন করে এবং পুরোপুরিভাবে মাপ করে হালাল উপায়ে যে লাভ হয় তাতেই বরকত হয়ে থাকে। অশ্লীলতা ও পবিত্রতার মধ্যে সমতা কোথায়? দেখো, আমি সব সময় তোমাদের দেখা শোনা করতে পারি না। আমাকে তোমাদের পাহারাদার নিযুক্ত করা হয়নি। সুতরাং তোমাদের উচিত, আল্লাহরই ওয়াস্তে ভাল কাজ করা এবং মন্দ কার্য পরিত্যাগ করা। মানুষকে দেখাবার জন্য নয়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।