আল কুরআন


সূরা হূদ (আয়াত: 53)

সূরা হূদ (আয়াত: 53)



হরকত ছাড়া:

قالوا يا هود ما جئتنا ببينة وما نحن بتاركي آلهتنا عن قولك وما نحن لك بمؤمنين ﴿٥٣﴾




হরকত সহ:

قَالُوْا یٰهُوْدُ مَا جِئْتَنَا بِبَیِّنَۃٍ وَّ مَا نَحْنُ بِتَارِکِیْۤ اٰلِهَتِنَا عَنْ قَوْلِکَ وَ مَا نَحْنُ لَکَ بِمُؤْمِنِیْنَ ﴿۵۳﴾




উচ্চারণ: কা-লূইয়া-হূদুমা-জি’তানা-ব্বিাইয়িনাতিওঁ ওয়ামা-নাহনুবিতা-রিকী আ-লিহাতিনা- ‘আন কাওলিকা ওয়ামা-নাহনুলাকা বিমু’মিনীন।




আল বায়ান: তারা বলল, ‘হে হূদ, তুমি আমাদের কাছে কোন স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসনি, আর তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যদের ত্যাগ করব না এবং আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাসীও নই’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৩. তারা বলল, হে হুদ! তুমি আমাদের কাছে কোন স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসনি(১), তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগকারী নই এবং আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাসীও নই।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা বলল, ‘হে হূদ! তুমি আমাদের কাছে কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসনি, আর তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যগুলোকে ত্যাগ করতে পারি না, আমরা তোমাতে বিশ্বাসী নই।




আহসানুল বায়ান: (৫৩) তারা বলল, ‘হে হূদ! তুমি তো আমাদের সামনে কোন প্রমাণ উপস্থাপন করনি। আর তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যদেরকে বর্জন করব না এবং আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী নই।[1]



মুজিবুর রহমান: তারা বললঃ হে হুদ! তুমিতো আমাদের সামনে কোন প্রমাণ উপস্থাপন করনি এবং আমরা তোমার কথায় আমাদের উপাস্য দেবতাদেরকে বর্জন করতে পারিনা, আর আমরা কিছুতেই তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী নই।



ফযলুর রহমান: তারা বলল, “ওহে হূদ! তুমি তো আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নিয়ে আসনি। তোমার কথায় আমরা আমাদের দেবতাদের ত্যাগ করব না। আমরা তোমাকে বিশ্বাস করি না”



মুহিউদ্দিন খান: তারা বলল-হে হুদ, তুমি আমাদের কাছে কোন প্রমাণ নিয়ে আস নাই, আমরা তোমার কথায় আমাদের দেব-দেবীদের বর্জন করতে পারি না আর আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনয়নকারীও নই।



জহুরুল হক: তারা বললে -- "হে হূদ! তুমি আমাদের কাছে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ আন নি, আর তোমার কথায় আমরা আমাদের দেবতাদের পরিত্যাগ করতে যাচ্ছি না, আর তোমার প্রতি আমরা বিশ্বাসীও নই।



Sahih International: They said, "O Hud, you have not brought us clear evidence, and we are not ones to leave our gods on your say-so. Nor are we believers in you.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৩. তারা বলল, হে হুদ! তুমি আমাদের কাছে কোন স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসনি(১), তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগকারী নই এবং আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাসীও নই।


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ আপনি আপনার দাবীর স্বপক্ষে এমন কোন দ্ব্যর্থহীন আলামত অথবা কোন সুস্পষ্ট দলীল নিয়ে আসেননি যার ভিত্তিতে আমরা নিসংশয়ে জানতে পারি যে, আল্লাহ আপনাকে পাঠিয়েছেন এবং যে কথা আপনি পেশ করছেন তা সত্য। [কুরতুবী; ইবন কাসীর] এখানে যদি কাফেররা তাদের পক্ষ থেকে দাবীকৃত কোন সুনির্দিষ্ট দলীলপ্রমাণের কথা বলে থাকে তবে সেটাই আনতে হবে এমন কোন বাধ্য-বাধকতা নেই। বরং নবী-রাসূলগণ এমন নিদর্শন নিয়ে আসেন যা দেখে তাদের দাবীর সত্যতা ও বিশুদ্ধতা প্রমাণিত হয়। আর যদি তাদের উদ্দেশ্য হয় এটা যে, তিনি তাদের কাছে এমন কোন স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আসেননি যা তার কথার সত্যতার প্রমাণ বহন করবে, তবে তারা মিথ্যা বলেছে। কেননা, প্রত্যেক নবীকেই তার কাওমের কাছে এমন কিছু নিদর্শন দিয়ে পাঠানো হয় যা দেখে কিছু লোক ঈমান আনে।

এমনকি যদি তিনি একমাত্র আল্লাহর জন্য দ্বীনকে নির্দিষ্ট করা, তাঁর কোন শরীক না করা, প্রতিটি ভাল কাজ ও সুন্দর চরিত্রের প্রতি নির্দেশ প্রদান, প্রত্যেক খারাপ কাজ যেমন আল্লাহর সাথে শির্ক, অশ্লীলতা, যুলুম, অন্যায় কাজ কর্ম থেকে নিষেধকরণ, তাছাড়া হুদ আলাইহিস সালাম সে সমস্ত অনন্য গুণাবলীর অধিকারী হওয়া, যা কেবল ভাল ও সত্যনিষ্ঠ মানুষদেরই গুণ হয়ে থাকে, এগুলো ছাড়া আর কোন নিদর্শন না এনে থাকেন তাও তার সত্যবাদিতার জন্য নিদর্শন ও দলীল-প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট। বরং বিবেক-বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরা স্পষ্ট বুঝতে পারে যে অলৌকিক কিছুর চেয়েও এগুলো বেশী প্রমাণবহ। মু'জিযার মত কিছুর চেয়ে এগুলোর দাবী বেশী। তাছাড়া একজন লোক, যার কোন সাহায্য-সহযোগিতাকারী নেই, অথচ সে তার কাওমের মধ্যে চিৎকার করে আহবান করছে, তাদেরকে ডাকছে, তাদেরকে অপারগ করে দিচ্ছে এটা অবশ্যই তার সত্যতার উপর স্পষ্ট নিদর্শন।

তিনি তাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন যে, “নিশ্চয় আমি আল্লাহকে সাক্ষী করছি এবং তোমরাও সাক্ষী হও যে, নিশ্চয় আমি তা থেকে মুক্ত যাকে তোমরা শরীক কর, আল্লাহ ছাড়া। সুতরাং তোমরা সবাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কর; তারপর আমাকে অবকাশ দিও না।” এটা তাদের সামনে ঘোষণা করছেন, যারা তার শক্র, যাদের রয়েছে প্রচুর ক্ষমতা ও প্রভাব। তারা চাচ্ছে যে কোনভাবে হোক তার কাছে যে আলো আছে সেটা নিভিয়ে দিতে, অথচ তিনি তাদের কোন প্রকার ভ্রক্ষেপ না করে, তাদের শক্তি-সামর্থ্যকে গুরুত্ব না দিয়ে এ ঘোষণা দিয়েই চলেছেন। আর তারা তার কোন ক্ষতি করতে অপারগ হয়ে থাকল, এতে অবশ্যই বিবেকবান-জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে। [সা’দী, ইবনুল কাইয়্যেম, মাদারেজুস সালেকীন: ৩/৪৩১]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৩) তারা বলল, ‘হে হূদ! তুমি তো আমাদের সামনে কোন প্রমাণ উপস্থাপন করনি। আর তোমার কথায় আমরা আমাদের উপাস্যদেরকে বর্জন করব না এবং আমরা তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী নই।[1]


তাফসীর:

[1] একজন নবী সর্বপ্রকার দলীল ও প্রমাণ পেশ করার পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন। কিন্তু চামচিকা-চোখোদের তা নজরে আসে না। হূদ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ও ধৃষ্টতা প্রকাশ করে বলেছিল যে, আমরা প্রমাণ ব্যতীত শুধু তোমার কথামত আমাদের উপাস্যদেরকে কিভাবে বর্জন করব?


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫০-৬০ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::



এ আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা হূদ (عليه السلام) এবং তাঁর ‘আদ জাতি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।



আল্লাহ তা‘আলা “আদ” জাতির প্রতি নাবী হিসেবে প্রেরণ করলেন “হূদ” (عليه السلام) কে। তিনিও অন্যান্য নাবী-রাসূলগণের মত তাঁর জাতিকে প্রথমেই তাওহীদের দা‘ওয়াত দিয়েছিলেন যে, তোমরা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন সত্য মা‘বূদ নেই। আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত যাদের উপাসনা করা হয় সে সকল উপাস্যরা বাতিল। সুতরাং তোমরা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই ইবাদত বন্দেগী কর, তাহলে তিনি ইচ্ছানুযায়ী সব কিছু দান করবেন। এমনকি তিনি তোমাদেরকে এমন জায়গা থেকে রিযিক দেবেন যা তোমরা কল্পনাও করতে পারবে না। তিনি তাদেরকে অন্যান্য নাবীদের মত আরো বললেন যে, আমি আমার দাওয়াতী কাজের জন্য তোমাদের নিকট কোন বিনিময় চাই না।



তারপরও তোমরা এই সহজ কথাটুকু কেন বুঝ না যে, যিনি তোমাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার পথে আহ্বান করছেন অথচ এর বিনিময় হিসেবে কিছুই চাচ্ছেন না। মূলত আমি তোমাদের কল্যাণকামী।



(لَآ أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا)



নাবীদের দাওয়াতী কাজে কোন পারিশ্রমিক না নেয়ার কথা থেকে অনেকে বলে থাকেন যে, দাওয়াতী কাজ করে কোন পারিশ্রমিক না নেয়াই উত্তম। বরং এ কাজের প্রতিদান আল্লাহ তা‘আলার কাছে আশা করবে যেমন নাবীরা করেছিলেন।



অতঃপর হূদ (عليه السلام) জাতিকে অতীতের গুনাহর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও তাওবাহ করতে বললেন।



তাহলে আল্লাহ তা‘আলা আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। ফলে ফসল ফলবে, তোমাদের শক্তির সাথে আরো অনেক শক্তি বৃদ্ধি পাবে। এ কথা বলার কারণ হল তারা অনেক শক্তিশালী ছিল। যেমন নূহ (عليه السلام) তাঁর জাতিকেও বলেছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوْا رَبَّکُمْﺤ اِنَّھ۫ کَانَ غَفَّارًاﭙﺫ یُّرْسِلِ السَّمَا۬ئَ عَلَیْکُمْ مِّدْرَارًاﭚﺫ وَّیُمْدِدْکُمْ بِاَمْوَالٍ وَّبَنِیْنَ وَیَجْعَلْ لَّکُمْ جَنّٰتٍ وَّیَجْعَلْ لَّکُمْ اَنْھٰرًاﭛﺚ)‏



“আমি বলেছি: তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা প্রার্থনা কর, তিনি তো অতিশয় ক্ষমাশীল; তিনি তোমাদের জন্য আকাশ হতে প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন, তিনি তোমাদেরকে সমৃদ্ধ করবেন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে এবং তোমাদের জন্য বাগানসমূহ সৃষ্টি করবেন ও প্রবাহিত করবেন নদী-নালা।” (সূরা নূহ ৭১:১০-১২)



সুতরাং তোমরা আমার কথার বিরুদ্ধাচরণ করে মুখ ফিরিয়ে নিও না এবং কুফরীর ওপর অটল থেকো না। এ কথা শুনে হূদ (عليه السلام)-এর সম্প্রদায় দলীল-প্রমাণ পেশ করতে বলল এবং তাদের ধারণা ছিল যে, যেহেতু হূদ তাদের উপাস্যদের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করছে সেহেতু সেই উপাস্যদের বদদু‘আ তাঁর ওপর পড়েছে এবং তাঁর মস্তিষ্ক নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে সে দলীল আনতে অক্ষম হবে। আর তারা বলল, কোন দলীল-প্রমাণ ব্যতীত আমরা তোমার কথায় আমাদের উপাস্যদেরকে পরিত্যাগ করতে পারি না। তাদের এ কথা শুনে হূদ (عليه السلام) তাদেরকে বললেন, যদি ব্যাপার এমনই হয়, তাহলে আমি আল্লাহ তা‘আলাকে সাক্ষী রাখছি আর তোমরা সাক্ষী থাক যে, আমি তোমাদের এই সমস্ত বাতিল মা‘বূদ থেকে মুক্ত।



বর্তমানেও এই ধরনের কিছু নামধারী মুসলিম রয়েছে যারা গাছ পূজা, মাযার পূজা, কবর পূজা করে। তাদেরকে এ থেকে বারণ করলে তারা বলে এটা উপাস্য ব্যক্তিদের সাথে বেয়াদবী। সুতরাং তারা এই সমস্ত বেআদবদের বিপদগ্রস্ত করেন। نعوذ بالله অথচ তাদের কোন কিছুই করার ক্ষমতা নেই।



তখন হূদ (عليه السلام) বললেন, যদি তোমরা আমার এ কথায় বিশ্বাসী না হও তবে তোমরা ও তোমাদের সকল মা‘বূদরা মিলে কিছু করে দেখাও। আর আমি আমার প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলার ওপরই ভরসা করলাম। যিনি সমস্ত ক্ষমতার মালিক। এরপরও যদি তোমরা বিশ্বাস না করে মুখ ফিরিয়ে নাও তবে মনে রেখ যে, আমার দায়িত্ব শুধু পৌঁছে দেয়া। আমি আমার কাজ সমাপ্ত করলাম, যদি তোমরা না মান তবে হয়ত আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের পরিবর্তে এখানে অন্য এক জাতিকে পাঠাবেন যারা তাঁর আনুগত্য করবে ও তাঁর উপাসনা করবে। ফলে তোমরা তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। তখন হঠাৎ এক পর্যায়ে তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি এসে পড়ল। সেখান থেকে আল্লাহ তা‘আলা হূদ (عليه السلام) এবং তার সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদেরকে রক্ষা করলেন তাঁর রহমত দ্বারা আর বাকিদেরকে আল্লাহ তা‘আলা কঠিন আযাব দিলেন এবং তাদেরকে ধ্বংস করে দিলেন। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে যে শাস্তি দিয়েছিলেন সে সম্পর্কে বলেন:



(وَفِيْ عَادٍ إِذْ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الرِّيْحَ الْعَقِيْمَ ج -‏ مَا تَذَرُ مِنْ شَيْءٍ أَتَتْ عَلَيْهِ إِلَّا جَعَلَتْهُ كَالرَّمِيْمِ)



“এবং (নিদর্শন রয়েছে) ‘আদের ঘটনায়, যখন আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রেরণ করেছিলাম অকল্যাণকর বাতাস। তা যা কিছুর ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছিল তাকেই জরাজীর্ণ করে দিয়েছিল।” (সূরা যারিয়াত ৫১:৪১-৪২)



আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:



(وَاَمَّا عَادٌ فَاُھْلِکُوْا بِرِیْحٍ صَرْصَرٍ عَاتِیَةٍﭕﺫسَخَّرَھَا عَلَیْھِمْ سَبْعَ لَیَالٍ وَّثَمٰنِیَةَ اَیَّامٍﺫ حُسُوْمًاﺫ فَتَرَی الْقَوْمَ فِیْھَا صَرْعٰیﺫ کَاَنَّھُمْ اَعْجَازُ نَخْلٍ خَاوِیَةٍﭖﺆ)



“আর ‘আদ সম্প্রদায়, তাদেরকে ধ্বংস করা হয়েছিল এক প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় দ্বারা। যা তিনি তাদের ওপর প্রবাহিত করেছিলেন বিরামহীনভাবে সাত রাত ও আট দিন, তুমি (উপস্থিত থাকলে) সেই সম্প্রদায়কে দেখতে খেজুর কাণ্ডের ন্যায় সেখানে ছিন্ন ভিন্নভাবে পড়ে আছে।” (সূরা হা-ক্বাহ ৬৯:৬-৭)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,



(إِنَّآ أَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِيْحًا صَرْصَرًا فِيْ يَوْمِ نَحْسٍ مُّسْتَمِرٍّ لا ‏ تَنْزِعُ النَّاسَ لا كَأَنَّهُمْ أَعْجَازُ نَخْلٍ مُّنْقَعِرٍ)



“আমি তাদের ওপর প্রেরণ করেছিলাম ক্রমাগত প্রবাহমান প্রচণ্ড গতিসম্পন্ন বায়ু, দুর্ভোগের দিনে, মানুষকে তা উৎখাত করেছিল উৎপাটিত খেজুর কাণ্ডের ন্যায়।” (সূরা ক্বামার ৫৪:১৯-২০)



(وَعَصَوْا رُسُلَه۫)



‘তাঁরা রাসূলদের অবাধ্য হল’ ‘আদ জাতির কাছে একজনই নাবী হূদ (عليه السلام)-কে প্রেরণ করা হয়েছিল। কিন্তু এখানে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, তারা তাঁর রাসূলদের অবাধ্য হল। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল একজন রাসূলকে অস্বীকার করা মানে সমস্ত রাসূলকে অস্বীকার করা। কারণ সমস্ত রাসূলের প্রতি ঈমান রাখা আবশ্যক। অথবা উদ্দেশ্য হল এ সম্প্রদায় তাদের কুফরী ও অস্বীকার করাতে এমন অতিরঞ্জন করে ফেলেছিল যে, হূদ (عليه السلام)-এর পরেও যদি আল্লাহ তা‘আলা তাদের মাঝে কোন নাবী প্রেরণ করেন তাহলে তারা সে সকল রাসূলকে অস্বীকার করবে। তাদের এরূপ কুফরী করার কারণে আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতেও লা’নত করলেন এবং আখিরাতেও তাদের ওপর লা’নত থাকবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. হূদ (عليه السلام)-এর জাতিরাও তাঁকে অমান্য করলে শাস্তি অবধারিত হয়ে যায়।

২. ক্ষমা প্রার্থনা করে আল্লাহ তা‘আলার সৎ বান্দা হতে পারলে দুনিয়ায় শান্তি বিরাজ করবে।

৩. হূদ (عليه السلام)-এর জাতিকে প্রচণ্ড ঝড়-ঝাঞ্ঝা দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

৪. বাপ-দাদার দোহাই দিয়ে সত্য প্রত্যাখ্যান করার পরিণাম ভাল নয়।

৫. পূর্ববর্তী এসব জাতির বিবরণ তুলে ধরার অন্যতম কারণ হল তাদের থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্ক হওয়া।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৩-৫৬ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআ’লা সংবাদ দিচ্ছেন যে, হযরত হূদের (আঃ) কওম তাঁর উপদেশ শুনে তাঁকে বললো: “হে হূদ (আঃ)! তুমি যেই দিকে আমাদেরকে আহ্‌বান করছে তার তো কোন দলিল প্রমাণ আমাদের সামনে পেশ করছো না। আর আমরা এটা করতে পারি না যে, তোমার কথায় আমাদের মাবুদমা’বুদগুলির উপাসনা পরিত্যাগ করবো। আমরা এগুলি ছাড়বোও না এবং তোমাকে সত্যবাদী মেনে নিয়ে তোমার উপর ঈমানও আনবো না। বরং আমাদের তো ধারণা এই যে, যেহেতু তুমি আমাদেরকে আমাদের মাবুদমা’বুদগুলির উপাসনা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে এবং তাদের প্রতি দোষারোপ করছে, সেই হেতু তারা তোমার এই জ্বালাতন সহ্য করতে পারে নাই। তাই, তাদের কারো মার তোমার উপর পতিত হয়েছে। ফলে তোমার মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটেছে। তাদের এই কথা শুনে আল্লাহর নবী হযরত হূদ (আঃ) তাদেরকে বললেনঃ ‘যদি তাই হয় তবে জেনে রেখোঁরেখো যে, আমি শুধু তোমাদেরকেই নয়, বরং স্বয়ং আল্লাহ তাআ’লাকেও সাক্ষী রেখে ঘোষণা করছি যে, আল্লাহ ছাড়া যেসব মা'বুদের ইবাদত করা হচ্ছে আমি তাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে বিমুখ ও মুক্ত। এখন শুধু তোমরা নও, বরং তোমাদের এই সব মিথ্যা ও বাজে মাবুদমা’বুদকেও ডেকে নাও এবং তোমরা সবাই মিলে যত পার আমার ক্ষতি সাধন কর। আর আমাকে মোটেই অবকাশ দিয়ো না এবং আমার প্রতি কোন সমবেদনাও প্রকাশ করো না। আমার ক্ষতি সাধন করার তোমাদের যতদূর ক্ষমতা থাকে তা প্রয়োগ করতে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করো না। আমার ভরসা একমাত্র আল্লাহর উপর। যিনি আমার ও তোমাদের সকলেরই মালিক। তাঁর ইচ্ছা ছাড়া আমার ক্ষতি করার কারো সাধ্য নেই। এমন কেউ নেই যে, তাঁর হুকুম অমান্য করে তাঁর রাজ্য ও রাজত্ব হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে। তিনি ন্যায় বিচারক। তিনি কখনো অত্যাচার করেন না। তিনি সরল ও সঠিক পথে রয়েছেন। বান্দাদের ঝুটি তাঁর হাতের মুঠের মধ্যে রয়েছে। সন্তানের উপর পিতামাতার যে দয়া রয়েছে, মুমিনমু’মিন বান্দার উপর আল্লাহর দয়া এর চেয়ে বহুগুণ বেশি রয়েছে। তিনি পরমদাতা ও দয়ালু। তাঁর দান ও দয়ার কোন শেষ নেই। এ কারণেই কতকগুলি লোক বিভ্রান্ত ও উদাসীন হয়ে পড়ে।'

হযরত হূদের (আঃ) এই কথাগুলির প্রতি লক্ষ্য করা যাক। তিনি আদি সম্প্রদায়ের জন্যে তাঁর এই উক্তির মধ্যে আল্লাহর একত্ববাদের বহু দলিল বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ ছাড়া কেউ যখন লাভ ও ক্ষতির মালিক নয়, তিনি ছাড়া কারো কোন জিনিসের উপর যখন কোন অধিকার নেই, তখন একমাত্র তিনিই যে উপাসনার যোগ্য এটা প্রমাণিত হয়ে গেল। আর তোমরা তাকে ছাড়া যে সব মা'বুদের ইবাদত করছো সেই সবগুলি বাতিল সাব্যস্ত হলো। আল্লাহ তাআ’লা তাদের থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। আধিপত্য, ব্যবস্থাপনা, অধিকার এবং ইখতেয়ার একমাত্র তাঁরই। সবাই তাঁর কর্তৃত্বাধীন। তিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।