আল কুরআন


সূরা হূদ (আয়াত: 2)

সূরা হূদ (আয়াত: 2)



হরকত ছাড়া:

ألا تعبدوا إلا الله إنني لكم منه نذير وبشير ﴿٢﴾




হরকত সহ:

اَلَّا تَعْبُدُوْۤا اِلَّا اللّٰهَ ؕ اِنَّنِیْ لَکُمْ مِّنْهُ نَذِیْرٌ وَّ بَشِیْرٌ ۙ﴿۲﴾




উচ্চারণ: আল্লা তা‘বুদূ ইল্লাল্লা-হা ইন্নানী লাকুম মিনহু নাযীরুওঁ ওয়াবাশীর।




আল বায়ান: (এ মর্মে) যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদাত করো না। নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২. যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদাত করো নাও(১), নিশ্চয় আমি তার পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।(২)




তাইসীরুল ক্বুরআন: (এটা শিক্ষা দেয়) যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো ‘ইবাদাত করবে না, আমি অবশ্যই তাঁর পক্ষ হতে তোমাদের জন্য ভয় প্রদর্শনকারী ও সুসংবাদদাতা।




আহসানুল বায়ান: (২) এই (বলা হয়েছে) যে, আল্লাহ ছাড়া কারো উপাসনা করো না; আমি (নবী) তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।



মুজিবুর রহমান: এ (উদ্দেশে) যে, আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদাত করনা; আমি (নাবী) তাঁর (আল্লাহর) পক্ষ হতে তোমাদেরকে সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।



ফযলুর রহমান: যাতে তোমরা আল্লাহ ছাড়া কারো এবাদত না কর। নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য তাঁর পক্ষ থেকে একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।



মুহিউদ্দিন খান: যেন তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো বন্দেগী না কর। নিশ্চয় আমি তোমাদের প্রতি তাঁরই পক্ষ হতে সতর্ককারী ও সুসংবাদ দাতা।



জহুরুল হক: যেন তোমরা আল্লাহ্ ছাড়া অন্যের উপাসনা করবে না। "আমি অবশ্যই তোমাদের কাছে তাঁর পক্ষ থেকে সতর্ককারী এবং সুসংবাদদাতা --



Sahih International: [Through a messenger, saying], "Do not worship except Allah. Indeed, I am to you from Him a warner and a bringer of good tidings,"



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২. যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদাত করো নাও(১), নিশ্চয় আমি তার পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।(২)


তাফসীর:

(১) এখানে কুরআনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অর্থাৎ তাওহীদের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। বলা হয়েছে, একমাত্র আল্লাহ তা'আলা ছাড়া অন্য কারো বন্দেগী করবে না। অর্থাৎ এ কুরআন মজবুত ও বিস্তারিতভাবে এজন্যই নাযিল করা হয়েছে যাতে তোমরা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কারও ইবাদত না কর। [ইবন কাসীর] আয়াতের এটাও অর্থ হতে পারে যে, কুরআনকে এভাবে নাযিল করেছি যাতে আপনি মানুষকে নির্দেশ দেন যে, তোমরা এক আল্লাহ ব্যতীত আর কারও ইবাদত করবে না। [কুরতুবী] মোটকথা: আয়াতে কুরআনের বিষয়বস্তুর মধ্যে সর্বাধিক অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, একমাত্র আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করা যাবে না, যাকে তাওহীদুল উলুহিয়াহ বলা হয়। এটাকে প্রতিষ্ঠিত করতে বলা হয়েছে। মূলতঃ এটাই সমস্ত নবী-রাসূলদের প্রেরণের উদ্দেশ্য। এ কথা আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনের অন্যান্য আয়াতেও বিস্তারিত উল্লেখ করেছেন। [যেমন, সূরা আল-আম্বিয়াঃ ২৫, সূরা আন-নাহলঃ ৩৬]


(২) এখানে কুরআনের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হচ্ছে, আর তা হচ্ছেঃ রিসালাত। ইরশাদ হচ্ছে, “নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে আল্লাহর পক্ষ হতে সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।” এ আয়াতে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালামকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, তিনি সারা বিশ্ববাসীকে যেন জানিয়ে দেন যে, আমি আল্লাহ তা'আলার তরফ থেকে ভীতি প্রদর্শনকারী ও সুসংবাদ প্রদানকারী। যে আমার অনুসরণ করবে সে আল্লাহর শাস্তি থেকে মুক্তি পাবে এবং জান্নাতে যাবে, আর যে আমার বিরোধিতা করবে সে কঠোর শাস্তিতে নিপতিত হবে। হাদীসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাফা পাহাড়ে আরোহণ করে কুরাইশদের সমস্ত শাখা গোত্রকে ডেকে বললেনঃ “হে কুরাইশ সম্প্রদায়! আমি যদি তোমাদেরকে এ সংবাদ দেই যে, এক আক্রমণকারী সেনাদল তোমাদেরকে আক্রমণ করতে যাচ্ছে তাহলে কি তোমরা আমার কথায় বিশ্বাস করতে পারবে?” তারা বললঃ আমরা তো আপনাকে কখনো মিথ্যা বলতে শুনিনি। তখন তিনি বললেনঃ “তাহলে আমি তোমাদের জন্য এক কঠোর শাস্তির ভীতিপ্রদর্শনকারী।” [বুখারীঃ ১৩৯৪, মুসলিমঃ ২০৮]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২) এই (বলা হয়েছে) যে, আল্লাহ ছাড়া কারো উপাসনা করো না; আমি (নবী) তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: নামকরণ ও গুরুত্ব:



সূরার ৫০ থেকে ৬০ নং আয়াত পর্যন্ত আদ জাতি ও তাদের কাছে প্রেরিত নাবী হূদ (عليه السلام) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। সেখান থেকেই উক্ত নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে। এই সূরাতেও সে সকল জাতির কথা আলোচনা করা হয়েছে; যারা আল্লাহ তা‘আলার আয়াত ও পয়গম্বরদেরকে মিথ্যা মনে করে আল্লাহ তা‘আলার আযাবের সম্মুখীন হয়েছিল। ইতিহাসের পাতা থেকে হয় ভুল অক্ষরের মত মিটিয়ে দেয়া হয়েছে অথবা ইতিহাসের পাতায় শিক্ষাস্বরূপ লিপিবদ্ধ হয়ে আছে। এ কারণেই হাদীসে এসেছে: একদা আবূ বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করলেন, কি ব্যাপার আপনাকে বৃদ্ধ মনে হচ্ছে কেন? নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উত্তরে বললেন: সূরা হূদ, ওয়াকিয়া, আম্মা ইয়াতাসাআলুন (সূরা নাবা) এবং ইযাশশামছু কুওবিরাত (সূরা তাকভীর) ইত্যাদি সূরাগুলো আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে। (তিরমিযী হা: ৩২৯৭, সহীহ)



১-৪ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::



الٓرٰ (আলিফ-লাম-রা) এ গুলো হচ্ছে “হুরূফুল মুক্বাত্বআত” বা বিচ্ছিন্ন অক্ষরসমূহ। এসব অক্ষর সূরার শুরুতে নিয়ে আসার উদ্দেশ্য কী তা আল্লাহ তা‘আলাই ভাল জানেন। যদিও এ ব্যাপারে বিদ্বানগণ বিভিন্ন মত ব্যক্ত করেছেন। ইমাম শানক্বিতী (রহঃ) বলেন: বিদ্বানদের সেসব মতামতের মধ্যে গ্রহণযোগ্য মত হলযে সকল সূরার শুরুতে “হুরূফুল মুক্বাত্বআত” উল্লেখ করা হয়েছে তা কুরআনের মু‘জিযাহ বা অলৌকিকত্ব বুঝানোর জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। কুরআনের এ বিচ্ছিন্ন অক্ষরগুলো একত্রিতভাবে উল্লেখ থাকলেও তার উদ্দেশ্য নিয়ে আসতে সৃষ্টিকুল অক্ষম। এ অক্ষরগুলো যে মু‘জিযাহ স্বরূপ তার প্রমাণ হল যে সকল সূরার শুরুতে এসকল অক্ষর নিয়ে আসা হয়েছে তার পরে পরেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়া হয়েছে। যেমন এ সূরার শুরুতে এ অক্ষরগুলো উল্লেখ করার পর বলা হয়েছে: ‘এটা এমন গ্রন্থ যার আয়াতগুলো সুদৃঢ়, অতঃপর বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞের পক্ষ থেকে।’



সুতরাং কুরআনের মাঝে দুর্বলতা ধরতে পারলে ধরে নিয়ে আসো। কিন্তু কেউ আজ পর্যন্ত এ চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে আসেনি, অথচ তৎকালীন আরবরা ছিল ভাষা ও সাহিত্যের শীর্ষচূড়ায়। এ সম্পর্কে সূরা বাকারার প্রথম আয়াতেও আলোচনা করা হয়েছে।



أُحْكِمَتْ শব্দের শাব্দিক অর্থ-দৃঢ় করা, মজবুত করা। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন: কোন কিতাব তা রহিত করতে পারবে না। যেমন তাওরাত ও ইনজিলকে রহিত করে দিয়েছে। কাতাদাহ বলেন: কুরআনের সকল আয়াতগুলো মুহকাম, তাতে কোন ভ্রান্তি নেই এবং কোন বাতিল কিছু নেই। মোট কথা কুরআনের আয়াতগুলো বিধি-বিধানের দিক থেকে মজবুত, সংবাদের দিক থেকে সত্যবাদী এবং শব্দ বিন্যাস ও অর্থের দিক থেকে কোন প্রকার ত্র“টি নেই।



অতঃপর তাতে আহকাম ও শরঈ বিধি-বিধান, নসীহত ও কাহিনী, আক্বায়েদ ও ঈমান সংক্রান্ত বিষয় এবং চরিত্র ও ব্যবহারনীতি-নৈতিকতার বিষয়গুলোকে পরিষ্কার ও বিস্তারিতভাবে মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তা‘আলা বর্ণনা করে দিয়েছেন, পূর্ব কিতাবসমূহে এর দৃষ্টান্ত মেলে না। সুতরাং মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময় আল্লাহ তা‘আলা যিনি অগ্র-পশ্চাত সব জানেন তিনি এ কুরআনকে সকল প্রেক্ষাপট ও সময়ের জন্য উপযোগী করে নাযিল করেছেন। কারো বলার সুযোগ নেই, বর্তমান আধুনিক যুগে কুরআন উপযোগী নয়। এ শুধু আধুনিক নয় বরং এর চেয়ে যত বেশি আধুনিক ও অত্যাধুনিক আসুক না কেন তাতেও কুরআন উপযোগী।



অতএব আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ বাণী জ্ঞান ও হিকমত থেকে খালি নয়। আল্লাহ তা‘আলার হিকমত-এর মধ্য থেকে এটাও একটি হিকমত যে, তিনি সকল নাবী-রাসূলকে একই বিধান দিয়ে প্রেরণ করেছেন। আর তাদের সকলের দা‘ওয়াত এটাই ছিল যে, তোমরা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলারই ইবাদত কর অন্য কারো ইবাদত করো না এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না। সুতরাং তাঁর কথা অনুপাতে আমল করলেই তোমরা উভয় জগতের অনিষ্ট থেকে বাঁচতে পারবে। অন্যথায় তোমাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে।



আর যদি তোমাদের দ্বারা পাপ হয়ে যায় তাহলে তার জন্য আল্লাহ তা‘আলার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাঁর নিকট তাওবাহ কর তাহলে তিনি তোমাদেরকে উত্তম ভোগের বস্তু দান করবেন। এখানে উত্তম ভোগ্য সামগ্রী বলতে দুনিয়ার ভোগ্য সামগ্রীকেই বুঝানো হয়েছে। কারণ যে ব্যক্তি দুনিয়ার বস্তু উপার্জনের মাধ্যমে আখিরাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করবে তার জন্য এই দুনিয়ার সরঞ্জামাদিই উৎকৃষ্ট সরঞ্জামাদিতে পরিণত হবে। কারণ সে আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশ অনুসারে তা করেছে।



(وَيُؤْتِ كُلَّ ذِيْ فَضْلٍ فَضْلَه۫)



এই উক্তির ব্যাখ্যায় ইবনু জারীর (রহঃ) ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন যে, যদি কোন ব্যক্তি খারাপ কাজ করে তবে তার জন্য একটি পাপ লিখে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি একটি ভাল কাজ করে তার জন্য দশটি নেকী লিখে দেয়া হয়। মূলত এখানে অনুগ্রহ বলতে এটাই বুঝানো হয়েছে।



আর যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলকে অস্বীকার কর তবে অবশ্যই তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। আর সর্বাবস্থায়ই তোমাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার নিকট ফিরে যেতে হবে। সুতরাং অস্বীকার করলে কঠিন দিবসের শাস্তি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. এই কিতাবের আয়াতগুলো মানুষের উপকারার্থে সুন্দরভাবে বর্ণনা করে দেয়া হয়েছে।

২. মানুষকে দুনিয়াতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পাঠানো হয়েছে, সময় শেষ হয়ে গেলে চলে যেতে হবে।

৩. আল্লাহ তা‘আলা বান্দার ওপর স্নেহপরায়ণ।

৪. মানুষকে সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা‘আলার নিকটই ফিরে যেতে হবে।

৫. কুরআন সকল যুগের উপযোগী একটি আসমানী কিতাব।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: হযরত ইকরামা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, হযরত আবু বকর (রাঃ) বলেছেনঃ “আমি রাসূলুল্লাহকে (সঃ) জিজ্ঞেস করলাম- কোন্ জিনিষে আপনাকে বুড়ো করেছে?” তিনি উত্তরে বলেনঃ “আমাকে সূরায়ে হুদ, সূরায়ে ওয়াকিয়া, আম্মা-ইয়াতাসাআলুন এবং ওয়া ইযাশ্‌শামসু কুভ্‌ভিরাত বুড়ো করে দিয়েছে। (এ হাদীসটি এই সনদে হাফিজ আবু ইয়ালা (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, আবু বকর (রাঃ) জিজ্ঞেস করেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! কিসে আপনাকে বৃদ্ধ করে দিলো? “উত্তরে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “আমাকে সূরায়ে হুদ, ওয়াকিয়া, আল-মুরসালাত, আম্মা-ইয়াতাসাআলুন এবং ওয়া ইযাশ্‌শামসু কুভ্‌ভিরাত বৃদ্ধ করে ফেলেছে। (এ হাদীসটি এই সনদে বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু ঈসা তিরমিযী (রঃ)) অন্য বর্ণনায় আছেঃ “সূরায়ে হুদ এবং ওর সঙ্গীয় সূরাগুলি আমাকে বৃদ্ধ করেছে” কোন কোন বর্ণনায় সূরায়ে আল-হাক্কাহ এর কথাও রয়েছে।

১-৪ নং আয়াতের তাফসীর

সূরায়ে বাকারায় হুরূফে হিজার উপর আলোচনা হয়ে গেছে। সুতরাং এখানে তার পুনরাবৃত্তির কোনই প্রয়োজন নেই। তাই (আরবি) এর উপর আলোকপাত করা হচ্ছে না। আল্লাহর আয়াতগুলি দৃঢ় ও মজবুত। (আরবি) এর অর্থ হচ্ছে- আকার ও অর্থের দিক দিয়ে এই আয়াতগুলি পূর্ণ। এটা প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞাতা আল্লাহর পক্ষ হতে অবতারিত। তিনি কথায় প্রজ্ঞাময় এবং কাজের পরিণাম সম্পর্কে মহাজ্ঞাতা। নির্দেশ দেয়া হচ্ছে, আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করো না। মহান আল্লাহ বলেন এর পূর্বেও যে কোন রাসূলের কাছে আমি যে ওয়াহী পাঠিয়েছিলাম তা ছিল এটাই- আমি আল্লাহ এক। সুতরাং তোমরা একমাত্র আমারই ইবাদত করো। আমি প্রত্যেক কওমের মধ্যে নবী পাঠিয়ে এই নির্দেশই দিয়েছিলাম- তোমরা শুধু আল্লাহরই ইবাদত করো এবং প্রতিমা-পূজা থেকে দূরে থাকো। আমি (নবী সঃ) আল্লাহর পক্ষ হতে তোমাদেরকে জাহান্নাম থেকে ভয় প্রদর্শন করছি, আবার জান্নাতের সুসংবাদও দিচ্ছি।

সহীহ হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) সাফা পাহাড়ের উপর চড়ে কুরায়েশের গোত্রগুলিকে ডাক দিয়ে বলেনঃ “হে কুরায়েশের দল! আমি যদি তোমাদেরকে সংবাদ দেই যে, সকালে তোমাদের উপর শত্রুরা আক্রমণ চালাবে, তবে তোমরা আমার কথা বিশ্বাস করবে কি?” সবাই সমস্বরে বলে উঠলো: “আপনি যে কোন দিন মিথ্যা কথা বলেছেন তা তো আমাদের জানা নেই।” তখন তিনি বললেনঃ “তাহলে জেনে রেখো যে, আমি তোমাদেরকে আল্লাহর কঠিন শাস্তি থেকে ভয় প্রদর্শন করছি।” এ শাস্তি অবশ্যই হবে। সুতরাং এখনও তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাওবা করে নাও। এরূপ করলে আল্লাহ পাক তোমাদের সাথে উত্তম ব্যবহার করবেন এবং যে ব্যক্তি অনুগ্রহ লাভের যোগ্য তার প্রতি তিনি অনুগ্রহ করবেন। তিনি দুনিয়াতেও তোমাদের সাথে ভাল ব্যবহার করবেন এবং আখিরাতেও করবেন। মহান আল্লাহ বলেনঃ “যে কেউই পুরুষ হোক বা নারী হোক, ঈমান আনয়ন করবে, মৃত্যুর পর আমি তাকে পবিত্র জীবনের সাথে উঠাবো।

সহীহ হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) সা’দকে (রাঃ) বলেনঃ “তুমি যদি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কারো উপর কিছু খরচ কর, তবে অবশ্যই তুমি তার প্রতিদান পাবে, এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর উপর যা খরচ করবে তারও প্রতিদান তুমি প্রাপ্ত হবে।”

(আরবি) মহান আল্লাহর এই উক্তির ব্যাখ্যায় ইমাম ইবনু জারীর (রঃ) ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন- যে ব্যক্তি খরাপ কাজ করে তার জন্যে একটি পাপ লিখে দেয়া হয়। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ভাল কাজ করে’ তার উপর দশটি পুণ্য লিপিবদ্ধ হয়। দুনিয়ায় যদি একটি খারাপ আমলের শাস্তি প্রদান করা হয়, তবে তার পক্ষে দশটি পুণ্য থেকে যায়। আর যদি দুনিয়ায় তাকে শাস্তি দেয়া না হয় তবে দশটি পুণ্যের মধ্যে মাত্র একটি পুণ্য খোয়া যায় বা নষ্ট হয়, ন’টি পুণ্য তার পক্ষে থেকেই যায়। এরপর বলেন যে, ঐ ব্যক্তি বড়ই ক্ষতিগ্রস্ত যার একটি (পাপ) দশটি (পুণ্যে)-র উপর জয়যুক্ত হয়।

মহান আল্লাহ বলেনঃ আর যদি তোমরা মুখ ফিরাতেই থাকো, তবে তোমাদের জন্যে ভীষণ দিনের শাস্তির আশঙ্কা করি। এটা ঐ ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহ তাআ’লার নির্দেশাবলী হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। তাকে অবশ্যই কিয়ামতের দিন শাস্তি ভোগ করতেই হবে।

আল্লাহ পাকের উক্তিঃ আল্লাহরই নিকট তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে। তিনি স্বীয় বন্ধুদের প্রতি ইহসান করতে এবং শত্রুদেরকে শাস্তি দিতে সক্ষম। পুনরায় সৃষ্টি করার উপরও তিনি ক্ষমতাবান। এটা হচ্ছে ভীষণ সতর্কবাণী, যেমন এর পূর্বের বাণী ছিল উৎসাহব্যঞ্জক।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।