আল কুরআন


সূরা হূদ (আয়াত: 117)

সূরা হূদ (আয়াত: 117)



হরকত ছাড়া:

وما كان ربك ليهلك القرى بظلم وأهلها مصلحون ﴿١١٧﴾




হরকত সহ:

وَ مَا کَانَ رَبُّکَ لِیُهْلِکَ الْقُرٰی بِظُلْمٍ وَّ اَهْلُهَا مُصْلِحُوْنَ ﴿۱۱۷﴾




উচ্চারণ: ওয়ামা-কা-না রাব্বুকা লিইউহলিকাল কুরা- বিজু লমিওঁ ওয়া আহলুহা-মুসলিহুন।




আল বায়ান: আর তোমার রব এমন নন যে, তিনি অন্যায়ভাবে জনপদসমূহ ধ্বংস করে দেবেন, অথচ তার অধিবাসীরা সংশোধনকারী।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১১৭. আর আপনার রব এরূপ নন যে, তিনি অন্যায়ভাবে জনপদ ধ্বংস করবেন অথচ তার অধিবাসীরা সংশোধনকারী।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমার প্রতিপালক এমন নন যে, তিনি অন্যায়ভাবে কোন জনপদ ধ্বংস করবেন এমতাবস্থায় যে, তার অধিবাসীরা সদাচারী।




আহসানুল বায়ান: (১১৭) আর তোমার প্রতিপালক এমন নন যে, জনপদসমূহকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেন, অথচ ওর অধিবাসীরা সদাচারী থাকে।



মুজিবুর রহমান: আর তোমার রাব্ব এমন নন যে, জনপদসমূহকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করবেন, অথচ ওর অধিবাসীরা সৎ কাজে লিপ্ত রয়েছে।



ফযলুর রহমান: অধিবাসীরা সৎকর্মশীল হওয়া অবস্থায় তোমার প্রভু অন্যায়ভাবে জনপদসমূহ ধ্বংস করতে পারেন না।



মুহিউদ্দিন খান: আর তোমার পালনকর্তা এমন নন যে, জনবসতিগুলোকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেবেন, সেখানকার লোকেরা সৎকর্মশীল হওয়া সত্ত্বেও।



জহুরুল হক: আর তোমার প্রভুর পক্ষে এটি নয় যে তিনি কোনো জনপদকে ধ্বংস করবেন অন্যায়ভাবে, যখন সে-সবের অধিবাসীরা থাকে সৎপথাবলন্বী।



Sahih International: And your Lord would not have destroyed the cities unjustly while their people were reformers.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১১৭. আর আপনার রব এরূপ নন যে, তিনি অন্যায়ভাবে জনপদ ধ্বংস করবেন অথচ তার অধিবাসীরা সংশোধনকারী।(১)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ তারা যদি যালেম না হবে তবে তাদেরকে তিনি কেন ধ্বংস করবেন? যেমন অন্য আয়াতে এসেছে, আর আমরা তাদের প্রতি যুলুম করিনি কিন্তু তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল। [সূরা হুদঃ ১০১] [ইবন কাসীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১১৭) আর তোমার প্রতিপালক এমন নন যে, জনপদসমূহকে অন্যায়ভাবে ধ্বংস করে দেন, অথচ ওর অধিবাসীরা সদাচারী থাকে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১১৬-১১৭ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::



পূর্বের আয়াতগুলোতে রাসূলদের মিথ্যা প্রতিপন্নকারী জাতির ধবংসের বিবরণ তুলে ধরার পর অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন; দুনিয়াতে যত জাতি অতীত হয়ে গেছে তাদের মধ্যে ভাল লোকের সংখ্যা খুবই কম ছিল এবং মন্দ লোকের সংখ্যা প্রচুর পরিমাণে ছিল। তাদের মধ্যে এমন লোকের সংখ্যা খুব কমই ছিল যারা মানুষদেরকে অন্যায় অশ্লীল ও বেহায়াপনা কাজ থেকে বাধা দিত। তারা সেসব লোকদের অনুসরণ করতো যারা ছিল জালিম। সুতরাং যুগ যুগ ধরে অধিকাংশ মানুষ আল্লাহ তা‘আলার নাবীদেরকে অস্বীকার করে এসেছে। তাই আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَقَلِيْلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُوْر)



“আমার বান্দাদের মধ্যে খুব অল্পই কৃতজ্ঞ।” (সূরা সাবা ৩৪:১৩)



আল্লাহ তা‘আলা এ আয়াত দ্বারা এ নির্দেশও দিচ্ছেন যে, দুনিয়াতে মানুষেরা যেন তাবলীগ ও দা‘ওয়াতী কার্যকলাপ বেশি বেশি করে এবং মানুষদেরকে সৎ কাজের আদেশ করে ও অসৎ কাজ হতে নিষেধ করে। প্রয়োজনে এমন একটি দল গঠন করার জন্য আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দিয়েছেন।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَلْتَكُنْ مِّنْكُمْ أُمَّةٌ يَّدْعُوْنَ إِلَي الْخَيْرِ وَيَأْمُرُوْنَ بِالْمَعْرُوْفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ ط وَأُولٰٓئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُوْنَ)



“তোমাদের মধ্যে এমন এক দল থাকা জরুরি যারা কল্যাণের দিকে মানুষকে ডাকবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে। আর তারাই হবে সফলকাম।” (সূরা আলি-ইমরান ৩:১০৪)



আর আল্লাহ তা‘আলা এমন নন যে, কোন জনপদকে তাদের কুফরী ও জুলুমের কারণে ধ্বংস করে দেবেন অথচ তারা সংশোধন হচ্ছে। কোন জাতি যদি সংশোধন হতে চায় ও নিজেদের কুফরী ও অন্যায় কাজ থেকে বাঁচিয়ে নেয় তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে সংশোধিত হওয়ার সুযোগ করে দেন এবং ধ্বংস করেন না। কারণ আল্লাহ তা‘আলা কারো প্রতি জুলুম করেন না।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَمَا ظَلَمْنٰهُمْ وَلٰكِنْ ظَلَمُوْآ أَنْفُسَهُمْ)



“আমি তাদের প্রতি জুলুম করিনি কিন্তু তারাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছিল” (সূরা হূদ ১১:১০১)



আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:



(وَمَا رَبُّكَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيْدِ)



“তোমার প্রতিপালক তাঁর বান্দাদের প্রতি কোন জুলুম করেন না।” (সূরা হা-মীম-সিজদাহ ৪১:৪৬)



সুতরাং নিজে সৎআমল ও মানুষদেরকে আল্লাহর পথে আহ্বান করা আবশ্যক অন্যথায় ধ্বংস অনিবার্য।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



(১) সংখ্যায় বেশি হলেই যে তারা সঠিক এমনটি মনে করা যাবে না; বরং কম সংখ্যক লোক হলেও হক পন্থী হতে পারে। অতএব অন্ধ বিশ্বাস করা যাবে না।

(২) আল্লাহ তা‘আলা কারো প্রতি জুলুমকারী নন; বরং মানুষেরা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করে।

(৩) সঠিক পন্থায় মানুষের মাঝে দা‘ওয়াত ও তাবলীগের কাজ করতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১১৬-১১৭ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ অতি অল্প সংখ্যক লোক ছাড়া আমি অতীত যুগের লোকদের মধ্যে এমন লোকদেরকে কেন পাই নাই যারা দুষ্ট ও অবাধ্য লোকদেরকে অন্যায় ও অসৎ কাজ হতে বিরত রাখতো? এই অল্প সংখ্যক লোক ওরাই যাদেরকে আমি নিজের শাস্তি থেকে রক্ষা করে থাকি। এ জন্যেই আল্লাহ তাআ’লা এই উম্মতের মধ্যে এরূপ দলের বিদ্যমানতা অপরিহার্য করে নির্দেশ দিয়েছেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তোমাদের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি দল থাকা উচিত যারা মানুষকে মঙ্গল ও কল্যাণের দিকে আহ্‌বান করবে এবং মন্দ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করবে, আর তারাই হচ্ছে সফলকাম।” (৩: ১০৪) যালিমদের নীতি এটাই যে, তারা তাদের বদ অভ্যাস থেকে ফিরে আসে না। সৎ আলেমদের ফরমানের প্রতি তারা মোটেই ভ্রুক্ষেপ করে না। শেষ পর্যন্ত তাদের প্রতি তাদের অজান্তে আল্লাহর আযাব এসে পড়ে। ভাল বস্তিগুলির উপর আল্লাহ তাআ’লার পক্ষ হতে অত্যাচারমূলক ভাবে কখনো শাস্তি আসে না। বরং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর যুলুম করে নিজেদেরকে শাস্তির যোগ্য করে তোলে। আল্লাহ পাক যুলুম থেকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র। যেমন তিনি বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “আমি তাদের উপর যুলুম করি নাই বরং তারা নিজেরাই নিজেদের নফ্‌সের উপর যুলুম করেছে; (১১: ১০১) অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তোমার প্রতিপালক বান্দাদের উপর অত্যাচারকারী নন।” (৪১: ৪৬)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।