আল কুরআন


সূরা ইউনুস (আয়াত: 89)

সূরা ইউনুস (আয়াত: 89)



হরকত ছাড়া:

قال قد أجيبت دعوتكما فاستقيما ولا تتبعان سبيل الذين لا يعلمون ﴿٨٩﴾




হরকত সহ:

قَالَ قَدْ اُجِیْبَتْ دَّعْوَتُکُمَا فَاسْتَقِیْمَا وَ لَا تَتَّبِعٰٓنِّ سَبِیْلَ الَّذِیْنَ لَا یَعْلَمُوْنَ ﴿۸۹﴾




উচ্চারণ: কা-লা কাদ উজীবাদ দা‘ওয়াতুকুমা-ফাছতাকীমা-ওয়ালা-তাত্তাবি‘আন্নি ছাবীলাল্লাযীনা লা-ইয়া‘লামূন।




আল বায়ান: তিনি বললেন, ‘তোমাদের দো‘আ কবূল করা হয়েছে। সুতরাং তোমরা দৃঢ় থাক এবং যারা জানে না তাদের পথ অনুসরণ করো না’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৯. তিনি বললেন, আপনাদের দুজনের দোআ কবুল হল, কাজেই আপনারা দৃঢ় থাকুন(১) এবং আপনারা কখনো যারা জানে না তাদের পথ অনুসরণ করবেন না।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহ তা‘আলা জবাব দিলেন, ‘‘তোমাদের দু’জনের দু‘আ কবূল করা হল, কাজেই তোমরা মজবুত হয়ে থাক, আর তোমরা কক্ষনো তাদের পথ অনুসরণ করো না যারা কিছুই জানে না।




আহসানুল বায়ান: (৮৯) তিনি (আল্লাহ) বললেন, ‘তোমাদের উভয়ের দুআ কবুল করা হল। অতএব তোমরা অবিচল থাক[1] এবং অবশ্যই তাদের পথ অনুসরণ করো না যাদের জ্ঞান নেই।’ [2]



মুজিবুর রহমান: তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ তোমাদের উভয়ের দু‘আ কবূল করা হল। অতএব তোমরা দৃঢ় থেক এবং তাদের পথ অনুসরণ করনা যাদের জ্ঞান নেই।



ফযলুর রহমান: তিনি বলেন, “তোমাদের দুঞ্চজনের দোয়া কবুল হয়েছে। অতএব, তোমরা (ন্যায়ের ওপর) স্থির থেকো এবং যারা জানে না কিছুতেই তাদের পথ অনুসরণ করো না।”



মুহিউদ্দিন খান: বললেন, তোমাদের দোয়া মঞ্জুর হয়েছে। অতএব তোমরা দুজন অটল থাকো এবং তাদের পথে চলো না যারা অজ্ঞ।



জহুরুল হক: তিনি বললেন -- "তোমাদের দুজনের দোয়া ইতিমধ্যেই মঞ্জুর হল, কাজেই তোমারা উভয়ে অটল থেকো, আর তাদের পথ অনুসরণ করো না যারা জানে না।"



Sahih International: [Allah] said, "Your supplication has been answered." So remain on a right course and follow not the way of those who do not know."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৮৯. তিনি বললেন, আপনাদের দুজনের দোআ কবুল হল, কাজেই আপনারা দৃঢ় থাকুন(১) এবং আপনারা কখনো যারা জানে না তাদের পথ অনুসরণ করবেন না।


তাফসীর:

(১) দোআর উপর দৃঢ় থাকার অর্থ হচ্ছে, উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তাড়াতাড়ি না করা। আর তাড়াতাড়ি তখনই করবে না যখন মনে প্রশান্তি আসবে। আর প্রশাস্তি তখনই আসবে যখন গায়েবী ব্যাপারে যা প্রকাশ পাবে তাতে উত্তমভাবে সন্তুষ্টি লাভ হবে। [কুরতুবী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৮৯) তিনি (আল্লাহ) বললেন, ‘তোমাদের উভয়ের দুআ কবুল করা হল। অতএব তোমরা অবিচল থাক[1] এবং অবশ্যই তাদের পথ অনুসরণ করো না যাদের জ্ঞান নেই।’ [2]


তাফসীর:

[1] এর একটি অর্থ এই যে, তোমরা নিজ বদ্দুআর উপর অবিচল থাকো; যদিও তার বাস্তব রূপ প্রকাশ পেতে দেরী হয়। কারণ তোমাদের দু’আ অবশ্যই কবুল করা হয়েছে। কিন্তু তা কখন বাস্তবায়ন করব, তা একমাত্র আমার ইচ্ছা ও হিকমতের উপর নির্ভরশীল। সুতরাং কোন কোন তফসীরবিদ বর্ণনা করেছেন যে, সেই বদ্দুআর চল্লিশ বছর পর ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়কে ধ্বংস করা হয়েছে। সেই বদ্দুআ অনুযায়ী ফিরআউন যখন পানিতে ডুবতে আরম্ভ করল, তখন সে বলল, ‘আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনছি।’ কিন্তু এই ঈমানে তার কোন লাভ হয়নি। এর দ্বিতীয় অর্থ এই যে, তুমি আপন দাওয়াত-তবলীগ, বনী ইস্রাঈলদেরকে পথ প্রদর্শন এবং তাদেরকে ফিরআউনের দাসত্ব থেকে পরিত্রাণ দেওয়ার জন্য চেষ্টা-চরিত্র অব্যাহত রাখ।

[2] অর্থাৎ যারা আল্লাহর নিয়ম-নীতি, তাঁর আইন-কানুন এবং তাঁর কর্মগত কৌশল ও যৌক্তিকতা সম্পর্কে জ্ঞান রাখে না, অবশ্যই তোমরা তাদের মত হয়ে যেয়ো না; বরং এখন অপেক্ষা ও ধৈর্য ধারণ কর, আল্লাহ তাআলা তাঁর নিজ হিকমত ও কৌশল অনুযায়ী অবিলম্বে অথবা বিলম্বে তাঁর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই পূর্ণ করবেন। কারণ তিনি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেন না ।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮২-৯৩ নং আয়াতের তাফসীর:



এই আয়াতগুলোতে মূসা (عليه السلام) ও তাঁর সম্প্রদায় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।



আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বাণী দ্বারা সত্যকে সত্য হিসেবে প্রমাণিত করেছেন। আর এগুলো হল ঐ সকল প্রমাণ ও স্পষ্ট দলীল, যা আল্লাহ তা‘আলা নিজ কিতাবে অবতীর্ণ করেছেন এবং যা তিনি নাবীগণকে প্রদান করেছেন। অথবা ঐ সকল মু‘জিযা যা আল্লাহ তা‘আলার আদেশে নাবীদের হাতে প্রকাশ হত।



৮৩ নং আয়াতে বলা হচ্ছে যে, ফির‘আউনের সম্প্রদায়ের কিছু লোক মূসা (عليه السلام)-এর নিদর্শন দেখার পর তারা মূসা (عليه السلام)-এর প্রতি ঈমান আনল। বাকিরা ঈমান আনেনি এই ভয়ে যে, ফির‘আউন তাদেরকে শাস্তি দেবে। কারণ ফির‘আউন ছিল সীমালঙ্ঘনকারী।



পরবর্তীতে মূসা (عليه السلام) তাদেরকে ভয় মুক্ত হবার জন্য আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করতে বললেন। যদি তোমরা আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা কর তবে আল্লাহ তা‘আলার শত্র“ ও তোমাদের শত্র“ ফির‘আউন তোমাদের কোন ক্ষতি সাধন করতে পারবে না। এবং আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য প্রার্থনা কর। তখন তারা একথা শুনে আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করল এবং তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করল এবং ফির‘আউনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল। তারা আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করার সাথে সাথে আল্লাহ তা‘আলার দরবারে দু‘আও করেছিল।



আর আল্লাহ তা‘আলা তাদের দু‘আ কবূল করলেন।



৮৭ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা মূসা ও তার ভাইয়ের প্রতি ওয়াহী করলেন যে, তারা যেহেতু ঈমান এনেছে অতএব তারা ইবাদত করার জন্য যেন যার যার ঘরে একটি করে ইবাদতখানা তৈরী করে নেয়। যাতে করে ইবাদত করার জন্য তোমাদের বাইরে যেতে না হয়। কারণ বাইরে ফির‘আউন ও তার দলবলের অত্যাচারের আশঙ্কা রয়েছে। তখন তারা ইবাদতখানা তৈরী করে নিল।



৮৮ নং আয়াতে বলা হচ্ছে যে, মূসা (عليه السلام) বললেন, যখন তিনি দেখলেন যে, তাঁর ওয়াজ, নসীহত কোন উপকারে আসছে না তখন আল্লাহ তা‘আলার কাছে বদদু‘আ করলেন যে, তিনি যেন ফেরাউনের ধন-সম্পদ ধ্বংস করে দেন এবং ফির‘আউন যেন কঠিন শাস্তি না দেখা পর্যন্ত ঈমান না আনে। অর্থাৎ সে যদিও ঈমান আনে তবে যেন শাস্তি দেখার পর আনে যে ঈমান তার কোন কাজে আসবে না। তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদের দু‘আ কবূল করলেন এবং তাদেরকে তাদের বদদু‘আর ওপর অটল থাকার নির্দেশ দিলেন। আর যারা সত্যের অনুসরণ করে না তাদের মত যেন না হয়ে যায় সে ব্যাপারে সতর্ক করলেন এবং তাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে বললেন এবং তারা যেন তার ব্যাপারে তাড়াহুড়া না করে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা হিকমত ও কৌশল অনুযায়ী অবিলম্বে তার প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করবেন।



৯০ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন যে, আমি বাণী ইসরাইলকে সমুদ্র পার করিয়ে দিলাম। অর্থাৎ সমুদ্র চিরে তাতে শুষ্ক রাস্তা তৈরী করে দিলাম। যেমন



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(فَأَوْحَيْنَآ إِلٰي مُوْسٰٓي أَنِ اضْرِبْ بِّعَصَاكَ الْبَحْرَ ط فَانْفَلَقَ فَكَانَ كُلُّ فِرْقٍ كَالطَّوْدِ الْعَظِيْمِ)



“অতঃপর মূসার প্রতি ওয়াহী করলাম, ‘তোমার লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত কর।’ ফলে তা বিভক্ত হয়ে প্রত্যেক ভাগ বিশাল পবর্তসদৃশ হয়ে গেল।” (সূরা শুআরা ২৬:৬৩)



অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা নির্দেশ দিলেন যে, তোমার লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত কর। যার ফলে ডান দিকের পানি ডান দিকে এবং বাম দিকের পানি বাম দিকে সরে গিয়ে স্থির হয়ে গেল আর মাঝখান দিয়ে রাস্তা তৈরী হয়ে গেল। যা দিয়ে মূসা (عليه السلام) ও তার সৈন্যদল সমুদ্র পার হয়ে চলে গেল। আর ফির‘আউন সম্প্রদায় যখন সমুদ্রের মাঝখানে পৌঁছল এমন সময় আল্লাহ তা‘আলা দু‘দিকের পানিকে একত্র করে দিলেন ফলে ফির‘আউন ও তার দলবল পানিতে ডুবে মরল।



আল্লাহ তা‘আলার বাণী:



(وَاَنْجَیْنَا مُوْسٰی وَمَنْ مَّعَھ۫ٓ اَجْمَعِیْنَﮐﺆ ثُمَّ اَغْرَقْنَا الْاٰخَرِیْنَﮑﺚ)



“এবং আমি মূসা ও তার সঙ্গী সকলকে রক্ষা করলাম। অতঃপর নিমজ্জিত করলাম অপর দলটিকে।” (সূরা শুআরা ২৬:৬৫-৬৬)



আর ঐ ডুবে মরার সময় ফির‘আউন আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান এনেছিল কিন্তু তার ঈমান কোন কাজে আসেনি। পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা উত্তর দিচ্ছেন যে, এখন ঈমান এনেছ অথচ এর পূর্বে নাফরমানী করেছ। অতএব এখন ঈমান আনাতে আর কোন লাভ হবে না, কারণ ঈমান আনার সময় চলে গেছে। সে সময় তুমি অবাধ্যতা, ঔদ্ধত্য ও ফাসাদ সৃষ্টিতে রত ছিলে। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তার শরীরকে নষ্ট করেননি বরং সযতেত্ন রেখে দিলেন যাতে করে পৃথিবীর সকল অবাধ্য ব্যক্তিরা তার এ শরীর দেখে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে এবং তারা যেন অবাধ্য না হয়। যদি অবাধ্য হয় তাহলে ফেরাউনের মতই অবস্থা হবে। পরবর্তীতে আল্লাহ তা‘আলা বানী-ইসরাইলকে বসবাস করার জন্য একটি সুন্দর জায়গা দিলেন এবং তাদেরকে উত্তম রিযিক দান করলেন।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَأَوْرَثْنَا الْقَوْمَ الَّذِيْنَ كَانُوْا يُسْتَضْعَفُوْنَ مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا الَّتِيْ بٰرَكْنَا فِيْهَا ط)



“যে সম্প্রদায়কে দুর্বল মনে করা হত তাদেরকে আমি আমার কল্যাণপ্রাপ্ত (সিরিয়া) রাজ্যের পূর্ব ও পশ্চিমের উত্তরাধিকারী করেছি।” (সূরা আ‘রাফ ৭:১৩৭) কিন্তু তারা তৎপরবর্তীতে শত্র“তা ও অহঙ্কারবশত বিবাদ করেছিল। যার ফলে তারা প্রাপ্ত নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ফির‘আউনের মত মানুষের ওপর অত্যাচার করা যাবে না।

২. মু’মিন ও মুসলিমদের উচিত আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করা ও তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করা।

৩. সালাত পরিত্যাগ করা যাবে না।

৪. ভয়ের সময় বাড়িতে মাসজিদ হিসেবে সালাত পড়া জায়েয।


৫. প্রাণ কণ্ঠাগত হবার পূর্বেই ঈমান আনতে হবে অর্থাৎ মৃত্যুবরণ করার পূর্বেই।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮৮-৮৯ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, ফিরআউন ও তার দলবল যখন সত্যকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করলো এবং নিজেদের ভ্রান্তি ও কুফরীর উপরই কায়েম থাকলো এবং যুলুম ও ঔদ্ধত্যপনা অবলম্বন করলো, তখন মূসা (আঃ) আল্লাহকে বললেনঃ “হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি ফিরআউন ও তার লোকদেরকে দুনিয়ার শান-শওকত এবং প্রচুর ধন-সম্পদ দান করেছেন। এর ফলে তো তারা আরো পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে এবং অন্যদেরকে পথভ্রষ্ট করে দেবে।” (আরবী) অর্থাৎ (আরবী) -কে যবর দিয়ে পড়লে অর্থ হবে- হে আল্লাহ! আপনি ফিরআউনকে এই নিয়ামতগুলো দিয়ে রেখেছেন অথচ আপনি জানেন যে, সে ঈমান আনবে না। সুতরাং সে নিজেই পথভ্রষ্ট হবে। আর (আরবী) অর্থাৎ (আরবী)-কে পেশ দিয়ে পড়লে অর্থ হবে- হে আল্লাহ! আপনার ফিরআউনকে দেয়া নিয়ামতগুলো দেখে লোকেরা ধারণা করবে যে, আপনি থাকে ভালবাসেন। আপনি যখন তাকে সুখে শান্তিতে রেখেছেন, তখন ফল যেন এটাই দাড়াবে যে, লোকেরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়বে। সুতরাং হে আল্লাহ! তাদের ধন-সম্পদকে ধ্বংস করে দিন।

যহ্হাক (রঃ), আবুল আলিয়া (রঃ) প্রমুখ গুরুজন বলেন যে, এরপরে আল্লাহ তা'আলা ফিরআউনের মালধনকে পাথরে পরিণত করেছিলেন। কাতাদা (রঃ) বলেনঃ “আমরা জানতে পেরেছি যে, তার ফসলও পাথরের আকার ধারণ করেছিল এবং চিনি ইত্যাদিও কুচি পাথরে পরিণত হয়েছিল।

মুহাম্মাদ ইবনে কা'ব (রঃ) উমার ইবনে আবদিল আযীয (রঃ)-এর সামনে সূরায়ে ইউনুস পাঠ করেন। যখন তিনি এই আয়াতে পৌঁছেন (আরবী) তখন উমার (রঃ) বলেনঃ “হে আবু হামযা! (আরবী) কি জিনিস?” আবু হামযা উত্তরে বললেনঃ “তাদের মালধন ও আসবাবপত্র পাথরে পরিণত হয়েছিল।” তখন উমার ইবনে আবদুল আযীয (রঃ) স্বীয় গোলামকে বললেনঃ “থলেটি নিয়ে এসো।” সে থলেটি নিয়ে আসলো যাতে ছোলা ও ডিম রাখা ছিল। দেখা গেল যে, সেগুলো পাথরে পরিণত হয়েছে।

আল্লাহ পাকের উক্তিঃ (আরবী) এটা মহান আল্লাহ মূসা (আঃ)-এর উক্তি নকল করেছেন। তিনি বললেনঃ “হে আল্লাহ! আপনি তাদের অন্তরসমূহে মোহর লাগিয়ে দেন, যেন তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি না দেখা পর্যন্ত ঈমান আনয়ন না করে।” মূসা (আঃ) ক্রোধান্বিত হয়ে ফিরআউন ও তার কওমের বিরুদ্ধে এই দুআ করেছিলেন। এই ব্যাপারে মূসা (আঃ)-এর দৃঢ় বিশ্বাস জন্মেছিল যে, তাদের মধ্যে সংশোধনের কোন যোগ্যতাই নেই। কাজেই তাদের নিকট থেকে কল্যাণের কোন আশাই করা যায় না। যেমন নূহ (আঃ) বলেছিলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আমার প্রতিপালক! কাফিরদের মধ্য হতে যমীনের উপর একজনকেও অবশিষ্ট রাখবেন না। যদি আপনি তাদেরকে ভূ-পৃষ্ঠে থাকতে দেন, তবে তারা আপনার বান্দাদেরকে বিভ্রান্তই করবে এবং তাদের শুধু দুষ্কার্যকারী ও কাফির সন্তানই ভূমিষ্ট হবে।” (৭১:২৬) এ জন্যেই আল্লাহ তা'আলা মূসা (আঃ)-এর প্রার্থনা কবুল করে নেন এবং তার ভাই হারূন (আঃ) তাতে আমীন বলেন। তাই আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমাদের দুজনের প্রার্থনা কবূল করা হলো এবং ফিরআউনীদের ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। এ আয়াতটি এটাই প্রমাণ করছে যে, যদি মুকতাদী ইমামের সূরা ফাতিহার কিরআতের উপর আমীন বলে, তবে সেও স্বয়ং সূরায়ে ফাতিহা পাঠকারী বলে গণ্য হবে।

মহান আল্লাহর উক্তিঃ (আরবী) অর্থাৎ হে মূসা (আঃ) ও হারূন (আঃ)! যেমন তোমাদের প্রার্থনা কবুল করা হলো, তেমনই তোমরাও আমার হুকুমের উপর সোজা ও দৃঢ় থাকো এবং তা কার্যকরী কর। (আরবী) বলে এটাকেই। কথিত আছে যে, এই প্রার্থনার চল্লিশ বছর পর ফিরআউনকে ধ্বংস করা হয়। আবার কেউ কেউ বলেন যে, এই প্রার্থনার চল্লিশ দিন পরেই সে ধ্বংস হয়েছিল।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।