আল কুরআন


সূরা ইউনুস (আয়াত: 63)

সূরা ইউনুস (আয়াত: 63)



হরকত ছাড়া:

الذين آمنوا وكانوا يتقون ﴿٦٣﴾




হরকত সহ:

الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ کَانُوْا یَتَّقُوْنَ ﴿ؕ۶۳﴾




উচ্চারণ: আলাইন্না আওলিয়াআল্লা-হি লা-খাওফুন ‘আলাইহিম ওয়ালা-হুম ইয়াহযানূন।




আল বায়ান: যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করত।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬৩. যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করত।




তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা ঈমান আনে আর তাকওয়া অবলম্বন করে




আহসানুল বায়ান: (৬৩) তারা হচ্ছে সেই লোক, যারা বিশ্বাস করেছে এবং সাবধানতা অবলম্বন করে থাকে।



মুজিবুর রহমান: তারা হচ্ছে সেই লোক যারা ঈমান এনেছে এবং (পাপ হতে) পরহেয করে থাকে।



ফযলুর রহমান: যারা (আল্লাহকে) বিশ্বাস করেছে ও (তাঁকে) ভয় করে



মুহিউদ্দিন খান: যারা ঈমান এনেছে এবং ভয় করতে রয়েছে।



জহুরুল হক: যারা বিশ্বাস স্থাপন করে ও ভয়ভক্তি করে --



Sahih International: Those who believed and were fearing Allah



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৬৩. যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করত।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৬৩) তারা হচ্ছে সেই লোক, যারা বিশ্বাস করেছে এবং সাবধানতা অবলম্বন করে থাকে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৬২-৬৫ নং আয়াতের তাফসীর:



(اَلَآ اِنَّ اَوْلِیَا۬ئَ اللہِ....... ذٰلِکَ ھُوَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ)



পূর্বের আয়াতে অবাধ্য ব্যক্তিদের কথা আলোচনা করার পর এখানে আল্লাহ তা‘আলার ওলীদের মর্যাদা ও সম্মানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। আওলিয়া শব্দটি ওলীর বহুবচন। যার শাব্দিক অর্থ নিকটবর্তী, নৈকট্যশীল। ইসলামের পরিভাষায় ওলী হলেন, যারা ইসলামের সকল রুকনের ওপর বিশ্বাস করতঃ আমল করেন এবং সর্বক্ষেত্রে আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করেন। যেমন ৬৩ নং আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা নিজেই বলে দিয়েছেন। সুতরাং যারা আল্লাহ তা‘আলার আদেশকে পালন করেন এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকেন এবং সর্বত্র তাক্বওয়া অবলম্বন করেন তারাই আল্লাহ তা‘আলার ওলী। আল্লাহ তা‘আলার ওলী হবার জন্য কারামত প্রকাশ করা আবশ্যক নয়, সংসার ছেড়ে বন-জঙ্গলে বেড়াতে হবে না, দুনিয়ার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে না। কিছু লোক সমাজের এক শ্রেণির অর্ধ-উলঙ্গ, নোংরা এবং সালাত ও দীনের অন্যান্য ইবাদতের কোন খোঁজ-খবর নেই এমন ব্যক্তিদেরকে ওলী হিসেবে বুঝে থাকে এবং তাদেরকে অনেক বড় কিছু মনে করে থাকে। আসলে তারা আল্লাহ তা‘আলার ওলী নয়, ওরা হল শয়তানের ওলী। কারণ আল্লাহ তা‘আলার একজন ওলী কখনো শরীয়ত নির্দেশিত ফরয কাজ বর্জন করতে পারে না।



প্রকৃত ওলীদের মর্যাদা হল তাদের কোন ভয় নেই এবং দুশ্চিন্তাও নেই। এটা ইহকাল ও আখিরাত উভয় জগতে থাকবে। তারা দুনিয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া কাউকে ভয় করবে না, তাদের রিযিকের ভয় থাকবে না, কোন অনিষ্টের ভয় থাকবে না। আখিরাতে কবরে তাদের কোন ভয় থাকবে না, হাশরের ময়দানে কোন ভয় থাকবে না। মোট কথা সকল প্রকার ভয় থেকে তারা নিরাপদে থাকবে এবং তারা কোন দুশ্চিন্তাগ্রস্তও হবে না। এ দুটি জিনিসে ভয় না থাকা এবং দুশ্চিন্তা না থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি কাউকে বলা হয় আপনাকে অনেক অর্থ-সম্পদ দেয়া হবে কিন্তু সর্বদা আপনি ভয়ে থাকবেন এবং দুশ্চিন্তায় থাকবেন, যেকোন সময় আপনাকে কেউ আক্রমন করতে পারে বা কোন ক্ষতি করতে পারে, তাহলে কি সে ব্যক্তি সে অর্থ নেবে? না, কারণ তার শান্তি ও নিরাপত্তা বলতে কিছু থাকবে না। সে দুশ্চিন্তায় মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়বে।



তাদের জন্য আরো রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে সুসংবাদ। দুনিয়াতে সুসংবাদ হল সুন্দর প্রশংসা, অন্তরের প্রশান্তি, মু’মিনদের প্রতি অন্তরে ভালবাসা, সত্য স্বপ্ন এবং সকল কাজে সহজতা দান। আর আখিরাতে সকল বিপদ থেকে মুক্তি দান করে জান্নাত লাভ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِنَّ الَّذِيْنَ قَالُوْا رَبُّنَا اللّٰهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوْا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلٰ۬ئِكَةُ أَلَّا تَخَافُوْا وَلَا تَحْزَنُوْا وَأَبْشِرُوْا بِالْجَنَّةِ الَّتِيْ كُنْتُمْ تُوْعَدُوْنَ)‏



“নিশ্চয়ই যারা বলে: আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, অতঃপর অবিচলিত থাকে, তাদের নিকট অবতীর্ণ হয় ফেরেশতা এবং বলেঃ তোমরা ভীত হয়ো না, চিন্তিত হয়ো না এবং তোমাদেরকে যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল তার সুসংবাদ পেয়ে আনন্দিত হও।” (সূরা ফুসসিলাত ৪১:৩০)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(لَا يَحْزُنُهُمُ الْفَزَعُ الْأَكْبَرُ وَتَتَلَقّٰهُمُ الْمَلٰ۬ئِكَةُ ط هٰذَا يَوْمُكُمُ الَّذِيْ كُنْتُمْ تُوْعَدُوْنَ)‏



“মহাভীতি তাদেরকে চিন্তাযুক্ত করবে না এবং ফেরেশতাগণ তাদেরকে অভ্যর্থনা করবে এ বলে, ‘এ তোমাদের সে দিন যার প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে দেয়া হয়েছিল।’’ (সূরা আম্বিয়া ২১:১০৩)



মু’মিন ব্যক্তির যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন সাদা চেহারাবিশিষ্ট ফেরেশতারা সাদা কাপড় নিয়ে উপস্থিত হয় এবং বলে: হে পবিত্র আত্মা প্রশান্ত ও সুগন্ধির দিকে বের হয়ে আসো, প্রভু তোমার প্রতি রাগান্বিত নন। তখন আত্মা তার মুখ দিয়ে এমনভাবে বের হয়ে আসবে যেমন পাত্র থেকে পানির ফোয়ারা বের হয়ে আসে। (মুসাননাফ আব্দুর রাযযাক হা: ৬৭৩৭, সহীহ)



উমার (رضي الله عنهما)



হতে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: আল্লাহ তা‘আলার বান্দাদের মাঝে এমন বান্দাও রয়েছেন যারা নাবীও নন এবং শহীদও নন। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে যে সম্মান দিয়েছেন সে জন্য কিয়ামতের দিন নাবীরা এবং শহীদগণ তাদের মত হবার আকাক্সক্ষা করবে। বলা হল হে আল্লাহ তা‘আলার রাসূল! তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিন এবং তাদের এমন কি আমল, হয়তো শুনে তাদেরকে ভালবাসবো। তিনি বললেন: তারা এমন মানুষ, আত্মীয় সম্পর্ক ছাড়াই আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য অন্যদেরকে ভালবাসে এবং আল্লাহ তা‘আলার সন্তুষ্টির জন্য অপরকে সম্পদ দান করে। আল্লাহ তা‘আলার শপথ তাদের চেহারা আলোকজ্জ্বল হবে, তারা নূরের মিম্বারে থাকবে। যখন মানুষ ভয় করবে তারা তখন ভয় করবে না, মানুষেরা যখন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে তখন তারা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হবে না। অতঃপর তিনি এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন। (আবূ দাঊদ হা: ৩৫২৭, সহীহ)



সুতরাং আমাদের সর্বদা চেষ্টা করতে হবে আমরা যেন আল্লাহ তা‘আলার প্রকৃত ওলী হতে পারি। ফলে আমরা দুনিয়াতেও সফল হবো এবং আখিরাতেও সফল হবো।



(وَلَا یَحْزُنْکَ قَوْلُھُمْﺭ ..... ھُوَ السَّمِیْعُ الْعَلِیْمُ)



অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রাসূলকে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন যে, কাফির-মুশরিকরা তোমাকে অপবাদ ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করাসহ যে সমস্ত কথা-বার্তা বলে তা যেন তোমাকে দুশ্চিন্তিত, ব্যথিত, দুর্দশাগ্রস্ত না করে। কারণ তারা যা বলে তা তোমার কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। তোমাকে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করতে পারবে না, এবং সম্মানও দিতে পারবে না। কারণ সম্মান সবই আল্লাহ তা‘আলার নিকট, তিনি যাকে খুশি সম্মানিত করেন আবার যাকে খুশি অপমানিত করেন।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(مَنْ كَانَ يُرِيْدُ الْعِزَّةَ فَلِلّٰهِ الْعِزَّةُ جَمِيْعًا)



“যে ব্যক্তি সম্মান লাভ করতে চায় (সে জেনে রাখুক), সকল সম্মান আল্লাহরই জন্য।” (সূরা ফাতির ৩৫:১০) যে তাঁর আনুগত্য করে আল্লাহ তা‘আলা তাকেই সম্মান দান করে থাকেন, যেমন

আল্লাহ তা‘আলা অন্য আয়াতে বলেন:



(يَقُوْلُوْنَ لَئِنْ رَّجَعْنَآ إِلَي الْمَدِيْنَةِ لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَذَلَّ ط وَلِلّٰهِ الْعِزَّةُ وَلِرَسُوْلِه۪ وَلِلْمُؤْمِنِيْنَ وَلٰكِنَّ الْمُنَافِقِيْنَ لَا يَعْلَمُوْنَ)‏



“তারা বলে: আমরা যদি মদীনায় প্রত্যাবর্তন করি, তবে সেখান হতে সম্মানিতরা অবশ্যই হীনদেরকে বহিস্কার করবে; কিন্তু মান-সম্মান তো আল্লাহরই, তাঁর রাসূল এবং মু’মিনদের; কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।” (সূরা মুনাফিকূন ৬৩:৮)

সুতরাং আল্লাহ তা‘আলার আনুগত্য করার মাধ্যমে তাঁর কাছে সম্মান খুঁজতে হবে, আল্লাহ তা‘আলা যাকে ইচ্ছা সম্মান দিতে পারেন।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সত্য প্রচারে কারো তিরস্কারমূলক কথায় মন খারাপ করা যাবে না।

২. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত কেউ সম্মান বা অসম্মান দান করতে পারে না।

৩. যারা আল্লাহ তা‘আলার বন্ধু তাদের আখিরাতে কোন দুঃখ-কষ্ট থাকবে না।

৪. যারা ভাল কাজ করবে তাদের জন্য রয়েছে দুনিয়া ও আখিরাতে সুসংবাদ।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৬২-৬৪ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ্ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, তাঁর বন্ধু হচ্ছে ঐ লোকগুলো যারা ঈমান আনয়নের পর পরহেযগারীও অবলম্বন করে থাকে। সুতরাং যারা আল্লাহভীরু তারাই আল্লাহর বন্ধু । যখন তারা পারলৌকিক অবস্থার সম্মুখীন হবে তখন তারা মোটেই ভয় পাবে না। আর দুনিয়াতেও তারা কোন দুঃখ ও চিন্তায় পরিবেষ্টিত হবে না। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এবং ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, আল্লাহর অলী হচ্ছে ঐ লোকেরা যারা সদা-সর্বদা তাঁর স্মরণ ও চিন্তায় নিমগ্ন থাকে।

ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি লোক জিজ্ঞেস করেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আল্লাহর অলী কারা?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “তারা হচ্ছে। ওরাই যাদেরকে তুমি দেখতে পাও যে, তারা আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন রয়েছে।”

আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কিছু এমন লোকও রয়েছে যারা নবীও নয় এবং শহীদও নয়। কিয়ামতের দিন আল্লাহর নিকট তাদের মর্যাদা দেখে নবী ও শহীদগণ তাদের উপর রিশক (আকাক্ষা) করবেন।” জিজ্ঞেস করা হলোঃ “হে আল্লাহর রাসুল (সঃ)! তারা কারা?` উত্তরে তিনি বললেনঃ “তারা হচ্ছে ঐ সব লোক যারা শুধু আল্লাহর মহব্বতে একে অপরকে মহব্বত করেছে (ভালবেসেছে)। তাদের মধ্যে নেই কোন মালের সম্পর্ক এবং নেই কোন বংশের সম্পর্ক। তাদের চেহারা হবে নূরানী (উজ্জ্বল) এবং তারা নূরের মিম্বরের উপর থাকবে। যখন মানুষ ভয় পাবে, তখন তাদের কোন ভয় হবে না এবং মানুষ যখন দুঃখে থাকবে, তখনও তাদের কোন দুঃখ ও চিন্তা থাকবে না।” অতঃপর তিনি পাঠ করলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর অলীদের জন্যে কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।”

আবৃ মালিক আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ লোকদের মধ্য হতে ও বিভিন্ন গোত্র হতে এমন সম্প্রদায়ের আগমন ঘটবে, যাদের পরস্পরের মধ্যে নেই কোন আত্মীয়তার সম্পর্ক, তারা শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একে অপরকে ভালবাসবে। তাদের মধ্যে গড়ে উঠবে আন্তরিকতাপূর্ণ প্রেম প্রীতি। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাদের জন্যে নূরের মিম্বর স্থাপন করবেন, যার উপর তারা উপবেশন করবে। মানুষ সেই দিন অত্যন্ত উদ্বিগ্ন থাকবে। কিন্তু এরা থাকবে সম্পূর্ণ শান্ত ও নিশ্চিন্ত; আল্লাহর অলী এসব লোকই বটে। (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

আবু দারদা (রাঃ)-কে একটি লোক জিজ্ঞেস করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) (আরবী) -এই আয়াতের কিরূপ ব্যাখ্যা করেছেন? উত্তরে তিনি বলেনঃ “এটা হচ্ছে ভাল স্বপ্ন যা কোন মুসলিম দেখে থাকে বা অন্য কোন মুসলিমকে তার সম্পর্কে ঐ স্বপ্ন দেখানো হয়।` আবু দারদা (রাঃ)। লোকটিকে বলেনঃ “তুমি আমাকে এই প্রশ্ন করলে, ইতিপূর্বে শুধু একবার একটি লোক নবী (সঃ)-কে এই প্রশ্ন করেছিল। তিনি উত্তরে বলেছিলেন, এটা হচ্ছে সঠিক ও সত্য স্বপ্ন যা কোন মুসলিম দেখে থাকে বা তার পক্ষে অন্য কাউকেও দেখানো হয়। এটা পার্থিব জীবনেও তার জন্যে শুভ সংবাদ এবং পরকালেও তার জন্যে জান্নাতের সুসংবাদ।” (এ হাদীসটি ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন) উবাদা ইবনে সামিত (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ (সঃ) একথাই বলেছিলেন- “তোমার পূর্বে কেউ আমাকে এ প্রশ্ন করেনি। (আরবী) শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ভাল স্বপ্ন।” ইবনে সামিত (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেনঃ “এই আয়াতে আখিরাতের সুসংবাদ তো হচ্ছে জান্নাত, কিন্তু দুনিয়ার সুসংবাদ দ্বারা উদ্দেশ্য কি?` উত্তরে তিনি বলেনঃ “সত্য সপ্ন, যে স্বপ্ন কেউ দেখে বা তার সম্পর্কে কাউকে স্বপ্ন দেখানো হয়। আর এই সত্য স্বপ্নও হচ্ছে নবুওয়াতের সত্তর বা চুয়াল্লিশটি অংশের একটি অংশ।”

আবু যার (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ “ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! মানুষ ভাল কাজ করে এবং লোকেরা তার প্রশংসা করে (এটা কিরূপ?)।” উত্তরে তিনি বলেনঃ “এটা যেন মুমিনের জন্যে দুনিয়াতেই জান্নাতের শুভ সংবাদ। আর এটা নবুওয়াতের উনপঞ্চাশটি অংশের একটি অংশ। সুতরাং যে ব্যক্তি ভাল স্বপ্ন দেখবে সে যেন জনগণের সামনে তা বর্ণনা করে দেয়। আর যে খারাপ স্বপ্ন দেখবে, তার এটা জেনে রাখা উচিত যে, ওটা শয়তানের পক্ষ থেকে হয়েছে। সে মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করার জন্যেই এরূপ করে। সুতরাং তখন ঐ ব্যক্তির উচিত যে, সে যেন বাম দিকে তিনবার থুথু ফেলে ও তাকবীর পাঠ করে এবং জনগণের সামনে তা প্রকাশ না করে।” (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

অন্য এক জায়গায় নবুওয়াতের ছেচল্লিশ ভাগের এক ভাগ বলা হয়েছে। আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন যে, উত্তম স্বপ্ন হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত শুভ সংবাদ। কথিত আছে যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে- মুমিনের মৃত্যুর সময় ফিরিশতাগণ তাকে জান্নাত ও মাগফিরাতের শুভ সংবাদ দিয়ে থাকেন। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “নিশ্চয়ই যারা বলেছে-আমাদের প্রতিপালক (হচ্ছেন একমাত্র) আল্লাহ অতঃপর তারা (ওর উপর) অটল রয়েছে, তাদের প্রতি (সুসংবাদ নিয়ে) ফিরিশতারা অবতীর্ণ হবে, (এবং বলবে যে,) তোমরা (আখিরাতের। বিপদসমূহের) ভয় করো না এবং (দুনিয়া ত্যাগের জন্যে) দুঃখও করো না, আর তোমরা সেই জান্নাতের প্রতি সন্তুষ্ট থাকো, যার প্রতিশ্রুতি তোমাদেরকে প্রদান। করা হতো। আমি পার্থিব জীবনেও তোমাদের সঙ্গী ছিলাম এবং পরলোকেও থাকবো, আর যা কিছু তোমাদের বাসনা হবে, তোমাদের জন্যে তাতে তা বিদ্যমান আছে, আর যা কিছু তোমরা চাবে, তাও তোমাদের জন্যে তাতে রয়েছে। এটা ক্ষমাশীল করুণাময়ের সন্নিধান হতে মেহমানদারী।”

বারা’র হাদীসে রয়েছে যে, যখন মুমিন ব্যক্তির মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসে, তখন উজ্জ্বল চেহারা ও সাদা পোশাক বিশিষ্ট ফিরিশতা তার কাছে আগমন করেন এবং বলেনঃ “হে পবিত্র আত্মা! তার মুখ দিয়ে এমনভাবে বেরিয়ে যাও যেমনভাবে মশকের মুখ দিয়ে পানি বের হয়ে থাকে। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ “কিয়ামতের আতংক তাদেরকে হতবুদ্ধি করবে না, ফিরিশতারা তাদেরকে বলবে- এটা হচ্ছে ঐদিন, তোমাদের সাথে যেই দিনের ওয়াদা করা হয়েছে। আর এক জায়গায় আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “সেই দিন তুমি মুমিন পুরুষ এবং মুমিনা নারীদেরকে দেখবে যে, তাদের সামনের দিকে এবং ডান দিকে নূর (আলো) চলছে, (বলা হবে) আজ তোমাদেরকে ঐ জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হচ্ছে, যার নিম্নদেশে নহর প্রবাহিত হচ্ছে। এটা হচ্ছে বিরাট সফলতা।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।