সূরা ইউনুস (আয়াত: 56)
হরকত ছাড়া:
هو يحيي ويميت وإليه ترجعون ﴿٥٦﴾
হরকত সহ:
هُوَ یُحْیٖ وَ یُمِیْتُ وَ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ ﴿۵۶﴾
উচ্চারণ: হুওয়া ইউহয়ী ওয়া ইউমীতুওয়া ইলাইহি তুরজা‘ঊন।
আল বায়ান: তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান এবং তাঁর কাছেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন হবে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৬. তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান এবং তারই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করানো হবে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তিনি জীবন দান করেন, তিনিই মৃত্যু দেন, আর তাঁর দিকেই তোমরা ফিরে যাবে।
আহসানুল বায়ান: (৫৬) তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান, আর তোমরা সবাই তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।[1]
মুজিবুর রহমান: তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃত্যু ঘটান, আর তোমরা সবাই তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।
ফযলুর রহমান: তিনিই বাঁচান, তিনিই মারেন এবং তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
মুহিউদ্দিন খান: তিনিই জীবন ও মরণ দান করেন এবং তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
জহুরুল হক: তিনিই জীবনদান করেন ও মৃত্যু ঘটান, আর তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।
Sahih International: He gives life and causes death, and to Him you will be returned
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫৬. তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান এবং তারই কাছে তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তন করানো হবে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫৬) তিনিই জীবন দান করেন এবং মৃত্যু ঘটান, আর তোমরা সবাই তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।[1]
তাফসীর:
[1] উক্ত আয়াতে আকাশ ও পৃথিবীর সকল বস্তুর উপর আল্লাহর পূর্ণ মালিকানা, আল্লাহর ওয়াদার সত্যতা, জীবন ও মরণ তাঁর ইচ্ছায় সংঘটন এবং তাঁর দরবারে সকলের উপস্থিতির বর্ণনা আছে। যার উদ্দেশ্য পূর্বোক্ত আলোচনাকে পরিষ্ফুটিত ও সমর্থন করা। আর তা এই যে, যে সত্তা এত বিশাল ক্ষমতার অধিকারী, তাঁর পাকড়াও থেকে রক্ষা পেয়ে মানুষ কোথায় যেতে পারে? এবং হিসাব-নিকাশ নেওয়ার জন্য তিনি যে একটি দিন নির্ধারিত করে রেখেছেন, সে দিন থেকে কে রেহাই পাবে? আল্লাহর ওয়াদা অবশ্যই সত্য, কিয়ামত অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে এবং সকল ভাল ও মন্দ লোকদেরকে তাদের নিজ নিজ কর্ম অনুযায়ী প্রতিদান ও প্রতিফল দেওয়া হবে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫৫-৫৬ নং আয়াতের তাফসীর:
উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা খবর দিচ্ছেন যে, আকাশ ও জমিন এবং এতদুভয়ের মধ্যে যা কিছু আছে তার প্রকৃত মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা এ ব্যাপারে তাঁর সাথে আর কেউ শরীক নেই। তিনি যেভাবে ইচ্ছা তার রাজত্বের মধ্যে পরিবর্তন পরিবর্ধন করেন। তিনি কাউকে শাস্তি দেন আবার কারো প্রতি রহম করেন এবং আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা সত্য। তা অবশ্য অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে। কারণ আল্লাহ তা‘আলা কক্ষনো ওয়াদা ভঙ্গ করেন না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(إِنَّكَ لَا تُخْلِفُ الْمِيْعَادَ)
“নিশ্চয়ই আপনি ওয়াদা খেলাফ করেন না।” (সূরা আলি ইমরান ৩:১৯৪)
কিন্তু অধিকাংশ মানুষই তা জানে না। যদি তারা এই শাস্তি সম্পর্কে জানত তাহলে তারা জেনে শুনে কুফরী করত না।
অনুরূপভাবে আল্লাহ তা‘আলা জীবন ও মৃত্যুর মালিক। আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য কেউ জীবন দিতেও সক্ষম নয় আবার মৃত্যু দিতেও সক্ষম নয়। একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই পারেন, অন্য কেউ নয়। এ আয়াত দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, মানুষের এ কথা বলা সমীচীন নয় যে, যদি এই কাজটি করতাম তাহলে এই লোকটি মারা যেত না বা আরো কিছুদিন জীবিত থাকত বা অমুক লোকটি অকাল মৃত্যুবরণ করেছে। এরূপ বলা ঠিক নয়, কারণ প্রত্যেকে তার নির্ধারিত সময়েই মৃত্যুবরণ করে। এ রকম করলে এরূপ হত, এরূপ না করলে এরূপ হতো না ইত্যাদি বলা নিষেধ। এসব কথা শয়তানের পথ খুলে দেয় এবং আফসোস ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. সকল কিছুর প্রকৃত মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।
২. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ওয়াদাকে বাস্তবায়িত করবেন।
৩. মানুষকে জীবন ও মৃত্যু একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাই দান করেন।
৪. তাকদীরের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে এবং ‘যদি’ কথা বলে শয়তানের পথ খুলে দেয়া যাবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫৫-৫৬ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, তিনিই আকাশসমূহের ও পৃথিবীর মালিক। তার অঙ্গীকার অবশ্য অবশ্যই পূর্ণ হবে। তিনিই জীবন দান করে থাকেন এবং তিনিই মৃত্যু ঘটিয়ে থাকেন। তারই কাছে সকলকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। তিনি এর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান যে, সমুদ্রে, প্রান্তরে এবং বিশ্বের সর্বত্র তাদের মাটি হয়ে যাওয়া দেহের প্রতিটি অণু পরমাণুকে পুনরায় একত্রিত করবেন এবং জীবিত দেহ তৈরী করবেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।