আল কুরআন


সূরা ইউনুস (আয়াত: 100)

সূরা ইউনুস (আয়াত: 100)



হরকত ছাড়া:

وما كان لنفس أن تؤمن إلا بإذن الله ويجعل الرجس على الذين لا يعقلون ﴿١٠٠﴾




হরকত সহ:

وَ مَا کَانَ لِنَفْسٍ اَنْ تُؤْمِنَ اِلَّا بِاِذْنِ اللّٰهِ ؕ وَ یَجْعَلُ الرِّجْسَ عَلَی الَّذِیْنَ لَا یَعْقِلُوْنَ ﴿۱۰۰﴾




উচ্চারণ: ওয়া মা-কা-না লিনাফছিন আন তু’মিনা ইল্লা-বিইযনিল্লা-হি ওয়া ইয়াজ‘আলুর রিজছা ‘আলাল্লাযীনা লা-ইয়া‘কিলূন।




আল বায়ান: আর কারও পক্ষে সম্ভব নয় যে, আললাহর অনুমতি ছাড়া ঈমান আনবে এবং যারা বুঝে না তিনি আযাব চাপিয়ে দেবেন তাদের উপর।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০০. আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া ঈমান আনা কারো সাধ্য নয় এবং যারা বোঝে না আল্লাহ তাদেরকেই কলুষলিপ্ত করেন।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহর অনুমতি ব্যতিরেকে কেউ ঈমান আনতে পারবে না, আর যারা বিবেক বুদ্ধি খাটায় না, আল্লাহ তাদের উপর গুমরাহী চাপিয়ে দেন।




আহসানুল বায়ান: (১০০) অথচ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারো বিশ্বাস স্থাপন করার সাধ্য নেই; আর আল্লাহ নির্বোধ লোকদের উপর (কুফরীর) অপবিত্রতা স্থাপন করে দেন। [1]



মুজিবুর রহমান: অথচ আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারও ঈমান আনা সম্ভব নয়; আর আল্লাহ নির্বোধ লোকদের উপর (কুফরীর) অপবিত্রতা স্থাপন করে দেন।



ফযলুর রহমান: আল্লাহর হুকুম ছাড়া কারো পক্ষে ঈমান আনা সম্ভব হয় না। আর যারা অনুধাবন করে না তিনি তাদের ওপর শাস্তি ধার্য করেন।



মুহিউদ্দিন খান: আর কারো ঈমান আনা হতে পারে না, যতক্ষণ না আল্লাহর হুকুম হয়। পক্ষান্তরে তিনি অপবিত্রতা আরোপ করেন যারা বুদ্ধি প্রয়োগ করে না তাদের উপর।



জহুরুল হক: আর কোনো প্রাণীর পক্ষে বিশ্বাস করা সম্ভবপর নয় আল্লাহ্‌র অনুমতি ব্যতীত। আর তিনি কলুষতা নিক্ষেপ করেন তাদের উপরে যারা বুঝে না।



Sahih International: And it is not for a soul to believe except by permission of Allah, and He will place defilement upon those who will not use reason.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০০. আর আল্লাহর অনুমতি ছাড়া ঈমান আনা কারো সাধ্য নয় এবং যারা বোঝে না আল্লাহ তাদেরকেই কলুষলিপ্ত করেন।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০০) অথচ আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কারো বিশ্বাস স্থাপন করার সাধ্য নেই; আর আল্লাহ নির্বোধ লোকদের উপর (কুফরীর) অপবিত্রতা স্থাপন করে দেন। [1]


তাফসীর:

[1] ‘অপবিত্রতা’ থেকে উদ্দেশ্য হল আযাব বা কুফরী। অর্থাৎ, যারা আল্লাহর নিদর্শনাবলী নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না, তারা কুফরীতেই নিমজ্জিত থাকে এবং এই ভাবেই আযাবের উপযুক্ত হয়ে যায়।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯৯-১০০ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা বলছেন যে, যদি তিনি ইচ্ছা করতেন তবে পৃথিবীর সকল লোকই ঈমান আনত। কিন্তু এটা আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করেননি। কারণ এটা তাঁর সেই হিকমত ও কৌশলের বিপরীত, যা পূর্ণভাবে তিনিই জানেন। এ কথা এজন্যই বলেছেন যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বড় আকাক্সক্ষা হত যে, সকল মানুষ মুসলিম হয়ে যাক। আল্লাহ তা‘আলা বললেন, এটা হতে পারে না। যেমন



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيْرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ)



“আমি তো বহু জিন ও মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি, (সূরা আ‘রাফ ৭:১৭৯)



এ আয়াত থেকে বাতিল বিশ্বাস পোষণকারীদের ন্যায় এ বিশ্বাস পোষণ করা যাবে না যে, তাহলে মানুষেরই বা কী দোষ। আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করেননি তাই তারা ঈমান আনেনি। আমরা বলব: না, এমনটি নয়; বরং আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে ভাল-মন্দ দু‘টো দিকই দেখিয়ে স্বাধীনতা দিয়েছেন, সে ইচ্ছানুযায়ী পছন্দ করে নেবে। তাকে ভাল বা মন্দ কোন কিছুর জন্য বাধ্য করা হয়নি। সুতরাং কেউ যদি স্বেচ্ছায় মন্দ পথ বেছে নেয় তাহলে কি আল্লাহ তা‘আলার কোন দোষ?



এ জন্য পরের আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ত‘আলা বলছেন; তুমি কি মানুষকে ঈমান আনতে বাধ্য করবে? কেউ যদি স্বেচ্ছায় ঈমান না আনতে চায় তাহলে তাকে বাধ্য করলে পরীক্ষার বিষয় থাকলো না। মূলত আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা ছাড়া কেউ ঈমান আনতে পারে না। যেমন সূরা মায়িদার ৪১ নং আয়াতে, সূরা নামলের ৪৭ নং আয়াতে এবং সূরা আ‘রাফের ১৮৬ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই আল্লাহ তা‘আলার কাছে দু‘আ করতে হবে, হে আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে ঈমান দিয়ে তার ওপর অটল রাখ।



আর আয়াতে যে অপবিত্রতার কথা বলা হয়েছে তা দ্বারা উদ্দেশ্য হল আযাব বা কুফরী। অর্থাৎ যারা আল্লাহ তা‘আলার আয়াত নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করে না তারা কুফরীতেই নিমজ্জিত থাকে এবং এভাবেই তারা আযাবের উপযুক্ত হয়ে যায়।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কোন বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলাকে দোষারোপ করা যাবে না।

২. মানুষকে ঈমান আনার ব্যাপারে বাধ্য করা যাবে না।

৩. মানুষকে ভাল-মন্দ দু‘টো দিকই দেয়া হয়েছে। সে হয় ঈমান আনবে অন্যথায় কুফরী করবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯৯-১০০ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা বলেন, হে মুহাম্মাদ (সঃ)! যদি আল্লাহ চাইতেন তবে দুনিয়ার সমস্ত মানুষই ঈমান আনতো। কিন্তু তিনি যা কিছু করেন তাতে নিপুণতা রয়েছে। আল্লাহর ইচ্ছা হলে সবাই এক খেয়ালেরই হতো। কিন্তু পৃথিবীতে বিভিন্ন মতের লোক রয়েছে। সঠিক মতের উপর তারাই রয়েছে যাদের উপর আল্লাহর করুণা বর্ষিত হয়েছে। আর তাদের স্বভাবও এভাবেই বানানো হয়েছে। হে নবী (সঃ)! তোমার প্রতিপালকের এ কথাটি পূর্ণ হয়েই থাকবে। তা হচ্ছে এই যে, তিনি বলেনঃ “আমি অবশ্যই জাহান্নামকে দানব ও মানব উভয় জাতি দ্বারা পূর্ণ করবো।” যদি সকলকেই আল্লাহ হিদায়াত করতেন, তবে কি ঈমান অর্থহীন হয়ে যেতো না? তাই আল্লাহ তাআলা বলেন, হে নবী (সঃ)! তুমি কি জোর করে তাদেরকে মুমিন বানাতে চাও? না, এটা তোমার জন্যে শোভনীয় নয় এবং ওয়াজিবও নয়। আল্লাহই যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান হিদায়াত দান করেন। তুমি তাদের জন্যে আফসোস করে করে নিজেকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিও না এই মনে করে যে, তারা ঈমান আনছে না। আল্লাহ পাক এক জায়গায় বলেনঃ “হে নবী (সঃ)! তুমি যাকে ভালবাস তাকে হিদায়াত দান। করতে পার না।” অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ “হে রাসূল (সঃ)! তোমার দায়িত্ব। হচ্ছে শুধু পৌছিয়ে দেয়া, আর হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব আমার।” আর এক জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ “হে নবী (সঃ)! তুমি শুধু উপদেশ দিতে থাকো, কেননা, তুমি তো শুধু উপদেষ্টা মাত্র। তুমি তাদের উপর দায়গ্রস্ত অধিকারী নও।” এ আয়াতগুলো এটাই প্রমাণ করছে যে, আল্লাহ তা'আলা যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কেউই ঈমান আনতে পারে না। জ্ঞান ও বিবেক দ্বারা যে কাজ করে না তাকে পথভ্রষ্ট করে দেয়া হয়। হিদায়াত করা ও না করার ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা ন্যায়পরায়ণ।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।