আল কুরআন


সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 87)

সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 87)



হরকত ছাড়া:

رضوا بأن يكونوا مع الخوالف وطبع على قلوبهم فهم لا يفقهون ﴿٨٧﴾




হরকত সহ:

رَضُوْا بِاَنْ یَّکُوْنُوْا مَعَ الْخَوَالِفِ وَ طُبِعَ عَلٰی قُلُوْبِهِمْ فَهُمْ لَا یَفْقَهُوْنَ ﴿۸۷﴾




উচ্চারণ: রাদূ বিআইঁ ইয়াকূনূমা‘আল খাওয়া-লিফি ওয়া তুবি‘আ আলা-কুলূবিহিম ফাহুম লাইয়াফকাহূন।




আল বায়ান: তারা পেছনে থাকা লোকদের সাথে থাকা বেছে নিল এবং তাদের অন্তরসমূহের উপর মোহর এঁটে দেয়া হল, ফলে তারা বুঝতে পারে না ।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৭. তারা অন্তঃপুর বাসিনীদের সাথে অবস্থান করাই পছন্দ করেছে এবং তাদের অন্তরের উপর মোহর এঁটে দেয়া হলো; ফলে তারা বুঝতে পারে না।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা পিছনে (ঘরে বসে) থাকা স্ত্রীলোকদের সাথে থাকাকেই পছন্দ করে, তাদের হৃদয়কে সীল করে দেয়া হয়েছে, কাজেই তারা কিছুই বুঝতে পারে না।




আহসানুল বায়ান: (৮৭) তারা অন্তঃপুরবাসিনীদের সাথে থাকতে পছন্দ করল এবং তাদের অন্তরে মোহর লাগিয়ে দেওয়া হল। সুতরাং তারা বুঝতে অক্ষম। [1]



মুজিবুর রহমান: তারা অন্তঃপুরবাসিনী নারীদের সাথে থাকতে পছন্দ করল, তাদের অন্তরসমূহের উপর মোহর লাগিয়ে দেয়া হল, কাজেই তারা বুঝতে পারেনা।



ফযলুর রহমান: তারা পেছনে থেকে-যাওয়া মহিলাদের সঙ্গে থাকতেই পছন্দ করেছে। তাদের অন্তরে ছাপ মেরে দেওয়া হয়েছে; যার ফলে তারা বুঝতে পারে না।



মুহিউদ্দিন খান: তারা পেছনে পড়ে থাকা লোকদের সাথে থেকে যেতে পেরে আনন্দিত হয়েছে এবং মোহর এঁটে দেয়া হয়েছে তাদের অন্তরসমূহের উপর। বস্তুতঃ তারা বোঝে না।



জহুরুল হক: তারা পেছনে-রয়ে-থাকাদের সাথে অবস্থান করাই পছন্দ করেছিল, আর তাদের হৃদয়ের উপরে মোহর মেরে দেয়া হয়েছে, কাজেই তারা বুঝতে পারে না।



Sahih International: They were satisfied to be with those who stay behind, and their hearts were sealed over, so they do not understand.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৮৭. তারা অন্তঃপুর বাসিনীদের সাথে অবস্থান করাই পছন্দ করেছে এবং তাদের অন্তরের উপর মোহর এঁটে দেয়া হলো; ফলে তারা বুঝতে পারে না।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৮৭) তারা অন্তঃপুরবাসিনীদের সাথে থাকতে পছন্দ করল এবং তাদের অন্তরে মোহর লাগিয়ে দেওয়া হল। সুতরাং তারা বুঝতে অক্ষম। [1]


তাফসীর:

[1] অন্তরে মোহর লেগে যাওয়াঃ এটি অব্যাহতভাবে গোনাহ করতে থাকার কুফল। যার বিশদ আলোচনা পূর্বে করা হয়েছে। অন্তরে মোহর লাগার পর মানুষ চিন্তা-ভাবনা করা ও কিছু বুঝার যোগ্যতা থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮৬-৯০ নং আয়াতের তাফসীর:



যারা শক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিনা কারণে নানা অজুহাত দেখিয়ে জিহাদে শরীক হয় না তাদেরকে এ আয়াতগুলোতে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করা হচ্ছে। এরাও পূর্বে আলোচিত মুনাফিকদের দলে।



(أُولُوا الطَّوْلِ)



‘শক্তিসামর্থ্য’দ্বারা উদ্দেশ্য সামর্থবান, ধনী শ্রেণির লোক।



خوالف শব্দটি خالفة এর বহুবচন। অর্থ পিছনে থাকা নারীগণ। অর্থাৎ নারীরা যেমন ঘরে বসে থাকে মুনাফিকরাও জিহাদে না গিয়ে ঘরে বসে থাকে। এসব অমার্জনীয় অপরাধের কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও মু’মিনগণ তাদের জান ও মাল দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় জিহাদ করে থাকে, কখনো অজুহাত পেশ করে না। তাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলা তৈরি করে রেখেছেন নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত।



(وَجَاءَ الْمُعَذِّرُوْنَ مِنَ الْأَعْرَابِ)



‘মরুবাসীদের মধ্যে কিছু লোক অজুহাত পেশ করতে আসল’আয়াতে উল্লিখিত অজুহাত পেশকারী কারা? এ ব্যাপারে মুফাসসিরগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: এরা শহর থেকে দূরে বসবাসকারী ঐ সমস্ত লোক যারা মিথ্যা ওজর পেশ করে যুদ্ধে না যাওয়ার অনুমতি নিয়েছিল। এদের দ্বিতীয় প্রকার ছিল তারা, যারা এসে ওজর পেশ করার কোন প্রয়োজন মনে না করেই বসে রইল। আলোচ্য আয়াতে মুনাফিকদের উক্ত দুই শ্রেণির লোকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবার এটাও সম্ভাবনা রয়েছে যারা সত্য ও সঠিক ওজর পেশ করে অনুমতি নিয়েছিল।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ইসলামী শরীয়তের উৎস দু’টি: কুরআন ও সুন্নাহ।

২. শরীয়তসম্মত প্রয়োজনে যুদ্ধ থেকে অব্যাহতি চাওয়া জায়েয।

৩. সামর্থ থাকা সত্ত্বেও জিহাদে অংশ গ্রহণ না করা হরাম।

৪. জানমাল দ্বারা জিহাদ করার ফযীলত জানলাম।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮৬-৮৭ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে আল্লাহ তাআলা ঐ লোকদের কটাক্ষ করছেন যারা ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জিহাদে না গিয়ে গা ঢাকা দিয়ে থাকে এবং আল্লাহর নির্দেশ শোনার পরেও রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে এসে বাড়ীতে থাকার অনুমতি প্রার্থনা করে। তারা এতই নিষ্ক্রিয় যে, নারীদের সাথে তাদের সাদৃশ্য রয়েছে। সেনাবাহিনী অভিযানে বের হয়ে পড়েছে, অথচ তারা অন্তঃপুরবাসিনী মহিলাদের মত পিছনে রয়ে গেছে। যুদ্ধের সময় তারা ভীরু ও কাপুরুষের মত লেজ গুটিয়ে ঘরে অবস্থানকারী। আর শান্তি ও নিরাপত্তার সময় তারা বড় বড় কথা বলে এবং বীরতুপনা প্রকাশ করে থাকে। যেমন আল্লাহ তাআলা অন্য জায়গায় বলেনঃ

অর্থাৎ “যখন তারা ভয়ের (যুদ্ধের) সম্মুখীন হয় তখন তুমি তাদেরকে দেখতে পাও যে, তারা তোমার প্রতি এমনভাবে তাকাতে থাকে যে, তাদের চক্ষুসমূহ ঘুরতে থাকে, যেমন কারো উপর মরণ-বিভীষিকা আচ্ছন্ন হয়, অতঃপর সেই ভয় যখন দূরীভূত হয় তখন তোমাদেরকে অতি তীব্র ভাষায় তিরস্কার করতে থাকে।” তারা শান্তি ও নিরাপত্তার সময় শক্তিশালী বীরপুরুষ, কিন্তু যুদ্ধের সময় অত্যন্ত ভীরু ও কাপুরুষ। যেমন কোন কবি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা শান্তি ও নিরাপত্তার সময় অত্যন্ত ধূর্ত, উদ্দমশীল ও বড় বড় বক্তব্য পেশকারী, কিন্তু যুদ্ধের সময় তারা অন্তঃপুরবাসিনী মহিলাদের সাথে সাদৃশ্যযুক্ত।” শান্তির সময় তারা মুসলিমদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী এবং বীরত্ব প্রকাশকারী। কিন্তু যুদ্ধের সময় তারা নারীদের মত চুড়ি পরিধান করে পর্দানশীন বনে যায় এবং খাল ও ছিদ্র খুঁজে খুঁজে গা ঢাকা দেয়ার চেষ্টা করে থাকে। মুসলিমরাতো সূরা অবতীর্ণ হওয়ার ও আল্লাহর হুকুম নাযিল হওয়ার দিকে অপেক্ষমান থাকে। কিন্তু রোগাক্রান্ত হৃদয়ের লোকেরা যখন জিহাদের নির্দেশ সম্বলিত কোন আয়াত অবতীর্ণ হতে দেখে তখন চক্ষু বন্ধ করে নেয়। তাদের জন্যে শত আফসোস! তাদের জন্যে ধ্বংসাত্মক বিপদ। যদি তারা অনুগত হতো এবং তাদের মুখ হতে ভাল কথা বের হতো, আর তাদের উদ্দেশ্য সৎ হতো তবে অবশ্যই অরা আল্লাহর কথার সত্যতা স্বীকার করতো। এটাই হতো তাদের জন্যে কল্যাণকর। কিন্তু তাদের দুস্কার্যের দরুন তাদের অন্তরের উপর মোহর লেগে গেছে। এখন তাদের মধ্যে এই যোগ্যতাই নেই যে, তারা নিজেদের লাভ ও লোকসান বুঝতে পারে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।