আল কুরআন


সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 125)

সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 125)



হরকত ছাড়া:

وأما الذين في قلوبهم مرض فزادتهم رجسا إلى رجسهم وماتوا وهم كافرون ﴿١٢٥﴾




হরকত সহ:

وَ اَمَّا الَّذِیْنَ فِیْ قُلُوْبِهِمْ مَّرَضٌ فَزَادَتْهُمْ رِجْسًا اِلٰی رِجْسِهِمْ وَ مَا تُوْا وَ هُمْ کٰفِرُوْنَ ﴿۱۲۵﴾




উচ্চারণ: ওয়াআম্মাল্লাযীনা ফী কুলূবিহিম মারাদুন ফাযা-দাতহুম রিজছান ইলা-রিজছিহিম ওয়ামা-তূ ওয়াহুম কা-ফিরূন।




আল বায়ান: আর যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে, এটি তাদের অপবিত্রতার সাথে অপবিত্রতা বৃদ্ধি করে এবং তারা মারা যায় কাফির অবস্থায়।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১২৫. আর যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে, এটা তাদের কলুষের সাথে আরো কলুষ যুক্ত করে। আর তাদের মৃত্যু ঘটে কাফের অবস্থায়।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে তাদের নাপাকীর উপর আরো নাপাকী বাড়িয়ে দেয় (প্রতিটি নতুন সূরা), আর তাদের মৃত্যু হয় কাফির অবস্থায়।




আহসানুল বায়ান: (১২৫) পক্ষান্তরে যাদের অন্তরে রোগ রয়েছে, এই সূরা তাদের অপবিত্রতার সাথে আরো অপবিত্রতা বর্ধিত করেছে এবং তারা কাফের অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করেছে। [1]



মুজিবুর রহমান: কিন্তু যাদের অন্তরসমূহে ব্যাধি রয়েছে, এই সূরা তাদের মধ্যে তাদের কলুষতার সাথে আরও কলুষতা বর্ধিত করেছে, আর তাদের কুফরী অবস্থায়ই মৃত্যু হয়েছে।



ফযলুর রহমান: পক্ষান্তরে যাদের অন্তরে (অবিশ্বাসের) ব্যাধি আছে, এই সূরা তাদের (অন্তরের) পঙ্কিলতার সাথে আরো পঙ্কিলতা বৃদ্ধি করে এবং তারা কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে।



মুহিউদ্দিন খান: বস্তুতঃ যাদের অন্তরে ব্যাধি রয়েছে এটি তাদের কলুষের সাথে আরো কলুষ বৃদ্ধি করেছে এবং তারা কাফের অবস্থায়ই মৃত্যু বরণ করলো।



জহুরুল হক: আর তাদের ক্ষেত্রে যাদের অন্তরে রয়েছে ব্যাধি, -- এ তখন তাদের কলুষতার সঙ্গে কলুষতা তাদের জন্য বাড়িয়ে তোলে, আর তারা প্রাণত্যাগ করে, আর তারা রয়ে যায় অবিশ্বাসী।



Sahih International: But as for those in whose hearts is disease, it has [only] increased them in evil [in addition] to their evil. And they will have died while they are disbelievers.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১২৫. আর যাদের অন্তরে ব্যাধি আছে, এটা তাদের কলুষের সাথে আরো কলুষ যুক্ত করে। আর তাদের মৃত্যু ঘটে কাফের অবস্থায়।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১২৫) পক্ষান্তরে যাদের অন্তরে রোগ রয়েছে, এই সূরা তাদের অপবিত্রতার সাথে আরো অপবিত্রতা বর্ধিত করেছে এবং তারা কাফের অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করেছে। [1]


তাফসীর:

[1] অন্তরে রোগের অর্থ হল মুনাফিকি এবং আল্লাহর আয়াত বিষয়ে সন্দেহ। (আল্লাহ তাআলা) বলেন, এই সূরাসমূহ মুনাফিকদেরকে তাদের মুনাফিকি ও অপবিত্রতা আরো বৃদ্ধি করে এবং তারা নিজেদের কুফরী ও মুনাফিকিতে এমন সুদৃঢ় হয়ে যায় যে, তাদের ভাগ্যে তওবা করার সুযোগই লাভ হয় না। ফলে কুফরীর উপরেই তাদের মৃত্যু ঘটে। যেমন আল্লাহ তাআলা অন্য স্থানে বলেছেন, ‘‘আমি অবতীর্ণ করি কুরআন, যা বিশ্বাসীদের জন্য আরোগ্য ও করুণা, কিন্তু তা সীমালংঘনকারীদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে।’’ (বানী ইস্রাঈলঃ ৮২) এটা ঠিক তাদের চূড়ান্ত দুর্ভাগ্য যে, যে জিনিস দ্বারা মানুষের অন্তর হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়, সেই জিনিসই তাদের ভ্রষ্টতা ও ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যেমন কোন ব্যক্তির স্বাস্থ্য ও পেট খারাপ থাকলে, যে খাবার দ্বারা মানুষ শক্তি ও সুস্বাদ গ্রহণ করে, সেই খাবার সেই ব্যক্তির রোগ বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১২৪-১২৭ নং আয়াতের তাফসীর:



মুনাফিকদের ব্যাপারে সূরা তাওবার এটা সর্বশেষ আলোচনা। বিধি-বিধান সম্বলিত কুরআনের কোন সূরা অবতীর্ণ হলে মুনাফিকরা কী বলে এবং তাদের অন্তরের কী অবস্থা হয় আর মু’মিনদের কী অবস্থা হয় এখানে সে সম্পর্কে আলোচনা তুলে ধরা হয়েছে। যখন পবিত্র কুরআনের কোন সূরা অবতীর্ণ হয় তখন মুনাফিকরা বলে, এটা কি কারো ঈমান বৃদ্ধি করবে? মূলত: আল্লাহ তা‘আলার বাণী শুনে মু’মিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায় আর মুনাফিকদের অন্তরের ব্যাধি আরো বেড়ে যায়।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(قُلْ ھُوَ لِلَّذِیْنَ اٰمَنُوْا ھُدًی وَّشِفَا۬ئٌﺚ وَالَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ فِیْٓ اٰذَانِھِمْ وَقْرٌ وَّھُوَ عَلَیْھِمْ عَمًیﺚ اُولٰ۬ئِکَ یُنَادَوْنَ مِنْ مَّکَانٍۭ بَعِیْدٍ)



“বল: মু’মিনদের জন্য এটা পথ-নির্দেশ ও ব্যাধির প্রতিকার; কিন্তু যারা অবিশ্বাসী তাদের কর্ণে রয়েছে বধিরতা এবং কুরআন হবে তাদের জন্য অন্ধত্ব। তারা এমন যে, যেন তাদেরকে আহ্বান করা হয় বহু দূর হতে।” (হা-মীম সিজদাহ ৪১:৪৪)



তারপর আল্লাহ তা‘আলা মুনাফিকদেরকে ভর্ৎসনার সাথে প্রশ্ন করে জিজ্ঞেস করছেন; তারা কি দেখে না যে, প্রতি বছর দু’একবার বিভিন্ন বালা-মুসিবত ও দুর্যোগ দিয়ে তাদেরকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবুও তারা তাওবাহ করে না?



এ সকল মুনাফিকদের উপস্থিতিতে কোন সূরা অবতীর্ণ হলে ঠাট্টা ও অস্বীকারবশতঃ একজন অপরজনের প্রতি চোখের মাধ্যমে ইশারা করত। কারণ এতে এমন কিছু নাযিল হয়েছে যাতে তাদের দোষ-ত্র“টির বর্ণনা করা হয়েছে।



অতঃপর তারা বলতঃ যদি তোমরা উঠে চলে যাও তাহলে কি কেউ দেখবে? যদি না দেখে তাহলে লাঞ্ছনার ভয়ে তারা নাবী (সাঃ)-এর কাছ থেকে উঠে চলে যেত । (তাফসীর মুয়াসসার, পৃঃ ২০৭)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আনুগত্য করার মাধ্যমে মু’মিনদের ঈমান বৃদ্ধি পায় ও অবাধ্য কাজে লিপ্ত হলে কমে যায়।

২. ঈমান ও সৎ আমল করে আনন্দিত হওয়া বৈধ।

৩. অন্তরের ব্যাধির কোন চিকিৎসা নেই, তবে যদি আল্লাহ তা‘আলা আরোগ্য দান করেন।

৪. মুনাফিকরা বিশ্বাসে ও আমলে কাফিরদের চেয়েও জঘন্য।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১২৪-১২৫ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা বলেন, যখন এই সূরা অবতীর্ণ হয় তখন মুনাফিকরা একে অপরকে বলে-আচ্ছা, এই সূরাটি মুসলিমদের মধ্যে এমন কোন অতিরিক্ত ঈমান এবং অতিরিক্ত সৌন্দর্য সৃষ্টি করলো? তাদের এই প্রশ্নের উত্তরে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ হ্যাঁ, হ্যা, নিশ্চয়ই মুসলিমদের মধ্যে অধিক ঈমান সৃষ্টি হয়েছে। আর তারা এতে খুশীও হয়েছে।

এই আয়াতটি এই ব্যাপারে বড় দলীল যে, ঈমান বাড়ে এবং কমে। এটা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অধিকাংশ আলেমের মাযহাব। এমন কি অধিকাংশের উক্তি এই যে, এই ইতেকাদ বা বিশ্বাসের উপর উম্মতের ইজমা হয়েছে। শারহে বুখারীর শুরুতে এই মাসআলার উপর দীর্ঘ আলোচনা করা হয়েছে।

কিন্তু যাদের অন্তরে পীড়া রয়েছে, এই আয়াতের মাধ্যমে তাদের সন্দেহ আরো বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। যেমন অন্য জায়গায় আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি যা হচ্ছে (অন্তর রোগের) শিফা।” (১৭:৮২) আর এক জায়গায় তিনি বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে নবী (সঃ)! তুমি মুমিনদেরকে বলে দাও যে, কুরআন হচ্ছে ঈমানদারদের জন্যে হিদায়াত ও শিফা। আর যারা ঈমান আনে না, (কুরআনের দিক থেকে) তাদের কানে বধিরতা রয়েছে, তাদের চক্ষুগুলো অন্ধ হয়ে আছে, তাদেরকে যেন এতো দূর থেকে ডাকা হচ্ছে যে, তারা শুনতে পাচ্ছে না।” (৪১:৪৪) এটা কতই না দুর্ভাগ্যের কথা যে, যে জিনিস অন্তরের হিদায়াতের যোগ্যতা রাখে, সেটাই তাদের পথভ্রষ্টতা ও ধ্বংসের কারণ হয়ে যায়। যেমন রুগ্ন ব্যক্তিকে ভাল খাবার দিলেও তা তার ক্ষতি সাধনই করে থাকে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।