সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 107)
হরকত ছাড়া:
والذين اتخذوا مسجدا ضرارا وكفرا وتفريقا بين المؤمنين وإرصادا لمن حارب الله ورسوله من قبل وليحلفن إن أردنا إلا الحسنى والله يشهد إنهم لكاذبون ﴿١٠٧﴾
হরকত সহ:
وَ الَّذِیْنَ اتَّخَذُوْا مَسْجِدًا ضِرَارًا وَّ کُفْرًا وَّ تَفْرِیْقًۢا بَیْنَ الْمُؤْمِنِیْنَ وَ اِرْصَادًا لِّمَنْ حَارَبَ اللّٰهَ وَ رَسُوْلَهٗ مِنْ قَبْلُ ؕ وَ لَیَحْلِفُنَّ اِنْ اَرَدْنَاۤ اِلَّا الْحُسْنٰی ؕ وَ اللّٰهُ یَشْهَدُ اِنَّهُمْ لَکٰذِبُوْنَ ﴿۱۰۷﴾
উচ্চারণ: ওয়াল্লাযীনাত তাখাযূ মাছজিদান দিরা-রাওঁ ওয়া কুফরাওঁ ওয়া তাফরীকাম বাইনাল মু’মিনীনা ওয়া ইরসা-দাল লিমান হা-রাবাল্লা-হা ওয়া রাছূলাহূমিন কাবলু ওয়ালাইয়াহলিফুন্না ইন আরাদনাইল্লাল হুছনা- ওয়াল্লা-হু ইয়াশহাদুইন্নাহুম লাকাযিবূন।
আল বায়ান: আর যারা মসজিদ বানিয়েছে ক্ষতিসাধন, কুফরী ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং ইতঃপূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যে লড়াই করেছে তার ঘাঁটি হিসেবে। আর তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, ‘আমরা কেবল ভাল চেয়েছি’। আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৭. আর যারা মসজিদ নির্মাণ করেছে ক্ষতিসাধন(১), কুফর ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং এর আগে আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যে লড়াই করেছে তার গোপন ঘাঁটিস্বরূপ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে(২), আর তারা অবশ্যই শপথ করবে, আমরা কেবল ভালো চেয়েছি; আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, অবশ্যই তারা মিথ্যাবাদী।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর যারা মাসজিদ তৈরী করেছে ক্ষতিসাধন, কুফুরী আর মু’মিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশে, আর যে ব্যক্তি ইতোপূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে তার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের নিমিত্তে, তারা অবশ্য অবশ্যই শপথ করবে যে, আমাদের উদ্দেশ্য সৎ ব্যতীত নয়। আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
আহসানুল বায়ান: (১০৭) আর কেউ কেউ এমন আছে, যারা ক্ষতি সাধন করার উদ্দেশ্যে, কুফরী করার উদ্দেশ্যে, বিশ্বাসীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এবং যে ব্যক্তি ইতিপূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তার ঘাঁটিস্বরূপ (একটি নতুন) মসজিদ নির্মাণ করেছে।[1] তারা অবশ্যই শপথ করে বলবে, ‘মঙ্গল ভিন্ন আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য নেই।’ আর আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, অবশ্যই তারা মিথ্যাবাদী।[2]
মুজিবুর রহমান: আর কেহ কেহ এমন আছে যারা এ উদ্দেশে মাসজিদ নির্মাণ করেছে যেন তারা (ইসলামের) ক্ষতি সাধন করে এবং কুফরী কথাবার্তা বলে, আর মু’মিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে, আর ঐ ব্যক্তির অবস্থানের ব্যবস্থা করে যে এর পূর্ব হতেই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরোধী, আর তারা শপথ করে বলবে, মঙ্গল ভিন্ন আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য নেই; আর আল্লাহ সাক্ষী আছেন যে, তারা সম্পূর্ণ মিথ্যাবাদী।
ফযলুর রহমান: আর যারা ক্ষতিসাধনকল্পে, কুফরির তাড়নায়, মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির অভিলাষে এবং ইতিপূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধকারীদের জন্য ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে একটি মসজিদ (মসজিদে দিরার) বানিয়েছে (তাদের সম্পর্কে সাবধান থাকবে); তারা নিশ্চয়ই শপথ করে বলবে, “আমাদের উদ্দেশ্য তো ভাল”; তবে আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন, তারা মিথ্যুক।
মুহিউদ্দিন খান: আর যারা নির্মাণ করেছে মসজিদ জিদের বশে এবং কুফরীর তাড়নায় মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃস্টির উদ্দেশ্যে এবং ঐ লোকের জন্য ঘাটি স্বরূপ যে পূর্ব থেকে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে যুদ্ধ করে আসছে, আর তারা অবশ্যই শপথ করবে যে, আমরা কেবল কল্যাণই চেয়েছি। পক্ষান্তরে আল্লাহ সাক্ষী যে, তারা সবাই মিথ্যুক।
জহুরুল হক: আর যারা একটি মসজিদ স্থাপন করলো ক্ষতিসাধনের ও অবিশ্বাসের জন্য, আর বিশ্বাসীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে, আর তার ঘাঁটি স্বরূপ যে এর আগে আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে লড়াই করছিল, তারা নিশ্চয়ই হলফ করে বলবে -- "আমরা তো চেয়ছিলাম শুধু ভালো।" কিন্তু আল্লাহ্ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে তারা তো আলবৎ মিথ্যাবাদী।
Sahih International: And [there are] those [hypocrites] who took for themselves a mosque for causing harm and disbelief and division among the believers and as a station for whoever had warred against Allah and His Messenger before. And they will surely swear, "We intended only the best." And Allah testifies that indeed they are liars.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১০৭. আর যারা মসজিদ নির্মাণ করেছে ক্ষতিসাধন(১), কুফর ও মুমিনদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এবং এর আগে আল্লাহ ও তার রাসূলের বিরুদ্ধে যে লড়াই করেছে তার গোপন ঘাঁটিস্বরূপ ব্যবহারের উদ্দেশ্যে(২), আর তারা অবশ্যই শপথ করবে, আমরা কেবল ভালো চেয়েছি; আর আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, অবশ্যই তারা মিথ্যাবাদী।
তাফসীর:
(১) মদীনায় আবু আমের নামের এক ব্যক্তি জাহেলী যুগে নাসারা ধর্ম গ্রহণ করে আবু ’আমের পাদ্রী নামে খ্যাত হলো। তার পুত্র ছিলেন বিখ্যাত সাহাবী হানযালা রাদিয়াল্লাহু আনহু যার লাশকে ফেরেশতাগণ গোসল দিয়েছিলেন। কিন্তু পিতা নিজের গোমরাহী ও নাসারাদের দ্বীনের উপরই ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে মদীনায় উপস্থিত হলে আবু আমের তার কাছে উপস্থিত হয় এবং ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উত্থাপন করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার অভিযোগের জবাব দান করেন। কিন্তু তাতে সেই হতভাগার সান্তনা আসলো না।
তদুপরি সে বলল, আমরা দু'জনের মধ্যে যে মিথুক সে যেন অভিশপ্ত ও আত্মীয় স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মৃত্যুবরণ করে। সে একথাও বলল যে, আপনার যে কোন প্রতিপক্ষের সাহায্য আমি করে যাবো। সে মতে হুনাইন যুদ্ধ পর্যন্ত সকল রণাঙ্গনে সে মুসলিমদের বিপরীতে অংশ নেয়। হাওয়াযেনের মত সুবৃহৎ শক্তিশালী গোত্রও যখন মুসলিমদের কাছে পরাজিত হলো, তখন সে নিরাশ হয়ে সিরিয়ায় চলে গেল। [বাগভী] কারণ, তখন এটি ছিল নাসারাদের কেন্দ্রস্থল।
এ ষড়যন্ত্রের শুরুতে সে মদীনার পরিচিত মুনাফিকদের কাছে চিঠি লিখে যে, “রোম সম্রাট কর্তৃক মদীনা অভিযানের চেষ্টায় আমি আছি। কিন্তু যথা সময় সম্রাটের সাহায্য হয় এমন কোন সম্মিলিত শক্তি তোমাদের থাকা চাই। এর পন্থা হলো এই যে, তোমরা মদীনায় মসজিদের নাম দিয়ে একটি গৃহ নিৰ্মাণ কর, যেন মুসলিমদের অন্তরে কোন সন্দেহ না আসে। তারপর সে গৃহে নিজেদের সংগঠিত কর এবং যতটুকু সম্ভব যুদ্ধের সাজ-সরঞ্জাম সংগ্রহ করে সেখানে রাখ এবং পারস্পরিক আলোচনা ও পরামর্শের পর মুসলিমদের বিরুদ্ধে কর্মপন্থা গ্রহণ কর। তারপর আমি রোম সম্রাটকে নিয়ে এসে মুহাম্মাদ ও তার সাথীদের উৎখাত করব।” [তাবারী]
তার এ পত্রের ভিত্তিতে বার জন মুনাফিক মদীনার কুবা মহল্লায়, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করে এসে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন- সেখানে সে মুনাফিকরা আরেকটি মসজিদের ভিত্তি রাখল। [ইবন হিশাম, কুরতুবী; ইবন কাসীর প্রমুখ ঐতিহাসিক ও মুফাসসিরগণ এ বার জনের নাম উল্লেখ করেছেন] তারপর তারা মুসলিমদের প্রতারিত করার উদ্দেশ্যে সিদ্ধান্ত নিল যে, স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দ্বারা এক ওয়াক্ত সালাত সেখানে পড়াবে।
এতে মুসলিমগণ নিশ্চিত হবে যে, পুর্বনির্মিত মসজিদের মত এটিও একটি মসজিদ। এ সিদ্ধান্ত মতে তাদের এক প্রতিনিধিদল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে হাযির হয়ে আরয করে যে, কুবার বর্তমান মসজিদটি অনেক ব্যবধানে রয়েছে। দূর্বল ও অসুস্থ লোকদের সে পর্যন্ত যাওয়া দুষ্কর। এছাড়া মসজিদটি এমন প্রশস্তও নয় যে, এলাকার সকল লোকের সংকুলান হতে পারে। তাই আমরা দুর্বল লোকদের সুবিধার্থে অপর একটি মসজিদ নির্মাণ করেছি। আপনি যদি তাতে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করেন, তবে আমরা ধন্য হব। [বাগভী; ইবন কাসীর]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাবুক যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, এখন সফরের প্রস্তুতিতে আছি। ফিরে এসে সালাত আদায় করব। কিন্তু তাবুক যুদ্ধ থেকে ফেরার পথে যখন তিনি মদীনার নিকটবর্তী এক স্থানে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তখন মসজিদে দ্বিরার সম্পর্কিত এই আয়াতগুলো নাযিল হয়। এতে মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র ফাঁস করে দেয়া হল। আয়াতগুলো নাযিল হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কতিপয় সাহাবীকে এ হুকুম দিয়ে পাঠালেন যে, এক্ষুণি গিয়ে কথিত মসজিদটি ধ্বংস কর এবং আগুন লাগিয়ে এসো। আদেশমতে তারা গিয়ে মসজিদটি সমুলে ধ্বংস করে মাটিতে মিশিয়ে দিয়ে আসলেন। [বাগভী; সীরাতে ইবন হিশাম; ইবন কাসীর]
(২) এখানে এ মাসজিদ নির্মাণের মোট চারটি উদ্দেশ্য উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথমতঃ মুসলিমদের ক্ষতিসাধন। দ্বিতীয়তঃ কুফরী করার জন্য, তৃতীয়তঃ মুসলিমদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টি করা। চতুর্থতঃ সেখানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের শক্ৰদের আশ্রয় মিলবে যেন আবু আমের আর রাহেব এবং তারা বসে বসে ষড়যন্ত্র পাকাতে পারবে। [মুয়াস্সার]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১০৭) আর কেউ কেউ এমন আছে, যারা ক্ষতি সাধন করার উদ্দেশ্যে, কুফরী করার উদ্দেশ্যে, বিশ্বাসীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এবং যে ব্যক্তি ইতিপূর্বে আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তার ঘাঁটিস্বরূপ (একটি নতুন) মসজিদ নির্মাণ করেছে।[1] তারা অবশ্যই শপথ করে বলবে, ‘মঙ্গল ভিন্ন আমাদের আর কোন উদ্দেশ্য নেই।’ আর আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, অবশ্যই তারা মিথ্যাবাদী।[2]
তাফসীর:
[1] এই আয়াতে মুনাফিক্বদের আরো একটি অত্যন্ত নোংরা ষড়যন্ত্রের কথা বর্ণিত হয়েছে। আর তা হলঃ- তারা একটি মসজিদ নির্মাণ করে (কুরআন উক্ত মসজিদটিকে ‘মাসজিদু য্বিরার’ নামে অভিহিত করেছে)। তারা নবী (সাঃ)-কে বুঝাতে চায় যে, বৃষ্টি, ঠান্ডা ইত্যাদির সময়ে দুর্বল ও অসুস্থ লোকদের দূরে (মসজিদে ক্বুবায়) যেতে বড় কষ্ট হয়। ফলে তাদের সুবিধার্থে আমরা অপর একটি মসজিদ নির্মাণ করেছি। আপনি সেখানে গিয়ে নামায পড়েন, যাতে আমরা বরকত লাভে ধন্য হই। নবী (সাঃ) তখন তাবুক অভিযানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। তিনি যুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পর নামায পড়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। কিন্তু ফিরার পথে আল্লাহ তাআলা অহী দ্বারা মুনাফিকদের প্রকৃত উদ্দেশ্য ফাঁস করে দিলেন। তাঁকে সতর্ক করে দেওয়া হল যে, আসলে এই মসজিদ তারা মুসলিমদের ক্ষতিসাধন, কুফরীর প্রচার, মুসলিমদের মাঝে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের শত্রুদের জন্য আশ্রয়স্থল বানাবার উদ্দেশ্যে নির্মাণ করেছে।
[2] অর্থাৎ, মিথ্যা শপথ করে তারা নবী (সাঃ)-কে প্রতারিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাদের চক্রান্ত ও প্রতারণা থেকে রক্ষা করলেন এবং বলে দিলেন যে, এদের উদ্দেশ্য সৎ নয় এবং তারা যা প্রকাশ করছে তাতে তারা মিথ্যুক।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১০৭-১১০ নং আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতে মুনাফিকদের একটি অত্যন্ত নোংরা ষড়যন্ত্রের কথা বর্ণিত হয়েছে। তা হল, তারা একটি মাসজিদ নির্মাণ করে। কুরআন উক্ত মাসজিদকে “মাসজিদে যিরার” নামে অভিহিত করেছে। তারা নাবী (সাঃ)-কে বলে: বৃষ্টি, ঠাণ্ডা ইত্যাদির কারণে দুর্বল ও অসুস্থ লোকেদের দূরে (মাসজিদে কুবায়) যেতে বড় কষ্ট হয়। তাদের সুবিধার্থে একটি মাসজিদ নির্মাণ করেছি। যদি সেখানে গিয়ে সালাত আদায় করে আপনি উদ্বোধন করে দিতেন তাহলে আমরা বরকত লাভে ধন্য হতাম। নাবী (সাঃ) তখন তাবুক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে সালাত আদায় করে উদ্বোধনের প্রতিশ্র“তি দিলেন। কিন্তু ফিরার পথে আল্লাহ তা‘আলা ওয়াহী দ্বারা মুনাফিকদের অসৎ উদ্দেশ্যের কথা ফাঁস করে দিলেন।
মূলত এ মাসজিদ নির্মাণ করেছে মুসলিমদের ক্ষতিসাধন, কুফরীর প্রচার ও বিভেদ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে। তারা মিথ্যা শপথ করে নাবী (সাঃ)-কে প্ররোচিত করতে চেয়েছিল। আল্লাহ তা‘আলা তাকে তাদের চক্রান্ত ও প্রতারণা থেকে রক্ষার্থে সে মাসজিদে সালাত আদায় করতে নিষেধ করলেন। আর যে মাসজিদ তাক্বওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত সেখানে সালাত আদায় করার উৎসাহ দিলেন।
(لَمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَي التَّقْوٰي)
‘যে মাসজিদের ভিত্তি প্রথম দিন হতেই স্থাপিত হয়েছে তাক্ওয়ার ওপর’- প্রথম দিনই যে মাসজিদ তাক্বওয়ার ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেটা কোন্টি তা নিয়ে একাধিক মত পাওয়া যায়।
কেউ কেউ বলেন: এটা মাসজিদে কুবা, আবার কেউ বলেন: এটা মাসজিদে নববী, সালাফদের কেউ বলেছেন: উভয়টিই উদ্দেশ্য। ইমাম ইবনু কাসীর (রাঃ) বলেন: যদি এ আয়াত দ্বারা মাসজিদে কুবা উদ্দেশ্য হয় তবে কতিপয় হাদীস দ্বারা মাসজিদে নববীকেও
(أُسِّسَ عَلَي التَّقْوٰي)
বলে সমর্থন করা হয়েছে। উভয়ের মাঝে কোন বৈপরিত্য নেই। কারণ মাসজিদে কুবা যদি এ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয় তবে মাসজিদে নববী তো আরো বেশি মর্যাদার অধিকারী। মাসজিদে কুবার ফযীলত হিসেবে নাবী (সাঃ) বলেন: মাসজিদে কুবায় সালাত আদায় করা উমরা করার মত। (ইবনু মাযাহ হা: ১৪১১, হাকিম: ১/৪৮৭, গ্রহণযোগ্য)।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মাসজিদে কুবায় আরোহণ করে ও পায়ে হাঁটা অবস্থায় যিয়ারত করতেন। (সহীহ মুসলিম হা: ৫১৫, সহীহ বুখারী হা: ১১৯৩)
(فِيْهِ رِجَالٌ يُّحِبُّوْنَ أَنْ يَّتَطَهَّرُوْا وَاللّٰهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِيْنَ)
‘তথায় এমন লোক আছে যারা পবিত্রতা অর্জন ভালবাসে এবং পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে আল্লাহ ভালবাসেন।’ আয়াতটি কুবাবাসীর ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। তারা যথাসম্ভব পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করত যার কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রশংসা করেছেন (আবূ দাঊদ হা: ৪৪, তিরমিযী হা: ৩১০০, সনদ সহীহ)
অনেকে মনে করে তারা ঢিলা ব্যবহার করতেন, সাথে পানিও ব্যবহার করতেন- এ কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাদের প্রশংসা করেছেন। এটা ভুল ধারণা। বরং তারা পানি থাকতে ঢিলা ব্যবহার করতেন না। প্রয়োজনে খাবার পানি ইস্তিঞ্জার জন্য ব্যবহার করতেন।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা মু’মিন ও মুনাফিকদের একটি দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন এমনভাবে যে, এক ব্যক্তি তার ইমারত স্থাপন করেছেন, আল্লাহ-ভীতি ও তাঁর সন্তুষ্টির ওপর। এ ব্যক্তি উত্তম না যে তার ইমারত স্থাপন করেছে পতনমুখী গর্তের কিনারায়। অতঃপর তা তাকে নিয়ে জাহান্নামের আগুনে পতিত হয়? সেই মুনাফিকদের মাসজিদ নির্মাণের কাজও অনুরূপ, অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত তাদের এসব কাজ জাহান্নামে পতিত হবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কোন মাসজিদ নির্মাণের দ্বারা মুসলিমদের ক্ষতিসাধন ও ঐক্য বিনষ্ট উদ্দেশ্য হয় তাহলে তাতে সালাত আদায় করা নিষেধ। এমন মাসজিদ ভেঙ্গে ফেলা ওয়াজিব।
২. সৎ আমলে যদি খারাপ নিয়ত থাকে তাহলে তা প্রত্যাখ্যাত।
৩. যে কোন পন্থায় মুসলিমদের মাঝে দল-উপদল সৃষ্টি করা হারাম।
৪. যে জায়গায় মুর্তিপূজা করা হয় বা আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য কাজ করা হয় সেখানে ইবাদত করা হারাম যদিও আল্লাহ তা‘আলার উদ্দেশ্যে সে ইবাদত করা হয়।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১০৭-১০৮ নং আয়াতের তাফসীর:
এই আয়াতগুলোর শানে নুযূল (অবতীর্ণ হওয়ার কারণ) এই যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মদীনায় আগমনের পূর্বে সেখানে খাযরাজ গোত্রের একটি পোর্ক বাস করতো যার নাম ছিল আবু আমির রাহিব । অজ্ঞতার যুগে সে খ্রীষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিল এবং আহলে কিতাবের জ্ঞান লাভ করেছিল। জাহিলিয়াতের যুগে সে। বড় আবিদ লোক ছিল। নিজের গোত্রের মধ্যে সে খুব মর্যাদা লাভ করেছিল। নবী (সঃ) যখন হিজরত করে মদীনায় আসেন এবং মুসলিমরা তাঁর কাছে একত্রিত হতে শুরু করে ও ইসলামের উন্নতি সাধিত হয় এবং বদরের যুদ্ধে আল্লাহ তাআলা মুসলিমদেরকে জয়যুক্ত করেন, তখন এটা আবু আমিরের কাছে খুবই কঠিন বোধ হয়। সুতরাং সে খোলাখুলিভাবে ইসলামের প্রতি শ্রঞতা প্রকাশ করতে শুরু করে এবং মদীনা হতে পলায়ন করে মক্কার কাফির ও মুশরিক। কুরায়েশদের সাথে মিলিত হয়। তাদেরকে সে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে উদ্বুদ্ধ করে। ফলে আরবের সমস্ত গোত্র একত্রিত হয় এবং উহুদ যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। অবশেষে যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং মুসলিমদের উপর যে বিপদ ও কষ্ট পৌছার ছিল তা পৌঁছে যায়। মহা মহিমান্বিত আল্লাহ এই যুদ্ধে মুসলিমদেরকে পরীক্ষা করেন। তবে পরিণাম ফল তো আল্লাহভীরুদের জন্যেই বটে। এ পাপাচারী (আবু আমির) উভয় দিকের সারির মাঝে কয়েকটি গর্ত খনন করে রেখেছিল। একটি গর্তে রাসূলুল্লাহ (সঃ) পড়ে যান এবং আঘাতপ্রাপ্ত হন। তার চেহারা মুবারক যখম হয়ে যায় এবং নীচের দিকের সামনের চারটি দাঁত ভেঙ্গে যায়। তাঁর পবিত্র মস্তকও যখম হয়। যুদ্ধের শুরুতে আবু আমির তার কওম আনসারের দিকে অগ্রসর হয়ে তাদেরকে সম্বোধন করে তাকে সাহায্য সহযোগিতার জন্যে দাওয়াত দেয়। যখন আনসারগণ আবৃ আমিরের এসব কার্যকলাপ লক্ষ্য করলেন তখন তারা তাকে বললেনঃ “ওরে নরাধম ও পাপাচারী! ওরে আল্লাহর শত্রু! আল্লাহ তোকে ধ্বংস করুন!” এভাবে তারা তাকে গালি দেন। ও মর্যাদা ক্ষুন্ন করেন। তখন সে বলেঃ “আমার পরে আমার কওম আরো বিগড়ে গেছে।” এ কথা বলে সে ফিরে যায়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে তার মদীনা হতে পলায়নের পূর্বে ইসলামের দাওয়াত দিয়েছিলেন এবং কুরআনের অহী শুনিয়েছিলেন। কিন্তু সে ইসলাম গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় এবং ইসলামের বিরুদ্ধাচরণ করে। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তার প্রতি বদ দুআ' দেন যে, সে যেন নির্বাসিত হয় এবং বিদেশেই যেন সে মৃত্যুবরণ করে। এই বদ দুআ তার প্রতি কার্যকরী হয়ে যায় এবং এটা এভাবে সংঘটিত হয় যে, জনগণ যখন উহুদ যুদ্ধ শেষ করলো এবং সে লক্ষ্য করলো যে, ইসলাম দিন দিন উন্নতির দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে তখন সে রোমক সম্রাট হিরাক্লিয়াসের কাছে গমন করলো এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর বিরুদ্ধে তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করলো। সম্রাট তাকে সাহায্য করার অঙ্গীকার করলো। সে তার আশা পূর্ণ হতে দেখে হিরাক্লিয়াসের কাছেই অবস্থান করলো। সে তার কওম আনসারদের মধ্যকার মুনাফিকদেরকে এ বলে মক্কা পাঠিয়ে দিলোঃ “আমি সেনাবাহিনী নিয়ে আসছি। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে ভীষণ যুদ্ধ সংঘটিত হবে। আমরা তার উপর জয়যুক্ত হবো এবং ইসলামের পূর্বে তার অবস্থা যেমন ছিল তিনি ঐ অবস্থাতেই ফিরে যাবেন।”
সে ঐ মুনাফিকদের কাছে চিঠি লিখলো যে, তারা যেন তার জন্যে একটা আশ্রয়স্থান নির্মাণ করে রাখে। আর যেসব দূত তার নির্দেশনামা নিয়ে যাবে তাদের জন্যেও যেন অবস্থানস্থল ও নিরাপদ জায়গা বানানো হয়, যাতে সে নিজেও যখন যাবে তখন সেটা গুপ্ত অবস্থান রূপে কাজ দেয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঐ মুনাফিকরা মসজিদে কুবার নিকটেই আর একটি মসজিদের ভিত্তি স্থাপন করে এবং ওটাকে পাকা করে নির্মাণ করে। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর তাবুক অভিমুখে বের হওয়ার পূর্বেই তারা ওর নির্মাণ কার্য শেষ করে ফেলে। অতঃপর তারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে এসে আবেদন করেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনি আমাদের ওখানে চলুন এবং আমাদের মসজিদে সালাত পড়ুন, যাতে এই সনদ হয়ে যায় যে, এই মসজিদটি স্বীয় স্থানে অবস্থানযোগ্য এবং এতে আপনার সমর্থন রয়েছে। তাঁর সামনে তারা বর্ণনা করে যে, দুর্বল লোকদের জন্যেই তারা এই মসজিদটি নির্মাণ করেছে এবং ঠাণ্ডার। রাত্রিতে যেসব রোগগ্রস্ত লোক দূরের মসজিদে যেতে অক্ষম হবে তাদের পক্ষে এই মসজিদে আসা সহজ হবে, এই উদ্দেশ্যেই তারা মসজিদটি নির্মাণ করেছে। কিন্তু আল্লাহ তা'আলা তো স্বীয় নবী (সঃ)-কে ঐ মসজিদে সালাত আদায় করা থেকে রক্ষা করতে চাচ্ছিলেন। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদেরকে বললেনঃ “এখন তো আমরা সফরে বের হওয়ার জন্যে ব্যস্ত রয়েছি, ফিরে আসলে আল্লাহ চান তো দেখা যাবে।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন তালূক হতে মদীনার দিকে প্রত্যাবর্তন করেন এবং মদীনায় পৌছতে একদিনের পথ বাকী থাকে বা তার চেয়ে কিছু কম, তখন জিবরাঈল (আঃ) মসজিদে যিরারের খবর নিয়ে তার কাছে হাযির হন এবং মুনাফিকদের গোপন তথ্য প্রকাশ করে দেন যে, মসজিদে কুবার নিকটে আর একটি মসজিদ নির্মাণ করে মুসলিমদের দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করাই হচ্ছে ঐ কাফির ও মুনাফিকদের আসল উদ্দেশ্য। মসজিদে কুবা হচ্ছে এমন এক মসজিদ যার ভিত্তি প্রথমদিন হতেই তাওয়ার উপর স্থাপিত হয়েছে।
এটা জানার পর নবী (সঃ) মদীনা পৌছার পূর্বেই কতকগুলো লোককে মসজিদে যিরার বিধ্বস্ত করার জন্যে পাঠিয়ে দেন। যেমন আলী ইবনে আবি তালহা (রাঃ) এই আয়াতের তাফসীরে ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করে বলেন যে, তারা ছিল আনসারের লোক যারা একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিল এবং আবৃ আমির তাদেরকে বলেছিলঃ “তোমরা একটি মসজিদ নির্মাণ কর এবং সম্ভব মত সেখানে অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধের আসবাবপত্র লুকিয়ে রাখো, আর ওটাকে আশ্রয়স্থল ও গুপ্তস্থান বানিয়ে দাও। কেননা আমি রোমক বাদশাহর নিকট যাচ্ছি। রোম থেকে আমি সৈন্য-সামন্ত নিয়ে আসবো এবং মুহাম্মাদ (সঃ) ও তাঁর সঙ্গী সাথীদেরকে মদীনা হতে বের করে দেবো।” সুতরাং মুনাফিকরা মসজিদে যিরারের নির্মাণ কার্য সমাপ্ত করে নবী (সঃ)-এর দরবারে হাযির হয় এবং আবেদন করেঃ “আমাদের আন্তরিক ইচ্ছা এই যে, আপনি আমাদের মসজিদে গিয়ে সালাত পড়বেন এবং আমাদের জন্যে বরকতের দুআ করবেন।” তখন মহামহিমান্বিত আল্লাহ (আরবী) হতে (আরবী) পর্যন্ত আয়াত অবতীর্ণ করেন।
মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রঃ) ইসনাদসহ এই রিওয়ায়াত করেছেন যে, নবী (সঃ) তাবক হতে ফিরার পথে “যীরাওমান” নামক স্থানে অবতরণ করেন । মদীনা এখান থেকে কয়েক ঘন্টার পথ। নবী (সঃ) যখন তাবূকের সফরের জন্যে প্রস্তুতি গ্রহণে ব্যস্ত ছিলেন সেই সময় মসজিদে যিরারের নির্মাণকারীরা তাঁর কাছে এসে বলেছিলঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমরা রুগ্ন, অভাবী এবং বর্ষা ও ঠাণ্ডার রাত্রে আগমনকারী মুসলিম জামাআতের উপকারার্থে একটি মসজিদ নির্মাণ করেছি। আমরা চাই যে, আপনি সেখানে তাশরীফ এনে আমাদেরকে নামায পড়াবেন। তিনি তাদেরকে বলেছিলেনঃ “এখন তো সফর যাত্রায় খুবই ব্যস্ত রয়েছি।” অথবা তিনি বলেছিলেনঃ “ফিরে আসার পর ইনশাআল্লাহ আমি তোমাদের ওখানে যাবো এবং তোমাদের সাথে সালাত আদায় করব।” সুতরাং যখন তিনি তাবুক হতে মদীনায় ফিরবার পথে “যীরওমান” নামক স্থানে অবতরণ করেন তখন তিনি আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে ঐ মসজিদে যিরারের খবর পান। তিনি তখন বানু সালিমের ভাই মালিক ইবনে দাখশামকে ও মাআন ইবনে আদী অথবা তার ভাই আমির ইবনে আদীকে আহ্বান করেন। তিনি তাদেরকে বলেনঃ “তোমরা দু'জন ঐ যালিমদের মসজিদটির নিকট গমন কর এবং ওটাকে বিধ্বস্ত কর ও জ্বালিয়ে দাও।” তৎক্ষণাৎ তারা দু'জন বানু সালিম ইবনে আউফের নিকট আগমন করে। সে ছিল মালিক ইবনে দাখনানের গোত্রের লোক। মালিক মাআনকে বললোঃ “থামো, আমি আমার লোকদের নিকট থেকে আগুন নিয়ে আসি।” এ কথা বলে মালিক নিজের লোকদের কাছে আসলো। গাছের একটি বড় ডাল নিল এবং তাতে আগুন ধরিয়ে দিলো। ওটা নিয়ে তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে পড়লো । তারা উভয়ে মসজিদে পৌছলো। মসজিদে তখন কাফিররা মওজুদ ছিল। ঐ দু’জন ঐ মসজিদকে জ্বালিয়ে দিলো। লোকেরা সেখান থেকে পালিয়ে গেল এবং ঐ মুনাফিকদের ব্যাপারে (আরবী) এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়ে গেল। যারা এই মসজিদটি নির্মাণ করেছিল তারা ছিল বারোজন। তারা হচ্ছে-(১) খুযাম ইবনে খালিদ, তারই বাড়ী থেকে মসজিদে শিকাকের রাস্তা বের হয়ে এসেছে। (২) বান উমাইয়ার খাদেম সা'লাবা ইবনে হাতিব। (৩) মাতআব ইবনে কুশায়ের। (৪) আবু হাবীবাহ্ ইবনে আজআর । (৫) আব্বাদ ইবনে হানীফ। (৬) হারিসা ইবনে আমির। (৭) মাজমা ইবনে হারিসা। (৮) যায়েদ ইবনে হারিসা। (৯) নাবতাল আল হারিসা। (১) নাজরা। (১১) বাজ্জাদ ইবনে ইমরান এবং (১২) আবু লুবাবার গোত্রের খাদেম ওয়াদীআহ ইবনে সাবিত। যারা এ মসজিদটি নির্মাণ করেছিল তারা শপথ করে করে বলেছিলঃ “আমরা তো সৎ উদ্দেশ্যেই এর ভিত্তি স্থাপন করেছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু জনগণের মঙ্গল কামনা।” কিন্তু আল্লাহ তা'আলা বলছেনঃ (আরবী)। অর্থাৎ “আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী।” অর্থাৎ তারা তাদের যে উদ্দেশ্য ও নিয়তের কথা বলছে তাতে তারা মিথ্যাবাদী। তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য হচ্ছে শুধু মসজিদুল কুবার ক্ষতি সাধন করা, কুফরী ছড়িয়ে দেয়া, মুসলিমদের মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্যে গুপ্ত স্থান বানিয়ে রাখা, যেখানে তাদের পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ঐ লোকটি হচ্ছে আবূ আমির, সে পাপাচারী, যাকে রাহিব বা আবিদ বলা হতো, আল্লাহ তার উপর লা'নত বর্ষণ করুন।
আল্লাহ তা'আলার উক্তিঃ (আরবী) আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে ঐ মসজিদে সালাত পড়তে নিষেধ করে দিয়েছেন । সালাত না পড়ার মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর অনুসারী এবং উম্মতও শামিল রয়েছে। সুতরাং মুসলিমদের প্রতিও এই গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে যে, তারাও যেন ঐ মসজিদে কখনো সালাত আদায় না করে। অতঃপর মসজিদে কুবায় সালাত পড়তে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। প্রথম থেকেই মসজিদে কুবার ভিত্তি আল্লাহভীরুতার উপর স্থাপন করা হয়েছে। তাকওয়া বলা হয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ)-এর আনুগত্য করাকে। এখানে মুসলিমরা পরস্পর মিলিত হয় এবং ধর্মীয় পরামর্শ করে। এটা হচ্ছে ইসলাম ও আহলে ইসলামের আশ্রয়স্থল। এ জন্যেই আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “অবশ্য যে মসজিদের ভিত্তি প্রথম দিন হতেই তাকওয়ার উপর স্থাপিত হয়েছে তা এরই উপযোগী যে, তুমি তাতে সালাতের জন্যে দাঁড়াবে। আর ইবাদতের হিসাব মসজিদে কুবার সাথে সম্পর্কযুক্ত। এ জন্যেই সহীহ হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “মসজিদে কুবায় সালাত পড়া (সওয়াবের দিক দিয়ে) একটি উমরা আদায় করার মত।” আরো সহীহ হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) মসজিদে কুবায় সওয়ার হয়েও আসতেন এবং পদব্রজেও আসতেন। বিশুদ্ধ হাদীসে আরো এসেছে যে, রাসূলল্লাহ (সঃ) যখন মসজিদে কুবা নির্মাণ করেন এবং ওর ভিত্তি স্থাপন করেন তখন তিনি সর্বপ্রথম আমর ইবনে আউফ গোত্রের নিকট অবস্থান করতে শুরু করেন এবং জিবরাঈল (আঃ) কিবলার দিক নির্ধারিত করে দেন। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক জ্ঞানের অধিকারী। আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ (আরবী) -এ আয়াতটি আহলে কুবার ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। তিনি বলেন যে, তারা পানি দ্বারা পবিত্রতা লাভ করতো। সুতরাং তাদের প্রশংসায় এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (এ হাদীসটি সুনানে আবি দাউদে আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে) ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, যখন (আরবী) -এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয় তখন তিনি উওয়াইম ইবনে সাঈদা (রাঃ)-এর নিকট লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করেনঃ “তোমাদের এটা কোন পবিত্রতা যার কারণে আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রশংসা করেছেন?” উত্তরে তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ) ! আমাদের কোন পুরুষ বা স্ত্রী লোক যখন পায়খানার কাজ সেরে বেরিয়ে আসে তখন সে তার লিঙ্গ ও গুহ্যদ্বারকে পানি দ্বারা উত্তমরূপে ধৌত করে।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “হ্যা, (প্রশংসার কারণ) এটাই বটে।”
উওয়াইম ইবনে সাঈদা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) মসজিদে কুবায় তাদের নিকট আগমন করেন এবং জিজ্ঞেস করেনঃ “তোমাদের মসজিদের ঘটনায় তোমাদের পবিত্রতার ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা অতি উত্তম ভাষায় প্রশংসা করেছেন। তোমরা যদদ্বারা পবিত্রতা লাভ করে থাকো সেটা কি?” তাঁরা উত্তরে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আল্লাহর শপথ, আমরা তো এটা ছাড়া আর কিছুই জানি না যে, ইয়াহূদীরা আমাদের প্রতিবেশী ছিল। তারা পায়খানার কাজ সেরে পানি দ্বারা তাদের গুহ্যদ্বার ধৌত করতো। সুতরাং আমরাও তদ্রুপ করে থাকি।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
ইবনে খুযাইমা (রঃ) স্বীয় সহীহ গ্রন্থে লিখেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) উওয়াইম ইবনে সাঈদা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেনঃ “আল্লাহ তা'আলা তোমাদের কি প্রকারের পবিত্রতার কারণে তোমাদের প্রশংসা করেছেন? তিনি জবাবে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! পানি দ্বারা আমরা আমাদের গুহ্যদ্বার ধৌত করে থাকি।” ইবনে জারীর (রঃ) বলেন যে, (আরবী) এই আয়াতটি ঐ লোকদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয় যারা (পায়খানার কাজ সেরে) তাদের গুহ্যদ্বার পানি দ্বারা ধৌত করতো।
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রঃ) ইসনাদসহ বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) মসজিদে কুবাতে এসে (আহলে কুবাকে) বলেনঃ “আল্লাহ তা'আলা তোমাদের পবিত্রতার খুবই প্রশংসা করেছেন, সেটা কি?” উত্তরে তারা বলেনঃ “আমরা তাওরাতে পানি দ্বারা ইসতিনজা করার নির্দেশ লিখিত পেয়েছি।” তাঁদের মধ্যে একজন বর্ণনাকারী ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাঃ), যিনি আহলে তাওরাত ছিলেন।
সহীহ হাদীসে এসেছে যে, মদীনার মধ্যস্থলে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর যে মসজিদটি রয়েছে ওটাই হচ্ছে সেই মসজিদ যার ভিত্তি তাকওয়ার উপর স্থাপন করা হয়েছে। এটা সঠিক কথাও বটে। এই আয়াত এবং এই হাদীসের মধ্যে কোনই বৈপরীত্য নেই। কেননা প্রথম দিন থেকে মসজিদে কুবার ভিত্তি যখন তাকওয়ার উপর স্থাপন করা হয়েছে তখন মসজিদে নববীর ভিত্তি যে তাকওয়ার উপর স্থাপিত এটা তো বলাই বাহুল্য। এ জন্যেই মুসনাদে আহমাদে উবাই ইবনে কা'ব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “যে মসজিদের ভিত্তি তাকওয়ার উপর স্থাপন করা হয়েছে তা আমার এই মসজিদই বটে।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) একাকী বর্ণনা করেছেন)
সাহল ইবনে সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর যুগে দু'টি লোকের মধ্যে ঐ মসজিদের ব্যাপারে মতানৈক্য হয় যার ভিত্তি তাকওয়ার উপর স্থাপিত। একজন বলে যে, এটা হচ্ছে মসজিদে নববী (সঃ)। আর অপরজন বলে যে, ওটা হচ্ছে মসজিদে কুবা। অতঃপর তারা উভয়ে নবী (সঃ)-এর কাছে এসে ঐ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তর দেনঃ “ওটা হচ্ছে আমার এই মসজিদ।” (এ হাদীসটিও ইমাম আহমাদ (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, দু’টি লোকের মধ্যে ঐ মসজিদ সম্পর্কে মতভেদ সৃষ্টি হয় যার ভিত্তি প্রথম দিন হতেই তাকওয়ার উপর স্থাপিত। একজন বলে যে, ওটা হচ্ছে মসজিদে কুবা এবং অপরজন বলে যে, ওটা হচ্ছে মসজিদে নববী। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “ওটা হচ্ছে আমার মসজিদ।” (মুসনাদে আহমাদেই এই হাদীসও বর্ণিত হয়েছে)
এর পরে এ বিষয়েরই আরো কয়েকটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। হামীদ আল খারাত আল মাদানী (রঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু সালমা ইবনে আবদির রহমান ইবনে আবি সাঈদ (রঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, মসজিদে তাকওয়ার ব্যাপারে আপনি আপনার পিতা থেকে কি শুনেছেন? তিনি উত্তরে (পিতার উদ্ধৃতি দিয়ে) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট আগমন করি এবং তার কোন এক স্ত্রীর বাড়ীতে তার কাছে প্রবেশ করি। অতঃপর তাকে জিজ্ঞেস করি, হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! যে মসজিদের ভিত্তি তাকওয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত সেটা কোথায়? তিনি তখন এক মুষ্টি কংকর উঠিয়ে নিয়ে যমীনে মেরে বললেনঃ “ওটা হচ্ছে এই মসজিদটি (অর্থাৎ মসজিদে নববী)।” ইমাম মুসলিম (রঃ) ইসনাদসহ হামীদ আল খারাত (রঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুরুজনদের একটি দলের এটাই উক্তি যে, ওটা মসজিদে নববী । উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ), তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ (রাঃ), যায়েদ ইবনে সাবিত (রাঃ) এবং সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব (রঃ) হতেও এটাই বর্ণিত আছে। ইবনে জারীরও (রঃ) এটাকে পছন্দ করেছেন। (আরবী)-এই আয়াতটি এ কথার দলীল যে, যে। প্রাচীন মসজিদগুলোর প্রথম ভিত্তি এক ও লা-শারিক আল্লাহর ইবাদতের উপর প্রতিষ্ঠিত সেগুলোতে সালাত পড়া মুসতাহাব। এই মুসতাহাব হওয়ারও দলীল এই যে, জামাআতে সালেহীন ও ইবাদে আমেলীনের সাথে সালাত পড়া উচিত এবং যথানিয়মে পূর্ণ মাত্রায় অযু করা দরকার, আর সালাতে ময়লা ও অপবিত্র কাপড় পরিধান না করা উচিত।
ইমাম আহমাদ (রঃ) ইসনাদসহ বর্ণনা করেছেন যে, একদা রাসূলুল্লাহ (সঃ) ফজরের সালাত পড়ান এবং তাতে সূরায়ে “রূম” পাঠ করেন। পাঠে তাঁর কিছু সন্দেহ হয়। সালাত শেষে তিনি বলেনঃ “আমার কুরআন পাঠে কিছু বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়েছিল। দেখো! তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ এমনও রয়েছে যে আমার সাথে সালাত আদায় করে, কিন্তু উত্তমরূপে অযু করে না। সুতরাং যে আমাদের সাথে সালাত পড়তে চায় তার উচিত উত্তমরূপে অযু করার ব্যাপারে কোন ত্রুটি করা।”
যুলকিলা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে সালাত পড়েন, তখন তিনি তাঁকে এই হিদায়াতই করেন। এটা এরই প্রমাণ যে, উত্তমরূপে অযু করা ইবাদতে দাঁড়ানো অবস্থাকে সহজ করে তোলে এবং ইবাদতের পরিপূর্ণতায় সহায়ক হয়।
আকূল আলিয়া (রঃ) (আরবী) আল্লাহ পাকের এই উক্তির ব্যাপারে বলেন যে, পানি দ্বারা পবিত্রতা লাভ করা তো অতি উত্তম কাজ বটেই, তবে আল্লাহ তা'আলা যাদের পবিত্রতার প্রশংসা করেছেন তারা হচ্ছেন ঐসব লোক যাঁরা নিজেদেরকে গুনাহ থেকে পবিত্র রেখেছেন। আ’মাশ (রঃ) বলেন যে, এই তাহারাত দ্বারা গুনাহ থেকে তাওবা করা এবং শিরক থেকে পবিত্র থাকা বুঝানো হয়েছে। হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) আহলে কুবাকে বলেনঃ “আল্লাহ তাআলা যে তোমাদের তাহারাতের প্রশংসা করেছেন তা কিরূপ?” তারা উত্তরে বলেনঃ “আমরা পানি দ্বারাই ইসতিনজা করে থাকি।”
হাফিজ আবু বকর বাযযায (রঃ) ইসনাদসহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, এই আয়াতটি আহলে কুবার ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) আহলে কুবাকে জিজ্ঞেস করেনঃ “তোমাদের তাহারাত কিরূপ?” তারা উত্তরে বলেনঃ “প্রথমে আমরা ঢিলা ব্যবহার করি, তারপর পানি দ্বারা ধৌত করি।” এটা বায (রঃ) রিওয়ায়াত করেছেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ “এটাকে শুধু মুহাম্মাদ ইবনে আবদিল আযীয এবং তাঁর থেকে তাঁর পুত্র বর্ণনা করেছেন।” আমি বলি, আমি এ ব্যাখ্যা এখানে এই জন্যেই করলাম যে, এটা ফকীহদের নিকট মাশহুর হলেও পরবর্তী অধিকাংশ মুহাদ্দিস এটাকে সুপরিচিত হিসাবে স্বীকার করেন না। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।