সূরা আল-আলাক (আয়াত: 5)
হরকত ছাড়া:
علم الإنسان ما لم يعلم ﴿٥﴾
হরকত সহ:
عَلَّمَ الْاِنْسَانَ مَا لَمْ یَعْلَمْ ؕ﴿۵﴾
উচ্চারণ: ‘আল্লামাল ইনছা-না-মা-লাম ইয়া‘লাম।
আল বায়ান: তিনি মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫. শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না,
আহসানুল বায়ান: ৫। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।
মুজিবুর রহমান: তিনি শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতনা।
ফযলুর রহমান: শিখিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।
মুহিউদ্দিন খান: শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।
জহুরুল হক: শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতোই না।
Sahih International: Taught man that which he knew not.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫. শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।(১)
তাফসীর:
(১) পূর্বের আয়াতে ছিল কলমের সাহায্যে শিক্ষা দানের বর্ণনা। এ আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রকৃত শিক্ষাদাতা আল্লাহ তা'আলা। মানুষ আসলে ছিল সম্পূর্ণ জ্ঞানহীন। আল্লাহর কাছ থেকেই সে যা কিছু জ্ঞান লাভ করেছে। [সা’দী] কলমের সাহায্যে যা শিক্ষা দেয়া হয়েছে, তার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তিনি এমন সব বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন, যা মানুষ জানত না। কেউ কেউ বলেন, এখানে মানুষ বলে আদম আলাইহিস সালামকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ তা'আলা তাকে বিভিন্ন বস্তুর নাম ও গুণাগুণ শিক্ষা দিয়েছেন। যেমনটি সূরা আল-বাকারায় বর্ণনা করা হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: ৫। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানত না।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: নামকরণ ও গুরুত্ব:
الْعَلَقُ শব্দের অর্থ ঝুলন্ত, রক্ত ও রক্তপিণ্ড ইত্যাদি। অত্র সূরার দ্বিতীয় আয়াতে উল্লিখিত শব্দ থেকেই সূরার নামকরণ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ৪০ বছর বয়সে হেরা গুহায় এ সূরার প্রথম ৫টি আয়াত অবতীর্ণের মাধ্যমে নবুওয়াতী জীবন শুরু হয়। এ ৫টি আয়াতই প্রথম অবতীর্ণ ওয়াহী। (ইতকান ফী উলূমুল কুরআন)
১-৫ নম্বর আয়াতের তাফসীর:
শানে নুযূল:
নাবী (সাঃ)-এর সহধর্মিনী আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: ঘুমন্তঅবস্থায় সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে নাবী (সাঃ)-এর প্রতি প্রথম ওয়াহী অবতরণ শুরু করা হয়েছিল। এ সময় তিনি যে স্বপ্ন দেখতেন তা সকালের আলোর মতই সুষ্পষ্ট হত। এরপর নির্জনতা তার কাছে প্রিয় হয়ে উঠল। তিনি হেরা গুহায় চলে যেতেন এবং পরিবার পরিজনের কাছে আসার পূর্বে সেখানে লাগাতার কয়েকদিন পর্যন্ত তাহান্নুছ বা ধ্যান করতেন। তাহান্নুছ অর্থ: বিশেষ পদ্ধতিতে ইবাদত করা। এজন্য তিনি কিছু খাবার নিয়ে যেতেন। এরপর তিনি খাদিজাহ (রাঃ)-এর কাছে ফিরে এসে আবার সে রকম কিছু খাবার নিয়ে যেতেন। শেষে হেরা গুহায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ তাঁর কাছে সত্যবাণী এসে পৌঁছে। ফেরেশতা (জিবরীল) তাঁর কাছে এসে বললেন: পড়–ন! রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, আমি পড়তে জানি না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: এরপর তিনি আামকে ধরে খুব জোরে আলিঙ্গন করলেন। এতে আমি অসহনীয় কষ্ট অনুভব করি। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পড়–ন! আমি বললাম: আমি পড়তে জানি না। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: এরপর তিনি আমাকে ধরে দ্বিতীয়বার জোরে আলিঙ্গন করলেন। এতেও আমি ভীষণ কষ্ট অনুভব করি। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পড়–ন! আমি বললাম: আমি পড়তে জানি না। এরপর তিনি আমাকে তৃতীয়বার খুব জোরে আলিঙ্গন করলেন। এবারও আমি খুব কষ্ট অনুভব করলাম। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন:
(اِقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ ......لَمْ يَعْلَمْ)
এভাবে পাঁচটি আয়াত তেলাওয়াত করলেন। (সহীহ বুখারী হা. ৩)
(اِقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِيْ خَلَقَ)
এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাঃ)-কে সম্বোধন করেছেন তবে এ সম্বোধনে উম্মাতের সবাই শামিল। কেননা শরীয়তের অন্যতম একটি সূত্র হলো
العبرة بعموم اللفظ لا بخصوص السبب
যে নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটকে কেন্দ্র করে কোন আয়াত বা সূরা অবতীর্ণ হয় তাহলে সে নির্দিষ্ট পেক্ষাপট ধর্তব্য নয় বরং ধর্তব্য হলো শব্দের ব্যাপকতা। আর এ পড়ালেখা হবে আল্লাহ তা‘আলার নামে অর্থাৎ দীন ও শরীয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে। এতে সাধারণ পড়ালেখা শামিল নয়। যারা এ আয়াত দ্বারা সাধারণ পড়ালেখার কথা বুঝিয়ে থাকেন তারা মূলত নিজ স্বার্থেই করে থাকেন। যে হাদীসে বলা হয়েছে প্রত্যেক মুসলিমের জ্ঞান অর্জন করা ফরযÑসে হাদীসটিও দীনি শিক্ষা অর্জনের ব্যাপারে। সাধারণ শিক্ষাকে ইসলাম নিষেধ করেনি বা বাধাও দেয়নি তবে অবশ্যই মুসলিম মাত্রই ফরয জ্ঞান অর্জন করতেই হবে। অন্যথায় গুনাহগার হতে হবে।
عَلَقٍ (আলাক) শব্দটি কুরআনে মোট ৬ জায়গায় ব্যবহৃত হয়েছে। সূরা মু‘মিনূনে ১৪ নম্বর আয়াতের তাফসীরে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
(عَلَّمَ بِالْقَلَمِ) আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ করেন এমনভাবে যে, তার জ্ঞান বলতে কিছুই থাকে না। জন্মের পর মানুষ যাতে জ্ঞান অর্জন করতে পারে সেজন্য আল্লাহ তা‘আলা দুটি উপকরণ প্রদান করেছেন।
১. হিফয বা মুখস্থ করে জ্ঞানায়ত্ত করা। এর জন্য প্রয়োজন দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি ও অনুধাবন শক্তি। আর এসব কিছু আল্লাহ তা‘আলা জন্মগতভাবেই দিয়েছেন।
২. লেখনির মাধ্যমে জ্ঞানার্জন। তাই আল্লাহ তা‘আলা লেখার উপকরণ হিসাবে কলম দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন :
إِنَّ أَوَّلَ مَا خَلَقَ اللَّهُ الْقَلَمَ، فَقَالَ لَهُ : اكْتُبْ
প্রথমে আল্লাহ তা‘আলা কলম সৃষ্টি করেছেন তারপর বললেন : তুমি লেখ। (আবূ দাঊদ হা. ৪৭০০)
(عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ)
মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে অজানা জিনিসকে শিক্ষা দেন। মানুষ জানত না কোন্টা সঠিক, কোন্টা বেঠিক, কোন্টা আকাশ, মাটি, চন্দ্র, সূর্য ইত্যাদি এবং এসব কী ও কেন সৃষ্টি হয়েছে? মানুষ জানত না কম্পিউটার আবিস্কার করতে, রকেট তৈরি করতে, গাড়ি তৈরি করতে। আল্লাহ তা‘আলা সব কিছু জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে জানালেন।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: কুরআনের এই সূরাটিরই নিম্নের আয়াতগুলো সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়।
১-৫ নং আয়াতের তাফসীর
হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর প্রতি অহীর প্রথম সূচনা হয় ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্ন দেখতেন তা প্রভাতের প্রকাশের ন্যায় সঠিকরূপে প্রকাশ পেয়ে যেতো। তারপর তিনি হেরাগিরি গুহায় ধ্যান করতে শুরু করেন। উম্মুল মুমিনীন হযরত খাদীজার (রাঃ) নিকট থেকে খাদ্য পানীয় নিয়ে তিনি হেরা গুহায় চলে যেতেন এবং কয়েকদিন সেখানে ইবাদত বন্দেগী করে কাটিয়ে দিতেন। তারপর বাসায় এসে খাদ্য পানীয় নিয়ে পুনরায় গমন করতেন। একদিন হঠাৎ সেখানেই প্রথম অহী অবতীর্ণ হয়। ফেরেশতা তাঁর কাছে এসে বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “আপনি পড়ুন।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) বললেনঃ “আমি তো পড়তে জানি না।” ফেরেশতা তখন তাঁকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। তাতে তার কষ্ট হলো। তারপর তাঁকে ছেড়ে দিয়ে বললেনঃ “পাঠ করুন। এবারও তিনি বললেনঃ “আমি তো পড়তে জানি না।”
ফেরেশতা পুনরায় তাকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। এবারও তিনি কষ্ট পেলেন। তারপর ফেরেশতা তাঁকে ছেড়ে দিয়ে বললেনঃ “পড়ুন।” তিনি পূর্বেরই মত জবাব দিলেনঃ “আমি তো পড়তে জানি না। ফেরেশতা তাঁকে তৃতীয়বার জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন এবং তিনি কষ্ট পেলেন। তারপর তাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন! “পাঠ করুন আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন-সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্তপিণ্ড হতে। পাঠ করুন, আর আপনার প্রতিপালক মহামহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতো না।” রাসূলুল্লাহ (সঃ )কাঁপতে কাঁপতে হযরত খাদীজা (রাঃ)-এর কাছে এলেন এবং বললেনঃ “আমাকে চাদর দ্বারা আচ্ছাদিত কর।” তখন তাঁকে চাদর দ্বারা ঢেকে দেয়া হলো। কিছুক্ষণ পর তার ভয় কেটে গেলে তিনি হযরত খাদীজাকে (রাঃ) সব কথা খুলে বললেন এবং তাঁকে জানালেন যে, তিনি তাঁর জীবনের আশংকা করছেন। হযরত খাদীজা (রাঃ) তখন তাঁকে (সান্ত্বনার সুরে) বললেনঃ “আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন, আল্লাহর কসম! আল্লাহ আপনাকে কখনো অপদস্থ করবেন না। আপনি আত্মীয় স্বজনের প্রতি আপনার কর্তব্য পালন করে থাকেন, সদা সত্য কথা বলেন, অপরের বোঝা বহন করেন, অতিথি সেবা করেন এবং সত্যের পথে অন্যদেরকে সাহায্য করেন। তারপর হযরত খাদীজা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে নিয়ে তাঁর চাচাতো ভাই অরাকা ইবনে নওফিল ইবনে আসাদ ইবনে আবদিল উযযা ইবনে কুসাই এর নিকট গেলেন। আইয়ামে জাহিলিয়্যাতের সময়ে তিনি খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরবীতে কিতাব লিখতেন এবং আরবী ভাষায় ইঞ্জিলের অনুবাদ করতেন। তিনি অত্যন্ত বৃদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন এবং দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলেন। হযরত খাদীজা (রাঃ) তাঁকে বললেনঃ “আপনার ভ্রাতুষ্পত্রের ঘটনা শুনুন।” অরাকা নবী করীম (সঃ) কে জিজ্ঞেস করলেনঃ “হে ভাতিজা! আপনি কি দেখেছেন?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন তাঁর কাছে সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করলেন। অরাকা ঘটনাটি শুনে বললেনঃ “ইনিই সেই রহস্যময় ফেরেশতা যিনি আল্লাহর প্রেরিত বার্তা নিয়ে হযরত মূসার (আঃ) কাছেও আসতেন। আপনার স্বজাতিরা যখন আপনাকে বের করে দিবে তখন যদি যুবক থাকতাম! হায়, তখন যদি আমি বেঁচে থাকতাম (তবে কতই না ভাল হতো!” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর একথা শুনে বললেনঃ “তারা আমাকে বের করে দিবে?” অরাকা উত্তরে বললেনঃ “হ্যা তবে শুধু আপনাকেই নয়, বরং আপনার মত যারাই নবুওয়াত লাভে ধন্য হয়েছিলেন তাঁদের প্রত্যেকের সাথেই এরূপ শত্রুতা করা হয়েছিল। ঠিক আছে, আমি যদি ঐ সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকি তবে আমি আপনাকে যথাসাধ্য সাহায্য করবো।` এই ঘটনার পর অরাকা অতি অল্পদিনই বেঁচে ছিলেন। আর এদিকে অহী আসাও বন্ধ হয়ে যায়। তাই নবী করীম (সঃ) মানসিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন। কয়েকবার তিনি পর্বত চূড়া থেকে নিজেকে ফেলে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু প্রত্যেক বারই হযরত জিবরাঈল (আঃ) এসে বলতেনঃ “হে মুহাম্মদ (সঃ)! আপনি আল্লাহ তাআলার সত্য নবী।” এতে নবী করীম (সঃ) আশ্বস্ত হতেন এবং তার মানসিক অস্থিরতা অনেকটা কেটে যেতো। তিনি প্রশান্ত চিত্তে বাড়িতে ফিরতেন। (এ হাদীসটি মুসনাদে আহমদে বর্ণিত হয়েছে। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমেও যুহরী (রঃ) হতে হাদীসটি বর্ণিত আছে)
কুরআনে নাযিলকৃত আয়াতসমূহের মধ্যে এই আয়াতগুলোই সর্বপ্রথম অবতীর্ণ হয়েছিল। নিজের বান্দার উপর এটাই ছিল আল্লাহর প্রথম নিয়ামত এবং রহমানুর রাহীমের প্রথম রহমত। এখানে মানুষের সৃষ্টির রহস্য সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে আল্লাহ রাব্বল আলামীন বলেন যে, তিনি মানুষকে জমাট রক্ত দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।
অর্থাৎ জমাট রক্তের মধ্যে নিজের অসীম রহমতে সুন্দর চেহারা দান করেছেন। তারপর নিজের বিশেষ রহমতে জ্ঞান দান করেছেন এবং বান্দা যা জানতো না তা শিক্ষা দিয়েছেন। জ্ঞানের কারণেই আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) সমস্ত ফেরেশতার মধ্যে বিশেষ সম্মান লাভে সমর্থ হয়েছিলেন। জ্ঞান কখনো মনের মধ্যে থাকে, কখনো মুখের মধ্যে থাকে এবং কখনো কিতাবের মধ্যে লিখিতভাবে বিদ্যমান থাকে। কাজেই জ্ঞান যে তিন প্রকার তা প্রতীয়মান হয়েছে। অর্থাৎ মানসিক জ্ঞান, শাব্দিক জ্ঞান এবং রসমী জ্ঞান। মানসিক এবং শাব্দিক জ্ঞানের জন্য রসমী জ্ঞান প্রয়োজন। কিন্তু রসমী জ্ঞানের জন্যে এ দুটি জ্ঞান না হলেও চলে। এ কারণেই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ) কে বলেন, তুমি পাঠ কর, আর তোমার প্রতিপালক মহামহিমান্বিত, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে যা সে জানতো না।
একটি আসারে রয়েছেঃ, “জ্ঞানকে লিখে নাও। যে ব্যক্তি নিজের অর্জিত জ্ঞানের উপর আমল করে আল্লাহ তাআলা তাকেই সেই জ্ঞানেরও ওয়ারিস করেন যা তার জানা ছিল না।”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।