আল কুরআন


সূরা আল-বালাদ (আয়াত: 3)

সূরা আল-বালাদ (আয়াত: 3)



হরকত ছাড়া:

ووالد وما ولد ﴿٣﴾




হরকত সহ:

وَ وَالِدٍ وَّ مَا وَلَدَ ۙ﴿۳﴾




উচ্চারণ: ওয়া ওয়া-লিদিওঁ ওয়ামা-ওয়ালাদ।




আল বায়ান: কসম জনকের এবং যা সে জন্ম দেয়।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩. শপথ জন্মদাতার ও যা সে জন্ম দিয়েছে।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: শপথ জন্মদাতা (আদম)-এর আর যা সে জন্ম দিয়েছে (সেই সমস্ত মানুষের),




আহসানুল বায়ান: ৩। শপথ জন্মদাতার ও যা সে জন্ম দিয়েছে তার। [1]



মুজিবুর রহমান: শপথ জন্মদাতার এবং যা সে জন্ম দিয়েছে তার।



ফযলুর রহমান: এবং শপথ এক জন্মদাতার ও সে যা জন্ম দিয়েছে তার (অর্থাৎ তার সন্তানদের)!



মুহিউদ্দিন খান: শপথ জনকের ও যা জন্ম দেয়।



জহুরুল হক: আর জন্মদাতার, আর যাদের তিনি জন্ম দিয়েছেন।



Sahih International: And [by] the father and that which was born [of him],



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩. শপথ জন্মদাতার ও যা সে জন্ম দিয়েছে।(১)


তাফসীর:

(১) যেহেতু বাপ ও তার ঔরসে জন্ম গ্রহণকারী সন্তানদের ব্যাপারে ব্যপক অর্থবোধক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে এবং সামনের দিকে মানুষের কথা বলা হয়েছে, তাই বাপ মানে আদম আলাইহিস সালামই হতে পারেন। আর তার ঔরসে জন্ম গ্রহণকারী সন্তান বলতে দুনিয়ায় বর্তমানে যত মানুষ পাওয়া যায়, যত মানুষ অতীতে পাওয়া গেছে এবং ভবিষ্যতেও পাওয়া যাবে সবাইকে বুঝানো হয়েছে। এভাবে এতে আদম ও দুনিয়ার আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত সব বনী-আদমের শপথ করা হয়েছে। অথবা وَالِدٌ বলে প্রত্যেক জন্মদানকারী পিতা আর وَلَدَ বলে প্রত্যেক সন্তানকে বোঝানো হয়েছে। [ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: ৩। শপথ জন্মদাতার ও যা সে জন্ম দিয়েছে তার। [1]


তাফসীর:

[1] কোন কোন উলামাগণ বলেছেন যে, এ থেকে আদম (আঃ) ও তাঁর সন্তান-সন্ততি উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে। আবার কেউ বলেন, এ শব্দটা হল ব্যাপক; অর্থাৎ প্রত্যেক পিতা এবং সন্তান-সন্ততি এর অন্তর্ভুক্ত।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: নামকরণ:



الْبَلَدِ শব্দের অর্থ শহর, নগর ইত্যাদি। তবে এখানে শহর বলতে মক্কা নগরীকে বুঝানো হয়েছে। প্রথম আয়াতে উল্লিখিত الْبَلَدِ শব্দ থেকেই উক্ত নামে সূরার নামকরণ করা হয়েছে। সূরাতে কয়েকটি বিষয়ে শপথ করার পর মানুষকে প্রদত্ত অসংখ্য নেয়ামতের মধ্যে কয়েকটি নেয়ামতের কথা তুলে ধরা হয়েছে এবং ফলাফলের ভিত্তিতে তাদেরকে সৌভাগ্যবান ও হতভাগা দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে।



১-১০ নম্বর আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা মক্কা নগরীর শপথ করে বলছেন : হে নাবী (সাঃ)! তুমি এ নগরীর জন্য বৈধ। অর্থাৎ তোমার জন্য এ নগরীতে যুদ্ধ করা বৈধ। হাসান বাসরী (রহঃ) বলেন : আল্লাহ তা‘আলা রাসূলের জন্য কিছু সময়ের জন্য যুদ্ধ করা বৈধ করে দিয়েছিলেন। যেমন সহীহ হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন : যেদিন আকাশ-জমিন সৃষ্টি করেছেন সেদিন থেকেই আল্লাহ তা‘আলা এ শহরকে (যুদ্ধ বিগ্রহ থেকে) হারাম করেছেন। এ হারাম কিয়ামত অবধি বিদ্যমান থাকবে। এখানের কোন গাছ কাটা যাবে না এবং কোন কাঁটা উপড়িয়ে ফেলা যাবে না। আমার জন্য শুধুমাত্র দিনের কিছু সময় বৈধ করে দেয়া হয়েছে, প্রাক্কালের হারামের মত আজও তা হারাম হয়ে যাবে। (সহীহ বুখারী হা. ১০৪, সহীহ মুসলিম হা; ১৩৫৪) এ ঘটনা ছিল মক্কা বিজয়ের সময়।



(وَوَالِدٍ وَّمَا وَلَدَ)



এখানে পিতা ও সন্তান বলতে আদম (আঃ) ও তাঁর সন্তানাদি উদ্দেশ্য। আবার কেউ বলেছেন: শব্দটা ব্যাপক, তাই সকল পিতা ও সন্তান উদ্দেশ্য।



(لَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنْسَانَ فِيْ كَبَدٍ)



এটা হলো পূর্বের আয়াতসমূহের শপথের জবাব। অর্থাৎ মানুষের জীবন পরিশ্রম ও দুঃখ-কষ্টে পরিপূর্ণ। ইমাম তাহাবী (রহঃ) এ অর্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন।



(أَيَحْسَبُ الْإِنْسَانَ)



অর্থাৎ মানুষ কি ধারণা করে, সে যে সম্পদ একত্রিত করেছে আল্লাহ তা‘আলা তা পাকড়াও করে নিতে পারবেন না। কাতাদাহ (রহঃ) বলেন: বানী আদম কি ধারণা করে যে, তার সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না, সে কোথা থেকে উপার্জন করেছে আর কোথায় ব্যয় করেছে? অর্থাৎ আদম সন্তান যা কিছু করুক তাকে সবকিছুর হিসাব দিতে হবে।



(مَالًا لُّبَدًا) শব্দের অর্থ: প্রচুর, রাশি রাশি। অর্থাৎ দুনিয়াতে অন্যায় ও অশ্লীল কাজে অনেক সম্পদ ব্যয় করে অতঃপর গর্বের সাথে সে কথা মানুষের সামনে বলে বেড়ায়। অন্যায় ও খারাপ কাজে সম্পদ ব্যয় করাকে আল্লাহ তা‘আলা সম্পদ ধ্বংস করা বলে আখ্যায়িত করেছেন। কেননা এসব কাজে ব্যয় করলে কোন উপকার তো দূরের কথা আফসোস ও ধ্বংস ছাড়া কিছুই নিয়ে আসবে না। যারা অন্যায় কাজে সম্পদ ব্যয় করে গর্ব করে তাদেরকে ভীতি প্রদর্শন করে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: মানুষ কি মনে করে তাকে কেউ দেখছে না? না, বরং আল্লাহ তা‘আলা সব কিছু দেখছেন, শুনছেন এবং প্রত্যেকের কর্মানুয়াযী প্রতিদান দেবেন। এবার আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক প্রদত্ত মানুষের শরীরে কয়েকটি নেয়ামতের কথা জিজ্ঞাসা করছেন: আমি কি তার দুটি চোখ দেইনি? যার দ্বারা সে দেখে, আমি কি তার জিহ্বা দেইনি? যার দ্বারা কথা বলে, এবং তাকে কি দুটি ঠোট দেইনি? যার দ্বারা কথা বলা ও খাওয়ার সহযোগিতা নেয়। এছাড়া তা চেহারা ও মুখমন্ডলের সৌন্দর্যের কারণও বটে।



(وَهَدَيْنٰهُ النَّجْدَيْنِ)



ইবনু মাসউদ (রাঃ)-সহ প্রমুখ সাহাবী বলেন: ভাল-মন্দের উভয় পথ আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِنَّا هَدَيْنٰهُ السَّبِيْلَ إِمَّا شَاكِرًا وَّإِمَّا كَفُوْرًا)‏



“আমি তাকে পথ দেখিয়েছি এরপর হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, নয়তো হবে অকৃতজ্ঞ।” (সূরা দাহার ৭৬: ৩)



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(فَمَنْ شَا۬ءَ فَلْيُؤْمِنْ وَّمَنْ شَا۬ءَ فَلْيَكْفُرْ)



“সুতরাং যার ইচ্ছা ঈমান আনুক ও যার ইচ্ছা কুফরী করুক।’ (সূরা কাহ্ফ ১৮ : ২৯)

সুতরাং যে আল্লাহ এতসব নেয়ামত দান করেছেন শুকরিয়াস্বরূপ সর্বদা তাঁকে মেনে চলা উচিত।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মক্কা নগরীর মর্যাদা জানলাম।

২. মক্কায় পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকেই যুদ্ধবিগ্রহ হারাম এবং তা কিয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে।

৩. অন্যায় কাজে সম্পদ ব্যয় করার পরিণাম খুবই ভয়াবহ।

৪. আল্লাহ প্রদত্ত সকল নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা উচিত।

৫. মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা ভাল-মন্দের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর কেউ জেনে শুনে ঈমান ও সত্য বর্জন করলে তা নিজের ওপরই বর্তাবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১-১০ নং আয়াতের তাফসীর

সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ এখানে জনবসতিপূর্ণ শান্তির সময়ের মক্কা মুআমার শপথ করছেন। তিনি শপথ করে বলেছেনঃ হে নবী (সঃ) এখানে একবার তোমার জন্যে যুদ্ধ বৈধ হবে, তাতে কোন পাপ বা অন্যায় হবে না। আর ঐ যুদ্ধে যা কিছু পাওয়া যাবে সেগুলো তোমার জন্যে শুধু ঐ সময়ের জন্যে বৈধ হবে। সহীহ্ হাদীসে এসেছে যে, আল্লাহর রাসূল হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেছেন, এই বরকত পূর্ণ শহর মক্কাকে আল্লাহ্ তাআ’লা প্রথম দিন থেকেই সম্মানিত ও মর্যাদাপূর্ণ করে সৃষ্টি করেছেন। এই সম্মান ও মর্যাদা কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। কতকগুলো কাজ এখানে হারাম বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেমন তথাকার কোন গাছ কাটা যাবে না, কোন কাঁটা উপড়িয়ে ফেলা যাবে না। আমার জন্যে শুধুমাত্র একটি দিনের এক নির্দিষ্ট সময়ের জন্যে বৈধ করা হয়েছিল, আজ আবার আমার জন্যেও নিষিদ্ধ সম্পর্কিত আদেশ পূর্বের মতই বলবৎ থাকবে। প্রত্যেক উপস্থিত ব্যক্তির দায়িত্ব হলো অনুপস্থিত লোকদের নিকট খবর পৌছিয়ে দেয়া।”

একটি হাদীসে আছে যে, নবী করীম (সঃ) বলেছেনঃ “এখানে (মক্কায়) যুদ্ধ-বিগ্রহের বৈধতা সম্বন্ধে কেউ আমার যুদ্ধকে যুক্তি হিসেবে পেশ করলে তাকে বলে দিতে হবেঃ আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর রাসূল (সঃ)-এর জন্য অনুমতি দিয়েছেন, তোমাদের জন্যে দেননি।”

এরপর আল্লাহ্ তাআ'লা পিতা এবং সন্তানের শপথ করেছেন। কারো কারো মতে (আরবি) শব্দের (আরবি) শব্দটি আরবী ব্যাকরণের পরিভাষায় (আরবি) বা নেতিবাচক (আরবি)। অথাৎ যার সন্তান আছে তার এবং যে নিঃসন্তান তার শপথ। আর যদি ব্যাকরণের পরিভাষায় (আরবি) কে (আরবি) মনে করা হয় তাহলে অর্থ হবেঃ পিতার এবং সন্তানদের শপথ। পিতা দ্বারা হযরত আদম (আঃ)-কে এবং সন্তান দ্বারা সমগ্র মানব জাতিকে বুঝানো হয়েছে। এই উক্তিটিই উত্তম বলে অনুভূত হচ্ছে কেননা, এর পূর্বে মক্কাভূমির শপথ করা হয়েছে যা সমস্ত জমীন ও বস্তিসমূহের জননী। অতঃপর মক্কার অধিবাসীদের শপথ করা হয়েছে অর্থাৎ মানুষের মূল বা শিকড় হযরত আদম (আঃ) এবং তাঁর সন্তানদের শপথ করা হয়েছে। আবু ইমরান (রঃ) বলেন যে, এখানে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) এবং তাঁর সন্তানদের কথা বলা হয়েছে। ইমাম ইবনু জারীর (রঃ) বলেন যে, এখানে সাধারণভাবে সকল পিতা এবং সকল সন্তানের কথা বলা হয়েছে।

অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ আমি মানুষকে সর্বাঙ্গীন সুন্দর, সুষম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের অধিকারী করে সৃষ্টি করেছি। মায়ের পেটেই তাকে এই পবিত্র গঠন-বিন্যাস এবং উন্নত আকৃতি প্রদান করা হয়ে থাকে। যেমন আল্লাহ্ তাআ'লা বলেনঃ (আরবি)

“হে মানুষ! কিসে তোমাকে ভোমার মহান প্রতিপালক সম্বন্ধে বিভ্রান্ত করলো যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং সুসমঞ্জস করেছেন। যেই আকৃতিতে চেয়েছেন তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” (৮২ ৬-৮) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)

অথাৎ “আমি তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি সুন্দরতম গঠনে।” (৯৫:৪) হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) প্রমুখ গুরুজন হতে বর্ণিত আছে যে, এর ভাবার্থ হচ্ছেঃ আমি তাকে শক্তি-সামর্থ সম্পন্ন করে সৃষ্টি করেছি। মানুষের উচিত তার নিজের প্রতি লক্ষ্য করা,তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে চিন্তা করা, তার দাঁত বের হওয়া ইত্যাদির প্রতি লক্ষ্য করা। মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, মানুষ প্রথমে ছিল বীর্য বা শুক্র, তারপরে হয়েছে রক্তপিন্ড এবং এরপরে হয়েছে গোশতটুকরা। মোটকথা, মানুষের জন্ম খুবই বিস্ময়কর এবং কষ্টকরও বটে, যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ “তার মাতা তাকে কষ্ট করে গর্ভে বহন করেছে এবং কষ্ট করে প্রসব করেছে।” (৪৬:১৫) মা সন্তানকে দুধ পান করানোতে এবং লালন-পালন করাতেও কঠিন কষ্ট স্বীকার করেছে। কাতাদা (রঃ) বলেন যে, ভাবার্থ হচ্ছেঃ কঠিন অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন। ইকরামা (রঃ) বলেন যে, ভাবার্থ হলোঃ কঠিন অবস্থায় এবং দীর্ঘ সময়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। দাঁড়ানো অবস্থার ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে এমনিভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। তাছাড়া তাকে দুনিয়া ও আখেরাতে কষ্ট সহ্য করতে হয়। হযরত আদম (আঃ) যেহেতু আসমানে সৃষ্ট হয়েছিলেন এ কারণেই এটা বলা হয়েছে।

মহা পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন তারা কি মনে করে যে, তাদের উপর কেউ ক্ষমতাবান হবে না? অর্থাৎ তারা ধারণা করে যে, তাদের ধন-মাল নিতে কেউ সক্ষম নয়? তারা কি মনে করে যে, তাদের উপর কারো কর্তৃত্ব নেই? তারা কি জিজ্ঞাসিত হবে না যে, তারা কোথা থেকে ধন-সম্পদ উপার্জন করেছে এবং কোথায় তা ব্যয় করেছে? নিঃসন্দেহে তাদের উপর আল্লাহর কর্তৃত্ব রয়েছে এবং আল্লাহ তাদের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। তারা বলে বেড়ায়ঃ আমরা বহু ধনমাল খরচ করে ফেলেছি। তারা কি মনে করে যে, তাদেরকে কেউ দেখছে না? অর্থাৎ তারা কি নিজেদেরকে আল্লাহর দৃষ্টি থেকে অদৃশ্য মনে করে?

এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ আমি কি মানুষকে দেখার জন্যে দুটি চক্ষু প্রদান করিনি? মনের কথা প্রকাশ করার জন্যে কি আমি তাদেরকে জিহ্বা দিইনি? কথা বলার জন্যে, পানাহারের জন্যে, চেহারা ও মুখমণ্ডলের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্যে কি আমি তাদেরকে দুটি ওষ্ঠ প্রদান করিনি?

নবী করীম (সঃ) বলেছেন যে, আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “হে আদম সন্তান! আমি তোমাদেরকে অসংখ্য বড় বড় নিয়ামত দান করেছি যেগুলো তোমরা গণনা করে শেষ করতে পারবে না। ওগুলোর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করার শক্তিও তোমাদের নেই। আমি তোমাদেরকে দেখার জন্যে দুটি চক্ষু দান করেছি। তারপর সেই চোখের উপর গিলাফ সৃষ্টি করেছি। কাজেই হালাল জিনিসের প্রতি সেই চোখ দ্বারা তাকাও এবং হারাম বা নিষিদ্ধ জিনিস সামনে এলে চক্ষু বন্ধ করে ফেলো। আমি তোমাদেরকে জিহ্বা দিয়েছি এবং ওর গিলাফও দিয়েছি। সুতরাং আমার সন্তুষ্টিমূলক কথা মুখ থেকে বের কর এবং অসন্তুষ্টিমূলক কথা থেকে জিহ্বাকে বিরত রাখো। আমি তোমাদেরকে লজ্জাস্থান দিয়েছি এবং ওর মধ্যে পর্দা দিয়েছি। কাজেই বৈধ ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করো, কিন্তু অবৈধ ক্ষেত্রে পর্দা স্থাপন করো। হে আদম সন্তান! আমার অসন্তুষ্টি সহ্য করার মত শক্তি তোমাদের নেই। আমার শাস্তি সহ্য করার ক্ষমতাও তোমাদের নেই।” (এ হাদীসটি হাফিয ইবনে আসাকির (রঃ) বর্ণনা করেছেন)

এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেনঃ আমি তাদেরকে ভালো মন্দ দুটি পথই দেখিয়েছি। হযরত আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “(ভালো ও মন্দ) এ দু’টি পথ, মন্দ পথকে তোমাদের নিকট তিনি ভালো পথ হতে পছন্দনীয় ও প্রিয় করেননি। কিন্তু এ হাদীসটি অত্যন্ত দুর্বল। তবে মুরসালরূপেও এ হাদীসটি বর্ণনা করা হয়েছে।

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, দুই নাজদ দ্বারা দুই স্তনকে বুঝানো হয়েছে। আরও কতিপয় তাফসীরকার এ কথাই বলেছেন। ইমাম ইবনে জারীর (রাঃ) বলেন যে, প্রথম উক্তিটিই সঠিক। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “আমি তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি মিলিত শুক্র বিন্দু হতে, তাকে পরীক্ষা করবার জন্যে, এ জন্যে আমি তাকে করেছি শ্রবণ ও দৃষ্টি শক্তিসম্পন্ন। আমি তাকে পথের নির্দেশ দিয়েছি, হয় সে কৃতজ্ঞ হবে, না হয় সে অকৃতজ্ঞ হবে।” (৭৬:২-৩)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।