আল কুরআন


সূরা আল-আনফাল (আয়াত: 74)

সূরা আল-আনফাল (আয়াত: 74)



হরকত ছাড়া:

آمنوا وهاجروا وجاهدوا في سبيل الله والذين آووا ونصروا أولئك هم المؤمنون حقا لهم مغفرة ورزق كريم ﴿٧٤﴾ )




হরকত সহ:

وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ هَاجَرُوْا وَ جٰهَدُوْا فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ وَ الَّذِیْنَ اٰوَوْا وَّ نَصَرُوْۤا اُولٰٓئِکَ هُمُ الْمُؤْمِنُوْنَ حَقًّا ؕ لَهُمْ مَّغْفِرَۃٌ وَّ رِزْقٌ کَرِیْمٌ ﴿۷۴﴾




উচ্চারণ: ওয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া হা-জারূওয়া জা-হাদূফী ছাবীলিল্লা-হি ওয়াল্লাযীনা আ-ওয়াওঁ ওয়া নাসারুউলাইকা হুমুল মু’মিনূনা হাক্কাল লাহুম মাগফিরাতুওঁ ওয়া রিযকুন কারীম।




আল বায়ান: আর যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে এবং যারা আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, তারাই প্রকৃত মুমিন, তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক রিয্ক।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৪. আর যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আর যারা আশ্রয় দান করেছে এবং সাহায্য করেছে, তারাই প্রকৃত মুমিন তাদের জন্য ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা রয়েছে।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা ঈমান এনেছে, হিজরাত করেছে, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করেছে আর যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে, সাহায্য-সহযোগিতা করেছে- তারাই প্রকৃত ঈমানদার। তাদের জন্য আছে ক্ষমা আর সম্মানজনক জীবিকা।




আহসানুল বায়ান: (৭৪) যারা ঈমান এনেছে, (দ্বীনের জন্য স্বদেশত্যাগ) হিজরত করেছে, আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে এবং যারা (মু’মিনদেরকে) আশ্রয় দান করেছে ও সাহায্য করেছে তারাই প্রকৃত মু’মিন (বিশ্বাসী)। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা। [1]



মুজিবুর রহমান: যারা ঈমান এনেছে, (দীনের জন্য) হিজরাত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আর যারা (মু’মিনদেরকে) আশ্রয় দিয়েছে এবং যাবতীয় সাহায্য সহানুভূতি প্রকাশ করেছে, তারাই হল প্রকৃত মু’মিন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।



ফযলুর রহমান: যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে ও আল্লাহর পথে জেহাদ করেছে এবং যারা (তাদেরকে) আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে তারাই হচ্ছে সত্যিকার মুমিন। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।



মুহিউদ্দিন খান: আর যারা ঈমান এনেছে, নিজেদের ঘর-বাড়ী ছেড়েছে এবং আল্লাহর রাহে জেহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছে, সাহায্য-সহায়তা করেছে, তাঁরা হলো সত্যিকার মুসলমান। তাঁদের জন্যে রয়েছে, ক্ষমা ও সম্মানজনক রুযী।



জহুরুল হক: আর যারা ঈমান এনেছে ও হিজরত করেছে ও আল্লাহ্‌র পথে জিহাদ করেছে, আর যারা আশ্রয় দিয়েছে ও সাহায্য করেছে, -- এরা নিজেরাই হচ্ছে প্রকৃত মুমিন। এদের জন্যেই রয়েছে পরিত্রাণ ও মহৎ জীবিকা।



Sahih International: But those who have believed and emigrated and fought in the cause of Allah and those who gave shelter and aided - it is they who are the believers, truly. For them is forgiveness and noble provision.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭৪. আর যারা ঈমান এনেছে, হিজরত করেছে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, আর যারা আশ্রয় দান করেছে এবং সাহায্য করেছে, তারাই প্রকৃত মুমিন তাদের জন্য ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা রয়েছে।(১)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ তাদের জন্য মাগফেরাত নির্ধারিত। যেমন, বিশুদ্ধ হাদীসসমূহে বর্ণিত রয়েছে যে, “ইসলাম গ্রহণ যেমন তার পূর্ববর্তী সমস্ত পাপকে নিঃশেষ করে দেয়, তেমনিভাবে হিজরত তার পূর্ববর্তী সমস্ত পাপকে নিঃশেষ করে দেয়।” [মুসলিমঃ ১২১]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭৪) যারা ঈমান এনেছে, (দ্বীনের জন্য স্বদেশত্যাগ) হিজরত করেছে, আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে এবং যারা (মু’মিনদেরকে) আশ্রয় দান করেছে ও সাহায্য করেছে তারাই প্রকৃত মু’মিন (বিশ্বাসী)। তাদের জন্য রয়েছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা। [1]


তাফসীর:

[1] এটা মুহাজিরীন ও আনসারদের সেই দুই দলের বর্ণনা যা পূর্বে উল্লেখ হয়েছে। এখানে তার পুনর্বার উল্লেখ তাঁদের ফযীলত ও মর্যাদার বর্ণনার জন্য করা হয়েছে। আর পূর্বের উল্লেখ তাঁদের আপোসে পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতার আবশ্যকতা বর্ণনা করার জন্য ছিল।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭৪-৭৫ নং আয়াতের তাফসীর:



এখানে আল্লাহ তা‘আলা পুনরায় মুহাজির ও আনসাদের বর্ণনা নিয়ে এসেছেন এবং এখানে তাদের অন্যতম আরেকটি গুণ উল্লেখ করেছেন যে, তারাই প্রকৃত মু’মিন। প্রকৃত মু’মিনের গুণাগুণ সম্পর্কে অত্র সূরার শুরুর দিকে আলোচনা করা হয়েছে।



(وَالَّذِيْنَ اٰمَنُوْا مِنْۭ بَعْدُ)



‘যারা (আনসার ও মুহাজিরদের) পরে ঈমান এনেছে’এটা হল চতুর্থ দলের বিবরণ যারা ফযীলতে প্রথম দু’ দলের পরবর্তী এবং তৃতীয় দলের (যারা হিজরত করেনি) পূর্ববর্তী স্তরের সাহাবী ছিলেন। অর্থাৎ যেসকল সাহাবীগণ মক্কা বিজয়ের পর ঈমান এনে পূর্ববর্তী ঈমান আনয়নকারী সাহাবীদের সাথে জিহাদে অংশগ্রহণ করেছেন।



(فَأُولٰ۬ئِكَ مِنْكُمْ)



‘তারাও তোমাদের অন্তর্ভুক্ত’অর্থাৎ তারা তা-ই পাবে তোমরা যা পাবে, তাদের ওপর তা-ই বর্তাবে তোমাদের ওপর যা বর্তাবে। এ ঈমানী সম্পর্ক ইসলামের সূচনাতে ছিল এবং এ সম্পর্কের অনেক গুরুত্ব ছিল, এমনকি একে অপরের উত্তরাধিকার হতো।



পরে এ আয়াত নাযিল হল



(وَأُولُو الْأَرْحَامِ بَعْضُهُمْ أَوْلٰي بِبَعْضٍ)



‘এবং আত্মীয়গণ আল্লাহর বিধানে একে অন্য অপেক্ষা অধিক হকদার।’অর্থাৎ সাহাবীগণ ভ্রাতৃত্ব ও মিত্রতার ভিত্তিতে উত্তরাধিকারীরূপে পরস্পর যে অংশীদার হতেন এ আয়াত দ্বারা তা রহিত করা হল। এখন ওয়ারিশ কেবল সেই হবে, যে বংশ অথবা বৈবাহিক সূত্রে নিকাটাত্মীয়।



(فِيْ كِتٰبِ اللّٰهِ)



বা আল্লাহ তা‘আলার কিতাব বলতে লাওহে মাহফূজ উদ্দেশ্য। ভ্রাতৃত্বের খাতিরে কেবল সাময়িকভাবে একে অপরের ওয়ারিশ বানিয়ে দেয়া হয়েছিল। যা এখন প্রয়োজন না থাকার কারণে রহিত করা হল এবং মূল নির্দেশ বহাল রাখা হল।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আনসার ও মুহাজিরদের ফযীলত জানতে পারলাম।

২. পরবর্তীতে যারা ঈমান এনেছে তাদের ফযীলত জানতে পারলাম।

৩. ধর্মীয় ভ্রাতৃত্বের ওয়ারিশ রহিত হয়ে গেছে।

সূরা আনফালের তাফসীর সমাপ্ত


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭৪-৭৫ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের পার্থিব হুকুম বর্ণনা করার পর আখিরাতে তাদের জন্যে কি রয়েছে তার বর্ণনা দিচ্ছেন। তিনি তাদের ঈমানের সত্যতা প্রকাশ করছেন। যেমন এই সূরার প্রথম দিকে এ বর্ণনা দেয়া হয়েছে। তারা দান প্রাপ্ত হবে, তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন এবং তারা সম্মানজনক জীবিকা লাভ করবে, যা হবে চিরস্থায়ী এবং পাক ও পবিত্র। সেগুলো হবে বিভিন্ন প্রকারের উপাদেয় খাদ্য এবং সেগুলো কখনো নিঃশেষ হবে না। তাদের যারা অনুসারী এবং ঈমানে ও ভাল আমলে তাদের সাথে অংশগ্রহণকারী তারা আখিরাতেও সমমর্যাদা লাভ করবে। যেমন আল্লাহ পাক (আরবী) (৯:১০০) এবং (আরবী) (৫৯:১০) বলেছেন। এটা সর্বসম্মত মত এমন কি মুতাওয়াতির হাদীসেও রয়েছে যে, মানুষ তার সাথেই থাকবে যাকে সে ভালবাসে। অন্য একটি হাদীসে রয়েছে যে, যে ব্যক্তি কোন কওমের সাথে ভালবাসা রাখে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। একটি রিওয়ায়াতে আছে যে, তার হাশরও ওদের সাথেই হবে। মুসনাদে আহমাদের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, মুহাজির ও আনসার একে অপরের ওলী বা অভিভাবক। মক্কা বিজয়ের পরের মুসলমান কুরায়েশী এবং সাকীফের আযাদকৃত ব্যক্তি কিয়ামত পর্যন্ত একে অপরের অভিভাবক।

এরপর উলুল আরহামের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। এখানে উলুল আরহাম দ্বারা ঐ আত্মীয়দের উদ্দেশ্য করা হয়নি যাদেরকে ফারায়েয শাস্ত্রবিদদের পরিভাষায় উলুল আরহাম বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ যাদের কোন অংশ নির্ধারিত নেই এবং যারা আসাবাও (আল্লাহ তাআলার কিতাবে যেসব ওয়ারিসের অংশ নির্ধারিত রয়েছে তাদেরকে অংশ দেয়ার পর বাকী অংশ যেসব ওয়ারিস পেয়ে থাকে তাদেরকে ফারায়েযের পরিভাষায় আসাবা বলা) নয়। যেমন মামা, খালা, ফুফু, কন্যার ছেলেমেয়ে, বোনের ছেলেমেয়ে ইত্যাদি। কারো কারো মতে এখানে উলুল আরহাম দ্বারা এদেরকেই বুঝানো হয়েছে। তারা এ আয়াতটিকেই দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং এই ব্যাপারে তাকে স্পষ্টভাবে ওলী বলে থাকেন। কিন্তু প্রকৃত ব্যাপার তা নয়। বরং সঠিক কথা এই যে, এ আয়াতটি আম বা সাধারণ। এটা সমস্ত আত্মীয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। যেমন ইবনে আব্বাস (রাঃ), মুজাহিদ (রঃ), ইকরামা (রঃ), হাসান (রঃ) এবং কাতাদা (রঃ) বলেন যে, মিত্রদের পরস্পর ওয়ারিশ হওয়া এবং বানানো ভাইদের পরস্পর ওয়ারিশ হওয়া, যা পূর্বে প্রথা ছিল, এ আয়াতটি এটাকে মানসূখ বা রহিতকারী। সুতরাং এটা বিশেষ নামের সাথে ফারায়েযের আলেমদের যাবিল আরহামকে অন্তর্ভুক্ত করবে। আর যারা এদেরকে ওয়ারিস বলেন না তাদের কয়েকটি দলীল রয়েছে। তাদের সবচেয়ে মজবুত দলীল হচ্ছে নিম্নের হাদীসটিঃ

“নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক হকদারকে তার হক প্রদান করেছেন। সুতরাং কোন ওয়ারিসের জন্যে অসিয়ত নেই।” তারা বলেন যে, এরা যদি হকদার হতো তবে আল্লাহর কিতাবে এদেরও হক নির্ধারিত হতো। কিন্তু তা যখন নেই তখন তারা ওয়ারিসও নয়। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।