আল কুরআন


সূরা আল-আনফাল (আয়াত: 64)

সূরা আল-আনফাল (আয়াত: 64)



হরকত ছাড়া:

يا أيها النبي حسبك الله ومن اتبعك من المؤمنين ﴿٦٤﴾




হরকত সহ:

یٰۤاَیُّهَا النَّبِیُّ حَسْبُکَ اللّٰهُ وَ مَنِ اتَّبَعَکَ مِنَ الْمُؤْمِنِیْنَ ﴿۶۴﴾




উচ্চারণ: ইয়াআইয়ুহান্নাবিইয়ুহাছবুকাল্লা-হু ওয়া মানিত তাবা‘আকা মিনাল মু’মিনীন।




আল বায়ান: হে নবী, তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং যেসব মুমিন তোমার অনুসরণ করেছে তাদের জন্যও।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬৪. হে নবী! আপনার জন্য ও আপনার অনুসারীদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।




তাইসীরুল ক্বুরআন: হে নাবী! আল্লাহই তোমার আর তোমার অনুসারী ঈমানদারদের জন্য যথেষ্ট।




আহসানুল বায়ান: (৬৪) হে নবী! তোমার জন্য ও তোমার অনুসারী বিশ্বাসিগণের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।



মুজিবুর রহমান: হে নাবী! তোমার জন্য ও তোমার অনুসারী মু’মিনদের জন্য (সর্বক্ষেত্রে) আল্লাহই যথেষ্ট।



ফযলুর রহমান: হে নবী! তোমার জন্য এবং তোমার অনুসারী মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।



মুহিউদ্দিন খান: হে নবী, আপনার জন্য এবং যেসব মুসলমান আপনার সাথে রয়েছে তাদের সবার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট।



জহুরুল হক: হে প্রিয় নবী! আল্লাহ্‌ই তোমার জন্য আর সেইসব মুমিনদের জন্য যথেষ্ট যারা তোমার অনুসরণ করে।



Sahih International: O Prophet, sufficient for you is Allah and for whoever follows you of the believers.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৬৪. হে নবী! আপনার জন্য ও আপনার অনুসারীদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৬৪) হে নবী! তোমার জন্য ও তোমার অনুসারী বিশ্বাসিগণের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৬০-৬৪ নং আয়াতের তাফসীরঃ



এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে শত্রুদের বিরুদ্ধে শক্তি অর্জনের নির্দেশ দিচ্ছেন। যাতে শত্রুরা তা দেখে ভয় করে। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এ আয়াতের তাফসীরে বলেন:



أَلَا إِنَّ الْقُوَّةَ الرَّمْي ، أَلَا إِنَّ الْقُوَّةَ الرَّمْي ، أَلَا إِنَّ الْقُوَّةَ الرَّمْي



অর্র্থাৎ জেনে রেখ! শক্তি হল নিক্ষেপণ, জেনে রেখ! শক্তি হল নিক্ষেপণ। (আবূ দাউদ হা: ২৫১৬, তিরমিযী হা: ৩০৮৩, সহীহ)



এখানে লক্ষণীয় যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এ কথা বলেননি যে, শক্তি হল তীর নিক্ষেপ করা। কেননা তা বললে, তীর নিক্ষেপণে সীমাবদ্ধ হয়ে যেত। বরং বলেছেন: শক্তি হল নিক্ষেপণ। তার মানে হল সকল যুগের সকল ক্ষেপণাস্ত্র এতে শামিল। তৎকালীন আরবে তীর নিক্ষেপ করার বিদ্যা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এর দ্বারা দূর থেকে সহজেই শত্রু নিপাত করা যেত। বর্তমানে হল, ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট মিসাইল, ট্যাংক, কামান, বোমারু বিমান ইত্যাদি। শারীরিক প্রশিক্ষণ ও সমর বিদ্যা শিক্ষা করাও এতে শামিল। আল্লাহ তা‘আলা এ শক্তি অর্জনের সাথে মু’মিনদেরকে সাহস দিয়ে বলেন: তোমাদের সফলতা লাভের জন্য এটা অপরিহার্য নয় যে, তোমাদের প্রতিপক্ষের নিকট যে ধরণের এবং যে পরিমাণ উপকরণ রয়েছে তোমাদেরকেও ততটাই অর্জন করতে হবে বরং সামর্থ্য অনুযায়ী যা কিছু উপকরণ জোগাড় করতে পার তা-ই কর। আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য তোমাদের সাথে থাকবে। সুতরাং শত্রুদের অধিক পরিমাণ সৈন্য ও অস্ত্র দেখে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই, নিজেদের সামর্থ্যানুযায়ী সরঞ্জামাদী নিয়ে আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করে জিহাদে অংশ গ্রহণ করলে আল্লাহ তা‘আলা সাহায্য করবেন।



তারপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন-



(وَّمِنْ رِّبَاطِ الْخَيْلِ)



‘অশ্ব-বাহিনী প্রস্তুত কর’ অর্থাৎ সুসজ্জিত ঘোড়াও প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তৎকালীন আরবে যুদ্ধের প্রধান উপকরণ হিসেবে ঘোড়া ছিল অতীব গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বতর্মানেও তা অনস্বীকার্য। তাই সব দেশের সেনাদের সাথে কমবেশি ঘোড়া দেখা যায়।



রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালের চুলে কল্যাণ বাঁধা থাকবে। সে কল্যাণ হল সাওয়াব ও গনীমত। (সহীহ বুখারী হা: ২৮৫২)



আবূ হুরারইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: নাবী (সাঃ) বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান ও তাঁর প্রতিশ্র“তির প্রতি বিশ্বাস রেখে আল্লাহ তা‘আলার পথে জিহাদের জন্য ঘোড়া প্রস্তুত রাখে, কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তির দাঁড়িপাল্লায় ঘোড়ার খাদ্য, পানীয়, গোবর ও পেশাব ওজন করা হবে। (সহীহ বুখারী হা: ২৮৫৩, সহীহ মুসলিম হা: ৯৮৭)



(وَاٰخَرِيْنَ مِنْ دُوْنِهِمْ)



‘এবং এতদ্ব্যতীত অন্যদেরকে যাদেরকে তোমরা জান না, অর্থাৎ যাদের সাথে এখনো তোমাদের শত্রুতা প্রকাশ পায়নি। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে জানেন এবং তারা যা গোপন করে তাও জানেন।



আবদুর রহমান বিন যায়েদ বলেন: তারা হল মুনাফিক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَمِمَّنْ حَوْلَکُمْ مِّنَ الْاَعْرَابِ مُنٰفِقُوْنَﹾ وَمِنْ اَھْلِ الْمَدِیْنَةِﹻ مَرَدُوْا عَلَی النِّفَاقِﺤ لَا تَعْلَمُھُمْﺚ نَحْنُ نَعْلَمُھُمْ)



“মরুবাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের কেউ কেউ মুনাফিক এবং মদীনাবাসীদের মধ্যেও কেউ কেউ তারা কপটতায় সিদ্ধ। তুমি তাদেরকে জান না; আমি তাদেরকে জানি।” (তাওবাহ ৯:১০১)



(وَإِنْ جَنَحُوْا لِلسَّلْمِ)



‘তারা যদি সন্ধির দিকে ঝুঁকে পড়ে তবে...’ অর্থাৎ শত্রুরা যদি যুদ্ধ না করে সন্ধি করতে সম্মত হয় তাহলে তাদের সাথে সন্ধি করে নাও। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা কর।



কোন অমুসলিম এলাকায় হামলা করার পূর্বশর্ত হল:



১. প্রথমে তাদেরকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতে হবে। যদি ইসলাম কবূল করে নেয় তাহলে ভাল।



২. ইসলাম কবূল না করলে জিযিয়া দিয়ে থাকবে আর ইসলামী রাষ্ট্রের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে বলে নির্দেশ দেয়া হবে।



৩. যদি জিযিয়া দিতে না চায় তাহলে বিসমিল্লাহ বলে যুদ্ধ করতে হবে। (সহীহ মুসলিম হা:৪৬১৯)



তবে সন্ধির নামে যদি ধোঁকা ও প্রতারণার উদ্দেশ্য থাকে তাহলে ঘাবড়ানোর কিছুই নেই। আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলাই তাঁর সাহায্য ও মু’মিনদের দ্বারা সহযোগিতা করবেন।



অতঃপর রাসূলকে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তিনি মু’মিনদের মাঝে সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতা সৃষ্টি করেছেন, যা তুমি সারা জাহানের বিনিময়েও করতে সক্ষম হতে না। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَاذْكُرُوْا نِعْمَتَ اللّٰهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَا۬ءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوْبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِه۪ إِخْوَانًا)



“আর তোমাদের ওপর আল্লাহর দেয়া নেয়ামতকে স্মরণ কর। যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে এবং তিনি তোমাদের অন্তরের মধ্যে ভালবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। ফলে তোমরা তাঁর অনুগ্রহে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে গেলে।” (সূরা আলি-ইমরান ৩:১০৯)



সাহাবীদের মাঝে এমন আন্তরিকতা গড়ে উঠেছিল যার কারণে একজন সাহাবী অপর মুসলিম ভাইয়ের বিবাহর জন্য নিজের প্রিয়তমা স্ত্রীকে তালাক দিতে এবং নিজের জমিতে অংশীদার বানাতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। মূলতঃ এটা ছিল আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে ঈমানী ভ্রাতৃত্ব।



(یٰٓاَیُّھَا النَّبِیُّ حَسْبُکَ اللہُ....)



‘হে নাবী! তোমার জন্য ও তোমার অনুসারী মু’মিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ অর্থাৎ হে নাবী! তোমার জন্য এবং যে সকল মু’মিনরা তোমার আনুগত্য করে তাদের সকলের জন্য আল্লাহ তা‘আলাই যথেষ্ট। অনেকে ভুল করে এ আয়াতের অনুবাদ করে যে, হে নাবী! তোমার জন্য আল্লাহ তা‘আলা যথেষ্ট এবং যে সকল মু’মিনরা তোমার অনুসরণ করে তারাও তোমার জন্য যথেষ্ট। এটা ভুল; বরং সঠিক অর্থ হল “তোমার জন্য এবং যে সকল মু’মিনরা তোমার আনুগত্য করে তাদের সকলের জন্য আল্লাহ তা‘আলাই যথেষ্ট”।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. শত্রুদের বিরুদ্ধে যথাযথ অস্ত্র, সরঞ্জামাদি ও শারীরিক যোগ্যতা প্রস্তুত রাখা মু’মিনদের জন্য ওয়াজিব।

২. কোন কাফির জাতি যুদ্ধ না করে সন্ধি করতে চাইলে তা কবূল করে নেয়া উচিত।

৩. প্রকৃত মুসলিম কখনো শত্রু থেকে মুক্ত নয়।

৪. ঈমানের মাধ্যমে মু’মিনদের মাঝে নজিরবিহীন ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয় যা রক্তের ভ্রাতৃত্ববোধকে হার মানায়।

৫. সকলের সার্বিক বিষয়ের জন্য আল্লাহ তা‘আলাই যথেষ্ট।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৬৪-৬৬ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবী (সঃ) ও মুসলিমদেরকে জিহাদের প্রতি উৎসাহিত করছেন এবং তাদের অন্তরে প্রশান্তি দান করছেন যে, তিনি তাদেরকে শত্রুদের উপর জয়যুক্ত করবেন, যদিও তারা সংখ্যায় অধিক ও তাদের অস্ত্রশস্ত্র ও বেশী, আর মুসলিমরা সংখ্যায় কম এবং তাদের যুদ্ধাস্ত্রও নগণ্য। মহান আল্লাহ স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে সম্বোধন করে বলছেনঃ “আল্লাহই তোমার জন্যে যথেষ্ট এবং যে স্বল্প সংখ্যক মুসলিম তোমার সাথে রয়েছে তাদের দ্বারাই তুমি সফলতা লাভ করবে। এরপর আল্লাহ পাক তাঁর নবী (সঃ)-কে নির্দেশ দিচ্ছেন- “তুমি মুমিনদেরকে জিহাদের প্রতি উৎসাহ দান করতে থাক।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) সৈন্যদের শ্রেণী বিন্যাস করার সময় এবং মুকাবিলার সময় সৈন্যবাহিনীর মনে উৎসাহ-উদ্দীপনা যোগাতে থেকেছেন। বদর যুদ্ধের দিন তিনি তাদেরকে বলেনঃ “উঠো, ঐ জান্নাত লাভ কর যার প্রস্থ হচ্ছে আসমান ও যমীনের সমান।” এ কথা শুনে উমায়ের ইবনে হামাম (রাঃ) বলেনঃ “প্রস্থ এতো বেশী?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তরে বলেনঃ “হ্যাঁ হ্যা, এতোটাই বটে।” তখন তিনি বলেনঃ “বাঃ! বাঃ!” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর এ কথা শুনে বলেনঃ “এ কথা তুমি কি উদ্দেশ্যে বললে?” তিনি উত্তরে বলেনঃ “আমি একথা এ আশায় বললাম যে, আল্লাহ তা'আলা আমাকেও জান্নাত দান করবেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “আমি ভবিষ্যদ্বাণী করছি যে, তুমি সত্যিই জান্নাত লাভ করবে।” তিনি তখন উঠে শত্রুদের দিকে অগ্রসর হলেন এবং তরবারীর কোষ ভেঙ্গে দিলেন। অতঃপর তাঁর কাছে যা কিছু খেজুর ছিল তা খেতে শুরু করলেন। তারপর তিনি বললেনঃ “এগুলো খাওয়া পর্যন্ত আমি বিলম্ব করতে পারি না। সুতরাং তিনি ওগুলো হাত থেকে ফেলে দিলেন এবং আক্রমণে উদ্যত হয়ে সিংহের ন্যায় শত্রুদের মধ্যে ঝাপিয়ে পড়লেন, আর সুতীক্ষ তরবারী দ্বারা কাফিরদেরকে হত্যা করতে করতে নিজেও শহীদ হয়ে গেলেন। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁকেও সন্তুষ্ট করুন!

ইবনুল মুসাইয়া (রাঃ) এবং সাঈদ ইবনে জুবাইর (রাঃ) বলেন যে, এ আয়াত উমার (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণের সময় অবতীর্ণ হয়। ঐ সময় মুসলিমদের সংখ্যা মোট চল্লিশজন হয়েছিল। কিন্তু এ কথায় চিন্তা ভাবনার অবকাশ রয়েছে। কেননা, এটা মাদানী আয়াত । অথচ উমার (রাঃ)-এর ইসলাম গ্রহণ হচ্ছে মক্কার ঘটনা। এটা হচ্ছে আবিসিনিয়ার হিজরতের পরের এবং মদীনায় হিজরতের পূর্বের ঘটনা। এসব বিষয় আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভাল জানেন।

এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা মুমিনদেরকে সুসংবাদ প্রদান পূর্বক নির্দেশ দিচ্ছেন- “তোমাদের বিশজন কাফিরদের দু’শজনের উপর বিজয়ী হবে এবং একশজন এক হাজারের উপর জয়যুক্ত হবে। মোটকথা একজন মুসলিম দশজন কাফিরের উপর বিজয় লাভ করবে। অতঃপর এ হুকুম মানসূখ বা রহিত হয়ে যায়। কিন্তু সুসংবাদ বাকী রয়েছে। যখন মুসলিমদের এটা কঠিন ঠেকলো তখন আল্লাহ তাআলা তাদের উপর হুকুম হালকা করে দিলেন এবং বললেন যে, আল্লাহ তা'আলা বোঝা হালকা করে দিলেন। কিন্তু সংখ্যা যতটা কম হয়ে গেল সেই পরিমাণ ধৈর্যও কম হলো। পূর্বে হুকুম ছিল যে, বিশজন মুসলিম যেন দু’শজন কাফির থেকে পিছে না সরে। এখন এই হুকুম হলো যে, তাদের দ্বিগুণ সংখ্যা অর্থাৎ একশজন মুসলিম যেন দু’শজন কাফির থেকে পলায়ন না করে । সুতরাং পূর্বের হুকুম মুমিনদের কাছে কঠিন হওয়ার কারণে তাদের দুর্বলতা ককূল করতঃ আল্লাহ তা'আলা তাদের উপর হুকুম হালকা করে দেন। অতএব যুদ্ধের ময়দানে কাফিরদের সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়া অবস্থায় মুসলিমদের পিছনে সরে যাওয়া উচিত নয়। হ্যা, তবে তাদের সংখ্যা মুসলিমদের দ্বিগুণের বেশী হলে তাদের সাথে যুদ্ধ করা মুসলিমদের উপর ওয়াজিব নয় এবং ঐ অবস্থায় তাদের পিছনে সরে যাওয়া জায়েয। (মুজাহিদ (রঃ), ইকরামা (রঃ), হাসান (রঃ), যায়েদ ইবনে আসলাম (রঃ) যহহাক (রঃ) প্রমুখ গুরুজন হতে এরূপই বর্ণিত হয়েছে) ইবনে উমার (রাঃ) বলেন যে, এ আয়াতটি মুহাম্মাদ (সঃ)-এর সাহাবীদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। রাসূলুল্লাহ (সঃ) (আরবী)-এ আয়াতটি পাঠ করে বলেনঃ “পূর্বের হুকুমটি উঠে গেছে।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।