সূরা আল-আনফাল (আয়াত: 60)
হরকত ছাড়া:
وأعدوا لهم ما استطعتم من قوة ومن رباط الخيل ترهبون به عدو الله وعدوكم وآخرين من دونهم لا تعلمونهم الله يعلمهم وما تنفقوا من شيء في سبيل الله يوف إليكم وأنتم لا تظلمون ﴿٦٠﴾
হরকত সহ:
وَ اَعِدُّوْا لَهُمْ مَّا اسْتَطَعْتُمْ مِّنْ قُوَّۃٍ وَّ مِنْ رِّبَاطِ الْخَیْلِ تُرْهِبُوْنَ بِهٖ عَدُوَّ اللّٰهِ وَ عَدُوَّکُمْ وَ اٰخَرِیْنَ مِنْ دُوْنِهِمْ ۚ لَا تَعْلَمُوْنَهُمْ ۚ اَللّٰهُ یَعْلَمُهُمْ ؕ وَ مَا تُنْفِقُوْا مِنْ شَیْءٍ فِیْ سَبِیْلِ اللّٰهِ یُوَفَّ اِلَیْکُمْ وَ اَنْتُمْ لَا تُظْلَمُوْنَ ﴿۶۰﴾
উচ্চারণ: ওয়া আ‘ইদ্দূলাহুম মাছতাতা‘তুম মিন কুওওয়াতিওঁ ওয়া মির রিবা-তিল খাইলি তুরহিবূনা বিহী ‘আদুওঁ ওআল্লা-হি ওয়া ‘আদুওঁ ওয়াকুম ওয়া আ-খারীনা মিন দূ নিহিম লাতা‘লামূনাহুম আল্লা-হু ইয়া‘লামুহুম ওয়া মা-তুনফিকূমিন -শাইয়িন ফী ছাবীলিল্লা-হি ইউওয়াফফা ইলাইকুম ওয়া আনতুম লা-তুজলামূন।
আল বায়ান: আর তাদের মুকাবিলার জন্য তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শক্তি ও অশ্ব বাহিনী প্রস্তুত কর, তা দ্বারা তোমরা ভয় দেখাবে আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রুদেরকে এবং এরা ছাড়া অন্যদেরকেও, যাদেরকে তোমরা জান না, আল্লাহ তাদেরকে জানেন। আর তোমরা যা আল্লাহর রাস্তায় খরচ কর, তা তোমাদেরকে পরিপূর্ণ দেয়া হবে, আর তোমাদেরকে যুলম করা হবে না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬০. আর তোমরা তাদের মুকাবিলার জন্য যথাসাধ্য প্রস্তুত রাখ শক্তি ও অশ্ব বাহিনী(১), তা দিয়ে তোমরা ভীত-সন্ত্রস্ত করবে আল্লাহর শক্রকে, তোমাদের শক্রকে এবং এরা ছাড়া অন্যদেরকে যাদেরকে তোমরা জান না, আল্লাহ তাদেরকে জানেন(২)। আর আল্লাহর পথে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।(৩)
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর তাদেরকে মুকাবালা করার জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও অশ্ব-বাহিনী সদা প্রস্তুত রাখবে যদ্বারা তোমরা ভয় দেখাতে থাকবে আল্লাহর শত্রু আর তোমাদের শত্রুকে, আর তাদের ছাড়াও অন্যান্যদেরকেও যাদেরকে তোমরা জান না কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে জানেন। তোমরা আল্লাহর পথে যা খরচ কর তার পুরোপুরি প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হবে, আর তোমাদের সাথে কক্ষনো যুলম করা হবে না।
আহসানুল বায়ান: (৬০) তোমরা তাদের (মোকাবিলার) জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও সুসজ্জিত অশ্ব প্রস্তুত রাখ,[1] এ দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু তথা তোমাদের শত্রুকে সন্ত্রস্ত করবে এবং এ ছাড়া অন্যদেরকে যাদেরকে তোমরা জান না, আল্লাহ জানেন। আর আল্লাহর পথে যা কিছু ব্যয় করবে, তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি অত্যাচার করা হবে না।
মুজিবুর রহমান: তোমরা কাফিরদের মুকাবিলা করার জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও সদাসজ্জিত অশ্ববাহিনী প্রস্তুত রাখবে যদ্দবারা আল্লাহর শক্র ও তোমাদের শক্রদেরকে ভীত সন্ত্রস্ত করবে, এছাড়া অন্যান্যদেরকেও যাদেরকে তোমরা জাননা, কিন্তু আল্লাহ জানেন। আর তোমরা আল্লাহর পথে যা কিছু ব্যয় কর, তার প্রতিদান তোমাদেরকে পুরোপুরি প্রদান করা হবে, তোমাদের প্রতি (কম দিয়ে) অত্যাচার করা হবেনা।
ফযলুর রহমান: তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যতটা পার শক্তি ও অশ্ব-বাহিনী প্রস্তুত রাখবে যা দ্বারা আল্লাহর ও তোমাদের শত্রুকে এবং তাদের ছাড়া অন্যান্যদেরকেও আতঙ্কিত রাখবে। তাদেরকে তোমরা চেন না, আল্লাহ চেনেন। তোমরা আল্লাহর পথে যা কিছু ব্যয় করবে তা পুরোটাই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। তোমাদের প্রতি (মোটেও) জুলুম করা হবে না।
মুহিউদ্দিন খান: আর প্রস্তুত কর তাদের সাথে যুদ্ধের জন্য যাই কিছু সংগ্রহ করতে পার নিজের শক্তি সামর্থ্যের মধ্যে থেকে এবং পালিত ঘোড়া থেকে, যেন প্রভাব পড়ে আল্লাহর শুত্রুদের উপর এবং তোমাদের শত্রুদের উপর আর তাদেরকে ছাড়া অন্যান্যদের উপর ও যাদেরকে তোমরা জান না; আল্লাহ তাদেরকে চেনেন। বস্তুতঃ যা কিছু তোমরা ব্যয় করবে আল্লাহর রাহে, তা তোমরা পরিপূর্ণভাবে ফিরে পাবে এবং তোমাদের কোন হক অপূর্ণ থাকবে না।
জহুরুল হক: আর তোমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রস্তুত রাখবে যা-কিছুতে তোমরা সমর্থ হও -- শৌর্য-বীর্যে ও হৃস্পুষ্ট ঘোড়াগুলোয়, -- তার দ্বারা ভীত-সন্ত্রস্ত রাখবে আল্লাহ্র শত্রুদের তথা তোমাদের শত্রুদের, আর তাদের ছাড়া অন্যদেরও, তাদের তোমরা জানো না, আল্লাহ্ তাদের জানেন। আর যা-কিছু তোমরা আল্লাহ্র পথে ব্যয় করবে তা তোমাদের পুরোপুরি প্রতিদান দেওয়া হবে, আর তোমরা অত্যাচারিত হবে না।
Sahih International: And prepare against them whatever you are able of power and of steeds of war by which you may terrify the enemy of Allah and your enemy and others besides them whom you do not know [but] whom Allah knows. And whatever you spend in the cause of Allah will be fully repaid to you, and you will not be wronged.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৬০. আর তোমরা তাদের মুকাবিলার জন্য যথাসাধ্য প্রস্তুত রাখ শক্তি ও অশ্ব বাহিনী(১), তা দিয়ে তোমরা ভীত-সন্ত্রস্ত করবে আল্লাহর শক্রকে, তোমাদের শক্রকে এবং এরা ছাড়া অন্যদেরকে যাদেরকে তোমরা জান না, আল্লাহ তাদেরকে জানেন(২)। আর আল্লাহর পথে তোমরা যা কিছু ব্যয় করবে তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।(৩)
তাফসীর:
(১) এতে সমর যুদ্ধোপকরণ, অস্ত্রশস্ত্র, যানবাহন প্রভৃতি এবং শরীরচর্চা ও সমর বিদ্যা শিক্ষা করাও অন্তর্ভুক্ত। কুরআনুল কারীম এখানে তৎকালে প্রচলিত অস্ত্রশস্ত্রের কোন উল্লেখ করেনি, বরং ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ ‘শক্তি’ ব্যবহার করে ইঙ্গিত দিয়েছে, ‘শক্তি’ প্রত্যেক যুগ, দেশ ও স্থান অনুযায়ী বিভিন্ন রকম হতে পারে। তৎকালীন সময়ের অস্ত্র ছিল তীর-তলোয়ার, বর্শা প্রভৃতি। তারপর বন্দুক-তোপের যুগ এসেছে। তারপর এখন চলছে বোমা, রকেট-এর যুগ। ‘শক্তি’ শব্দটি এসব কিছুতেই ব্যাপক। সুতরাং যে কোন বিদ্যা ও কৌশল শিক্ষা করার প্রয়োজন হবে সেসবই যদি এই নিয়তে হয় যে, তার মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের শক্রকে প্রতিহত করা এবং কাফেরদের মোকাবেলা করা হবে, তাহলে তাও জিহাদেরই শামিল। [দেখুন, সা’দী]
বিশুদ্ধ হাদীসসমূহে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুদ্ধোপকরণ সংগ্রহ করা এবং সেগুলো ব্যবহার করার কায়দা-কৌশল অনুশীলন করাকে বিরাট ইবাদাত ও মহাপূণ্য লাভের উপায় বলে সাব্যস্ত করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ আয়াত তেলাওয়াত করে বললেনঃ জেনে রাখ, শক্তি হল, তীরন্দাযী। শক্তি হলো তিরন্দাযী। [সহীহ মুসলিমঃ ১৯১৭] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেছেনঃ তোমরা তিরন্দাযী কর এবং ঘোড়সওয়ার হও, তবে তীরন্দাযী করা ঘোড়সওয়ারী হওয়ার চেয়ে উত্তম। [আবু দাউদঃ ২৫১৩, তিরমিযীঃ ১৬৩৭]
এখানে তৈরী রাখার অর্থ, যুদ্ধের যাবতীয় সাজ-সরঞ্জাম ও এক স্থায়ী সৈন্যবাহিনী সব সময়ই মওজুদ ও প্রস্তুত করে রাখা। যেন যথা সময়ে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। বিপদ মাথার উপর ঘনীভূত হয়ে আসার পর ঘাবড়িয়ে গিয়ে ও তাড়াহুড়া করে স্বেচ্ছাসেবী, অস্ত্র-শস্ত্র ও রসদ সংগ্রহ করার চেষ্টা অর্থহীন। কেননা যতদিনে এ প্রস্তুতি সম্পূর্ণ হবে ততদিনে শক্রপক্ষ তাদের কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলবে।
প্রতিরক্ষার বিষয়টি সর্বযুগে ও সব জাতিতে আলাদা রকম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন- ‘মুশরিকদের বিরুদ্ধে জান-মাল ও মুখ এবং হাতের মাধ্যমে জিহাদ কর’। [আবু দাউদঃ ২৫০৪, নাসায়ীঃ ৩০৯৮] এ হাদীসের দ্বারা বোঝা যাচ্ছে, জিহাদ ও প্রতিরোধ যেমন অস্ত্রশস্ত্রের মাধ্যমে হয়ে থাকে, তেমনি কোন কোন সময় মুখেও হয়ে থাকে। তাছাড়া কলমও মুখেরই পর্যায়ভুক্ত। ইসলাম ও কুরআনের বিরুদ্ধে কাফের ও মুলহেদদের আক্রমণ এবং তার বিকৃতি সাধনের প্রতিরোধ মুখে কিংবা কলমের দ্বারা করাও এই সুস্পষ্ট নির্দেশের ভিত্তিতে জিহাদের অন্তর্ভুক্ত।
(২) যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা প্রস্তুতিতে যাদেরকে প্রভাবিত করা উদ্দেশ্য তাদের অনেককে মুসলিমরা জানে। সেসব লোকদের সাথে মুসলিমদের মোকাবেলা চলছে। এছাড়াও কিছু লোক রয়েছে যাদেরকে এখনো মুসলিমরা জানে না। এর মর্ম হল সারা দুনিয়ার কাফের ও মুশরিক, যারা এখনো মুসলিমদের মোকাবেলায় আসেনি কিন্তু ভবিষ্যতে তাদের সাথেও সংঘর্ষ বাধতে পারে। কোন কোন মুফাসসির এটাকে বনু কুরাইযা বলে মত প্রকাশ করেছেন। আবার কেউ বলেছেন, পারস্যবাসী। [তাবারী; ফাতহুল কাদীর] তবে এখানে সুনির্দিষ্ট করে না বলে কিয়ামত পর্যন্ত যত শক্রই মুসলিমদের মুকাবিলা করবে তাদের সবাইকে উদ্দেশ্য নেয়া যেতে পারে।
(৩) যুদ্ধোপকরণ সংগ্রহ করতে গিয়ে এবং যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অর্থেরও প্রয়োজন হয়। সে জন্যই আয়াতের শেষাংশে আল্লাহর রাহে মাল বা অর্থ-সম্পদ ব্যয় করার ফযীলত এবং তার মহা-প্রতিদানের বিষয়টি এভাবে বলা হয়েছে যে, এ পথে তোমরা যাই কিছু ব্যয় করবে তার বদলা পুরোপুরিভাবে তোমাদেরকে দেয়া হবে। কোন কোন সময় দুনিয়াতেই গনীমতের মালের আকারে এ বদলা মিলে যায়, না হয় আখেরাতের বদলা তো নির্ধারিত রয়েছেই। বলাবাহুল্য, সেটিই অধিকতর মূল্যবান। সেটি সাতশত গুণ ও আরও বেশী পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। [সা'দী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৬০) তোমরা তাদের (মোকাবিলার) জন্য যথাসাধ্য শক্তি ও সুসজ্জিত অশ্ব প্রস্তুত রাখ,[1] এ দিয়ে তোমরা আল্লাহর শত্রু তথা তোমাদের শত্রুকে সন্ত্রস্ত করবে এবং এ ছাড়া অন্যদেরকে যাদেরকে তোমরা জান না, আল্লাহ জানেন। আর আল্লাহর পথে যা কিছু ব্যয় করবে, তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেওয়া হবে এবং তোমাদের প্রতি অত্যাচার করা হবে না।
তাফসীর:
[1] قُوَّة (শক্তি) শব্দের ব্যাখ্যা নবী (সাঃ) হতে প্রমাণিত আছে। তিনি বলেছেন, শক্তি হল, (তীর) নিক্ষেপ। (মুসলিমঃ ইমারাহ অধ্যায় এবং আরো অন্যান্য হাদীসগ্রন্থ) কেননা, সে যুগে তীরই ছিল যুদ্ধের বড় অস্ত্র এবং তীর মারায় দক্ষতা অর্জন ছিল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যা। (যেহেতু তাতে দূর থেকেই শত্রু নিপাত করা যায়।) যেমন যুদ্ধের জন্য ঘোড়া ছিল অপরিহার্য ও অতীব প্রয়োজনীয় একটি মাধ্যম, যে কথা আলোচ্য আয়াতে ফুটে উঠেছে। কিন্তু বর্তমান যুগে যুদ্ধে তীর নিক্ষেপ ও ঘোড়ার সেই গুরুত্ব এবং উপকারিতা বাকী নেই। এই জন্য ‘তোমরা তাদের বিরুদ্ধে সাধ্যমত শক্তি প্রস্তুত কর’ এই নির্দেশ পালনে অধুনা যুগের যুদ্ধাস্ত্র (যেমন, ক্ষেপণাস্ত্র; রকেট, মিসাইল, ট্যাঙ্ক, কামান, বোমারু বিমান এবং সামুদ্রিক যুদ্ধের জন্য সাবমেরিন প্রভৃতি) এর প্রস্তুতি অত্যাবশ্যক।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৬০-৬৪ নং আয়াতের তাফসীরঃ
এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনদেরকে শত্রুদের বিরুদ্ধে শক্তি অর্জনের নির্দেশ দিচ্ছেন। যাতে শত্রুরা তা দেখে ভয় করে। স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এ আয়াতের তাফসীরে বলেন:
أَلَا إِنَّ الْقُوَّةَ الرَّمْي ، أَلَا إِنَّ الْقُوَّةَ الرَّمْي ، أَلَا إِنَّ الْقُوَّةَ الرَّمْي
অর্র্থাৎ জেনে রেখ! শক্তি হল নিক্ষেপণ, জেনে রেখ! শক্তি হল নিক্ষেপণ। (আবূ দাউদ হা: ২৫১৬, তিরমিযী হা: ৩০৮৩, সহীহ)
এখানে লক্ষণীয় যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এ কথা বলেননি যে, শক্তি হল তীর নিক্ষেপ করা। কেননা তা বললে, তীর নিক্ষেপণে সীমাবদ্ধ হয়ে যেত। বরং বলেছেন: শক্তি হল নিক্ষেপণ। তার মানে হল সকল যুগের সকল ক্ষেপণাস্ত্র এতে শামিল। তৎকালীন আরবে তীর নিক্ষেপ করার বিদ্যা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এর দ্বারা দূর থেকে সহজেই শত্রু নিপাত করা যেত। বর্তমানে হল, ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট মিসাইল, ট্যাংক, কামান, বোমারু বিমান ইত্যাদি। শারীরিক প্রশিক্ষণ ও সমর বিদ্যা শিক্ষা করাও এতে শামিল। আল্লাহ তা‘আলা এ শক্তি অর্জনের সাথে মু’মিনদেরকে সাহস দিয়ে বলেন: তোমাদের সফলতা লাভের জন্য এটা অপরিহার্য নয় যে, তোমাদের প্রতিপক্ষের নিকট যে ধরণের এবং যে পরিমাণ উপকরণ রয়েছে তোমাদেরকেও ততটাই অর্জন করতে হবে বরং সামর্থ্য অনুযায়ী যা কিছু উপকরণ জোগাড় করতে পার তা-ই কর। আল্লাহ তা‘আলার সাহায্য তোমাদের সাথে থাকবে। সুতরাং শত্রুদের অধিক পরিমাণ সৈন্য ও অস্ত্র দেখে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই, নিজেদের সামর্থ্যানুযায়ী সরঞ্জামাদী নিয়ে আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করে জিহাদে অংশ গ্রহণ করলে আল্লাহ তা‘আলা সাহায্য করবেন।
তারপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
(وَّمِنْ رِّبَاطِ الْخَيْلِ)
‘অশ্ব-বাহিনী প্রস্তুত কর’ অর্থাৎ সুসজ্জিত ঘোড়াও প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তৎকালীন আরবে যুদ্ধের প্রধান উপকরণ হিসেবে ঘোড়া ছিল অতীব গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বতর্মানেও তা অনস্বীকার্য। তাই সব দেশের সেনাদের সাথে কমবেশি ঘোড়া দেখা যায়।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালের চুলে কল্যাণ বাঁধা থাকবে। সে কল্যাণ হল সাওয়াব ও গনীমত। (সহীহ বুখারী হা: ২৮৫২)
আবূ হুরারইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন: নাবী (সাঃ) বলেন: যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান ও তাঁর প্রতিশ্র“তির প্রতি বিশ্বাস রেখে আল্লাহ তা‘আলার পথে জিহাদের জন্য ঘোড়া প্রস্তুত রাখে, কিয়ামতের দিন সে ব্যক্তির দাঁড়িপাল্লায় ঘোড়ার খাদ্য, পানীয়, গোবর ও পেশাব ওজন করা হবে। (সহীহ বুখারী হা: ২৮৫৩, সহীহ মুসলিম হা: ৯৮৭)
(وَاٰخَرِيْنَ مِنْ دُوْنِهِمْ)
‘এবং এতদ্ব্যতীত অন্যদেরকে যাদেরকে তোমরা জান না, অর্থাৎ যাদের সাথে এখনো তোমাদের শত্রুতা প্রকাশ পায়নি। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে জানেন এবং তারা যা গোপন করে তাও জানেন।
আবদুর রহমান বিন যায়েদ বলেন: তারা হল মুনাফিক। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمِمَّنْ حَوْلَکُمْ مِّنَ الْاَعْرَابِ مُنٰفِقُوْنَﹾ وَمِنْ اَھْلِ الْمَدِیْنَةِﹻ مَرَدُوْا عَلَی النِّفَاقِﺤ لَا تَعْلَمُھُمْﺚ نَحْنُ نَعْلَمُھُمْ)
“মরুবাসীদের মধ্যে যারা তোমাদের আশেপাশে আছে তাদের কেউ কেউ মুনাফিক এবং মদীনাবাসীদের মধ্যেও কেউ কেউ তারা কপটতায় সিদ্ধ। তুমি তাদেরকে জান না; আমি তাদেরকে জানি।” (তাওবাহ ৯:১০১)
(وَإِنْ جَنَحُوْا لِلسَّلْمِ)
‘তারা যদি সন্ধির দিকে ঝুঁকে পড়ে তবে...’ অর্থাৎ শত্রুরা যদি যুদ্ধ না করে সন্ধি করতে সম্মত হয় তাহলে তাদের সাথে সন্ধি করে নাও। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা কর।
কোন অমুসলিম এলাকায় হামলা করার পূর্বশর্ত হল:
১. প্রথমে তাদেরকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতে হবে। যদি ইসলাম কবূল করে নেয় তাহলে ভাল।
২. ইসলাম কবূল না করলে জিযিয়া দিয়ে থাকবে আর ইসলামী রাষ্ট্রের নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে বলে নির্দেশ দেয়া হবে।
৩. যদি জিযিয়া দিতে না চায় তাহলে বিসমিল্লাহ বলে যুদ্ধ করতে হবে। (সহীহ মুসলিম হা:৪৬১৯)
তবে সন্ধির নামে যদি ধোঁকা ও প্রতারণার উদ্দেশ্য থাকে তাহলে ঘাবড়ানোর কিছুই নেই। আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলাই তাঁর সাহায্য ও মু’মিনদের দ্বারা সহযোগিতা করবেন।
অতঃপর রাসূলকে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তিনি মু’মিনদের মাঝে সৌহার্দ্য ও আন্তরিকতা সৃষ্টি করেছেন, যা তুমি সারা জাহানের বিনিময়েও করতে সক্ষম হতে না। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَاذْكُرُوْا نِعْمَتَ اللّٰهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَا۬ءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوْبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِه۪ إِخْوَانًا)
“আর তোমাদের ওপর আল্লাহর দেয়া নেয়ামতকে স্মরণ কর। যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে এবং তিনি তোমাদের অন্তরের মধ্যে ভালবাসা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। ফলে তোমরা তাঁর অনুগ্রহে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে গেলে।” (সূরা আলি-ইমরান ৩:১০৯)
সাহাবীদের মাঝে এমন আন্তরিকতা গড়ে উঠেছিল যার কারণে একজন সাহাবী অপর মুসলিম ভাইয়ের বিবাহর জন্য নিজের প্রিয়তমা স্ত্রীকে তালাক দিতে এবং নিজের জমিতে অংশীদার বানাতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। মূলতঃ এটা ছিল আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ হতে ঈমানী ভ্রাতৃত্ব।
(یٰٓاَیُّھَا النَّبِیُّ حَسْبُکَ اللہُ....)
‘হে নাবী! তোমার জন্য ও তোমার অনুসারী মু’মিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।’ অর্থাৎ হে নাবী! তোমার জন্য এবং যে সকল মু’মিনরা তোমার আনুগত্য করে তাদের সকলের জন্য আল্লাহ তা‘আলাই যথেষ্ট। অনেকে ভুল করে এ আয়াতের অনুবাদ করে যে, হে নাবী! তোমার জন্য আল্লাহ তা‘আলা যথেষ্ট এবং যে সকল মু’মিনরা তোমার অনুসরণ করে তারাও তোমার জন্য যথেষ্ট। এটা ভুল; বরং সঠিক অর্থ হল “তোমার জন্য এবং যে সকল মু’মিনরা তোমার আনুগত্য করে তাদের সকলের জন্য আল্লাহ তা‘আলাই যথেষ্ট”।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. শত্রুদের বিরুদ্ধে যথাযথ অস্ত্র, সরঞ্জামাদি ও শারীরিক যোগ্যতা প্রস্তুত রাখা মু’মিনদের জন্য ওয়াজিব।
২. কোন কাফির জাতি যুদ্ধ না করে সন্ধি করতে চাইলে তা কবূল করে নেয়া উচিত।
৩. প্রকৃত মুসলিম কখনো শত্রু থেকে মুক্ত নয়।
৪. ঈমানের মাধ্যমে মু’মিনদের মাঝে নজিরবিহীন ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি হয় যা রক্তের ভ্রাতৃত্ববোধকে হার মানায়।
৫. সকলের সার্বিক বিষয়ের জন্য আল্লাহ তা‘আলাই যথেষ্ট।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫৯-৬০ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ কাফিররা আমার হাত ছাড়া হয়ে যাবে এবং আমি তাদেরকে ধরতে সক্ষম নই এরূপ ধারণা যেন তারা না করে। বরং তারা সব সময় আমার ক্ষমতা ও আয়ত্তের মধ্যে রয়েছে। তারা আমাকে হারাতে পারবে না। অন্য আয়াতে রয়েছে- “যারা দুস্কার্যে লিপ্ত রয়েছে তারা কি ধারণা করেছে যে, তারা আমাকে এড়িয়ে যাবে? তারা যা ধারণা করেছে তা কতই না জঘন্য!” আর এক জায়গায় মহান আল্লাহ বলেনঃ “তুমি এ ধারণা করো না যে, কাফিররা ভূ-পৃষ্ঠে (লুকিয়ে থেকে) আমাকে পরাভূত করবে, তাদের ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম এবং এটা খুবই নিকৃষ্ট স্থান।” অন্য স্থানে আল্লাহ পাক বলেনঃ “কাফিরদের শহরে (জাকজমকের সাথে) ঘুরাফিরা যেন তোমাকে প্রতারিত না করে, এটা অল্প কয়েকদিনের উপভোগ মাত্র, অতঃপর তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম এবং ওটা অতি নিকৃষ্ট বিছানা।”
এরপর আল্লাহ তাআলা মুসলিমদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন- “তোমরা তোমাদের শক্তি মোতাবেক সদা সর্বদা ঐ কাফিরদের মুকাবিলার জন্যে প্রস্তুত থাকো। যারা যুদ্ধের ঘোড়া সংগ্রহ করতে সক্ষম তারা তা মওজুদ রাখো।` মুসনাদে আহমাদে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) মিম্বরে আরোহিত অবস্থায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমরা কাফিরদের মুকাবিলা করার জন্যে যথাসাধ্য শক্তি প্রস্তুত রাখো।” এরপর তিনি বলেনঃ “জেনে রেখো যে, এই শক্তি হচ্ছে তীরন্দাজী, এই শক্তি হচ্ছে তীরন্দাজী।” (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ), ইমাম আহমাদ (রঃ), ইমাম ইবনে মাজাহ (রঃ) এবং ইমাম আবু দাউদ (রঃ) তাখরীজ করেছেন) অন্য একটি হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা তীরন্দাজী কর এবং ঘোড়ায় সওয়ার হও (ও যুদ্ধ কর), আর তীরন্দাজী করা ঘোড়ায় সওয়ার হওয়া অপেক্ষা উত্তম।”
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “ঘোড়া পালনকারী তিন প্রকারের। প্রথম হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে ঘোড়া পালন করার কারণে সওয়াবের অধিকারী হয়ে থাকে। দ্বিতীয় হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে ওর কারণে পুণ্যও লাভ করে না এবং তার পাপও হয় না। তৃতীয় হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে ঘোড়া পালন করার কারণে পাপের অধিকারী হয়ে থাকে। যে ব্যক্তি জিহাদের উদ্দেশ্যে ঘোড়া পালন করে, তার ঘোড়াটি যে চরে ফিরে খায়, এর উপর তাকে সওয়াব দেয়া হয়। এমন কি যদি ঐ ঘোড়াটি রশি ছিড়ে পালিয়ে যায় তবে ওর পদ চিহ্নের বিনিময়ে এবং ওর লাদ বা মলের বিনিময়েও সে সওয়াব প্রাপ্ত হয়। যদি ঘোড়াটি কোন নদীর পার্শ্ব দিয়ে গমনের সময় পানি পান করে নেয় তবে এ কারণেও মুজাহিদ ব্যক্তি সওয়াব প্রাপ্ত হয়, যদিও সে ওকে পানি পান করাবার ইচ্ছাও না করে থাকে। সুতরাং এ ঘোড়াটি ঐ মুজাহিদের জন্যে সওয়াব বা পুণ্য লাভের কারণ। আর যে ব্যক্তি ঘোড়া পালন করে অন্যদের থেকে অমুখাপেক্ষী থাকার জন্যে, অতঃপর সে ওর ঘাড় ও সওয়ারীর ব্যাপারে আল্লাহর হকের কথা ভুলে না যায় তবে ওটা তার জন্যে পর্দা স্বরূপ। অর্থাৎ সে ওর কারণে নেকীও পাবে না। এবং তার গুনাহও হবে না। আর যে ব্যক্তি অহংকার ও রিয়া প্রকাশের উদ্দেশ্যে ঘোড়া পালন করে যে, সে মুসলমানদের সাথে মুকাবিলা করবে, ওটা তার জন্যে পাপের বোঝা স্বরূপ।”
রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে গাধা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি উত্তরে বলেনঃ “আল্লাহ তা'আলা এ সম্পর্কে নিম্নের আয়াতটি ছাড়া আর কিছুই অবতীর্ণ করেননি। আয়াতটি হচ্ছেঃ (আরবী) অর্থাৎ যে ব্যক্তি (দুনিয়াতে) অণু পরিমাণ নেক কাজ করবে সে তা দেখতে পাবে, আর যে ব্যক্তি অণু পরিমাণ বদ কাজ করবে সে তা তথায় দেখতে পাবে।” (৯৯:৭-৮) (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ), ইমাম মুসলিম (রঃ) এবং ইমাম মালিক (রঃ) তাখরীজ করেছেন) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “ঘোড়া তিন প্রকারের রয়েছে। (১) রাহমানের (আল্লাহর) ঘোড়া, (২) শয়তানের ঘোড়া এবং (৩) মানুষের ঘোড়া। রাহমানের ঘোড়া হচ্ছে ঐ ঘোড়া যাকে আল্লাহর পথে বেঁধে রাখা হয়। সুতরাং ওর খড়, ওর গোবর, ওর প্রস্রাব এবং আল্লাহ যা চাইলেন তা তিনি বর্ণনা করলেন (অর্থাৎ সবগুলো আল্লাহর পথে)। আর শয়তানের ঘোড়া হচ্ছে ঐ ঘোড়া যাকে ঘোড় দৌড় ও জুয়াবাজীর উদ্দেশ্যে রাখা হয়। মানুষের ঘোড়া হচ্ছে ঐ ঘোড়া যাকে মানুষ শুধুমাত্র ওর পেটের উদ্দেশ্যে বেঁধে রাখে। সুতরাং ওটা হচ্ছে তার পক্ষে দারিদ্রের মুকাবিলায় পর্দা স্বরূপ।” অধিকাংশ আলেমের উক্তি এই যে, তীরন্দাজ যোদ্ধা অশ্বারোহী সৈনিক হতে উত্তম। ইমাম মালিক (রঃ) এর বিপরীত মত পোষণ করেন। কিন্তু জমহুর উলামার উক্তিটিই দৃঢ়তম। কেননা, হাদীসেও এসেছে যে, মুআবিয়া ইবনে জুরাইজ (রাঃ) আবূ যার (রাঃ)-এর নিকট আগমন করেন। সেই সময় তিনি তাঁর ঘোড়ার খিদমত করছিলেন। মুআবিয়া (রাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেনঃ “এ ঘোড়ার দ্বারা কি কাজ করা হয়? উত্তরে তিনি বললেনঃ “আমার ধারণা, আমার পক্ষে এই ঘোড়াটির দুআ কবুল হয়েছে।” মুআবিয়া (রাঃ) আবার জিজ্ঞেস করলেন, পশুর দুআ' আবার কি? তিনি জবাবে বললেন, যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তার শপথ! প্রতিটি ঘোড়া প্রত্যহ সকালে দুআ করে থাকে। দুআ’য় সে বলে- “হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আপনার এক বান্দার হাতে সমর্পণ করেছেন। সুতরাং আমাকে তার কাছে তার ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির চেয়ে প্রিয়তম করুন।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ বাঁধা থাকবে। ঘোড়া পালনকারী আল্লাহ তা'আলার সাহায্য প্রাপ্ত হয়েছে। যে ব্যক্তি ভাল নিয়তে জিহাদের উদ্দেশ্যে ঘোড়া লালন। পালন করে সে ঐ ব্যক্তির মত যে সদা সর্বদা হাত বাড়িয়ে দান খয়রাত করে থাকে। (এ হাদীসটি ইমাম তিবরানী (রঃ) সাহল ইবনে হানলিয়্যাহ (রঃ) হতে তাখরীজ করেছেন) এ সম্পর্কে আরো বহু হাদীস রয়েছে। সহীহ বুখারীতে ঘোড়ার কল্যাণের ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে যে, ওটা হচ্ছে সওয়াব ও গনীমত।
(আরবী) -এর অর্থ হচ্ছে- তোমরা ভয় প্রদর্শন করবে। (আরবী) আল্লাহর শত্রু ও তোমাদের শত্রু অর্থাৎ কাফিরগণ।
(আরবী) মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এর দ্বারা ইয়াহুদী বানু কুরাইযাকে বুঝানো হয়েছে। সুদ্দী (রঃ) এর দ্বারা পারস্যবাসীকে বুঝিয়েছেন। আর সুফিয়ান সাওরী (রঃ) বলেন যে, এরা হচ্ছে ঘরের মধ্যে অবস্থানকারী শয়তান। একটি মারফু হাদীসে রয়েছে যে, এর দ্বারা জ্বিনদেরকে বুঝানো হয়েছে। একটি মুনকার হাদীসে রয়েছে যে, যে ঘরে কোন আযাদ ঘোড়া রয়েছে সেই ঘর কখনো বদনসীব বা হতভাগ্য হয় না। কিন্তু এ হাদীসটির সনদও ঠিক নয় এবং এটা বিশুদ্ধও নয়। এর অর্থ মুনাফিকও নেয়া হয়েছে। আর এ উক্তিটি সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্যও বটে। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তোমাদের চতুর্দিকে গ্রাম্য ও শহুরে মুনাফিক রয়েছে এবং মদীনাবাসীদের মধ্যেও কেহ কেহ মুনাফেকীতে অনঢ়, যাদেরকে তোমরা জান না বটে, কিন্তু আমি তাদেরকে ভালরূপেই জানি।” (৯:১০১)
ইরশাদ হচ্ছে- জিহাদে তোমরা যা কিছু খরচ করবে তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে দেয়া হবে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যারা আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ খরচ করে, তাদের খরচ করা ধন-সম্পদের অবস্থা এইরূপ যে, যেমন একটি শস্য-বীজ, যা হতে সাতটি শীষ উৎপন্ন হয়, প্রতিটি শীষের মধ্যে একশ’টি দানা হয়, আর এই বৃদ্ধি আল্লাহ যাকে ইচ্ছা প্রদান করেন, আল্লাহ হচ্ছেন প্রশস্ততার মালিক, মহাজ্ঞানী।” (২:২৬১)।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, প্রথমে রাসূলুল্লাহ (সঃ) শুধুমাত্র মুসলমানদেরকেই সদকার মাল প্রদানের নির্দেশ দিতেন। কিন্তু যখন আল্লাহ তাআলা (আরবী)- এই আয়াতটি অবতীর্ণ করেন তখন তিনি বলেনঃ “যে কোন ধর্মের লোক হাক না কেন সে তোমার কাছে চাইলে তুমি তাকে প্রদান কর।” এ রিওয়াইয়াতটি গারীব । ইবনে আবি হাতিম (রঃ) এটা বর্ণনা করেছেন।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।