আল কুরআন


সূরা আল-আনফাল (আয়াত: 55)

সূরা আল-আনফাল (আয়াত: 55)



হরকত ছাড়া:

إن شر الدواب عند الله الذين كفروا فهم لا يؤمنون ﴿٥٥﴾




হরকত সহ:

اِنَّ شَرَّ الدَّوَآبِّ عِنْدَ اللّٰهِ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا فَهُمْ لَا یُؤْمِنُوْنَ ﴿ۖۚ۵۵﴾




উচ্চারণ: ইন্না শাররাদ্দাওয়াব্বি ‘ইনদাল্লা-হিল্লাযীনা কাফারূফাহুম লা-ইউ’মিনূন।




আল বায়ান: নিশ্চয় আল্লাহর নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট প্রাণী তারা, যারা কুফরী করে, অতঃপর ঈমান আনে না।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৫. বিচরণকারী প্রাণীদের মধ্যে তারাই তো অল্লাহ্‌র কাছে নিকৃষ্ট, যারা কুফরী করেছে। সুতরাং তারা ঈমান আনবে না।




তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা কুফরী করে আল্লাহর নিকট তারাই নিকৃষ্টতম জীব, অতঃপর আর তারা ঈমান আনবে না।




আহসানুল বায়ান: (৫৫) নিশ্চয় আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম জীব তারাই, যারা সত্য প্রত্যাখ্যান (কুফরী) করেছে। সুতরাং তারা বিশ্বাস (ঈমান আনয়ন) করবে না। [1]



মুজিবুর রহমান: নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ট জীব তারাই যারা কুফরী করে এবং যারা ঈমান আনেনা।



ফযলুর রহমান: যারা কুফরি করে আল্লাহর কাছে তারাই নিকৃষ্ট জীব। অতএব, তারা ঈমান আনবে না।



মুহিউদ্দিন খান: সমস্ত জীবের মাঝে আল্লাহর নিকট তারাই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যারা অস্বীকারকারী হয়েছে অতঃপর আর ঈমান আনেনি।



জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ আল্লাহ্‌র কাছে নিকৃষ্টতম জীব হচ্ছে তারা যারা অবিশ্বাস পোষণ করে, কাজেই তারা ঈমান আনে না ।



Sahih International: Indeed, the worst of living creatures in the sight of Allah are those who have disbelieved, and they will not [ever] believe -



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫৫. বিচরণকারী প্রাণীদের মধ্যে তারাই তো অল্লাহ্–র কাছে নিকৃষ্ট, যারা কুফরী করেছে। সুতরাং তারা ঈমান আনবে না।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫৫) নিশ্চয় আল্লাহর নিকট নিকৃষ্টতম জীব তারাই, যারা সত্য প্রত্যাখ্যান (কুফরী) করেছে। সুতরাং তারা বিশ্বাস (ঈমান আনয়ন) করবে না। [1]


তাফসীর:

[1] شر الناس (নিকৃষ্টতম মানুষ) এর পরিবর্তে তাদেরকে شر الدوابّ (নিকৃষ্টতম জীব) বলা হয়েছে; যা আভিধানিক অর্থ হিসাবে এটা মানুষ ও চতুষ্পদ জন্তু প্রভৃতির ক্ষেত্রেও ব্যবহার হয়। কিন্তু সাধারণতঃ এর ব্যবহার চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে। বুঝা যায় যে, কাফেরদের সম্পর্ক মানুষের সাথে নয়। (বরং জন্তুর সাথে নিজের সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার ও অমান্য করে) কুফরে পতিত হয়ে তারা চতুষ্পদ জন্তু; বরং তার থেকেও নিকৃষ্ট জীব হয়ে গেছে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৫০-৫৯ নং আয়াতের তাফসীরঃ



কাফির ও মুশরিকরা মৃত্যুকালে যে যন্ত্রণা ও আযাবের সম্মুখীন হয় এ আয়াতে তার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: মুশরিকরা যখন মুসলিমদের দিকে অগ্রসর হত, তখন মুসলিমরা তাদের চেহারায় তরবারী দ্বারা আঘাত করত। তা হতে বাঁচার জন্য তারা পিছনে ফিরে পলায়ন করত। তখন ফেরেশতাগণ তাদের পশ্চাতে তরবারী দ্বারা আঘাত করত। (তাফসীর ইবনে কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)



মানুষের আত্মা কবযকারী ফেরেশতা যখন কাফিরদের আত্মা কবয করার জন্য আসে তখন তাদের মুখে ও পশ্চাতে আঘাত করতে থাকে আর বলতে থাকে- হে খারাপ কাজে তৃপ্তিপ্রাপ্ত আত্মা আল্লাহ তা‘আলার গযবের দিকে বের হয়ে আস। এসব কথা এজন্য বলে যাতে জানতে পারে যে, সামনে তাদের জন্য আরো কঠিন শাস্তি রয়েছে।



(وَأَنَّ اللّٰهَ لَيْسَ بِظَلَّامٍ لِّلْعَبِيْدِ)



‘আল্লাহ তো তার বান্দাদের প্রতি অত্যাচারী নয়।’ অর্থাৎ তাদের এসব শাস্তির কারণ তাদের কৃতকর্ম। কেননা আল্লাহ তা‘আলা কারো প্রতি জুলুম করেন না। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: হে আমার বান্দা, আমি নিজের ওপর জুলুম করা হারাম করেছি এবং তোমাদের মাঝে তা হারাম করেছি। অতএব তোমরা পরস্পর জুলুম করো না। (সহীহ মুসলিম হা: ১৯৯৪, মুসনাদ আহমাদ: ৫/১৬০)



(بِأَنَّ اللّٰهَ لَمْ يَكُ مُغَيِّرًا نِعْمَةً)



‘এটা এজন্য যে, যদি কোন সম্প্রদায় নিজের অবস্থার পরিবর্তন না করে তবে আল্লাহ এমন নন যে, তিনি তাদেরকে যে সম্পদ দান করেছেন, সেটা পরিবর্তন করবেন; অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত কোন জাতি নেয়ামত অস্বীকারের পথ অবলম্বন করে এবং আল্লাহ তা‘আলার আদেশ ও নিষেধ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নিজেদের অবস্থা ও আচরণকে বদলে না নেবে ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা পাপের কারণে নিজ নেয়ামতকে ছিনিয়ে নেবেন না। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِنَّ اللّٰهَ لَا يُغَيِّرُ مَا بِقَوْمٍ حَتّٰي يُغَيِّرُوْا مَا بِأَنْفُسِهِمْ ط وَإِذَآ أَرَادَ اللّٰهُ بِقَوْمٍ سُوْ۬ءًا فَلَا مَرَدَّ لَه۫ ج وَمَا لَهُمْ مِّنْ دُوْنِه۪ مِنْ وَّالٍ)



“এবং আল্লাহ কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজ অবস্থা নিজে পরিবর্তন করে। কোন সম্প্রদায়ের সম্পর্কে যদি আল্লাহ অশুভ কিছু ইচ্ছা করেন তবে তা মোকাবেলা করার নয় এবং তিনি ব্যতীত তাদের কোন অভিভাবক নেই।” (সূরা রা‘দ ১৩:১১)



(اِنَّ شَرَّ الدَّوَا۬بِّ عِنْدَ اللّٰهِ)



‘নিশ্চয়ই‎ আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ট জীব তারাই..’ খারাপ জীব ব্যবহার করা হয় চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রে। কিন্তু তা কাফিরদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে, এতে বুঝা গেল তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত জীব, এরা মানুষ নয়। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيْرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِﺘ لَهُمْ قُلُوْبٌ لَّا يَفْقَهُوْنَ بِهَا ز وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُوْنَ بِهَا ز وَلَهُمْ اٰذَانٌ لَّا يَسْمَعُوْنَ بِهَا ط أُولٰ۬ئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ ط أُولٰ۬ئِكَ هُمُ الْغٰفِلُوْنَ)



“আমি তো বহু জিন ও মানবকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি, তাদের হৃদয় আছে কিন্তু তারা তা দ্বারা উপলব্ধি করে না, তাদের চক্ষু আছে কিন্তু তারা তা দ্বারা দেখে না, এবং তাদের কর্ণ আছে কিন্তু তারা তা দ্বারা শ্রবণ করে না, তারাই পশুর ন্যায়, বরং তারা অধিক বিভ্রান্ত। তারাই গাফিল।` (সূরা আ‘রাফ ৭:১৭৯)



(فَشَرِّدْ بِهِمْ) ‘তাদেরকে শাস্তি দিবে’ অর্থাৎ তাদেরকে এমনভাবে প্রহার কর যাতে তাদের পশ্চাতে তাদের পৃষ্ঠপোষক এবং সাথীদের মাঝে পলায়নপর অবস্থা সৃষ্টি হয়ে যায়। এমনকি তারা তোমাদের দিকে এ আশঙ্কায় অগ্রসর না হয় যে, হতে পারে তাদেরও সেই অবস্থা হবে, যে অবস্থা তাদের পূর্ববর্তীদের হয়েছিল।



(خِيَانَةً فَانْۭبِذْ إِلَيْهِمْ)



‘তুমি তাদের দিকে সমানভাবে ছুঁড়ে মার (যাতে উভয়দল জানতে পারে তাদের মাঝে আজ থেকে কোন চুক্তি নেই); অর্থাৎ যদি সন্ধি চুক্তিতে আবদ্ধ কোন জাতির পক্ষ থেকে চুক্তি ভঙ্গের আশঙ্কা কর তাহলে তাদের দিকে তাদের চুক্তি ছুঁড়ে মার। অর্থাৎ চুক্তি বাতিল করে দাও যাতে জেনে নেয়, আজ থেকে কোন চুক্তি নেই। কারণ তাদের সাথে চুক্তি নেই, এমনটি না জানিয়ে আক্রমণ করা বৈধ নয়। মুআবিয়াহ (রাঃ) এবং রোমকদের মাঝে একটি সন্ধিচুক্তি ছিল। যখন চুক্তির মেয়াদ শেষের দিকে তখন মুআবিয়াহ (রাঃ) রোমকদের সীমান্ত এলাকার নিকট নিজের সৈন্যদল একত্রিত করতে লাগলেন। উদ্দেশ্য ছিল সন্ধিচুক্তি শেষ হবার সাথে সাথে রোমকদের ওপর হামলা চালাবেন। আমর বিন আবাসাহ (রাঃ)-এর নিকট এ খবর পৌঁছলে তিনি এটাকে প্রতারণা বলে আখ্যায়িত করলেন। এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর হাদীস উল্লেখ করে এ আক্রমণকে সন্ধিচুক্তির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করলেন। এ কথা শুনে মুআবিয়াহ (সাঃ) তার সৈন্য প্রত্যাহার করে নিলেন। (মুসনাদে ৪/১১১, আবূ দাঊদ হা: ২৭৫৯, তিরমিযী হা: ১৫৮০, সহীহ)



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কাফিররা মৃত্যুকালে কঠিন যন্ত্রণার স্বীকার হয়।

২. তাদের শাস্তির কারণ হচ্ছে তাদের কৃতকর্ম।

৩. আল্লাহ তা‘আলা কোন জাতির অবস্থার পরিবর্তন ঘটান না যতক্ষণ না নিজেরা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন ঘটায়।

৪. কাফিররা আল্লাহ তা‘আলার কাছে নিকৃষ্ট জাতি।

৫. কেউ অঙ্গীকার ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫৫-৫৭ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিচ্ছেন- ভূ-পৃষ্ঠে যত প্রাণী চলাফেরা করছে ওদের মধ্যে আল্লাহ তা'আলার নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট তারাই যারা বেঈমান ও কাফির, যারা চুক্তি করে তা ভঙ্গ করে দেয়। এদিকে একটি কথা দিলো, আর ওদিকে তা থেকে ফিরে গেল। এদিকে শপথ করলো, ওদিকে তা ভেঙ্গে দিলো। তাদের না আছে আল্লাহর কোন ভয় এবং না আছে কৃত পাপের কোন পরওয়া। সুতরাং হে মুহাম্মাদ (সঃ)! যখন তুমি যুদ্ধে তাদের উপর জয়যুক্ত হবে তখন তাদেরকে এমন শাস্তি দিবে যে, যেন তাদের পরবর্তী লোকেরা তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। তারাও যেন ভয় পেয়ে যায়। তাহলে হয়তো তারা তাদের পূর্ববর্তীদের কৃত দুষ্কার্য থেকে বিরত থাকবে। [এ কথা বলেছেন ইবনে আব্বাস (রাঃ), হাসান বসরী (রঃ), যহহাক (রঃ), সুদ্দী (রঃ), আতা খুরাসানী (রঃ) এবং ইবনে উয়াইনা (রঃ)]





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।