সূরা আল-আনফাল (আয়াত: 44)
হরকত ছাড়া:
وإذ يريكموهم إذ التقيتم في أعينكم قليلا ويقللكم في أعينهم ليقضي الله أمرا كان مفعولا وإلى الله ترجع الأمور ﴿٤٤﴾
হরকত সহ:
وَ اِذْ یُرِیْکُمُوْهُمْ اِذِ الْتَقَیْتُمْ فِیْۤ اَعْیُنِکُمْ قَلِیْلًا وَّ یُقَلِّلُکُمْ فِیْۤ اَعْیُنِهِمْ لِیَقْضِیَ اللّٰهُ اَمْرًا کَانَ مَفْعُوْلًا ؕ وَ اِلَی اللّٰهِ تُرْجَعُ الْاُمُوْرُ ﴿۴۴﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইযইউরীকুমূহুম ইযিলতাকাইতুম ফীআ‘ইউনিকুম কালীলাওঁ ওয়া ইউকালিল্লুকুম ফীআ‘ইউনিহিম লিয়াকদিইয়াল্লা-হু আমরান কা-না মাফ‘ঊলাওঁ ওয়া ইলাল্লা-হি তুরজা‘উল উমূর।
আল বায়ান: আর যখন তোমরা মুখোমুখি হয়েছিলে, তিনি তোমাদের চোখে তাদেরকে স্বল্প দেখিয়েছিলেন এবং তাদের চোখেও তোমাদেরকে স্বল্প দেখিয়েছিলেন যাতে আল্লাহ সম্পন্ন করেন এমন কাজ যা হওয়ারই ছিল এবং আল্লাহর দিকেই সকল বিষয় ফেরানো হবে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৪. আর স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিলে তখন তিনি তাদেরকে তোমাদের দৃষ্টিতে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন(১) এবং তোমাদেরকে তাদের দৃষ্টিতে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন, যাতে আল্লাহ সম্পন্ন করেন এমন কাজ যা ঘটারই ছিল। আর আল্লাহর দিকেই সব বিষয় প্রত্যাবর্তন করা হয়।
তাইসীরুল ক্বুরআন: স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিলে তখন তিনি তোমাদের চোখে তাদেরকে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন এবং তাদের চোখে তোমাদেরকে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন সেই ব্যাপারটি সম্পন্ন করার জন্য যা ছিল পূর্ব স্থিরীকৃত। যাবতীয় বিষয় (অবশেষে) আল্লাহরই নিকট ফিরে আসে।
আহসানুল বায়ান: (৪৪)স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিলে, তখন তিনি তাদেরকে তোমাদের দৃষ্টিতে স্বল্প-সংখ্যক দেখিয়েছিলেন এবং তোমাদেরকেও তাদের দৃষ্টিতে স্বল্প-সংখ্যক দেখিয়েছিলেন; [1] যাতে যা ঘটার ছিল তা তিনি সম্পন্ন করেন। [2] আর সব বিষয় আল্লাহরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়ে থাকে।
মুজিবুর রহমান: আরও স্মরণ কর, যা ঘটানোর ছিল, চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করার জন্য যখন দু’দল মুখোমুখী দন্ডায়মান হয়েছিল তখন তোমাদের দৃষ্টিতে ওদের সংখ্যা খুব অল্প দেখাচ্ছিল, আর ওদের চোখেও তোমাদেরকে খুব স্বল্প সংখ্যক পরিদৃষ্ট হচ্ছিল, সমস্ত বিষয় ও সমস্যাই আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে।
ফযলুর রহমান: (স্মরণ করো) তোমরা যখন (যুদ্ধের ময়দানে) পরস্পর মুখোমুখি হয়েছিলে তখন আল্লাহ পূর্বনির্ধারিত একটি কাজ সম্পন্ন করার জন্য তোমাদেরকে তাদের সংখ্যা কম করে দেখিয়েছিলেন এবং তাদের দৃষ্টিতেও তোমাদের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছিলেন। আর সকল বিষয় আল্লাহর কাছেই ফিরিয়ে নেয়া হবে।
মুহিউদ্দিন খান: আর যখন তোমাদেরকে দেখালেন সে সৈন্যদল মোকাবেলার সময় তোমাদের চোখে অল্প এবং তোমাদেরকে দেখালেন তাদের চোখে বেশী, যাতে আল্লাহ সে কাজ করে নিতে পারেন যা ছিল নির্ধারিত। আর সব কাজই আল্লাহর নিকট গিয়ে পৌছায়।
জহুরুল হক: আর স্মরণ করো! তিনি তোমাদের কাছে তাদের দেখিয়ে-ছিলেন, যখন তোমরা মুখোমুখি হয়েছিলে, তোমাদের চোখে অল্পসংখ্যক, আর তিনি তোমাদের করেছিলেন স্বল্পসংখ্যক তাদের চোখে, এইজন্য যেন আল্লাহ্ ব্যাপার একটা ঘটাতে পারেন যা ঘটেই গেছে। আর আল্লাহ্র কাছেই সব ব্যাপার ফিরিয়ে আনা হয়।
Sahih International: And [remember] when He showed them to you, when you met, as few in your eyes, and He made you [appear] as few in their eyes so that Allah might accomplish a matter already destined. And to Allah are [all] matters returned.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৪. আর স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিলে তখন তিনি তাদেরকে তোমাদের দৃষ্টিতে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন(১) এবং তোমাদেরকে তাদের দৃষ্টিতে স্বল্প সংখ্যক দেখিয়েছিলেন, যাতে আল্লাহ সম্পন্ন করেন এমন কাজ যা ঘটারই ছিল। আর আল্লাহর দিকেই সব বিষয় প্রত্যাবর্তন করা হয়।
তাফসীর:
(১) আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ বলেন, বদরের দিন কাফেরদেরকে আমাদের দৃষ্টিতে কম করে দেখানো হয়েছিল। এমনকি আমার পাশের লোককে বলছিলাম যে, তুমি তাদের সংখ্যা সত্তর দেখতে পাও? সে বললঃ আমি একশত দেখতে পাচ্ছি। আব্দুল্লাহ বলেনঃ শেষে আমরা তাদের একজনকে বন্দী করে জিজ্ঞাসা করলে সে তাদের সংখ্যা এক হাজার বলে জানায়। [তাবারী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৪)স্মরণ কর, যখন তোমরা পরস্পরের সম্মুখীন হয়েছিলে, তখন তিনি তাদেরকে তোমাদের দৃষ্টিতে স্বল্প-সংখ্যক দেখিয়েছিলেন এবং তোমাদেরকেও তাদের দৃষ্টিতে স্বল্প-সংখ্যক দেখিয়েছিলেন; [1] যাতে যা ঘটার ছিল তা তিনি সম্পন্ন করেন। [2] আর সব বিষয় আল্লাহরই দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়ে থাকে।
তাফসীর:
[1] যাতে সেই কাফেররাও তোমাদের ভয়ে পিছু হটে না যায়। প্রথম ঘটনাটি ছিল স্বপ্নের। আর এটা ঠিক লড়াইয়ের সময় দেখানো হয়েছিল, যেমন কুরআনের শব্দাবলী হতে এ কথা স্পষ্ট হয়। পরন্তু এই ব্যাপারটি শুরুর দিকে ছিল। কিন্তু যখন পূর্ণভাবে লড়াই আরম্ভ হয়ে গেল তখন কাফেররা মুসলিমদেরকে নিজেদের দ্বিগুণ দেখতে পেল; যেমন সূরা আলে ইমরানের ১৩নং আয়াত থেকে সে কথা জানা যায়। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে সংখ্যা বেশী দেখাবার হিকমত এই ছিল যে, যাতে অধিক সংখ্যা দেখে তাদের অন্তরে মুসলিমদের ত্রাস ও ভীতি সঞ্চার হয় এবং তার ফলে কাফেরদের মধ্যে কাপুরুষতা, ভীরুতা ও নিরুদ্যমতা এসে যায়। আর এর বিপরীত প্রথমে কম সংখ্যা দেখানোতে হিকমত এটাই ছিল যে, তারা যেন যুদ্ধ থেকে দূরে সরে না পড়ে।
[2] এসবের উদ্দেশ্য ছিল যে, আল্লাহ তাআলা যে ফায়সালা করে রেখেছিলেন তা পূরণ হয়ে যায়। এই জন্য তিনি তার কারণ ও উপকরণ সৃষ্টি করে দিলেন।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪২-৪৪ নং আয়াতের তাফসীরঃ
এ আয়াতগুলোতে বদরের প্রান্তরে উভয় বাহিনীর অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়েছে। মুসলিম বাহিনী বদর প্রান্তরে মদীনার নিকটবর্তী উপতক্যার কাছে অবস্থান করেছিল। আর কাফিররা ছিল মদীনার দূরবর্তী উপত্যকার কাছে।
কাফেলা বলতে আবূ সুফিয়ানের বাণিজ্যিক দলকে বুঝানো হয়েছে যা শাম থেকে মক্কায় ফিরছিল, যাকে ধরার জন্য মুসিলমরা বের হয়েছিল। এ কাফেলা ছিল সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় নিন্ম ভূমিতে।
(وَلَوْ تَوَاعَدْتُمْ لَاخْتَلَفْتُم)
‘যদি তোমরা পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ সম্পর্কে কোন সিদ্ধান্ত করতে চাইতে তবে এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তোমাদের মধ্যে মতভেদ ঘটত।’ অর্থাৎ যদি পূর্ব থেকে যুদ্ধের দিন ও তারিখ নির্ধারণ করে পরস্পরের মাঝে যুদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে তাহলে কখনো পারতে না বরং মতানৈক্য করতে। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা তাকদীরে রেখেছেন- দুই দলকে একত্রিত করে ধ্বংস প্রাপ্ত ব্যক্তিদের ধ্বংস করে ঈমানদারদের জীবিত রাখবেন।
(يُرِيْكَهُمُ اللّٰهُ فِيْ مَنَامِكَ قَلِيْلًا)
‘স্মরণ কর! আল্লাহ তোমাকে স্বপ্নে দেখিয়েছিলেন যে, তারা সংখ্যায় অল্প; মুজাহিদ (রাঃ) বলেন: আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাঃ)-কে স্বপ্নযোগে কাফিরদের সংখ্যা কম দেখিয়েছিলেন। আর সেই সংখ্যা তিনি সাহাবাদের মাঝে বর্ণনা করে দিলেন। ফলে তাদের হিম্মত বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু যদি সংখ্যা বেশি দেখাতেন তাহলে সাহস হারিয়ে ফেলত এবং যুদ্ধ করবে কিনা তা নিয়ে মতানৈক্য করত। অনুরূপভাবে কাফিরদের দৃষ্টিতে মুসলিমদের সংখ্যা আল্লাহ তা‘আলা কম দেখিয়ে ছিলেন ফলে তারা পিছপা না হয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এরূপ আল্লাহ তা‘আলা করেছেন তার নির্ধারিত কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য। এ সম্পর্কে সূরা আলি-ইমরানের ১৩ নং আয়াতে আরো সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. বদর যুদ্ধে মুসলিমদের অবস্থান সম্পর্কে জানলাম।
২. আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতে যা কিছু করেছেন তা পূর্ব নির্ধারিত।
৩. আল্লাহ তা‘আলার কাজের হিকমত অবগত হলাম।
৪. সবকিছুর প্রত্যাবর্তন আল্লাহ তা‘আলার কাছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৩-৪৪ নং আয়াতের তাফসীর:
মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে স্বপ্নে মুশরিকদের সংখ্যা খুবই কম দেখান। রাসূলুল্লাহ (সঃ) সাহাবীবর্গের নিকট তা বর্ণনা করেন। এটা যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের পাগুলো অটল থাকার কারণ হয়ে যায়। কোন কোন বুযুর্গ ব্যক্তি বলেন যে, মুশরিকদের সংখ্যা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ঐ চোখে কম দেখানো হয় যে চোখে তিনি দ্রিা যেতেন। কিন্তু এটা গারীব বা দুর্বল কথা। কেননা, কুরআন কারীমে যখন (আরবী) শব্দ রয়েছে তখন বিনা দলীলে ওর এরূপ ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন কি? সম্ভাবনা ছিল যে, মুশরিকদের সংখ্যাধিক্য মুসলমানদের অন্তরে ভীতির সঞ্চার করতো এবং তাদের সাথে যুদ্ধ করবেন কি করবেন না এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হতো। আল্লাহ তা'আলা এটা থেকে তাদেরকে বাঁচিয়ে দিলেন এবং মুশরিকদের সংখ্যা কম দেখালেন। আল্লাহ পাক অন্তরের গুপ্ত কথা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত। তিনি চক্ষুর খিয়ানত ও অন্তরের গুপ্ত রহস্য জানেন। তিনি এই দয়াও দেখালেন যে, মুসলমানদের দৃষ্টিতে যুদ্ধের সময়েও মুশরিকদের সংখ্যা কম দেখালেন, যাতে তারা বীরবিক্রমে যুদ্ধ করেন। এবং তাদেরকে খুবই নগণ্য মনে করেন। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি আমার সঙ্গীকে মুশরিকদের আনুমানিক সংখ্যা বললাম যে, তারা প্রায় ৭০ (সত্তর) জন হবে। আমার সাথী তখন পূর্ণভাবে অনুমান করে বললেনঃ “না, তারা প্রায় ১০০ (একশ') জন হবে।” অতঃপর তাদের একজন লোক আমাদের হাতে বন্দী হয়। তাকে আমরা জিজ্ঞেস করলাম, তোমরা কতজন রয়েছে? সে উত্তরে বললোঃ “আমাদের সৈন্যসংখ্যা এক হাজার।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) ও ইবনে জারীর (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।