সূরা আল-আ‘রাফ (আয়াত: 60)
হরকত ছাড়া:
قال الملأ من قومه إنا لنراك في ضلال مبين ﴿٦٠﴾
হরকত সহ:
قَالَ الْمَلَاُ مِنْ قَوْمِهٖۤ اِنَّا لَنَرٰىکَ فِیْ ضَلٰلٍ مُّبِیْنٍ ﴿۶۰﴾
উচ্চারণ: কা-লাল মালাউ মিন কাওমিহীইন্না-লানারা-কা ফী দালা-লিম মুবীন।
আল বায়ান: তার কওম থেকে নেতৃবর্গ বলল, ‘নিশ্চয় আমরা তোমাকে স্পষ্ট ভ্রান্তিতে দেখতে পাচ্ছি’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬০. তার সম্প্রদায়ের প্রধানরা বলেছিল, আমরা তো তোমাকে স্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে নিপতিত দেখছি।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ বলেছিল, ‘আমরা নিশ্চিতভাবে তোমাকে প্রকাশ্য গোমরাহীতে নিমজ্জিত দেখছি।’
আহসানুল বায়ান: (৬০) তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ বলেছিল, ‘আমরা তো তোমাকে স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে দেখছি।’ [1]
মুজিবুর রহমান: তার সম্প্রদায়ের প্রধান ও নেতারা বললঃ আমরা তোমাকে স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে দেখছি।
ফযলুর রহমান: তার সমপ্রদায়ের নেতারা বলেছিল, “আমরা তো তোমাকে স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে দেখতে পাচ্ছি।”
মুহিউদ্দিন খান: তার সম্প্রদায়ের সর্দাররা বললঃ আমরা তোমাকে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতার মাঝে দেখতে পাচ্ছি।
জহুরুল হক: তাঁর সম্প্রদায়ের প্রধানরা বললে -- "নিঃসন্দেহ আমরা তো তোমাকে দেখছি স্পষ্ট ভ্রান্তির মধ্যে।"
Sahih International: Said the eminent among his people, "Indeed, we see you in clear error."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৬০. তার সম্প্রদায়ের প্রধানরা বলেছিল, আমরা তো তোমাকে স্পষ্ট ভ্রষ্টতার মধ্যে নিপতিত দেখছি।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৬০) তার সম্প্রদায়ের প্রধানগণ বলেছিল, ‘আমরা তো তোমাকে স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে দেখছি।’ [1]
তাফসীর:
[1] শিরক মানুষের বিবেক-বুদ্ধিকে এমনভাবে নষ্ট করে দেয় যে, মানুষ হিদায়াতকে ভ্রষ্টতা এবং ভ্রষ্টতাকে হিদায়াত মনে করে। নূহ (আঃ)-এর জাতির অন্তরের অবস্থাও এই হয়েছিল। তিনি তাদেরকে আল্লাহর যে তাওহীদের দাওয়াত দিচ্ছিলেন, সেটাকে -নাঊযু বিল্লাহ -- তারা ভ্রষ্টতা মনে করল। কবি বলেছেন, ‘যা ভালো ছিল না, তা ধীরে ধীরে ভালো হয়ে গেল। এইভাবেই জাতির বিবেক দাসত্বে পরিণত হয়।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫৯-৬৪ নং আয়াতের তাফসীর:
এ সূরার ৫৯ নং আয়াত থেকে প্রায় শেষ পর্যন্ত নাবীগণ দ্বীন প্রচারে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন তাদেরই কয়েকজনের আলোচনা নিয়ে আসা হয়েছে। এ সব আয়াত নাবীদের দাওয়াতী মূল মিশন, নিজ সম্প্রদায়ের অবাধ্যতা এবং সর্বশেষে তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলা প্রেরিত শাস্তির কথা আলোচনা করা হয়েছে।
প্রথমেই আলোচনা করেছেন নূহ (আঃ)-এর কথা। তিনি উলূল আযম রাসূলগণের অন্যতম একজন। তিনি পৃথিবীর বুকে সর্বপ্রথম রাসূল যাকে আদম (আঃ)-এর পর নতুন রিসালাত দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছিল।
নূহ (আঃ) ও আদম (আঃ)-এর মাঝে সময়ের ব্যবধান দশ শতাব্দিকাল। এর মধ্যবর্তী সময়ের প্রত্যেকেই ইসলামের ওপর ছিলেন।
ইবনু আব্বাস (রাঃ)-সহ অনেক মুফাসসির বলেন: প্রতিমা পূজার সূচনা এভাবে হয়েছিল যে, সৎ ও পূণ্যবান লোকগণ যখন মারা গেলেন তখন তাদের অনুসারীরা তাদের কবরের ওপর মাসজিদ নির্মাণ করে এবং তাদের ছবি তৈরি করে মাসজিদে রেখে দেয় যাতে ঐগুলো দেখে তাদের অবস্থা ও ইবাদতকে স্মরণ করতে পারে। আর এর ফলে যেন নিজেদেরকে তাদের মত গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে। যখন কয়েক যুগ অতীত হয়ে গেল। তখন ঐ ছবিগুলোর পরিবর্তে তাদের মূর্তি তৈরি করা হল। কিছু দিন অতীত হবার পর ঐগুলোর ইবাদত করতে লাগল এবং সৎ ব্যক্তিদের নামে নামকরণ করতে লাগল। যেমন ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগুস, ইয়াউক, নাসর ইত্যাদি।
এভাবে যখন মূর্তিপূজা বেড়ে গেল তখন তাওহীদের দাওয়াত দিয়ে নূহ (আঃ)-কে আল্লাহ তা‘আলা প্রেরণ করলেন। নূহ (আঃ) দাওয়াত দিলেন এভাবে:
(يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللّٰهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلٰهٍ غَيْرُه۫)
‘হে আমার সম্প্রদায়! আল্লাহর ‘ইবাদত কর, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোন সত্যিকার ইলাহ নেই।’ (সূরা আ‘রাফ ৭:৫৯)
এ তাওহীদের দাওয়াত সকল নাবীই দিয়েছেন। যখন তাঁরা এ দাওয়াত দিতেন তখন লোকেরা তাদেরকে পাগল, পথভ্রষ্ট ইত্যাদি বলতো। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَإِذَا رَأَوْهُمْ قَالُوآ إِنَّ هٰؤُلَا۬ءِ لَضَا۬لُّوْنَ)
“এবং যখন তাদেরকে দেখতো তখন বলত: নিশ্চয়ই এরা পথভ্রষ্ট।” (সূরা মুতাফফিফীন ৮৩:৩২)
(عَلٰي رَجُلٍ مِّنْكُمْ)
‘তোমাদেরই একজনের মাধ্যমে’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের প্রতি তাদের মধ্য থেকে একজন পুরুষকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন। এ বিষয়ে আশ্চর্য হওয়াকে তিনি নিন্দার সাথে উল্লেখ করেছেন।
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন: এরূপ সব উম্মাতেরাই আশ্চর্য হয়েছে যে, আমি তাদের মধ্য হতেই একজন পুরুষকে রাসূল করে পাঠিয়েছি। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(أَكَانَ لِلنَّاسِ عَجَبًا أَنْ أَوْحَيْنَآ إِلٰي رَجُلٍ مِّنْهُمْ أَنْ أَنْذِرِ النَّاسَ)
“মানুষের জন্য এটা কি আশ্চর্যের বিষয় যে, আমি তাদেরই একজনের নিকট ওয়াহী প্রেরণ করেছি এ মর্মে যে, তুমি মানুষকে সতর্ক কর।” (সূরা ইউনুস ১০:২)
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَنْ يُّؤْمِنُوْا إِذْ جَا۬ءَهُمُ الْهُدٰي إِلَّآ أَنْ قَالُوْآ أَبَعَثَ اللّٰهُ بَشَرًا رَّسُوْلًا)
‘যখন তাদের নিকট আসে পথনির্দেশ তখন লোকেদেরকে ঈমান আনা হতে বিরত রাখে তাদের এ উক্তি, ‘আল্লাহ কি মানুষকে রাসূল করে পাঠিয়েছেন?’ (সূরা ইসরা ১৭:৯৪)
অর্থাৎ আমাদের নাবীসহ সকল নাবীই মানুষ ছিলেন তারা কোন ফেরেশতা নন, নূরেরও তৈরি নন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمَآ اَرْسَلْنَا قَبْلَکَ مِنَ الْمُرْسَلِیْنَ اِلَّآ اِنَّھُمْ لَیَاْکُلُوْنَ الطَّعَامَ وَیَمْشُوْنَ فِی الْاَسْوَاقِﺚ وَجَعَلْنَا بَعْضَکُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةًﺚ اَتَصْبِرُوْنَﺆ وَکَانَ رَبُّکَ بَصِیْرًا)
“তোমার পূর্বে আমি যে সকল রাসূল প্রেরণ করেছি তারা সকলেই তো আহার করত ও হাটে-বাজারে চলাফেরা করত। হে মানুষ! আমি তোমাদের পরস্পরকে পরীক্ষাস্বরূপ করেছি। তোমরা ধৈর্য ধারণ করবে কি? আর তোমার প্রতিপালক সমস্ত কিছু দেখেন।” (সূরা ফুরকান ২৫:২০)
নূহ (আঃ) ৯৫০ বছর দাওয়াতী কাজ করার পর যখন অধিকাংশ লোকেরাই তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল তখন আল্লাহ তা‘আলা নূহ (আঃ)-এর সাথে যারা ঈমান এনেছিল তাদের ব্যতীত সবাইকে ডুবিয়ে ধ্বংস করে দিলেন। এ সম্পর্কে আলোচনা আরো সামনের সূরাগুলোতে আসবে ইনশা আল্লাহ।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. নাবীদের দাওয়াতী মূলমন্ত্র তাওহীদ।
২. মূর্তিপূজার সূচনা হয় নূহ (আঃ)-এর যুগ থেকে।
৩. সকল নাবীগণই ছিলেন স্বীয় সম্প্রদায় থেকে প্রেরিত একজন পুরুষ। কেউ-ই নূরের তৈরি ফেরেশতা নন।
৪. নাবীদের অবাধ্যতার পরিণতি ভয়াবহ।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৫৯-৬২ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা এ সূরার প্রারম্ভে হযরত আদম (আঃ) এবং তাঁর সম্পর্কীয় ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। এখন তিনি নবীদের ঘটনা বর্ণনা করছেন। হযরত নূহ (আঃ)-এর ঘটনাই তিনি প্রথম শুরু করেছেন। কেননা, তিনি ছিলেন সর্বপ্রথম রাসূল যাকে আল্লাহ তা'আলা হযরত আদম (আঃ)-এর পরে দুনিয়ায় পাঠিয়েছিলেন। তিনি হচ্ছেন নূহ ইবনে লামুক ইবনে মুতাওয়াশলাখ ইবনে উখনূখ। উখনূখের নামই ইদরীস। তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, লিখন রীতি তিনিই আবিষ্কার করেছিলেন। তিনি হচ্ছেন উখনূখ ইবনে বুরদ ইবনে মাহ্লীল ইবনে কানীন ইবনে ইয়ানিশ ইবনে শীস ইবনে আদম (আঃ)। মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রঃ) বলেন যে, কোন নবী তাঁর কওমের পক্ষ থেকে দেয়া ততো কষ্ট সহ্য করেননি যতো কষ্ট হযরত নূহ (আঃ) সহ্য করেছেন। তবে হ্যা কোন কোন নবীকে হত্যা করাও হয়েছিল। ইয়াযীদ ইবনে কাশী (রঃ) বলেন যে, হযরত নূহ (আঃ) স্বীয় নফসের উপর অত্যধিক বিলাপ করতেন বলে তাঁকে ‘নূহ' নামে অভিহিত করা হয়। হযরত আদম (আঃ) থেকে হযরত নূহের যুগ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দশ শতাব্দীকাল অতিবাহিত হয়েছে। এসব যুগের সব লোকই ইসলামের নীতির উপর কায়েম ছিলেন।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও তফসীরের পণ্ডিতগণ বলেনঃ প্রতিমা পূজার সূচনা এইভাবে হয়েছিল যে, সৎ ও পুণ্যাত্মা লোকগণ যখন মারা গেলেন তখন তাঁদের অনুসারীরা তাদের কবরের উপর মসজিদ বানিয়ে নেয় এবং তাঁদের ফটো তৈরী করে মসজিদের মধ্যে রেখে দেয়, যাতে ঐগুলো দেখে তাদের অবস্থা ও ইবাদতকে স্মরণ করতে পারে। আর এর ফলে যেন নিজেদেরকে তাদের মত করে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে পারে। যখন কয়েক যুগ অতিবাহিত হয়ে গেল তখন ঐ ফটোগুলোর পরিবর্তে তাঁদের মূর্তি তৈরী করা হলো। কিছুদিন পর তারা ঐ মূর্তিগুলোকে সম্মান দেখাতে লাগলো এবং ওগুলোর ইবাদত শুরু করে দিলো।
ঐ পুণ্যবান লোকদের নামে তারা ঐ মূর্তিগুলোর নাম রাখলো। যেমন ওয়াদ, সুওয়া, ইয়াগুস, ইয়াউক, নাসর ইত্যাদি। যখন এই মূর্তিমানের পূজা বেড়ে চললো তখন আল্লাহ তাআলা স্বীয় রাসূল হযরত নূহ (আঃ)-কে প্রেরণ করলেন। তিনি তাদেরকে এক ও শরীক বিহীন আল্লাহর ইবাদত করার হুকুম করলেন। তিনি বললেনঃ “হে আমার কওম! তোমরা শুধুমাত্র আল্লাহরই ইবাদত কর । তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোন মাবুদ নেই। আমি তোমাদের প্রতি ভীষণ দিনের শাস্তির আশংকা করছি।” অর্থাৎ আমি এই ভয় করছি যে, কিয়ামতের দিন যখন তোমরা মুশরিক অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে।
তখন তাঁর কওমের মধ্যকার প্রধান ও নেতৃস্থানীয় লোকেরা বললোঃ “নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতার মধ্যে দেখছি।” অর্থাৎ আপনি আমাদেরকে এসব প্রতিমার ইবাদত করতে নিষেধ করছেন, অথচ আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এর উপরই পেয়েছি। এই ব্যাপারে তো আমরা আপনাকে বড়ই পথভ্রষ্ট মনে করছি।
আজকালকার ফাসিক-ফাজিরদের অবস্থাও অনুরূপ যে, তারা সঙ্কৰ্মশীলদের উপর পথভ্রষ্টতার অপবাদ দিয়ে থাকে। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “এই দুষ্ট প্রকৃতির লোকেরা যখন সকর্মশীল লোকদেরকে দেখে তখন বলে যে, নিশ্চয়ই এরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট।” (৮৩:৩২) কাফিররা মুমিনদেরকে বলে-“যদি তাদের কথা সত্য হতো তবে আমরা ইতিপূর্বেই এটা অবলম্বন করতাম।” আর যেহেতু তারা নিজেরা হিদায়াত প্রাপ্ত হয়নি, তাই তারা বলতে শুরু করলো- “এরা তো নিজেরাই পথভ্রষ্ট এবং এরা মিথ্যা বলছে।” এ ধরনের বহু আয়াত রয়েছে।
ইরশাদ হচ্ছে- “নূহ বললো, হে আমার জাতি! আমি কোন ভুলভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতার মধ্যে লিপ্ত নই। বরং আমি সারা জাহানের প্রতিপালকের প্রেরিত একজন রাসূল। আমি আমার প্রতিপালকের পয়গাম তোমাদের কাছে পৌছিয়ে দিচ্ছি এবং তোমাদেরকে হিতোপদেশ দিচ্ছি। আর তোমরা যা জান না তা আমি আল্লাহর নিকট থেকে জেনে থাকি।” রাসূলদের শান বা মাহাত্ম এটাই হয় যে, চারুবাক, বাগ্মী, উপদেষ্টা এবং প্রচারক হয়ে থাকেন। আল্লাহর মাখলুকাতের মধ্যে অন্য কেউ এসব গুণে গুণান্বিত হয় না। যেমন সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে,
আরাফার দিন (৯ই যিলহজ্ব) রাসূলুল্লাহ (সঃ) স্বীয় সাহাবীদেরকে সম্বোধন করে বলেনঃ “হে লোক সকল! আমার ব্যাপারে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে (অর্থাৎ আমি আমার দায়িত্ব যথাযথ পালন করেছি কি-না তা তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে)। তখন তোমরা কি উত্তর দেবে?” তারা সমস্বরে উত্তর করলেনঃ “আমরা সাক্ষ্য দানে প্রস্তুত আছি যে, আপনি যথাযথভাবে প্রচারকার্য চালিয়েছেন এবং রিসালাতের দায়িত্ব পূর্ণরূপে পালন করেছেন।” তখন তিনি স্বীয় অঙ্গুলি আকাশের দিকে উঠালেন। অতঃপর তাঁদের দিকে ইঙ্গিত করে বললেনঃ “হে আল্লাহ! আপনি সাক্ষী থাকুন। হে আল্লাহ! আপনি সক্ষী থাকুন।”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।