সূরা আল-আ‘রাফ (আয়াত: 37)
হরকত ছাড়া:
فمن أظلم ممن افترى على الله كذبا أو كذب بآياته أولئك ينالهم نصيبهم من الكتاب حتى إذا جاءتهم رسلنا يتوفونهم قالوا أين ما كنتم تدعون من دون الله قالوا ضلوا عنا وشهدوا على أنفسهم أنهم كانوا كافرين ﴿٣٧﴾
হরকত সহ:
فَمَنْ اَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرٰی عَلَی اللّٰهِ کَذِبًا اَوْ کَذَّبَ بِاٰیٰتِهٖ ؕ اُولٰٓئِکَ یَنَالُهُمْ نَصِیْبُهُمْ مِّنَ الْکِتٰبِ ؕ حَتّٰۤی اِذَا جَآءَتْهُمْ رُسُلُنَا یَتَوَفَّوْنَهُمْ ۙ قَالُوْۤا اَیْنَ مَا کُنْتُمْ تَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ ؕ قَالُوْا ضَلُّوْا عَنَّا وَ شَهِدُوْا عَلٰۤی اَنْفُسِهِمْ اَنَّهُمْ کَانُوْا کٰفِرِیْنَ ﴿۳۷﴾
উচ্চারণ: ফামান আজলামুমিম্মানিফ তারা-‘আলাল্লা-হি কাযিবান আও কাযযাবা বিআ-য়া-তিহী উলাইকা ইয়ানা-লুহুম নাসীবুহুম মিনাল কিতা-বি হাত্তাইযা-জাআতহুম রুছুলুনা-ইয়াতাওয়াফফাওনাহুম কা-লূআইনামা-কুনতুম তাদ‘ঊনা মিন দূ নিল্লা-হি কা-লূদাললূ‘আন্না-ওয়া শাহিদূ‘আলাআনফুছিহিম আন্নাহুম কা-নূকা-ফিরীন।
আল বায়ান: সুতরাং তার চেয়ে কে অধিক যালিম, যে আল্লাহর উপর মিথ্যা অপবাদ রটায় কিংবা তাঁর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে। তাদের ভাগ্যে লিখিত অংশ তাদের কাছে পৌঁছবে। অবশেষে যখন আমার ফেরেশতারা তাদের নিকট আসবে তাদের জান কবজ করতে, তখন তারা বলবে, ‘কোথায় তারা, আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকতে’? তারা বলবে, ‘তারা আমাদের থেকে হারিয়ে গিয়েছে’ এবং তারা নিজদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে, নিশ্চয় তারা ছিল কাফির।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৭. সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রটনা করে কিংবা তার আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে তার চেয়ে বড় যালিম আর কে? তাদের জন্য যে অংশ লেখা আছে তা তাদের কাছে পৌছবে।(১)। অবশেষে যখন আমাদের ফিরিশতাগণ তআদের জান কবজের জন্য তাদের কাছে আসবে, তখন তারা জিজ্ঞেস করবে, আল্লাহ্ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকতে(২) তারা কোথায়? তারা বলবে, তারা আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়েছে এবং তারা নিজেদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে যে, নিশ্চয় তারা কাফের ছিল।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তাত্থেকে বড় যালিম আর কে আছে যে আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যে রচনা করে অথবা তাঁর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করে? কিতাবে লিখিত (দুনিয়াতে তাদের জন্য) নির্দিষ্ট অংশ তাদের কাছে পৌঁছবে, যে পর্যন্ত না আমার প্রেরিত ফেরেশতা তাদের জান কব্য করার জন্য তাদের কাছে আসবে। তারা (অর্থাৎ ফেরেশতারা) জিজ্ঞেস করবে, ‘আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তোমরা আহবান করতে তারা কোথায়’? তারা বলবে, ‘তারা আমাদের থেকে উধাও হয়ে গেছে’ আর তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে যে তারা কাফির ছিল।
আহসানুল বায়ান: (৩৭) যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে, কিম্বা তাঁর নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা মনে করে, তার অপেক্ষা বড় অত্যাচারী আর কে? তাদের ভাগ্যলিপিতে লিখিত নির্ধারিত অংশ তাদের নিকট পৌঁছবে।[1] পরিশেষে যখন আমার প্রেরিত (ফিরিশতা)রা প্রাণ হরণের জন্য তাদের নিকট আসবে ও জিজ্ঞাসা করবে, ‘আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকতে তারা কোথায়?’ তারা বলবে, ‘তারা উধাও হয়েছে।’ এবং তারা স্বীকার করবে যে, তারা অবিশ্বাসী ছিল।
মুজিবুর রহমান: যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে এবং তাঁর নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে সে অপেক্ষা বড় যালিম আর কে হতে পারে? তাদের ‘আমলনামায় লিখিত নির্ধারিত অংশ তাদের নিকট পৌঁছবেই, পরিশেষে যখন আমার প্রেরিত মালাক/ফেরেশতা তাদের প্রাণ হরণের জন্য তাদের নিকট পৌঁছবে, তখন তারা (ফেরেশতারা) জিজ্ঞেস করবেঃ আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে তোমরা ডাকতে তারা কোথায়? তখন তারা উত্তরে বলবেঃ আমাদের হতে তারা উধাও হয়ে গেছে। আর নিজেরাই স্বীকারোক্তি করবে যে, তারা কাফির বা সত্য প্রত্যাখ্যানকারী ছিল।
ফযলুর রহমান: যে আল্লাহর বিরুদ্ধে মিথ্যা বানিয়ে বলে অথবা তাঁর নিদর্শনসমূহকে অবিশ্বাস করে তার চেয়ে বড় জালেম কে আছে? ভাগ্যলিপি থেকে তাদের নির্দিষ্ট অংশ তাদের কাছে পৌঁছে যাবে। (তাদের ভাগ্যে যা আছে তারা তা পেয়ে যাবে।) অবশেষে যখন আমার দূতেরা (মৃত্যুর ফেরেশতারা) তাদের প্রাণ নিতে তাদের কাছে আসবে তখন তারা (ফেরেশতারা) বলবে, “আল্লাহকে বাদ দিয়ে তোমরা যাদেরকে ডাকতে তারা কোথায়?” (জবাবে) তারা বলবে, “তারা আমাদের থেকে উধাও হয়ে গেছে।” আর তারা নিজেদের বিরুদ্ধেই সাক্ষ্য দেবে যে, তারা কাফের ছিল।
মুহিউদ্দিন খান: অতঃপর ঐ ব্যক্তির চাইতে অধিক জালেম কে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে অথবা তার নির্দেশাবলীকে মিথ্যা বলে? তারা তাদের গ্রন্থে লিখিত অংশ পেয়ে যাবে। এমন কি, যখন তাদের কাছে আমার প্রেরিত ফেরশতারা প্রাণ নেওয়ার জন্যে পৌছে, তখন তারা বলে; তারা কোথায় গেল, যাদের কে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত আহবান করতে? তারা উত্তর দেবেঃ আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়ে গেছে, তারা নিজেদের সম্পর্কে স্বীকার করবে যে, তারা অবশ্যই কাফের ছিল।
জহুরুল হক: অতএব তার চাইতে কে বেশী অন্যায়কারী যে আল্লাহ্ সন্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে অথবা তাঁর নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করে? এরাই, -- এদের কাছে পৌঁছুবে কিতাব থেকে তাদের ভাগ। শেষ পর্যন্ত যখন আমাদের দূতরা তাদের কাছে আসবে তখন তারা তাদের মৃত্যু ঘটাবে, তারা বলবে -- "কোথায় আছে তারা যাদের তোমরা আহ্বান করতে আল্লাহ্কে ছেড়ে দিয়ে?" তারা বলবে -- "তারা আমাদের থেকে চলে গেছে । আর তারা নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে যে তারা নিঃসন্দেহ অবিশ্বাসী ছিল।
Sahih International: And who is more unjust than one who invents about Allah a lie or denies His verses? Those will attain their portion of the decree until when Our messengers come to them to take them in death, they will say, "Where are those you used to invoke besides Allah?" They will say, "They have departed from us," and will bear witness against themselves that they were disbelievers.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৭. সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রটনা করে কিংবা তার আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে তার চেয়ে বড় যালিম আর কে? তাদের জন্য যে অংশ লেখা আছে তা তাদের কাছে পৌছবে।(১)। অবশেষে যখন আমাদের ফিরিশতাগণ তআদের জান কবজের জন্য তাদের কাছে আসবে, তখন তারা জিজ্ঞেস করবে, আল্লাহ্– ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকতে(২) তারা কোথায়? তারা বলবে, তারা আমাদের কাছ থেকে উধাও হয়েছে এবং তারা নিজেদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দেবে যে, নিশ্চয় তারা কাফের ছিল।
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ তাদের শাস্তির যে পরিমাণ লেখা আছে তা তাদের কাছে পৌছবেই। [তাবারী] কাতাদা বলেন, দুনিয়াতে তারা যে আমল করেছে সেটার ফলাফল আখেরাতে তাদের কাছে পৌছবেই। [আত-তাফসীরুস সহীহ]
(২) অর্থাৎ আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে তোমরা ডাকতে, যাদের তোমরা ইবাদত করতে এখন তারা কোথায়? তারা কি তোমাদেরকে এখন সাহায্য করতে পারে না? তারা কি তোমাদেরকে এ বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারে না? তখন তারা স্বীকার করবে যে, আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তারা আহবান করত, যাদের ইবাদত করত, তারা সবাই তাদের কাছ থেকে হারিয়ে গেছে। এভাবে তারা তাদের নিজেদের বিপক্ষে সাক্ষী দিল যে, তারা মুশরিক ছিল, তাওহীদবাদী ছিল না। [মুয়াসসার]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৭) যে ব্যক্তি আল্লাহ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করে, কিম্বা তাঁর নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা মনে করে, তার অপেক্ষা বড় অত্যাচারী আর কে? তাদের ভাগ্যলিপিতে লিখিত নির্ধারিত অংশ তাদের নিকট পৌঁছবে।[1] পরিশেষে যখন আমার প্রেরিত (ফিরিশতা)রা প্রাণ হরণের জন্য তাদের নিকট আসবে ও জিজ্ঞাসা করবে, ‘আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে তোমরা ডাকতে তারা কোথায়?’ তারা বলবে, ‘তারা উধাও হয়েছে।’ এবং তারা স্বীকার করবে যে, তারা অবিশ্বাসী ছিল।
তাফসীর:
[1] এর বিভিন্ন অর্থ বর্ণনা করা হয়েছে। একটি অর্থ আমল, রুযী এবং বয়স করা হয়েছে। অর্থাৎ, তাদের ভাগ্যে যে রুযী নির্ধারিত আছে তা পরিপূর্ণ করে নেওয়ার এবং যত বয়স নির্ধারিত আছে তা সম্পূর্ণ করার পর অবশেষে মৃত্যু বরণ করতেই হবে। প্রায় এই অর্থেরই আয়াত এটাও, {إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لا يُفْلِحُونَ، مَتَاعٌ فِي الدُّنْيَا ثُمَّ إِلَيْنَا مَرْجِعُهُمْ} অর্থাৎ, তুমি বলে দাও, যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা রচনা করে, তারা সফলকাম হবে না। (ওদের জন্য) দুনিয়ায় কিছু সুখ-সম্ভোগ রয়েছে। তারপর আমারই দিকে তাদেরকে ফিরে আসতে হবে। (সূরা ইউনুসঃ ৬৯-৭০)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩৪-৩৯ নং আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতগুলোতে সে সকল ঈমানদারদের শুভ পরিণামের সুসংবাদ দেয়া হয়েছে যারা আল্লাহভীরু ও নেক আমলে সজ্জিত। তাদের কোন চিন্তা নেই, কোন ভয় নেই। পক্ষান্তরে যারা কুফরী করে ঈমান আনতে অহঙ্কার করে তাদের জন্য জাহান্নাম। তাদের বর্ণনা ৪০ নং আয়াতে আরো আসছে।
(وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ)
‘প্রত্যেক জাতির জন্য এক নির্দিষ্ট সময় আছে’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা দুনিয়াতে বানী আদমকে পাঠিয়ে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। কোন জাতিই আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক নির্দিষ্ট সময়ের আগে দুনিয়া ছেড়ে যাবে না এবং পরেও যাবে না। ৩৭ নং আয়াতের তাফসীর পূর্বের সূরাগুলোতে করা হয়েছে।
(ادْخُلُوْا فِيْٓ أُمَمٍ)
‘তোমাদের পূর্বে যে জিন ও মানবদল গত হয়েছে তাদের সাথে তোমরা জাহান্নামে প্রবেশ কর’। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন মুশরিকদেরকে ঐ সকল জিন ও মানুষের সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করতে বলবেন যারা আল্লাহ তা‘আলার আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করত এবং তাদের মত মুশরিক ছিল।
(لَّعَنَتْ أُخْتَهَا)
‘অপর দলকে তারা অভিসম্পাত করবে’ অর্থাৎ যখনই একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখনই অন্যদল তাদের অভিশাপ করবে। কারণ পূর্ববর্তী পথভ্রষ্টরা পরবর্তীদেরকে তাদের পথে ডেকে পথভ্রষ্ট করেছে।
(إِذَا ادَّارَكُوْا فِيْهَا)
‘যখন সকলে তাতে একত্রিত হবে’ অর্থাৎ যখনই পূর্ববর্তী ও পরবর্তী উভয় দল জাহান্নামে একত্রিত হবে তখনই পরবর্তীরা বলবে পূর্ববর্তীরা আমাদের পথভ্রষ্ট করেছে। তাই তাদেরকে দ্বিগুণ শাস্তি দাও।
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(يَوْمَ تُقَلَّبُ وُجُوْهُهُمْ فِي النَّارِ يَقُوْلُوْنَ يٰلَيْتَنَآ أَطَعْنَا اللّٰهَ وَأَطَعْنَا الرَّسُوْلَا - وَقَالُوْا رَبَّنَآ إِنَّآ أَطَعْنَا سَادَتَنَا وَكُبَرَا۬ءَنَا فَأَضَلُّوْنَا السَّبِيْلَا)
“যেদিন তাদের চেহারা জাহান্নামের আগুনের মধ্যে উলট-পালট করা হবে সেদিন তারা বলবে- হায়! আমরা যদি আল্লাহ ও রাসূলের আদেশ পালন করতাম! তারা আরো বলবে- হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তো অনুসরণ করেছিলাম আমাদের নেতাদের এবং আমাদের প্রধানদের। অতএব তারাই আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করেছিল।” (সূরা আহযাব ৩৩:৬৬-৬৮)
(لِكُلٍّ ضِعْفٌ)
‘প্রত্যেকের জন্য দ্বিগুণ রয়েছে’ অর্থাৎ প্রত্যেককে আল্লাহ তা‘আলা আযাব দ্বিগুণ করে দেবেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(اَلَّذِيْنَ كَفَرُوْا وَصَدُّوْا عَنْ سَبِيْلِ اللّٰهِ زِدْنٰهُمْ عَذَابًا فَوْقَ الْعَذَابِ بِمَا كَانُوْا يُفْسِدُوْنَ)
“আমি শাস্তির পর শাস্তি বৃদ্ধি করব কাফিরদের ও আল্লাহর পথে বাধাদানকারিদের; কারণ তারা অশান্তি সৃষ্টি করত।” (সূরা নাহল ১৬:৮৮)
(فَمَا كَانَ لَكُمْ عَلَيْنَا مِنْ فَضْلٍ)
‘আমাদের ওপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব ছিল না’ অর্থাৎ পূর্ববর্তী পথভ্রষ্টরা পরবর্তীদের বলবে তোমাদের ওপর আমাদের কোন কর্তৃত্ব ছিল না বরং তোমরা নিজেরাই পথহারা হয়েছ।
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “তুমি যদি দেখতে জালিমদেরকে যখন তাদের প্রতিপালকের সামনে দণ্ডায়মান করা হবে, তখন তারা পরস্পর বাদ-প্রতিবাদ করতে থাকবে, যাদেরকে দুর্বল মনে করা হত তারা অহঙ্কারকারীদেরকে বলবে: তোমরা না থাকলে আমরা অবশ্যই মু’মিন হতাম। অহঙ্কারীরা যাদেরকে দুর্বল মনে করত তাদেরকে বলবে: তোমাদের নিকট সৎ পথের দিশা আসার পর আমরা কি তোমাদেরকে তা হতে নিবৃত্ত করেছিলাম? বস্তুতঃ তোমরাই তো ছিলে অপরাধী।” (সূরা সাবা ৩৪:৩১-৩২)
সুতরাং কিয়ামতের মাঠে কারো ওপর দোষ চাপানোর সুযোগ থাকবে না। আজ যে সকল মন-পূজারী লোকেদের সাথে চলছি তারাও সেদিন অস্বীকার করবে। তাই সময় থাকতে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. প্রত্যেকের জন্য নির্ধারিত আয়ু বা সময় বেঁধে দেয়া আছে। এর আগেও নয় এবং পরেও নয় বরং যথাসময়ে তাকে বিদায় নিতে হবে।
২. যারা সত্যিকার মু’মিন পরকালে তাদের কোন ভয় ও কোন দুশ্চিন্তা থাকবে না। আর যারা কাফির তাদের কোন নিরাপত্তা থাকবে না।
৩. সকল পাপাচারীগণ এক সাথে জাহান্নামে থাকবে এবং একে অপরকে দোষারোপ করবে, কিন্তু এতে কোন ফল হবে না।
৪. যারা অন্যের প্ররোচনায় পথভ্রষ্ট হয়েছে সেদিন তাদের দোহাই দিয়ে পার পাওয়া যাবে না।
৫. পথভ্রষ্টকারী ও অনুসারী সকলের জন্য শাস্তি দ্বিগুণ করে দেয়া হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ইরশাদ হচ্ছে- ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা বড় অত্যাচারী আর কেউই নেই যে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে অথবা তাঁর আয়াতসমূহকে এবং মু'জিযাগুলোকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। এই লোকগুলো তাদের তকদীরে লিখিত অংশ অবশ্যই পেয়ে যাবে। মুফাসসিরগণ এর অর্থে মতভেদ করেছেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, তাদের মুখমণ্ডল কালো হয়ে যাবে, অথবা এর অর্থ এই যে, যে ভাল কাজ করবে সে ভাল প্রতিদান পাবে এবং যে মন্দ কাজ করবে সে পাবে মন্দ প্রতিদান। অথবা নিজের অংশ দ্বারা নিজের আমল, নিজের জীবিকা এবং নিজের বয়স বুঝানো হয়েছে। আর এই উক্তি রচনা ভঙ্গীর দিক দিয়ে বেশী মজবুত। আল্লাহ পাকের নিম্নের উক্তিটিকে এর প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা যেতে পারেঃ “আমার ফেরেশতারা যখন তাদের রূহ কবয করার জন্যে আসবে।” এই আয়াতের অনুরূপ অর্থ বিশিষ্ট হচ্ছে মহান আল্লাহর এই উক্তিটিঃ “যারা আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে, তারা পার্থিব উপভোগ হিসেবে কোনই সফলতা লাভ করবে না, অতঃপর তারা আমারই কাছে প্রত্যাবর্তন করবে, আমি তখন তাদেরকে তাদের কুফরীর কারণে কঠিন শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাবো।” এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ যদি কেউ কুফরী করে তবে তাকে করতে দাও। তাদের কুফরী যেন তোমাদেরকে চিন্তিত না করে। তাদেরকে শেষ পর্যন্ত আমার কাছে ফিরে আসতেই হবে। ঐ সময় তাদের আমল তাদের উপর খুলে যাবে। আল্লাহ অন্তরের খবর ভালরূপেই জানেন। আমি তো কিছুদিনের জন্যে তাদেরকে পার্থিব সম্পদ উপভোগ করতে দিয়েছি।
আল্লাহ পাক উপরোক্ত আয়াতে সংবাদ দিচ্ছেন- মুশরিকদের রূহ কব্য করার সময় ফেরেশতারা তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করবে এবং রূহ ক্যু করে নিয়ে জাহান্নামের দিকে তাদেরকে নিয়ে যাবে এবং বলবে- “যাদেরকে তোমরা আল্লাহর শরীক স্থাপন করতে তারা আজ কোথায়? তোমরা তো তাদের কাছে প্রার্থনা করতে এবং তাদেরই উপাসনা করতে! আজ তাদেরকে ডাক। তারা তোমাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তিদান করুক।” তখন তারা বলবে“তাদেরকে আজ কোথায় পাবো? তারা তো আজ পালিয়ে গেছে । আজ আমরা তাদের খবরেরও কোন আশা করছি না। তারা সেদিন স্বীকারোক্তি করবে যে, তারা কুফরী করতো।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।