সূরা আল-আ‘রাফ (আয়াত: 100)
হরকত ছাড়া:
أولم يهد للذين يرثون الأرض من بعد أهلها أن لو نشاء أصبناهم بذنوبهم ونطبع على قلوبهم فهم لا يسمعون ﴿١٠٠﴾
হরকত সহ:
اَوَ لَمْ یَهْدِ لِلَّذِیْنَ یَرِثُوْنَ الْاَرْضَ مِنْۢ بَعْدِ اَهْلِهَاۤ اَنْ لَّوْ نَشَآءُ اَصَبْنٰهُمْ بِذُنُوْبِهِمْ ۚ وَ نَطْبَعُ عَلٰی قُلُوْبِهِمْ فَهُمْ لَا یَسْمَعُوْنَ ﴿۱۰۰﴾
উচ্চারণ: আওয়া লাম ইয়াহদি লিল্লাযীনা ইয়ারিছূনাল আরদা মিম বা‘দিআহলিহা-আল নাও নাশাউ আসাবনা-হুম বিযুনূবিহিম ওয়া নাতবা‘উ ‘আলা-কুলূবিহিম ফাহুম লাইয়াছমা‘ঊন।
আল বায়ান: যমীনের অধিবাসীদের (চলে যাবার) পর যারা তার উত্তরাধিকারী হয়, তাদের কাছে কি এ কথা পরিষ্কার হয়নি যে, আমি যদি চাই, তাদের পাপের কারণে তাদেরকে শাস্তি দিতে পারি? আর আমি মোহর মেরে দেই তাদের হৃদয়ে। অতঃপর তারা শোনে না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০০. কোন দেশের জনগনের পর যারা ঐ দেশের উত্তরাধিকারী হয় তাদের কাছে এটা কি প্রতীয়মান হয়নি যে, আমরা ইচ্ছে করলে তাদের পাপের দরুন তাদেরকে শাস্তি দিতে পারি(১)? আর আমরা তাদের হৃদয় মোহর করে দেব, ফলে তারা শুনবে না।(২)।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা কোন দেশের উত্তরাধিকার লাভ করেছে সেখানকার (আগের) অধিবাসীদের পর, তারা কি এ শিক্ষা লাভ করে না যে, আমি তাদেরকে তাদের পাপের কারণে পাকড়াও করতে পারি আর তদের অন্তরে সীল লাগিয়ে দিতে পারি যাতে তারা কিছুই শুনবে না?
আহসানুল বায়ান: (১০০) কোন দেশের অধিবাসীর ধ্বংসের পর যারা ওর উত্তরাধিকারী হয়েছে, তাদের নিকট এটা কি প্রতীয়মান হয়নি যে, আমি ইচ্ছা করলে তাদের পাপের দরুন তাদেরকে শাস্তি দিতে পারি এবং তাদের হৃদয় মোহর করে দিতে পারি; ফলে তারা শুনবে না।[1]
মুজিবুর রহমান: কোন এলাকার অধিবাসী ধ্বংস হওয়ার পর সেই এলাকার যারা উত্তরাধিকারী হয়, তাদের কাছে কি এটা প্রতীয়মান হয়নি যে, আমি ইচ্ছা করলে তাদের পাপের কারণে তাদেরকে শাস্তি দিতে পারি, আর তাদের অন্তঃকরণের উপর মোহর এটে দিতে পারি যাতে তারা কিছুই শুনতে পারেনা?
ফযলুর রহমান: জমিনের (আগের) বাসিন্দাদের পরে যারা এর উত্তরাধিকারী হয়েছে তাদের কাছে কি পরিষ্কার হয়নি যে, আমি চাইলে তাদেরকে তাদের পাপের কারণে ধরতে পারি? আমি তাদের অন্তরে ছাপ মেরে দিচ্ছি, ফলে তারা শুনতে পাবে না।
মুহিউদ্দিন খান: তাদের নিকট কি একথা প্রকাশিত হয়নি, যারা উত্তারাধিকার লাভ করেছে। সেখানকার লোকদের ধ্বংসপ্রাপ্ত হবার পর যদি আমি ইচ্ছা করতাম, , তবে তাদেরকে তাদের পাপের দরুন পাকড়াও করে ফেলতাম। বস্তুতঃ আমি মোহর এঁটে দিয়েছি তাদের অন্তরসমূহের উপর। কাজেই এরা শুনতে পায় না।
জহুরুল হক: এটি কি নির্দেশাত্মক নয় তাদের জন্য যারা দেশের উত্তরাধিকারপ্রাপ্ত হয় তার বাসিন্দাদের পরে, যে যদি আমরা ইচ্ছা করি তবে তাদেরও আমরা আঘাত হানতে পারি তাদের অপরাধের জন্য, আর তাদের হৃদয়ের উপরে সিল এঁটে দিতে পারি, ফলে তারা শুনবে না?
Sahih International: Has it not become clear to those who inherited the earth after its [previous] people that if We willed, We could afflict them for their sins? But We seal over their hearts so they do not hear.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১০০. কোন দেশের জনগনের পর যারা ঐ দেশের উত্তরাধিকারী হয় তাদের কাছে এটা কি প্রতীয়মান হয়নি যে, আমরা ইচ্ছে করলে তাদের পাপের দরুন তাদেরকে শাস্তি দিতে পারি(১)? আর আমরা তাদের হৃদয় মোহর করে দেব, ফলে তারা শুনবে না।(২)।
তাফসীর:
(১) আয়াতে يَهْدِ অর্থ চিহ্নিতকরণ, প্রতীয়মান হওয়া এবং বাতলে দেয়া। এখানে এর কর্তা হল সে সমস্ত ঘটনাবলী যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। অথাৎ বর্তমান যুগের লোকেরা যারা অতীত জাতিসমূহের ধ্বংসের পরে তাদের ভূ-সম্পত্তি ও ঘর-বাড়ীর উত্তরাধিকারী হয়েছে কিংবা পরে হবে, তাদেরকে শিক্ষণীয় সেসব অতীত ঘটনাবলী একথা বাতলে দেয়নি যে, কুফর ও অস্বীকৃতি এবং আল্লাহর বিধানের বিরোধিতার পরিণতিতে যেভাবে তাদের পূর্বপুরুষেরা (অর্থাৎ বিগত জাতিসমূহ) ধ্বংস ও বিধ্বস্ত হয়ে গেছে।
তেমনিভাবে তারাও যদি অনুরূপ অপরাধে লিপ্ত থাকে তাহলে তাদের উপরও আল্লাহর তা'আলার আযাব ও গযব আসতে পারে। [আত-তাহরীর ওয়াত তানওয়ীর] আল্লাহ তা'আলা কুরআনের স্থানে স্থানে এ বিষয়টি বার বার উল্লেখ করে মানুষকে পূর্ববর্তী জাতিদের অবস্থা থেকে শিক্ষা গ্রহণের আহবান জানিয়েছেন। যেমনঃ সূরা তোয়াহাঃ ১২৮, সুরা আস্ সাজদাহঃ ২৬, সূরা ইবরাহীমঃ ৪৫, সূরা মারইয়ামঃ ৯৮, সূরা আল-আনআমঃ ৬, ১০, সূরা আল-আহকাফঃ ২৫–২৭, সূরা সাবাঃ ৪৫, সূরা আল-মুলকঃ ১৮, সূরা আল-হাজঃ ৪৫–৪৬৷
(২) অর্থাৎ এরা অতীত ঘটনাবলী থেকেও কোন রকম শিক্ষা গ্রহণ করে না। ফলে আল্লাহর গযবের দরুন তাদের অন্তরে মোহর এঁটে যায়, তারা তখন কিছুই শুনতে পায় না। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ কোন লোক যখন প্রথমবার পাপ কাজ করে তখন তার অন্তরে মালিন্যের একটা বিন্দু লেগে যায়। দ্বিতীয়বার পাপ করলে দ্বিতীয় বিন্দু লাগে আর তৃতীয়বার পাপ করলে তৃতীয় বিন্দুটি লেগে যায়। এমনকি সে যদি অনবরত পাপের পথে অগ্রসর হতে থাকে এবং তাওবাহ না করে তাহলে এই কালি-বিন্দু তার সমগ্র অন্তরকে ঘিরে ফেলে। [দেখুন- ইবন মাজাহঃ ৪২৪৪]
তখন মানুষের অন্তরে ভাল-মন্দকে চেনার এবং মন্দ থেকে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহ তা'আলা যে স্বাভাবিক যোগ্যতাটি দিয়ে রেখেছেন, তা হয় নিঃশেষিত না হয় পরাভূত হয়ে যায়। আর তখন তার ফল দাঁড়ায় এই যে, সে ভালকে মন্দ ও মন্দকে ভাল এবং ইষ্টকে অনিষ্ট ও অনিষ্টকে ইষ্ট বলে ধারণা করতে আরম্ভ করে। এ অবস্থানটিকেই কুরআনে رأن القلوب অর্থাৎ ‘অন্তরের মরচে’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। আর এ অবস্থার সর্বশেষ পরিণতিকেই আলোচ্য আয়াতে এবং আরো বহু আয়াতে ‘মোহর এঁটে দেয়া হয়’ বলা হয়েছে। এ অবস্থায় উপণীত হলে সত্য সেখানে প্রবেশের সুযোগ পায় না, কল্যাণের কোন স্থান সেখানে থাকে না, যা তাদের উপকারে আসবে এমন কিছু শুনতে পায় না। শুধু সেটাই শুনতে পায় যা তাদের বিরুদ্ধে কাজে লাগে। [সা'দী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১০০) কোন দেশের অধিবাসীর ধ্বংসের পর যারা ওর উত্তরাধিকারী হয়েছে, তাদের নিকট এটা কি প্রতীয়মান হয়নি যে, আমি ইচ্ছা করলে তাদের পাপের দরুন তাদেরকে শাস্তি দিতে পারি এবং তাদের হৃদয় মোহর করে দিতে পারি; ফলে তারা শুনবে না।[1]
তাফসীর:
[1] পাপের ফলে শুধু আযাবই আসে না; বরং অন্তরে তালাও লেগে যায়। তখন বড় বড় আযাবও তাদেরকে গাফলতির ঘুম থেকে জাগাতে পারে না। অন্যান্য স্থানের মত এখানেও মহান আল্লাহ প্রথমতঃ এ কথা বলেছেন যে, যেমন পূর্বের জাতিগুলিকে আমি তাদের পাপের কারণে ধ্বংস করেছি, আমি চাইলে তোমাদেরকেও তোমাদের কার্যকলাপের জন্য ধ্বংস করতে পারি, আর দ্বিতীয়তঃ পাপের পর পাপ করতে থাকলে অন্তরে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়, যার পরিণতিতে সত্যের আওয়াজ তাদের কানে পৌঁছে না। আর তখন ভীতি-প্রদর্শন বা উপদেশ তাদের জন্য কোন কাজে লাগে না। আয়াতে تبيين هدى (সুস্পষ্ট করা, প্রতীয়মান হওয়া)এর অর্থে ব্যবহার হয়েছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৯৬-১০০ নং আয়াতের তাফসীরঃ
যারা নাবীদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, সত্য ত্যাগ করেছে এবং যাদেরকে বিভিন্ন বিপদ-আপদ দ্বারা পরীক্ষা করেছেন তাদের আলোচনার পর আল্লাহ তা‘আলা জনপদবাসী তথা মক্কাবাসীর কথা আলোচনা করেছেন। যদিও এখানে মক্কাবাসীকে সম্বোধন করা হয়েছে তবে সবাই এতে শামিল।
যদি এ জনপদবাসী সত্যিকারের ঈমান আনত, আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করত তাহলে তিনি তাদের জন্য আকাশের ও জমিনের রবকতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দিতেন। কিন্তু তারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করল যার কারণে আল্লাহ তা‘আলা আযাব দ্বারা তাদেরকে পাকড়াও করলেন।
(فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللّٰهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخٰسِرُوْنَ)
‘বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ব্যতীত কেউ আল্লাহ তা‘আলার কৌশল হতে নিরাপদ হতে পারে না।’ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার আযাব থেকে নিরাপদ মনে করা হারাম। বরং বিশ্বাস রাখতে হবে, যে কোন সময় আল্লাহ তা‘আলা আমাদের পাকড়াও করতে সক্ষম।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: কবীরা গুনাহ হল আল্লাহ তা‘আলার সাথে অংশী স্থাপন করা, আল্লাহ তা‘আলার পাকড়াও থেকে নিরাপদ মনে করা এবং আল্লাহ তা‘আলার রহমত থেকে নিরাশ হওয়া। (মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ১০/৪৫৯, আহমাদ হা: ২৩৯৪৩)
(لَّوْ نَشَا۬ءُ أَصَبْنٰهُمْ بِذُنُوْبِهِمْ)
“আমি ইচ্ছা করলে তাদের পাপের দরুন তাদেরকে শাস্তি দিতে পারি” এরূপ অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(أَفَلَمْ يَهْدِ لَهُمْ كَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِّنَ الْقُرُوْنِ يَمْشُوْنَ فِيْ مَسٰكِنِهِمْ ط إِنَّ فِيْ ذٰلِكَ لَاٰيٰتٍ لِّأُولِي النُّهٰي)
“এটাও কি তাদেরকে সৎপথ দেখাল না যে, আমি এদের পূর্বে ধ্বংস করেছি কত মানবগোষ্ঠী যাদের বাসভূমিতে এরা বিচরণ করে থাকে? অবশ্যই এতে বিবেকসম্পন্নদের জন্য আছে নিদর্শন।” (সূরা ত্বহা ২০:১২৮)
এছাড়াও অনেক আয়াত রয়েছে যেখানে আল্লাহ তা‘আলা এভাবে সতর্ক করেছেন।
সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা আমাদের কৃত অপরাধের কারণে যে কোন সময় পাকড়াও করতে পারেন। এ থেকে নিরাপদ মনে করা কবীরা গুনাহ। তাই আমাদের উচিত হবে ঈমানের ওপর অটল থেকে আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করা। তাহলে তিনি আমাদের জন্য আকাশ ও জমিনের বরকতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দেবেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ঈমান আনা ও তাক্বওয়ার ইহকালীন কল্যাণ কী তা জানতে পারলাম।
২. আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি থেকে নিরাপদ মনে করা হারাম।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এর অর্থ হচ্ছে-তাদের কাছে কি এটা প্রতীয়মান হয় না যে, আমি (আল্লাহ) ইচ্ছা করলে তাদের পাপের কারণে তাদেরকে শাস্তি দিতে পারি? ইবনে জারীর (রঃ) এর তাফসীরে বলেনঃ কোন এলাকার অধিবাসীকে ধ্বংস করে দেয়ার পর ভূ-পৃষ্ঠে যাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, যারা তাদেরই স্বভাব গ্রহণ করেছে, তাদেরই মত আমল করেছে এবং তাদেরই মত আল্লাহর অবাধ্য হয়েছে, তাদের কাছে কি এটা প্রতীয়মান হয় না যে, আমি ইচ্ছা করলে তাদেরকেও তাদের পাপের কারণে শাস্তি প্রদান করতে পারি? তাদের এই অবাধ্যতার শাস্তি স্বরূপ আমি তাদের অন্তরে মোহর লাগিয়ে দেবো। সুতরাং তারা কোন ভাল কথা শুনতেও পাবে না এবং বুঝতেও সক্ষম হবে না। অনুরূপভাবে অন্য জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “এ ঘটনা থেকে কি তারা শিক্ষা গ্রহণ করে না যে, তাদের পূর্বে আমি এমন বহু কওমকে ধ্বংস করে দিয়েছি যারা তাদের ঘরবাড়ীতে বসবাস ও চলাফেরা করত? এটা কি বিবেকবানদের জন্যে নিদর্শন নয়?” আর এক জায়গায় আল্লাহ পাক বলেনঃ “ইতিপূর্বে কি তোমরা দৃঢ় শপথ করে বলেছিলে না যে, তোমরা ধ্বংস হবেই না? অথচ তারা ধ্বংস হয়েই গেছে। আজ তোমরা ঐসব অত্যাচারীর জায়গা গ্রহণ করছো!” তিনি আরো বলেনঃ “এদের পূর্বে কতই না কওম ধ্বংস হয়ে গেছে, আজ তাদের কোন নাম-নিশানাও নেই, না তাদের কোন শব্দ আজ শোনা যাচ্ছে!” অন্য এক জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “এরা কি দেখছে না যে, এদের পূর্বে বহু কওম এখানে রাজত্ব করেছে, যে রাজত্ব করার সৌভাগ্য তোমাদের হয়নি, অতঃপর আকাশ থেকে বৃষ্টির শাস্তি নেমে আসলো এবং ভূমির নিম্নদেশ থেকে প্লাবন এসে গেল এবং এর মাধ্যমে তাদের সকলকেই ধ্বংস করে দেয়া হলো। এর পর অন্য কওমকে আমি তাদের জায়গায় বসালাম। আদ সম্প্রদায়ের ধ্বংসের কথা উল্লেখ করে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “এখন শুধুমাত্র তাদের ধ্বংসাবশেষ দেখতে পাওয়া যায়। পাপী ও অপরাধীদের পরিণাম এরূপই হয়ে থাকে। আজ আমি তোমাদেরকে যেখানে বসিয়েছি, একদিন তাদেরকে সেখানে বসিয়েছিলাম। তাদেরকে আমি শ্রবণকারী কান, দর্শনকারী চক্ষু এবং অনুধাবনকারী অন্তর দিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের কান, তাদের চক্ষু এবং তাদের অন্তঃকরণ তাদের কোনই উপকার করেনি। কেননা, তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে বসে এবং যে উপহাস তারা করে তার শাস্তি তারা পেয়ে যায়। তোমাদের সরযমীনের চতুষ্পর্শ্বের কতইনা বসতি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং কতইনা নিদর্শনের হেরফের হয়েছে! তোমরা চিন্তা করে দেখো, হয়তো কিছু শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।” আল্লাহ পাক আরো বলেনঃ “এদের পূর্ববর্তী লোকেরা রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, সুতরাং তাদেরকে কেমন পরিণতি দেখতে হয়েছিল! তোমরা তো তাদের দশ ভাগের এক ভাগ শক্তিরও অধিকারী নও।” অন্য জায়গায় তিনি বলেনঃ “কতইনা লোকালয়কে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি, ওগুলোর অধিবাসীরা ছিল অত্যাচারী, তাদের ঘরের ছাদগুলো পড়ে গিয়েছিলো, কূপগুলো অকেজো হয়ে পড়েছিল, বড় বড় অট্টালিকাগুলো বিরান হয়ে গিয়েছিল।” আরো বলেনঃ “তারা ভূ-পৃষ্ঠে ঘুরেফিরে দেখে না কেন? তাহলে তারা অনুধাবনকারী অন্তর এবং শ্রবণকারী কান লাভ করতো, কেননা, তাদের চক্ষুগুলো অন্ধ নয়। বরং তাদের সেই অন্তর অন্ধ যা বক্ষের মধ্যে রয়েছে। আর এক জায়গায় আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “রাসূলদের সাথে উপহাস করা হয়েছিল, তখন তাদের সেই উপহাসের শাস্তি তাদের প্রতি নাযিল হয়েছিল। মোটকথা, এই ধরনের বহু আয়াত রয়েছে যেগুলো আল্লাহর শত্রুদের প্রতি প্রতিশোধ গ্রহণ এবং তাঁর বন্ধুদের প্রতি অনুগ্রহ করার উপর আলোকপাত করে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।