সূরা আল-জ্বিন (আয়াত: 12)
হরকত ছাড়া:
وأنا ظننا أن لن نعجز الله في الأرض ولن نعجزه هربا ﴿١٢﴾
হরকত সহ:
وَّ اَنَّا ظَنَنَّاۤ اَنْ لَّنْ نُّعْجِزَ اللّٰهَ فِی الْاَرْضِ وَ لَنْ نُّعْجِزَهٗ هَرَبًا ﴿ۙ۱۲﴾
উচ্চারণ: ওয়া আন্না-জানান্না আল্লান নু‘জিযাল্লা-হা ফিল আরদিওয়া লান নু‘জিযাহূহারাবা- ।
আল বায়ান: ‘আর আমরা তো বুঝতে পেরেছি যে, আমরা কিছুতেই যমীনের মধ্যে আল্লাহকে অপারগ করতে পারব না এবং পালিয়েও কখনো তাকে অপারগ করতে পারব না’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১২. এও যে, আমরা বুঝেছি, আমরা যমীনে আল্লাহকে পরাভূত করতে পারব না এবং পালিয়েও তাকে ব্যর্থ করতে পারব না।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহকে পরাস্ত করতে পারব না, আর পালিয়েও তাঁকে অপারগ করতে পারব না।
আহসানুল বায়ান: (১২) (এখন) আমরা বুঝেছি[1] যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহকে পরাভূত করতে পারব না এবং পলায়ন করেও তাঁকে ব্যর্থ করতে পারব না।
মুজিবুর রহমান: এখন আমরা বুঝেছি যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহকে পরাভূত করতে পারবনা এবং পলায়ন করেও তাঁকে ব্যর্থ করতে পারবনা।
ফযলুর রহমান: “আমরা মনে করেছি (বুঝতে পেরেছি) যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহকে পরাস্ত করতে (অর্থাৎ তাঁর শাস্তি থেকে বাঁচতে) পারব না এবং পালিয়েও তাঁকে পরাস্ত করতে পারব না।”
মুহিউদ্দিন খান: আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহ তা’আলাকে পরাস্ত করতে পারব না এবং পলায়ন করেও তাকে অপারক করত পরব না।
জহুরুল হক: 'আর আমরা বুঝি যে আমরা দুনিয়াতে কখনো আল্লাহ্কে পরাভূত করতে পারব না এবং পলায়নের দ্বারাও তাঁকে কখনও এড়াতে পারব না,
Sahih International: And we have become certain that we will never cause failure to Allah upon earth, nor can we escape Him by flight.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১২. এও যে, আমরা বুঝেছি, আমরা যমীনে আল্লাহকে পরাভূত করতে পারব না এবং পালিয়েও তাকে ব্যর্থ করতে পারব না।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১২) (এখন) আমরা বুঝেছি[1] যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহকে পরাভূত করতে পারব না এবং পলায়ন করেও তাঁকে ব্যর্থ করতে পারব না।
তাফসীর:
[1] ظَنَّ এর অর্থ এখানে জানা, বুঝা ও দৃঢ় বিশ্বাস করার অর্থে ব্যবহূত হয়েছে। যেমন, আরো বহু স্থানে এসেছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১১-১৭ নম্বর আয়াতের তাফসীর :
জিনেরা নিজেদের ব্যাপারে সংবাদ দিচ্ছে যে, তাদের মধ্যে একশ্রেণি আছে যারা সৎ এবং আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি বিশ্বাসী, আর অপর শ্রেণি মু’মিন না, তারা জালিম। যেমন এক আয়াত পরে বলা হয়েছে :
وَّأَنَّا مِنَّا الْمُسْلِمُوْنَ وَمِنَّا الْقٰسِطُوْنَ ط فَمَنْ أَسْلَمَ فَأُولٰ۬ئِكَ تَحَرَّوْا رَشَدًا ))
“আমাদের কতক মুসলিম এবং কতক অত্যাচারী, যারা ইসলাম গ্রহণ করে তারা মুক্তির পথ খুঁজে পেয়েছে।”
قِدَدًا অর্থ : কোন বস্তুর খণ্ড। অর্থাৎ জিনদের মধ্যেও বিভিন্ন দল-উপদলে ভাগ রয়েছে। একদল মুসলিম, একদল কাফির ও আরেক দল ইয়াহূদী ইত্যাদি। কেউ বলেছেন : এদের মধ্যেও মুসলিমদের মত কাদারিয়াহ, মুরজিয়াহ এবং রাফিজিয়াহ ইত্যাদি ফির্কা আছে। (ফাতহুল কাদীর) ظن শব্দটি يقين অর্থে ব্যবহার হয়েছে।
الْقاسط অর্থ : الظالم জালিম, আর المقسط অর্থ العادل ন্যায়পরায়ণ। অর্থাৎ জিনদের মাঝেও মুসলিম ও জালিম রয়েছে যেমন মানুষের মাঝে রয়েছে।
(بَخْسًا وَّلَا رَهَقًا)
ইবনু আব্বাস (রাঃ) ও কাতাদাহ (রহঃ) বলেন : যে ব্যক্তি রবের প্রতি ঈমান আনবে তার সৎ আমল কমে যাওয়ার বা অন্যের অসৎ আমল তার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার কোন আশংকা থাকবে না। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(( وَمَنْ يَّعْمَلْ مِنَ الصّٰلِحٰتِ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَلَا يَخٰفُ ظُلْمًا وَّلَا هَضْمًا
“এবং যে সৎকর্ম করে মু’মিন হয়ে, তার কোন আশংকা নেই অবিচারের এবং অন্য কোন ক্ষতির।” (সূরা ত্বহা ২০ : ১১২)
(فِيْهِ. . . . (وَّأَنْ لَّوِ اسْتَقَامُوْا عَلَي
মুফাসসিরগণ এর দু’টি তাফসীর করেছেন- (১) যারা জালিম ছিল তারা যদি ইসলামের পথে অটল থাকত তাহলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে প্রচুর পরিমাণ রিযিক দিতেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন : “তারা যদি তাওরাত, ইঞ্জিল ও তাদের প্রতিপালকের নিকট হতে তাদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রতিষ্ঠিত করত, তাহলে তারা তাদের ওপর ও পায়ের নীচ হতে খাদ্য ভক্ষণ করত। তাদের মধ্যে একদল রয়েছে যারা মধ্যপন্থী; কিন্তু তাদের অধিকাংশ যা করে তা নিকৃষ্ট।” (সূরা মায়িদাহ ৫ : ৬৬)
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرٰٓي اٰمَنُوْا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكٰتٍ مِّنَ السَّمَا۬ءِ وَالْأَرْضِ وَلٰكِنْ كَذَّبُوْا فَأَخَذْنٰهُمْ بِمَا كَانُوْا يَكْسِبُوْنَ )
“যদি সে সকল জনপদের অধিবাসীবৃন্দ ঈমান আনত ও তাক্বওয়া অবলম্বন করত তবে আমি তাদের জন্য আকাশসমূহ ও পৃথিবীর কল্যাণ উন্মুক্ত করে দিতাম, কিন্তু তারা প্রত্যাখ্যান করেছিল; সুতরাং তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদেরকে শাস্তি দিয়েছি।” (সূরা আ‘রাফ ৭ : ৯৬)
এই হিসাবে
لِّنَفْتِنَهُمْ فِيْهِ এর অর্থ হল : لنختبرهم
বা তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। (২) যদি জালিমরা পথভ্রষ্টতার ওপর অটল থাকে তাহলে আমি অবকাশস্বরূপ তাদের জন্য রিযিকের দরজা খুলে দেব। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(فَلَمَّا نَسُوْا مَا ذُكِّرُوْا بِه۪ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ ط حَتّٰي إِذَا فَرِحُوْا بِمَآ أُوْتُوْآ أَخَذْنٰهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُّبْلِسُوْنَ)
“তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল তারা যখন তা বিস্মৃত হল তখন আমি তাদের জন্য সমস্ত কিছুর (নেয়ামতের) দ্বার উন্মুক্ত করে দিলাম; অবশেষে তাদেরকে যা দেওয়া হল যখন তারা তাতে উল্লসিত হল তখন অকস্মাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম; ফলে তখনি তারা নিরাশ হল।” (সূরা আন‘আম ৬ : ৪৪ )
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন :
(أَيَحْسَبُوْنَ أَنَّمَا نُمِدُّهُمْ بِه۪ مِنْ مَّالٍ وَّبَنِيْنَ نُسَارِعُ لَهُمْ فِي الْخَيْرَاتِ ط بَلْ لَّا يَشْعُرُوْنَ)
“তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা সাহায্য করি। তাদের জন্য সকল প্রকার মঙ্গল ত্বরান্বিত করছি? না, তারা বুঝে না।” (সূরা মু’মিনুন ২৩ : ৫৫-৫৬)
(عَذَابًا صَعَدًا) অর্থ عذابا شاقا شديدا موجعا مؤلما
অর্থাৎ অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টদায়ক আযাব।
সুতরাং যারা আল্লাহ তা‘আলার স্মরণ তথা তাঁর ইবাদত থেকে বিমুখ হবে-সে মানুষ হোক আর জিন হোক তাদেরকে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। তাই আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত শয়তানের প্ররোচনায় যেন আমরা আল্লাহ তা‘আলার স্মরণ থেকে গাফেল না হই।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. যারা আল্লাহ তা‘আলার দীনের ওপর অটল থাকে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে অনেক কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
২. সম্পদ একটি পরীক্ষার বস্তু, খুব কম মানুষ এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়।
৩. বিভিন্ন দল-উপদলে বিভক্ত হওয়াকে তিরস্কার করা হয়েছে।
৪. যারা কুফরীর ওপর অটল থাকে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে অবকাশস্বরূপ দুনিয়ায় ভোগ্য সামগ্রী প্রদান করে থাকেন।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১১-১৭ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, জ্বিনেরা নিজেদের সম্পর্কে সংবাদ দিতে গিয়ে বলেঃ আমাদের মধ্যে কতক রয়েছে সৎকর্মপরায়ণ এবং কতক রয়েছে দুষ্কৃতিকারী। আমরা ছিলাম বিভিন্ন পথের অনুসারী।
হযরত আ’মাশ (রঃ) বলেনঃ “একটি জ্বিন আমাদের কাছে আসতো। আমি একদা তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ তোমাদের নিকট সবচেয়ে প্রিয় খাদ্য কি? সে উত্তরে বললোঃ “চাউল।” আমি তাকে চাউল এনে দিলাম। তখন দেখলাম যে, খাদ্যগ্ৰাস ক্রমাগত উঠতে রয়েছে বটে, কিন্তু খাদ্য ভক্ষণকারী কাউকেও দেখা যাচ্ছে না। আমি তাকে প্রশ্ন করলামঃ আমাদের মত তোমাদেরও কি কামনা বাসনা রয়েছে? সে জবাব দিলোঃ “হ্যাঁ, রয়েছে। আমি তাকে আবার প্রশ্ন করলামঃ রাফেযী সম্প্রদায়কে তোমাদের মধ্যে কিরূপ গণ্য করা হয়? উত্তরে সে বললোঃ “তাদেরকে অতি নিকৃষ্ট সম্প্রদায় রূপে গণ্য করা হয়।” (হাফিজ আবুল মুযানী (রঃ) বলেন যে, এর সনদ বিশুদ্ধ)
হাফিয ইবনে আসাকির (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, হযরত আব্বাস ইবনে আহমাদ দামেশকী (রঃ) বলেনঃ আমি রাত্রিকালে একটি জ্বিনকে নিম্নলিখত শ্লোকগুলো পড়তে শুনেছিঃ (আরবি)
অর্থাৎ “অন্তর আল্লাহর মহব্বতে পূর্ণ হয়ে গেছে, এমনকি পূর্বে ও পশ্চিমে ওর মূল বা ঝড় গেড়ে বসেছে। সে উদ্বিগ্ন ও হতবুদ্ধি হয়ে আল্লাহর প্রেমে এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছে, যে আল্লাহ তার প্রতিপালক। সে সৃষ্টজীব হতে সম্পর্ক ছিন্ন করে নিজের সম্পর্ক আল্লাহর সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে।`
এরপর জ্বিনদের আরো উক্তি উদ্ধৃত করা হচ্ছেঃ এখন আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমরা পৃথিবীতে আল্লাহকে পরাভূত করতে পারবো না এবং পলায়ন করেও তাকে ব্যর্থ করতে পারবো না। কোনক্রমেই তাঁকে অপারগ করা সম্ভব নয়।
অতঃপর গৌরব প্রকাশ করে জ্বিনগুলো বলেঃ আমরা যখন পথ-নির্দেশক বাণী শুনলাম তখন তাতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম। আর এটা গৌরব প্রকাশেরই স্থান বটে। এর চেয়ে বড় ফযীলত ও মর্যাদা আর কি হতে পারে যে, আল্লাহর কালাম শোনা মাত্রই তা তাদের উপর প্রভাব বিস্তার করলো এবং সাথে সাথেই তারা ঈমান আনলো?
এরপর তারা বলেঃ যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তার কোন ক্ষতি ও কোন অন্যায়ের আশংকা থাকবে না। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)
অর্থাৎ “সৎকর্মপরায়ণ ও মুমিন ব্যক্তির কোন যুলুম ও ক্ষতির আশংকা থাকবে না।`(২০:১১২)
তারপর ঐ জ্বিনেরা আরো বলেঃ আমাদের কতক আত্মসমর্পণকারী এবং কতক সীমালংঘনকারী, যারা আত্মসমর্পণ করে তারা সুচিন্তিতভাবে সত্যপথ বেছে নেয়। পক্ষান্তরে যারা সীমালংঘনকারী তারা তো হবে জাহান্নামেরই ইন্ধন।
(আরবি) এর দু’টি ভাবার্থ বর্ণনা করা হয়েছে। একটি হলোঃ যদি সমস্ত মানুষ ইসলামের উপর, সোজা-সঠিক পথের উপর এবং আল্লাহর আনুগত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেতো তবে আমি তাদের উপর প্রচুর বারি বর্ষণ করতাম এবং তাদের জীবিকায় প্রশস্ততা ও স্বচ্ছলতা দান করতাম। যেমন মহান আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “যদি তারা তাওরাত, ইঞ্জীল ও তাদের উপর তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, সঠিকভাবে কায়েম করতো এবং ভালভাবে মেনে চলতো তবে তারা তাদের উপর হতে ও নীচ হতে অর্থাৎ আসমান হতে ও যমীন হতে জীবিকা লাভ করতো।”(৫:৬৬) আর এক জায়গায় আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “যদি গ্রামবাসী ঈমান আনতো ও ভয় করতো তবে আমি তাদের উপর আসমান ও যমীনের বরকত খুলে দিতাম।”(৭:৯৬)
মহান আল্লাহর উক্তিঃ যদদ্বারা আমি তাদেরকে পরীক্ষা করতাম যে, কে হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে এবং কে পথভ্রষ্ট হয়ে যায়।
হযরত মুকাতিল (রঃ) বলেন যে, এই আয়াত মক্কার কুরায়েশ কাফিরদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়, তখন তারা দীর্ঘ সাত বছরের দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত হয়।
দ্বিতীয় ভাবার্থ হলোঃ যদি তারা সবাই পথভ্রষ্ট হয়ে যেতো তবে আমি তাদের উপর জীবিকার দরজা খুলে দিতাম, যাতে তারা ভোগ-বিলাসে মত্ত হয়ে পড়ে এবং আল্লাহকে ভুলে গিয়ে নিকৃষ্টতম শাস্তির যোগ্য হয়ে পড়ে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “যখন তারা ভুলে বসলো, যে নসীহত তাদেরকে করা হয়েছিল, তখন আমি তাদের উপর সবকিছুরই দরজা খুলে দিলাত, শেষ পর্যন্ত যখন তারা আনন্দে বিভোর হয়ে পড়লো তাদেরকে দেয়া সুখ সামগ্রীর কারণে তখন আকস্মিকভাবে আমি তাদের পাকড়াও করলাম, ফলে তারা সম্পূর্ণরূপে হতাশ হয়ে পড়লো।”(৬:৪৪) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ তারা কি ধারণা করে যে, আমি যে তাদের মাল ও সন্তান সন্ততি বৃদ্ধি করছি, এটা তাদের কল্যাণ সাধন করছি? (না, তা কখনো নয়) বরং তারা বুঝে না।” (২৩:৫৫-৫৬)
এরপর বলা হচ্ছেঃ যে কেউ তার প্রতিপালকের যিকির হতে বিমুখ হয়, তার প্রতিপালক তাকে দুঃসহ শাস্তিতে প্রবেশ করাবেন।
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, (আরবি) হলো জাহান্নামের একটি পাহাড়ের নাম। আর হযরত সাঈদ ইবনে জুবায়ের (রাঃ) বলেন যে, ওটা জাহান্নামের একটি কূপের নাম।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।