আল কুরআন


সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 8)

সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 8)



হরকত ছাড়া:

وقالوا لولا أنزل عليه ملك ولو أنزلنا ملكا لقضي الأمر ثم لا ينظرون ﴿٨﴾




হরকত সহ:

وَ قَالُوْا لَوْ لَاۤ اُنْزِلَ عَلَیْهِ مَلَکٌ ؕ وَ لَوْ اَنْزَلْنَا مَلَکًا لَّقُضِیَ الْاَمْرُ ثُمَّ لَا یُنْظَرُوْنَ ﴿۸﴾




উচ্চারণ: ওয়া কা-লূলাওলাউনযিলা ‘আলাইহি মালাকুওঁ ওয়া লাও আনযালনা-মালাকাল লাকুদিয়াল আমরু ছুম্মা লা-ইউনজারূন।




আল বায়ান: আর তারা বলে, ‘কেন তার উপর কোন ফেরেশ্তা নাযিল করা হয়নি?’ যদি আমি ফেরেশ্তা নাযিল করতাম তাহলে বিষয়টি ফয়সালা হয়ে যেত, তারপর তাদের সুযোগ দেয়া হত না।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮. আর তারা বলে, তার কাছে কোন ফিরিশতা কেন নাযিল হয় না(১)? আর যদি আমরা ফেরেশতা নাযিল করতাম, তাহলে বিষয়টির চুড়ান্ত ফয়সালাই তো হয়ে যেত, তারপর তাদেরকে কোন অবকাশ দেয়া হত না।(২)




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর তারা বলে, আমাদের কাছে ফেরেশতা পাঠানো হয় না কেন? আমি যদি ফেরেশতা পাঠাতাম তাহলে (যাবতীয় ব্যাপারে) চূড়ান্ত ফায়সালাই তো হয়ে যেত, অতঃপর তাদেরকে আর অবকাশ দেয়া হত না।




আহসানুল বায়ান: (৮) তারা বলে, ‘তার নিকট কোন ফিরিশতা অবতীর্ণ করা হয় না কেন?’ আমি যদি কোন ফিরিশতা অবতীর্ণ করতাম, তাহলে তাদের কর্মের চূড়ান্ত মীমাংসা তো হয়েই যেত। অতঃপর তাদেরকে কোন অবকাশ দেওয়া হত না। [1]



মুজিবুর রহমান: আর তারা বলে থাকে, তাদের কাছে কোন মালাক/ফেরেশতা কেন পাঠানো হয়না? আমি যদি প্রকৃতই কোন মালাক/ফেরেশতা অবতীর্ণ করতাম তাহলে যাবতীয় বিষয়েরই চূড়ান্ত সমাধান হয়ে যেত, অতঃপর তাদেরকে কিছুমাত্রই অবকাশ দেয়া হতনা।



ফযলুর রহমান: তারা এও বলেছে, “তাঁর কাছে কোন ফেরেশতা পাঠানো হল না কেন?” আমি যদি কোন ফেরেশতাই পাঠাতাম তাহলে বিষয়টি তখনই নিষ্পত্তি হয়ে যেত এবং তাদেরকে কোন অবকাশ দেওয়া হত না।



মুহিউদ্দিন খান: তারা আরও বলে যে, তাঁর কাছে কোন ফেরেশতা কেন প্রেরণ করা হল না ? যদি আমি কোন ফেরেশতা প্রেরণ করতাম, তবে গোটা ব্যাপারটাই শেষ হয়ে যেত। অতঃপর তাদেরকে সামান্যও অবকাশ দেওয়া হতনা।



জহুরুল হক: আর তারা বলে -- "একজন ফিরিশ্‌তাকে কেন তাঁর কাছে নামানো হয় না?" আর যদিও আমরা একজন ফিরিশ্‌তাকে পাঠাতাম তা হলে ব্যাপারটি নিশ্চয়ই মীমাংসা হয়ে যেত, তখন তাদের অবকাশ দেয়া হবে না।



Sahih International: And they say, "Why was there not sent down to him an angel?" But if We had sent down an angel, the matter would have been decided; then they would not be reprieved.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৮. আর তারা বলে, তার কাছে কোন ফিরিশতা কেন নাযিল হয় না(১)? আর যদি আমরা ফেরেশতা নাযিল করতাম, তাহলে বিষয়টির চুড়ান্ত ফয়সালাই তো হয়ে যেত, তারপর তাদেরকে কোন অবকাশ দেয়া হত না।(২)


তাফসীর:

(১) এখানে এটা ভাবার অবকাশ নেই যে, কাফেররা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর ফিরিশতা নাযিল হয় না এমনটি অস্বীকার করত। তারা স্পষ্টই জানত যে, রাসূলের কাছে ফিরিশতাই ওহী নিয়ে আসে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তাদের কাছে তা জানাতেন। এখানে তাদের উদ্দেশ্য ছিল যে, রাসূলের সাথে কেন অপর একজন ফিরিশতা সতর্ককারী হিসেবে সার্বক্ষনিক থাকে না। যেমন অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, “আরও তারা বলে, এ কেমন রাসূল যে খাওয়া-দাওয়া করে এবং হাটে-বাজারে চলাফেরা করে; তার কাছে কোন ফিরিশতা কেন নাযিল করা হল না, যে তার সংগে থাকত সতর্ককারীরূপে?” [সূরা আল-ফুরকান: ৭] [আদওয়াউল বায়ান]


(২) অর্থাৎ যদি ফিরিশতা নাযিল করা হতো তবে তারা তাদের অবাধ্যতা ও কুফর দেখে তাদেরকে কোনরূপ সুযোগ না দিয়ে ধ্বংস করে দিতেন। অন্য আয়াতেও আল্লাহ বলেন, “আমরা ফিরিশতাদেরকে যথার্থ কারণ ছাড়া প্রেরণ করি না; ফিরিশতারা উপস্থিত হলে তখন তারা আর অবকাশ পাবে না।” [সূরা আল-হিজর: ৮] আরও বলেন, যেদিন তারা ফিরিশতাদেরকে দেখতে পাবে সেদিন অপরাধীদের জন্য সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবে, রক্ষা কর, রক্ষা কর। [সূরা আল-ফুরকান: ২২] আদওয়াউল বায়ান]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৮) তারা বলে, ‘তার নিকট কোন ফিরিশতা অবতীর্ণ করা হয় না কেন?’ আমি যদি কোন ফিরিশতা অবতীর্ণ করতাম, তাহলে তাদের কর্মের চূড়ান্ত মীমাংসা তো হয়েই যেত। অতঃপর তাদেরকে কোন অবকাশ দেওয়া হত না। [1]


তাফসীর:

[1] মহান আল্লাহ মানুষের হিদায়াতের জন্য নবী ও রসূল প্রেরণ করেছেন, তাঁরা সবাই ছিলেন মানুষেরই মধ্য থেকে। প্রত্যেক জাতিতে তাদেরই মধ্য হতে একজনকে অহী এবং রিসালাত দানে ধন্য করতেন। কারণ, এ ছাড়া কোন রসূলই (দ্বীনের) তবলীগ এবং দাওয়াতের দায়িত্ব পালন করতে পারতেন না। যেমন, যদি ফিরিশতাকে আল্লাহ রসূল বানিয়ে প্রেরণ করতেন, তাহলে প্রথমতঃ তাঁরা মানুষের ভাষায় কথোপকথন করতে পারতেন না এবং দ্বিতীয়তঃ তাঁরা মানবিক স্বভাব-প্রকৃতি থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে মানুষের বিভিন্ন অবস্থার বিভিন্ন ভাব ও আচরণকে বুঝতেও পারতেন না। এই অবস্থায় হিদায়াত ও পথপ্রদর্শনের দায়িত্ব কিভাবে তাঁরা আদায় করতে পারতেন? তাই মানুষের প্রতি আল্লাহর এটা বড়ই অনুগ্রহ যে, তিনি মানুষকেই নবী ও রসূল বানিয়েছেন। আর এটাকে কুরআনেও মহান আল্লাহ অনুগ্রহ স্বরূপ উল্লেখ করেছেন। {لَقَدْ مَنَّ اللهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ} ‘‘আল্লাহ মু’মিনদের উপর অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের মাঝে তাদেরই মধ্য হতে একজন রসূল পাঠিয়েছেন।’’ (সূরা আলে ইমরান ১৬৪) কিন্তু নবীদের মানুষ হওয়া কাফেরদের বিস্ময় ও বিচলিত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তারা মনে করত যে, রসূল মানুষের মধ্য থেকে নয়, বরং ফিরিশতাদের মধ্য হতে হওয়া উচিত। অর্থাৎ, তাদের মতে, মানুষ রসূল হওয়ার উপযুক্ত নয়। যেমন, বর্তমানের বিদআতীরাও এটা মনে করে। تَشَابَهَتْ قُلُوْبُهُمْ কাফের ও মুশরিকরা রসূলদের মানুষ হওয়ার কথা তো অস্বীকার করতে পারত না। কারণ, তারা তাঁদের বংশ পরিচয়ের ব্যাপারে প্রতিটি জিনিস সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অবগত ছিল, ফলে তারা রিসালাতকে অস্বীকার করত। পক্ষান্তরে বর্তমানের বিদআতীরা রিসালাতের কথা তো অস্বীকার করে না, কিন্তু মানুষ হওয়াকে রসূল হওয়ার পরিপন্থী মনে করে রসূলদের মানুষ হওয়ার কথা অস্বীকার করে। যাই হোক মহান আল্লাহ এই আয়াতে বলছেন, যদি আমি কাফেরদের দাবী অনুযায়ী কোন ফিরিশতাকে রসূল বানিয়ে প্রেরণ করতাম অথবা এই রসূলের সত্যায়নের জন্য কোন ফিরিশতা অবতীর্ণ করতাম (যেমন, এখানে এই কথাটাই বলা হয়েছে) অতঃপর তারা যদি তার উপর ঈমান না আনত, তবে কোন অবকাশ না দিয়েই তাদেরকে ধ্বংস করে দেওয়া হত।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭-১১ নং আয়াতের তাফসীর:



قِرْطَاسٌ যাতে লেখা হয়, খাতা, কাগজ ইত্যাদি। اسْتُهْزِئَ ঠাট্টা করা, ব্যঙ্গ করা।



অত্র আয়াতগুলোতে সত্য গ্রহণে অনাগ্রহী কাফির-মুশরিকদের অবাধ্যতা ও হঠকারিতার কথা তুলে ধরা হয়েছে। স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা যদি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কাগজে লিখিত কিতাব দেন আর তারা তা স্পর্শ করতে পারে, তার পরেও তারা তা মানবে না বরং জাদু, ভেলকি এবং পূর্ববর্তীদের উপকথা বলে উড়িয়ে দেবে। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা এ সম্পর্কে বলেন:



(وَلَوْ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَابًا مِّنَ السَّمَا۬ءِ فَظَلُّوْا فِيْهِ يَعْرُجُوْنَ - لَقَالُوْآ إِنَّمَا سُكِّرَتْ أَبْصَارُنَا بَلْ نَحْنُ قَوْمٌ مَّسْحُوْرُوْنَ)



“আমি যদি তাদের জন্য আকাশের দুয়ার খুলে দেই এবং তারা সারাদিন তাতে আরোহণ করতে থাকে, অবশ্যই তারা বলবে, ‘আমাদের দৃষ্টি সম্মোহিত করা হয়েছে; বরং আমরা এক জাদুগ্রস্ত‎ সম্প্রদায়।’(সূরা হিজর ১৫:১৪-১৫)



তারা অবাধ্যতায় বশীভূত হয়ে আরো বলল: কেন তার সাথে কোন ফেরেশতা প্রেরণ করা হয়নি? আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, যদি তার সাথে ফেরেশতা প্রেরণ করতাম তাহলে আযাব তাদেরকে গ্রাস করে নিত। আরবের মুশরিকরা জানত, মুহাম্মাদ আমাদের মত একজন মানুষ। যার কারণে ফেরেশতা প্রেরণের দাবী জানিয়েছে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لَقَدْ مَنَّ اللّٰهُ عَلَي الْمُؤْمِنِيْنَ إِذْ بَعَثَ فِيْهِمْ رَسُوْلًا مِّنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُوْا عَلَيْهِمْ اٰيٰتِه۪ وَيُزَكِّيْهِمْ)



“নিশ্চয়ই আল্লাহ বিশ্বাসীগণের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন, যখন তিনি তাদের কাছে তাদের নিজেদেরই মধ্য হতে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর নিদর্শনাবলী (আয়াতসমূহ) পাঠ করেন এবং তাদেরকে পবিত্র করেন।”(সূরা আলি-ইমরান ৩:১৬৪)



অতএব যারা বিশ্বাস করে যে, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নূরের তৈরি তাদের এ বিশ্বাস ভ্রান্ত, তা এ আয়াতটি প্রমাণ করে। আমরা সবাই জানি ও নির্দ্বিধায় স্বীকার করি মানুষ মাটির তৈরি আর ফেরেশতা নূরে তৈরি এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফেরেশতা নন বরং একজন মানুষ, তাও স্বীকার করি এবং মক্কার মুশরিকরাও স্বীকার করত, তাহলে মানুষ কি নূরের তৈরি হয়? এ সম্পর্কে পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে সামনেও হবে ইনশা-আল্লাহ।



তারপর আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলছেন তোমার পূর্বে অনেক রাসূলকে নিয়ে ঠাট্টা করা হয়েছিল তাই তোমাকে নিয়ে যে ঠাট্টা করা হচ্ছে তাতে মনক্ষুণœ হবার কোন কারণ নেই।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে পূর্ববর্তী মিথ্যুকদের কী পরিণতি হয়েছিল তা থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য পৃথিবীতে ভ্রমণ করার নির্দেশ দিচ্ছেন। যেমন ‘আদ, সামুদ ও আইকাবাসী ইত্যাদি। সুতরাং পূর্বের অবাধ্য জাতিদের করুন পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে সতর্ক হওয়া উচিত।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. যারা সত্য গ্রহণে অনাগ্রহী তাদেরকে শত উপদেশ দিলে বা প্রমাণ দেখালেও কোন উপকারে আসবে না।

২. পূর্ববর্তী জাতির যারাই রাসূলকে নিয়ে ঠাট্টা করেছিল আযাব তাদেরকে গ্রাস করে নিয়েছে।

৩. রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদম সন্তান, তিনি মানুষ, তিনি মাটির তৈরি, নূরের নন।

৪. শিক্ষা গ্রহণের জন্য ভ্রমণ করা বৈধ।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৭-১১ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের বিরোধিতা, অহংকার এবং তর্ক-বিতর্কের সংবাদ দিতে গিয়ে বলেন, যদি তোমাদের উপর আমি কাগজে লিখিত কোন কিতাবও অবতীর্ণ করতাম, আর তোমরা তা হাত দ্বারা স্পর্শ করতেও পারতে এবং আকাশ হতে অবতীর্ণ হতেও দেখতে পেতে, তবে তখনও তোমরা এ কথাই বলতে যে, এটা সরাসরি যাদু। যেমন অনুভূতিশীল বস্তুর মধ্যেও তাদের ঝগড়াপ্রিয় স্বভাবের চাহিদা এটাই যে, যদি আমি তাদের জন্যে আকাশের একটা দরজা খুলে দেই এবং তারা ওর উপর চড়তেও শুরু করে তথাপি তারা বলবে যে, তাদেরকে নযরবন্দী করে দেয়া হয়েছে। কিংবা যেমন আল্লাহ পাক বলেন যে, যদি তারা আকাশের একটা খণ্ড পতিত হতেও দেখে, তবে তখনও তারা বলবে যে, ওটা মেঘের একটা টুকরা।

অতঃপর তাদের আমাদের কাছে কোন ফেরেশতা অবতীর্ণ করা হয় না কেন?'এই উক্তি সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, ঐরূপ হলে তো কাজের ফায়সালাই হয়ে যেতো । কেননা, ফেরেশতাকে দেখার পরেও তারা যাদূর কথাই বলতো। কিন্তু তখন আর তাদেরকে সঠিক পথে আসবার জন্যে অবকাশ দেয়া হতো না, বরং তৎক্ষণাৎ তারা আল্লাহর আযাবে পতিত হতো, আর ওটা তাদের জন্যে মোটেই সুসংবাদ নয়।

ইরশাদ হচ্ছে-যদি আমি মানব রাসূলের সাথে কোন ফেরেশতাকে প্রেরণও করতাম তবে সেও তাদের কাছে মানুষের আকারেই আসতো যাতে তারা তার সাথে আলাপ করতে পারে বা তার থেকে কোন উপকার লাভ করতে পারে। আর যদি এরূপ হতো তবে ব্যাপারটা তাদের কাছে সন্দেহজনকই থেকে যেতে যেমন তারা মানব রাসূলের ব্যাপারে সন্দেহ করতে রয়েছে। যেমন এক জায়গায় মহান আল্লাহ বলেছেনঃ “আমি তো আকাশ থেকে ঐ সময় ফেরেশতা পাঠাতাম যখন তারা যমীনে চলাফেরা করতো এবং যখন এইরূপ হতো তখন আকাশ থেকে পাঠাবার কি প্রয়োজন থাকতো? এটা তো আল্লাহর রহমত যে, যখন তিনি মাখলুকের কাছে কোন রাসূল প্রেরণ করেন তখন তিনি তাকে তাদের মধ্য থেকেই প্রেরণ করে থাকেন, যাতে একে অপরের সাথে কথা বলতে পারে এবং সেই রাসূল থেকে উপকার লাভ করা ঐ লোকদের জন্যে সম্ভবপর হয়। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “মুমিনদের উপর আল্লাহর এটা অনুগ্রহ যে, তাদের রাসূল হচ্ছে তাদেরই একজন লোক যিনি তাদের কাছে আল্লাহর আয়াতসমূহ পেশ করে থাকে এবং তাদেরকে (পাপ থেকে) পবিত্র করে থাকে, নতুবা (ফেরেশতা পাঠালে) ফেরেশতার ঔজ্জ্বল্যের কারণে তার দিকে তারা তাকাতেও পারতো না এবং এর ফলে ব্যাপারটা তাদের কাছে সন্দেহজনকই থেকে যেতো। আর হে নবী (সঃ)! তোমার পূর্ববর্তী নবীদের সাথেও তো এইরূপ উপহাসমূলক ব্যবহার করা হয়েছিল! তারা তাদেরকে বিদ্রুপ ও উপহাস করেছিল বলেই তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল!” এখানে নবী (সঃ)-কে উৎসাহ প্রদানপূর্বক বলা হচ্ছে, যদি কেউ তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তবে তুমি মোটেই গ্রাহ্য করো না। অতঃপর মুমিনদেরকে সাহায্য করার পরিণাম ভাল করার ওয়াদা দেয়া হয়েছে। পরিশেষে তাদেরকে বলা হয়েছে-তোমরা ভূ-পৃষ্ঠে ভ্রমণ করে দেখো যে, অতীতে যারা তাদের নবীদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল তাদের বাসভূমি কিভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে! আজ তাদের বাড়ী ঘরের চিহ্নটুকু শুধু বাকী রয়েছে। এটা তাদের পার্থিব শাস্তি। অতঃপর পরকালে তাদের জন্যে পৃথক শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তারা ঐরূপ শাস্তির কবলে পতিত হয়েছিল বটে, কিন্তু রাসূল ও মুমিনদেরকে ঐ শাস্তি থেকে রক্ষা করা হয়েছিল।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।