আল কুরআন


সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 6)

সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 6)



হরকত ছাড়া:

ألم يروا كم أهلكنا من قبلهم من قرن مكناهم في الأرض ما لم نمكن لكم وأرسلنا السماء عليهم مدرارا وجعلنا الأنهار تجري من تحتهم فأهلكناهم بذنوبهم وأنشأنا من بعدهم قرنا آخرين ﴿٦﴾




হরকত সহ:

اَلَمْ یَرَوْا کَمْ اَهْلَکْنَا مِنْ قَبْلِهِمْ مِّنْ قَرْنٍ مَّکَّنّٰهُمْ فِی الْاَرْضِ مَا لَمْ نُمَکِّنْ لَّکُمْ وَ اَرْسَلْنَا السَّمَآءَ عَلَیْهِمْ مِّدْرَارًا ۪ وَّ جَعَلْنَا الْاَنْهٰرَ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهِمْ فَاَهْلَکْنٰهُمْ بِذُنُوْبِهِمْ وَ اَنْشَاْنَا مِنْۢ بَعْدِهِمْ قَرْنًا اٰخَرِیْنَ ﴿۶﴾




উচ্চারণ: আলাম ইয়ারাও কাম আহলাকনা-মিন কাবলিহিম মিন কারনিম মাককান্না-হুম ফিল আরদি মা-লাম নুমাককিল লাকুম ওয়া আরছালনাছছামাআ ‘আলাইহিম মিদরা-রাওঁ ওয়া জা‘আলনাল আন হা-রা তাজরী মিন তাহতিহিম ফাআহলাকনা-হুম বিযুনূবিহিম ওয়া আনশা’না-মিম বা‘দিহিম কারনান আ-খারীন।




আল বায়ান: তারা কি দেখে না, আমি তাদের পূর্বে বহু প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি? যাদেরকে যমীনে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যেভাবে তোমাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করিনি। আর তাদের উপর বৃষ্টি পাঠিয়েছিলাম মুষলধারে এবং সৃষ্টি করেছিলাম নদীসমূহ যা তাদের নীচে প্রবাহিত হত। অতঃপর তাদের পাপের কারণে তাদেরকে ধ্বংস করেছি এবং তাদের পরে অন্য প্রজন্মকে সৃষ্টি করেছি।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬. তারা কি দেখে না(১) যে, আমরা তাদের আগে বহু প্রজন্মকে(২) বিনাশ করেছি; তাদেরকে যমীনে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যেমনটি তোমাদেরকেও করিনি এবং তাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। আর তাদের পাদদেশে নদী প্রবাহিত করেছিলাম; তারপর তাদের পাপের জন্য তাদেরকে বিনাশ করেছি(৩) এবং তাদের পর অন্য প্রজন্মকে সৃষ্টি করেছি।(৪)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা কি লক্ষ্য করে না তাদের পূর্বে আমি কত জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করে দিয়েছি, তাদেরকে দুনিয়ায় (এমনভাবে) প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যে শক্তি-প্রতিষ্ঠা তোমাদেরকে দেয়া হয়নি, তাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটিয়েছিলাম, তৈরি করেছিলাম নদী যা তাদের নিম্নদেশ দিয়ে প্রবাহিত হত, অতঃপর তাদের পাপের কারণে তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি আর তাদের পরে নতুন জনগোষ্ঠীর উত্থান ঘটালাম।




আহসানুল বায়ান: (৬) তারা কি দেখে না যে, তাদের পূর্বে কত মানবগোষ্ঠীকে আমি বিনাশ করেছি, যাদেরকে পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম, যা তোমাদেরও করিনি এবং তাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম, আর তাদের পাদদেশে নদীমালা প্রবাহিত করেছিলাম। অতঃপর তাদের পাপের জন্য তাদেরকে বিনাশ করেছি[1] এবং তাদের পরে নূতন মানবগোষ্ঠী সৃষ্টি করেছি। [2]



মুজিবুর রহমান: তারা কি ভেবে দেখেনি যে, আমি তাদের পূর্বে বহু দল ও সম্প্রদায়কে ধ্বংস করেছি, যাদেরকে দুনিয়ায় এমন শক্তি সামর্থ্য ও প্রতিপত্তি দিয়েছিলাম যা তোমাদেরকে দিইনি, আর আমি তাদের প্রতি আকাশ হতে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করেছি এবং তাদের নিম্নভূমি হতে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত করেছি, কিন্তু আমার নি‘আমাতের শোকর না করার পাপের কারণে আমি তাদেরকে ধ্বংস করেছি, এবং তাদের পর অন্য নতুন নতুন জাতি ও সম্প্রদায়সমূহ সৃষ্টি করেছি।



ফযলুর রহমান: তারা কি দেখেনি আমি তাদের পূর্বে কত প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদেরকে আমি এই পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যেমনটি তোমাদেরকেও করিনি? আর আমি তাদের ওপর আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম ও তাদের নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত করেছিলাম। অতঃপর তাদেরকে তাদের পাপের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছি এবং তাদের পরে অন্যান্য প্রজন্ম সৃষ্টি করেছি।



মুহিউদ্দিন খান: তারা কি দেখেনি যে, আমি তাদের পুর্বে কত সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদেরকে আমি পৃথিবীতে এমন প্রতিষ্ঠা দিয়েছিলাম, যা তোমাদেরকে দেইনি। আমি আকাশকে তাদের উপর অনবরত বৃষ্টি বর্ষণ করতে দিয়েছি এবং তাদের তলদেশে নদী সৃষ্টি করে দিয়েছি, অতঃপর আমি তাদেরকে তাদের পাপের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছি এবং তাদের পরে অন্য সম্প্রদায় সৃষ্টি করেছি।



জহুরুল হক: তারা কি দেখে না -- তাদের আগে আমরা কত মানব-বংশকে ধ্বংস করেছি যাদের আমরা পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যেমন তোমাদেরও প্রতিষ্ঠিত করি নি? আর আমরা মেঘমালা পাঠিয়েছিলাম তাদের উপরে অজস্র বৃষ্টিপাত করতে, আর তাদের নিচে দিয়ে ঝরনারাজি প্রবাহিত হতে দিয়েছিলাম, তারপর তাদের ধ্বংস করেছিলাম তাদের অপরাধের জন্য, আর তাদের পরে পত্তন করেছিলাম অন্য এক মানব-বংশের।



Sahih International: Have they not seen how many generations We destroyed before them which We had established upon the earth as We have not established you? And We sent [rain from] the sky upon them in showers and made rivers flow beneath them; then We destroyed them for their sins and brought forth after them a generation of others.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৬. তারা কি দেখে না(১) যে, আমরা তাদের আগে বহু প্রজন্মকে(২) বিনাশ করেছি; তাদেরকে যমীনে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যেমনটি তোমাদেরকেও করিনি এবং তাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। আর তাদের পাদদেশে নদী প্রবাহিত করেছিলাম; তারপর তাদের পাপের জন্য তাদেরকে বিনাশ করেছি(৩) এবং তাদের পর অন্য প্রজন্মকে সৃষ্টি করেছি।(৪)


তাফসীর:

(১) আলোচ্য প্রথম আয়াতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রত্যক্ষ সম্বোধিত মক্কাবাসীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা কি পূর্ববর্তী জাতিসমূহের অবস্থা দেখেনি? দেখলে তা থেকে তারা শিক্ষা ও উপদেশ অর্জন করতে পারত। এখানে ‘দেখা’র অর্থ তাদের অবস্থা সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করা। কেননা, সে জাতিগুলো তখন তাদের সামনে ছিল না। [আল-মানার]


(২) এ আয়াতে কাফেরদেরকে পূর্ববতী জাতিসমূহের ধ্বংস ও বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নেয়ার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, “আমরা তাদের পূর্বে অনেক ‘করণ’ (প্রজন্ম)কে ধ্বংস করে দিয়েছি।” [সা’দী] قرن শব্দের অর্থ সমসাময়িক লোকসমাজ এবং সুদীর্ঘ কাল। দশ বছর থেকে একশ’ বছর পর্যন্ত সময়কাল অর্থেও এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। [বাগভী, কুরতুবী] কিন্তু قرن শব্দের অর্থ যে এক শতাব্দী, কোন কোন ঘটনা ও হাদীস থেকে এর সমর্থন পাওয়া যায়। এক হাদীসে আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনে বুছরকে বলেছিলেনঃ ‘সে এক করণ পর্যন্ত জীবিত থাকবে। পরে দেখা গেল যে, তিনি পূর্ণ একশ’ পর্যন্ত জীবিত ছিলেন’। [মুসনাদে আহমাদ ৪/১৮৯]


(৩) পূর্ববর্তী আয়াতসমূহে যারা আল্লাহর বিধান ও নবীগণের শিক্ষা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিত কিংবা বিরোধিতা করত, তাদের প্রতি কঠোর শাস্তিবাণী উচ্চারিত হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতসমূহে এসব অবিশ্বাসীর দৃষ্টি পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও প্রাচীনকালের ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর প্রতি আকৃষ্ট করে তাদেরকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের সুযোগ দেয়া হয়েছে। [তাবারী, ইবন কাসীর] এ আয়াতে অতীত জাতিসমূহ সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, আল্লাহ্ তা'আলা পৃথিবীতে তাদেরকে এমন বিস্তৃতি, শক্তি ও জীবন ধারণের সাজ-সরঞ্জাম দান করেছিলেন, যা পরবর্তী লোকদের ভাগ্যে জুটেনি।

কিন্তু তারাই যখন নবীগণের প্রতি মিথ্যারোপ করল এবং আল্লাহর নিদর্শনের বিরুদ্ধাচরণ করল, তখন প্রভূত জাকজমক, প্রতাপ-প্রতিপত্তি ও অর্থসম্পদ তাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করতে পারল না। তারা পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। আজ মক্কাবাসীদেরকে সম্বোধন করা হচ্ছে। আদ ও সামূদ গোত্রের মত শক্তিবল তাদের নেই এবং সিরিয়া ও ইয়েমেনবাসীদের অনুরূপ স্বাচ্ছন্দ্যশীলও তারা নয়। এসব অতীত জাতিসমূহের ঘটনাবলী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা এবং নিজেদের ক্রিয়াকর্মের পর্যালোচনা করে দেখা তাদের উচিত। বিরুদ্ধাচরণ করলে তাদের পরিণতি কি হবে, তাও ভেবে দেখা দরকার। [ইবন কাসীর, আইসারুত তাফসীর, মুয়াসসার]


(৪) আয়াতের শেষে বলা হয়েছে, আল্লাহ তা'আলার শক্তি-সামর্থ্য শুধু প্রবল প্রতাপান্বিত, অসাধারণ জাকজমক ও সাম্রাজ্যের অধিপতি এবং জনবহুল ও মহাপরাক্রান্ত জাতিসমূহকে চোখের পলকে ধ্বংস করেই ক্ষান্ত হয়ে যায় নি, বরং তাদেরকে ধ্বংস করার সাথে সাথে তাদের স্থলে অন্য জাতি সৃষ্টি করে সেখানে বসিয়ে দিয়েছে। সুতরাং মক্কাবাসীদের উচিত ভয় করা। [কুরতুবী, ইবন কাসীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৬) তারা কি দেখে না যে, তাদের পূর্বে কত মানবগোষ্ঠীকে আমি বিনাশ করেছি, যাদেরকে পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম, যা তোমাদেরও করিনি এবং তাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম, আর তাদের পাদদেশে নদীমালা প্রবাহিত করেছিলাম। অতঃপর তাদের পাপের জন্য তাদেরকে বিনাশ করেছি[1] এবং তাদের পরে নূতন মানবগোষ্ঠী সৃষ্টি করেছি। [2]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, তোমাদের পূর্বেকার অনেক জাতিকে যখন তাদের পাপের কারণে আমি ধ্বংস করে দিয়েছি, অথচ তাদের শক্তি-সামর্থ্য তোমাদের চেয়ে অনেক বেশী ছিল এবং সুখ-সমৃদ্ধি এবং জীবিকার উপায়-উপকরণাদির দিক দিয়েও তারা তোমাদের তুলনায় অনেক শ্রেষ্ঠ ছিল, তখন তোমাদেরকে ধ্বংস করা আমার জন্য কি কোন জটিল ব্যাপার? এ থেকে এ কথাও জানা গেল যে, কোন জাতির পার্থিব সম্পদের প্রাচুর্য এবং দুনিয়ার সুখ-সমৃদ্ধির আতিশয্য (জাগতিক প্রগতি) দেখে এটা যেন মনে করে না নেওয়া হয় যে, তারা বড়ই সফল। এটা তো অবকাশ দেওয়ার বহু প্রকারের এমন এক প্রকার, যা পরীক্ষা স্বরূপ আল্লাহ বিভিন্ন জাতিকে দিয়ে থাকেন। অতঃপর যখন অবকাশের সময়-কাল শেষ হয়ে যায়, তখন যাবতীয় পার্থিব সফলতা এবং সুখ-সমৃদ্ধি তাদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচাতে কোন কাজে আসে না।

[2] যাতে তাদেরকেও পূর্বের জাতিসমূহের ন্যায় পরীক্ষা করেন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪-৬ নং আয়াতের তাফসীর:



اٰيَةٌ আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য এমন নিদর্শন ও দলীল যা আল্লাহ তা‘আলার তাওহীদ, রাসূলের প্রতি ঈমান ও পুনরুত্থানের প্রতি প্রমাণ বহন করে। একশত বছরকে قَرْنٍ ‘র্কন’ বা এক শতাব্দি বলা হয়। অর্থাৎ পূর্ববর্তী শতাব্দীর মানুষ। مِّدْرَارً মুষলধারে বৃষ্টি হওয়াকে মিদরার বলা হয়।



এ আয়াতগুলোতে একশ্রেণির মানুষের বর্ণনা তুলে ধরা হয়েছে, যাদের কাছে সত্যের নিদর্শন ও প্রমাণ আসার পরে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই সাথে তাদের পূর্ববর্তী সত্য বর্জনকারী জাতির ধ্বংসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।



তারা হল কাফির-মুশরিক, যুগে যুগে নাবী-রাসূলগণ যে সত্যের দাওয়াত নিয়ে এসেছেন তারা সে দাওয়াত বর্জন করে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদের সতর্ক করে দিচ্ছেন যে, তোমাদের পূর্বে অনেক জাতিকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছিলাম এবং নেয়ামতরাজি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। কিন্তু তাদের অপরাধের কারণে তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি। অতএব তাদের থেকে তোমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. পূর্ববর্তী অপরাধীদের শাস্তি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।

২. আল্লাহ তা‘আলা যাদেরকে শাস্তি দিয়েছেন তারা সবাই চরমভাবে সীমালংঘন করেছিল।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪-৬ নং আয়াতের তাফসীর:

মুশরিক ও কাফিরদের সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, যখনই তাদের কাছে আল্লাহর কোন আয়াত আসে অর্থাৎ কোন মু'জিযা বা আল্লাহ তাআলার একত্ত্বের উপর কোন স্পষ্ট দলীল অথবা রাসূল (সঃ)-এর সত্যতার কোন নিদর্শন এসে পড়ে তখন তারা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং ওটাকে মোটেই গ্রাহ্য করে না। আর যখন তাদের কাছে সত্য কথা এসে যায় তখন। তারা তা অস্বীকার করতে শুরু করে। এর পরিণাম তারা সতুরই জানতে পারবে। এটা তাদের জন্যে কঠিন হুমকি স্বরূপ। কেননা, তারা সত্যকে মিথ্যা জেনেছে। সুতরাং এখন এই মিথ্যা প্রতিপন্ন করার পরিণাম তাদেরকে অবশ্যই দেখতে হবে। আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ভয় প্রদর্শন করছেন যে, তাদের পূর্ববর্তী লোকেরা, যারা তাদের চেয়ে বেশী শক্তিশালী ছিল এবং শাসন ক্ষমতাও লাভ করেছিল, আর সংখ্যার দিক দিয়েও তারা অধিক ছিল, তাদেরকেও তিনি শাস্তি থেকে রেহাই দেননি। এটা থেকে তাদের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত যে, ঐরূপ শাস্তি তাদের উপরও এসে যেতে পারে। তাই আল্লাহ পাক বলেনঃ তারা কি দেখেনি যে, আমি তাদের পূর্বে বহু কওমকে ধ্বংস করে দিয়েছি? অথচ তারা দুনিয়ায় বিরাট শক্তির অধিকারী ছিল! তাদের মত ধন-দৌলত, সন্তান-সন্ততি এবং শান-শওকত তোমরা লাভ করতে পারনি। আমি তাদের উপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করতাম। তারা দুর্ভিক্ষের সম্মুখীন হয়নি। তাদেরকে আমি বাগ-বাগিচা, ঝরণা এবং নদ-নদী প্রদান করেছিলাম। এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য ছিল তাদেরকে ঢিল দিয়ে রাখা। অতঃপর তাদের পাপের কারণে আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি এবং তাদের স্থলে অন্য কওমকে এনে বসিয়েছি। পূর্ববর্তী লোকেরা তো তাদের কর্মফল হিসেবে ধ্বংস হয়ে যায়! তাদের পরবর্তী লোকেরাও কিন্তু তাদের মতই আমল করে, ফলে তাদের মত তারাও হালোক হয়ে যায়। অতএব, হে লোক সকল! তোমরাও ভয় কর, নতুবা তোমাদের পরিণতিও তাদের মতই হবে। তোমাদেরকে ধ্বংস করা তাদের তুলনায় আল্লাহর কাছে মোটেই বড় কাজ নয়। তোমরা যে রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছো তিনি। তো তাদের রাসূল অপেক্ষা বেশী মর্যাদার অধিকারী। সুতরাং তোমরা যদি তাঁর আনুগত্য স্বীকার না কর তবে তোমরা তাদের চেয়ে বেশী শাস্তির যোগ্য হয়ে যাবে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।