সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 49)
হরকত ছাড়া:
والذين كذبوا بآياتنا يمسهم العذاب بما كانوا يفسقون ﴿٤٩﴾
হরকত সহ:
وَ الَّذِیْنَ کَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا یَمَسُّهُمُ الْعَذَابُ بِمَا کَانُوْا یَفْسُقُوْنَ ﴿۴۹﴾
উচ্চারণ: ওয়াল্লাযীনা কাযযাবূবিআ-য়া-তিনা- ইয়ামাছছুহুমুল ‘আযাবুবিমা- কা-নূইয়াফছুকূন।
আল বায়ান: আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে তাদেরকে স্পর্শ করবে আযাব, এ কারণে যে, তারা নাফরমানী করত।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৯. আর যারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করেছে, তাদেরকে স্পর্শ করবে আযাব, কারণ তারা নাফরমানী করত।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যে মনে করে, শাস্তি তাদেরকে স্পর্শ করবে, কেননা তারা নাফরমানীতে লিপ্ত ছিল।
আহসানুল বায়ান: (৪৯) যারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা মনে করে, সত্য-ত্যাগের জন্য তাদের উপর শাস্তি আপতিত হবে। [1]
মুজিবুর রহমান: আর যারা আমার আয়াত ও নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে তারা তাদের নিজেদের ফাসেকীর কারণে শাস্তি ভোগ করবে।
ফযলুর রহমান: আর যারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা বলে তাদের অবাধ্যতার কারণেই তাদের ওপর শাস্তি আসবে।
মুহিউদ্দিন খান: যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে, তাদেরকে তাদের নাফরমানীর কারণে আযাব স্পর্শ করবে।
জহুরুল হক: আর যারা আমাদের নির্দেশাবলীতে মিথ্যারোপ করেছে, শাস্তি তাদের পাকড়াও করবে যেহেতু তারা দুষ্কৃতি করে যাচ্ছিল।
Sahih International: But those who deny Our verses - the punishment will touch them for their defiant disobedience.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৯. আর যারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করেছে, তাদেরকে স্পর্শ করবে আযাব, কারণ তারা নাফরমানী করত।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৯) যারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা মনে করে, সত্য-ত্যাগের জন্য তাদের উপর শাস্তি আপতিত হবে। [1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, তাদের শাস্তি এই জন্য হবে যে, তারা কুফরী এবং মিথ্যাজ্ঞান করার পথ অবলম্বন করেছে। আল্লাহর আনুগত্য এবং তাঁর নির্দেশাবলীর কোন পরোয়া করেনি। তাঁর হারামকৃত ও নিষিদ্ধ কার্যকলাপে লিপ্ত থেকেছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৬-৪৯ নং আয়াতের তাফসীর:
অত্র আয়াতগুলো আল্লাহ তা‘আলা তার মহত্বসহ বড়ত্বের ও তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন তার সংবাদ দিচ্ছেন। যারা আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য হয়ে পাপাচারে লিপ্ত থাকে তাদেরকে চিন্তা করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমরা কি লক্ষ করে দেখেছ- চোখ, কান, অন্তর মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। চোখ দিয়ে দেখে, কান দিয়ে শুনে আর অন্তর দিয়ে অনুধাবন করে। এ তিনটি অঙ্গ না থাকলে যেন শরীর অচল। সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত। এ সব অঙ্গ যদি আমি ছিনিয়ে নেই কেউ আছে কি, যে তা ফিরিয়ে দিতে পারবে? না, কখনো পারবে না। তাহলে কিভাবে তোমরা আমার সাথে নাফরমানী কর? কিভাবে আমার অবাধ্য হও? এখানে এ তিনটি অঙ্গ উল্লেখ করলেও বাকি সব অঙ্গই এতে শামিল।
আল্লাহ তা‘আলা নাবী-রাসূল প্রেরণ করেন সৎ আমলকারীদেরকে সুসংবাদ দেয়ার জন্য আর অবাধ্যদের সতর্ক করার জন্য। যাতে পরকালে কোন ওযর পেশ করার সুযোগ না থাকে।
সুতরাং সৎ আমলকারীদের জন্য সুসংবাদ আর নাফরমানদের জন্য দুঃসংবাদ।
আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. চোখ, কান, অন্তর মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এগুলোসহ সকল অঙ্গকে স্রষ্টার নির্দেশিত পথেই ব্যবহার করা উচিত।
২. আল্লাহ তা‘আলা মানুষের কৃতকর্মের বিনিময়ে শাস্তি ও শান্তি দেন।
৩. রাসূলগণের অন্যতম দায়িত্ব সুসংবাদ প্রদান ও ভীতি প্রদর্শন করা।
৪. ঈমানদার ও সৎ আমলকারীদের কোন ভয় ও দুঃচিন্তা নেই।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৬-৪৯ নং আয়াতের তাফসীর:
মহান আল্লাহ রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলছেনঃ হে মুহাম্মাদ (সঃ)! এই সব মিথ্যা প্রতিপন্নকারী ও বিরোধিতাকারীকে বলে দাও-আল্লাহ তা'আলা যদি তোমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি ছিনিয়ে নেন যা তিনি তোমাদেরকে দান করেছেন, তাহলে কে এমন আছে, যে তোমাদেরকে তা প্রদান করতে পারে! যেমন তিনি বলেছেনঃ (আরবী) (৬৭:২৩) আবার এর ভাবার্থ এও হতে পারে যে, তাদের চক্ষু ও কর্ণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও শরঈ উপকার লাভ করা থেকে যদি তাদেরকে তিনি বঞ্চিত করে দেন এবং সত্য কথার উপকারিতা থেকে তারা অন্ধ ও বধির হয়ে যায়। আর -এরও ভাবার্থ এটাই। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (১০:৩১) এবং আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তোমরা জেনে রেখো যে, আল্লাহ মানুষ ও তার অন্তরের মধ্যে ফিরে থাকেন।' (৮:২৪) অর্থাৎ যদি তিনি তোমাদের অন্তরের উপর মোহর লাগিয়ে দেন তবে কে এমন আছে, যে ঐ মোহরকে ভেঙ্গে দিতে পারে? এই জন্যেই তিনি বলেনঃ তোমরা একটু চিন্তা করে দেখো যে, আমি কিভাবে নিজের কথাকে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে থাকি। যা এর স্পষ্ট দলীল যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই এবং তিনি ছাড়া যত মাবুদ রয়েছে সবই মিথ্যা ও বাতিল। এই। স্পষ্ট বর্ণনার পরেও তারা সত্যের অনুসরণ থেকে মানুষকে বিরত রাখছে এবং নিজেরাও বিরত থাকছে। মহান আল্লাহ বলেনঃ তোমরা কি জান যে, যদি আকস্মিকভাবে তোমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি নেমে আসে কিংবা তোমাদের চোখের সামনে শাস্তি এসে পড়ে তবে এই পথভ্রষ্ট সম্প্রদায় ছাড়া আর কেউ ধ্বংস হবে না! তবে ঐ লোকেরা মুক্তি পেয়ে যাবে যারা এক আল্লাহরই ইবাদত করে। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে শিরক দ্বারা কলংকিত করেনি তাদের জন্যে শান্তি ও নিরাপত্তা রয়েছে এবং তারা সুপথ প্রাপ্ত।' (৬:৮২)
ইরশাদ হচ্ছে-আমি নবীদেরকে জান্নাতের সুসংবাদদাতা এবং জাহান্নাম হতে ভয় প্রদর্শনকারী রূপে প্রেরণ করেছি। তারা মুমিন ও সৎ লোকদেরকে শুভ সুসংবাদ দেয় এবং কাফির ও পাপী লোকদেরকে ভয় প্রদর্শন করে থাকে। এ জন্যেই আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, যারা অন্তরের সাথে ঈমান এনেছে এবং নবীদের অনুসরণ করেছে তাদের ভবিষ্যতের জন্যে কোন ভয় নেই এবং অতীতের জন্যেও তাদের কোন দুঃখ ও আফসোস নেই। কেননা, তারা দুনিয়ায় যেসব আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধব রেখে যাবে তাদের অভিভাবক স্বয়ং আল্লাহ। এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে তাদেরকে তাদের কুফর ও পাপের কারণে ভীষণ শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে। কেননা, তারা মহান আল্লাহর আদেশসমূহ অমান্য করেছে এবং তাঁর নিষেধকৃত কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। আর তারা তাঁর সীমা অতিক্রম করেছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।