আল কুরআন


সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 45)

সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 45)



হরকত ছাড়া:

فقطع دابر القوم الذين ظلموا والحمد لله رب العالمين ﴿٤٥﴾




হরকত সহ:

فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِیْنَ ظَلَمُوْا ؕ وَ الْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ ﴿۴۵﴾




উচ্চারণ: ফাকুতি‘আ দা-বিরুল কাওমিল্লাযীনা জালামূ ওয়াল হামদুলিল্লা-হি রাব্বিল ‘আলামীন।




আল বায়ান: অতএব যালিম সম্প্রদায়ের মূল কেটে ফেলা হল। আর সকল প্রশংসা রাববুল আলামীন আল্লাহর জন্য।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৫. ফলে যালিম সম্প্রদায়ের মূলোচ্ছেদ করা হল এবং সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্যই।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: অতঃপর যারা যুলম করেছিল তাদের শিকড় কেটে দেয়া হল, আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালকের জন্য।




আহসানুল বায়ান: (৪৫) অতঃপর যালিম-সম্প্রদায়ের মূলোচ্ছেদ করা হল এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই; যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। [1]



মুজিবুর রহমান: অতঃপর অত্যাচারী সম্প্রদায়ের মূল শিকড় কেটে ফেলা হল, আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বের রাব্ব আল্লাহরই জন্য।



ফযলুর রহমান: অতঃপর যে লোকেরা অন্যায় করেছিল তাদের শিকড় কেটে দেওয়া হয়। আর সকল প্রশংসা আল্লাহর, যিনি নিখিল জগতের প্রভু।



মুহিউদ্দিন খান: অতঃপর জালেমদের মূল শিকড় কর্তিত হল। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্যে, যিনি বিশ্বজগতের পালনকর্তা।



জহুরুল হক: এইভাবে শিকড় কাটা হয়েছিল সেইসব গোষ্ঠীর যারা অন্যায় করেছিল। আর "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য, সৃষ্টজগতের প্রভু।"



Sahih International: So the people that committed wrong were eliminated. And praise to Allah, Lord of the worlds.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৫. ফলে যালিম সম্প্রদায়ের মূলোচ্ছেদ করা হল এবং সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্যই।(১)


তাফসীর:

(১) এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, অপরাধী ও অত্যাচারীদের উপর আযাব নাযিল হওয়াও সারা বিশ্বের জন্য একটি নেয়ামত। এজন্য আল্লাহ্ তা'আলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। কারণ তিনি তার বন্ধুদের সাহায্য করেছেন এবং তাঁর শক্রদের নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছেন। [মুয়াস্‌সার]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৫) অতঃপর যালিম-সম্প্রদায়ের মূলোচ্ছেদ করা হল এবং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই; যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক। [1]


তাফসীর:

[1] এতে আল্লাহ-ভোলা জাতিদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলছেন যে, কখনো কখনো আমি সাময়িকভাবে এ ধরনের জাতির জন্য পার্থিব সুখ-সমৃদ্ধির যাবতীয় দরজা খুলে দিই। তারপর তারা যখন তাতে একেবারে নিমগ্ন হয়ে পড়ে এবং নিজেদের আর্থিক উন্নতির জন্য চরম অহংকার প্রদর্শন করতে আরম্ভ করে, তখন হঠাৎ আমি তাদেরকে পাকড়াও করে বসি এবং তাদের মূল শিকড় পর্যন্ত কেটে ছাড়ি। হাদীসেও এসেছে যে, নবী করীম (সাঃ) বলেছেন, ‘‘যখন তোমরা দেখবে যে, মহান আল্লাহ অবাধ্যতা সত্ত্বেও কাউকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী পার্থিব সুখ দিচ্ছেন, তখন জানবে এটা তার জন্য ঢিল দেওয়া হচ্ছে।’’ অতঃপর তিনি এই আয়াতটাই পাঠ করলেন। (আহমাদ ৪/১৪৫) কুরআনের এই আয়াত এবং নবী করীম (সাঃ)-এর হাদীস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পার্থিব উন্নতি এবং সচ্ছলতা এ কথা প্রমাণ করে না যে, যে ব্যক্তিই অথবা যে জাতিই তা লাভ করে, সে আল্লাহর প্রিয় হয় এবং মহান আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকেন; যেমন, অনেকে তা মনে করে। বরং অনেকে তো

{أَنَّ الْأَرْضَ يَرِثُهَا عِبَادِيَ الصَّالِحُونَ} (الأنبياء: ১০৫) আয়াতের ভিত্তিতে তাদেরকে ‘আল্লাহর নেক বান্দা’ পর্যন্ত গণ্য করে! পক্ষান্তরে এ রকম মনে করা এবং এমন কথা বলা ভুল। যেহেতু ভ্রষ্ট জাতির বা ব্যক্তিবর্গের পার্থিব সচ্ছলতা পরীক্ষা এবং অবকাশ বা ঢিল দেওয়ার ভিত্তিতে। এটা তাদের কুফরী এবং অবাধ্যতার প্রতিদান নয়।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪০-৪৫ নং আয়াতের তাফসীর:



পূর্ববর্তী উম্মাতদেরকে আল্লাহ তা‘আলা বিভিন্ন বিপদ-আপদ, অভাব-অনটন দ্বারা পাকড়াও করেছিলেন যাতে তারা আল্লাহ তা‘আলার কাছে বিনীত হয়। তারা বিনীত না হয়ে অধিকন্তু তাদের হৃদয় কঠিন হয়ে গেল। কারণ শয়তান তাদের কাছে তাদের কাজ সুসজ্জিত করে দিয়েছে। অনুরূপভাবে এ উম্মাতের মুশরিকদেরকে পূর্ববর্তী মুশরিকদের শাস্তির কথা স্মরণ করে দিচ্ছেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলছেন বলে দাও, যদি তাদের মত তোমাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার আযাব দেন অথবা কিয়ামত আসে তখন কি আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে অন্যান্য মা‘বূদদেরকে ডাকবে? না বরং মুশরিকরা বিপদে পড়লে আল্লাহ তা‘আলাকে ডাকে আর বিপদ থেকে মুক্ত হলে আবার শির্কে লিপ্ত হয়।



যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(فَإِذَا رَكِبُوْا فِي الْفُلْكِ دَعَوُا اللّٰهَ مُخْلِصِيْنَ لَهُ الدِّيْنَ ﹰ فَلَمَّا نَجَّاهُمْ إِلَي الْبَرِّ إِذَا هُمْ يُشْرِكُوْنَ)‏



“তারা যখন নৌযানে আরোহন করে তখন তারা বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহকে ডাকে। অতঃপর তিনি যখন স্থলে ভিড়িয়ে তাদেরকে রক্ষা করেন, তখন তারা শির্কে লিপ্ত হয়।”(সূরা আনকাবূত ২৯:৬৫)



আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:



(وَإِذَا مَسَّكُمُ الضُّرُّ فِي الْبَحْرِ ضَلَّ مَنْ تَدْعُوْنَ إِلَّآ إِيَّاهُ ج فَلَمَّا نَجَّاكُمْ إِلَي الْبَرِّ أَعْرَضْتُمْ ط وَكَانَ الْإٍنْسَانُ كَفُوْرًا)‏



“সমুদ্রে যখন তোমাদেরকে বিপদ স্পর্শ করে তখন কেবল তিনি ব্যতীত অপর যাদেরকে তোমরা আহ্বান করে থাক, তারা অন্ত‎র্হিত হয়ে যায়; অতঃপর তিনি যখন তোমাদেরকে উদ্ধার করে স্থলে আনেন তখন তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও। মানুষ অতিশয় অকৃতজ্ঞ।”(সূরা ইসরা ১৭:৬৭)



এ ছাড়াও সূরা ইউনুসের ২২-২৩ নং আয়াতে এ ব্যাপারে উল্লেখ রয়েছে।



কিন্তু আমাদের দেশের কিছু মানুষের অবস্থা তৎকালীন মক্কার মুশরিকদের চেয়ে জঘন্য। মক্কার মুশরিকরা বিপদ-আপদে সকল মা‘বূদ ছেড়ে দিয়ে একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাকে ডাকত। আর আমাদের দেশের একশ্রেণির নামধারী মুসলিম বিপদ-আপদে আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে বিভিন্ন মাযারে, খানকায়, অলী-আওলিয়া, পীর ও গাউস কুতুব নামে পরিচিতদের কাছে দৌড়ায় যা প্রকাশ্য শির্ক। আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন॥



(فَلَمَّا نَسُوْا مَا ذُكِّرُوْا بِه)



‘তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা যখন তা বিস্মৃত হল’ অর্থাৎ যখন তারা আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশিত আমল বর্জন করতঃ মুখ ফিরিয়ে নিল তখন আল্লাহ তা‘আলা তাদের পরীক্ষার জন্য পার্থিব সুখ-সমৃদ্ধির যাবতীয় দরজা খুলে দিলেন। তারপর যখন তারা তাতে একেবারে নিমগ্ন হয়ে পড়ল এবং নিজেদের আর্থিক উন্নতির জন্য চরম অহংকার প্রদর্শন করতে আরম্ভ করল। তখন হঠাৎ আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে পাকড়াও করলেন। নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যখন তোমরা দেখবে যে, আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতা সত্ত্বেও কাউকে তার ইচ্ছা অনুযায়ী পার্থিব সুখ দিচ্ছেন, তখন জানবে এটা তার জন্য পরীক্ষার স্বরূপ অবকাশ, অতঃপর তিনি এ আয়াত তেলাওয়াত করেন। (সিলসিলা সহীহাহ হা: ৪১৪)



(دَابِرُ الْقَوْمِ) ‘সম্প্রদায়ের মূলোচ্ছেদ করা হল’অর্থাৎ জাতির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকলকে ধ্বংস করে দেন।

সুতরাং পূর্ববর্তী অবাধ্য জাতিদের পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত। বিপদ-আপদ ও সুখ-সাচ্ছন্দ্যে সর্বদা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলাকে আহ্বান করাই আমাদের কর্তব্য।



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. পূর্ববর্তী জাতিকে বিভিন্ন বিপদ-আপদ দ্বারা পরীক্ষা করা হয়েছিল।

২. তারা বিপদের সম্মুখীন হয়ে আরো খারাপ হয়েছে।

৩. তৎকালীন মক্কার মুশরিকগণ বিপদে পড়লে সকল মা‘বূদ বাদ দিয়ে এক আল্লাহকে ডাকত।

৪. আমাদের দেশের নামধারী মুসলিম মুশরিকরা বিপদে পড়লে আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে অন্যান্য জীবিত, মৃত ব্যক্তি ও মা‘বূদকে ডাকে।

৫. আল্লাহ তা‘আলা পার্থিব জীবনে অপরাধী মানুষকে অবকাশ দিলেও পরকালে কোন ছাড় দিবেন না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৪০-৪৫ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা স্বীয় সৃষ্টির মধ্যে সর্ব প্রকারের ক্ষমতা প্রয়োগে সক্ষম। না কেউ তার কোন হুকুম পরিবর্তন করতে পারে, না তার নির্দেশকে পিছনে ফেলতে পারে। যদি তার কাছে কিছু চাওয়া হয় তবে ইচ্ছা করলে তিনি তা কবূল করে থাকেন। তিনি বলেনঃ তোমরা কি দেখ না যে, যদি হঠাৎ করে কিয়ামত এসে পড়ে কিংবা আকস্মিকভাবে আল্লাহর শাস্তি এসে যায় তবে তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কাউকেও ডাকবে না। কেননা, তোমরা জান যে, আল্লাহ ছাড়া আর কেউ এই শাস্তি সরাতে পারে না। যদি তোমরা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকেও মাবুদ বলে মেনে নেয়ার ব্যাপারে সত্যবাদী হও তবে চিন্তা করে দেখ তো, তখন তো তোমরা আল্লাহকেই ডাকতে থাকবে। অতঃপর তিনি ইচ্ছা করলে ঐ শাস্তি সরিয়ে দেবেন। ঐ সময় তোমরা ঐসব অংশীদার ও প্রতিমাকে ভুলে যাবে। সমুদ্রে অবস্থানরত অবস্থায় যখন তোমরা কোন বিপদে পতিত হও তখন অন্যান্য অংশীদারদেরকে ভুলে গিয়ে তোমরা একমাত্র আল্লাহকেই ডেকে থাক।

আল্লাহ পাক বলেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতদের নিকটেও আমি নবীদেরকে পাঠিয়েছিলাম। যখন তারা তাদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তখন আমি তাদেরকে ক্ষুধা ও সংকীর্ণতার শাস্তিতে জড়িয়ে ফেলি এবং ব্যাধি ও রোগ যন্ত্রণায় ভুগতে থাকি। উদ্দেশ্য এই যে, তারা যেন একমাত্র আমাকেই ডাকতে থাকে এবং আমার কাছে বিনয় ও নম্রতা প্রকাশ করে। তাহলে যখন আমি তাদেরকে শাস্তি প্রদান করি তখন তারা আমার নিকট বিনয়ী হয় না কেন? কথা এই যে, তাদের অন্তর পাথরের মত শক্ত হয়ে গেছে। তাই কোন কিছুই তাতে ক্রিয়াশীল হয় না। শয়তান তাদের শিক ও বিদ্রোহমূলক কার্যকলাপকে তাদের চোখে শোভনীয় করে তুলেছে। সুতরাং তারা যখন আমার সতর্কবাণীকে ভুলে গেছে এবং ঈমানের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করছে, আমি তখন তাদের জীবিকার দরজাকে পূর্ণভাবে খুলে দিয়েছি, যেন তাদের রশি আরও ঢিল পড়ে যায়। তারা যখন আল্লাহর বিধান ভুলে গিয়ে পার্থিব সুখ-শান্তিতে মেতে উঠেছে এবং ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির মোহে পড়ে আমাকে সম্পূর্ণরূপে ভুলে বসেছে, এমতাবস্থায় হঠাৎ তাদের উপর আমার শাস্তি নেমে এসেছে কিংবা তারা মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে। হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেনঃ “যার জীবিকা প্রশস্ত হয়ে যায় সে এ কথা চিন্তাই করে না যে, এটাও আল্লাহ পাকের একটা পরীক্ষামূলক নীতি, পক্ষান্তরে যার জীবিকা সংকীর্ণ হয়ে যায় সেও এটা চিন্তা করে না যে, তাকে পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং অবকাশ দেয়া হচ্ছে। কা'বার প্রভুর শপথ! যখন আল্লাহ তা'আলা পাপীকে পাকড়াও করার ইচ্ছা করেন তখন তাকে তিনি পার্থিব সুখ-শান্তিতে ডুবিয়ে দেন। কাতাদা (রঃ) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা কোন কওমকে ততক্ষণ পর্যন্ত পাকড়াও করেননি যতক্ষণ পর্যন্ত তারা সুখ সাগরে নিমগ্ন না হয়েছে। প্রতারিত হয়ো না। ফাসিক ও পাপী লোকেরাই প্রতারিত হয়ে থাকে। (আরবী) দ্বারা পার্থিব সুখ-শান্তি ও স্বচ্ছলতাকেই বুঝানো হয়েছে। ইবনুল আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “যখন তোমরা কাউকে দেখতে পাও যে, সে আল্লাহর নাফরমানী করছে, অথচ আল্লাহ তাকে পার্থিব সুখ-সম্পদে ডুবিয়ে রেখেছেন তখন তুমি বিশ্বাস করে নাও যে, এটা ছিল আল্লাহ পাকের তাকে ঢিল দেয়ার সময় এবং তা এখন শেষ হতে চলেছে।” অতঃপর তিনি উক্ত আয়াতটি পাঠ করেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ তা'আলা যখন কোন কওমকে অবশিষ্ট রাখার এবং তাদেরকে উন্নতি প্রদানের ইচ্ছে করেন তখন তাদেরকে পবিত্র থাকার এবং মধ্যমপন্থা অবলম্বী হওয়ার তাওফীক দান করে থাকেন। পক্ষান্তরে যে কওমের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার তিনি ইচ্ছে করেন। তাদের উপর তিনি খিয়ানতের দরযা খুলে দেন এবং যখন সে গর্বিত হয়ে পড়ে তখন হঠাৎ তাকে পাকড়াও করেন। ফলে সে নিরাশ হয়ে বসে পড়ে। অতঃপর ঐ কওমের মূল শিকড় কেটে ফেলা হয়। আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বপ্রভু আল্লাহরই জন্যে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।