আল কুরআন


সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 32)

সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 32)



হরকত ছাড়া:

وما الحياة الدنيا إلا لعب ولهو وللدار الآخرة خير للذين يتقون أفلا تعقلون ﴿٣٢﴾




হরকত সহ:

وَ مَا الْحَیٰوۃُ الدُّنْیَاۤ اِلَّا لَعِبٌ وَّ لَهْوٌ ؕ وَ لَلدَّارُ الْاٰخِرَۃُ خَیْرٌ لِّلَّذِیْنَ یَتَّقُوْنَ ؕ اَفَلَا تَعْقِلُوْنَ ﴿۳۲﴾




উচ্চারণ: ওয়া মাল হায়া-তুদ দুনইয়াইল্লা-লা‘ইবুওঁ ওয়া লাহ উরঁ ওয়া লাদ্দা-রুল আ-খিরাতু খাইরুল লিল্লাযীনা ইয়াত্তাকূনা আফালা-তা‘কিলূন।




আল বায়ান: আর দুনিয়ার জীবন খেলাধুলা ও তামাশা ছাড়া কিছু না। আর যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য আখিরাতের আবাস উত্তম। অতএব তোমরা কি বুঝবে না?




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩২. আর দুনিয়ার জীবন তো খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য আখেরাতের আবাসই উত্তম; অতএব, তোমরা কি অনুধাবন কর না?




তাইসীরুল ক্বুরআন: দুনিয়ার জীবন খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই না। যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য পরকালের জীবনই অতি কল্যাণময়, তবুও কি তোমাদের বোধদয় হবে না?




আহসানুল বায়ান: (৩২) আর পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক বৈ আর কিছুই নয়। আর যারা সাবধানতা অবলম্বন করে তাদের জন্য পরকালের আবাসই শ্রেয়, তোমরা কি (তা) অনুধাবন কর না?



মুজিবুর রহমান: এই পার্থিব জীবন খেল-তামাশা ও আমোদ প্রমোদের ব্যাপার ছাড়া আর কিছুই নয়, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, পরকালের জীবনই হবে তাদের জন্য উৎকৃষ্টতর। তোমরা কি চিন্তা ভাবনা করবেনা?



ফযলুর রহমান: এই দুনিয়ার জীবন খেলা ও আমোদ-প্রমোদ ছাড়া কিছু নয়। তবে যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য আখেরাতের আবাস অনেক ভাল। তোমরা কি বোঝ না?



মুহিউদ্দিন খান: পার্থিব জীবন ক্রীড়া ও কৌতুক ব্যতীত কিছুই নয়। পরকালের আবাস পরহেযগারদের জন্যে শ্রেষ্টতর। তোমরা কি বুঝ না ?



জহুরুল হক: আর এই দুনিয়ার জীবন ছেলেখেলা ও কৌতুক বই আর কিছুই নয়। আর পরকালের আবাসই শ্রেষ্ঠ তাদের জন্য যারা ধর্মপরায়ণতা পালন করে। তবে কি তোমরা অনুধাবন করো না?



Sahih International: And the worldly life is not but amusement and diversion; but the home of the Hereafter is best for those who fear Allah, so will you not reason?



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩২. আর দুনিয়ার জীবন তো খেল-তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয় এবং যারা তাকওয়া অবলম্বন করে তাদের জন্য আখেরাতের আবাসই উত্তম; অতএব, তোমরা কি অনুধাবন কর না?


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩২) আর পার্থিব জীবন তো ক্রীড়া-কৌতুক বৈ আর কিছুই নয়। আর যারা সাবধানতা অবলম্বন করে তাদের জন্য পরকালের আবাসই শ্রেয়, তোমরা কি (তা) অনুধাবন কর না?


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৩১-৩২ নং আয়াতের তাফসীর:



ঈমানের ছয়টি রুকনের অন্যতম একটি হল পরকালের প্রতি ঈমান। কেউ ঈমানের সকল রুকনের প্রতি বিশ্বাস করল কিন্তু পরকালের প্রতি ঈমান আনল না তাহলে তার কোন নেক আমল গ্রহণযোগ্য হবে না। সকল যুগের নাস্তিক ও বস্তুবাদীদের ন্যায় মক্কার মুশকিরদের ধারণা ছিল মানুষের পরিণতি দুনিয়াতেই শেষ। অন্যান্য বস্তু যেমন পচে গলে মাটিতে মিশে যায়, মানুষও তেমনি মাটি হয়ে শেষ হয়ে যাবে। অতএব খাও-দাও ফুর্তি কর, শক্তি ও সাধ্যমত অন্যের উপর জুলুম কর। পরকাল, হিসাব-নিকাশ, কিয়ামত, জান্নাত-জাহান্নাম ইত্যাদি কিছুই নেই। নাস্তিক্যবাদী পরকাল অস্বীকারকারীদের সতর্ক সাবধান করে আল্লাহ তা‘আলা বলছেন: যারা কিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাসী নয় তারাই ক্ষতিগ্রস্থ। হঠাৎ যখন কিয়ামত চলে আসবে তখন আফসোস করে বলবে এ কিয়ামত সম্পর্কে আমরা অবজ্ঞা করেছিলাম। মু’মিনরা আমাদেরকে পরকাল সম্পর্কে সতর্ক করলে আমরা অসম্ভব মনে করতাম এবং পূর্ববর্তীদের রূপকথা বলে বর্জন করতাম। কিয়ামতের দিন এসব নাস্তিক কাফির-মুশরিকরা তাদের পাপের বোঝা পিঠে বহন করে উপস্থিত হবে। সেদিন কতই না অপমানজনক অবস্থা হবে তাদের।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, দুনিয়া খেল-তামাশার বস্তুর মত তুচ্ছ। এর কোন মূল্য আল্লাহ তা‘আলার কাছে নেই। দুনিয়ার সব কিছু ক্ষণস্থায়ী, অনিশ্চিত ও নশ্বর। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: অতএব সকলকে সতর্ক হওয়া উচিত; আরো উচিত দুুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সুখ-শান্তি, ক্ষমতা ও রাজত্বের ধোঁকায় না পড়ে আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে চিরস্থায়ী ঠিকানার জন্য পাথেয় তৈরি করা। যারা আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে দুনিয়ার ওপর আখেরাতকে প্রাধান্য দেয় তাদের জন্য পরকালই শ্রেষ্ঠ। সেখানে জীবনের, সুখ-শান্তির কোন শেষ নেই, কোন দুশ্চিন্তা নেই, বরং সবাই এক অনন্ত ও অনাবিল জীবন যাপন করবে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে দুনিয়ার ওপর আখেরাতকে প্রাধান্য দেয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন॥



আয়াত থেকে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. পরকালসহ ইসলামের মূলনীতিতে যারা বিশ্বাসী নয়, তারাই পরকালে ক্ষতিগ্রস্থ হবে, তারা জাহান্নামে যাবে।

২. কিয়ামত সংঘটিত হবার আগে তাওবাহ না করে মারা গেলে পরে আফসোস করে কোন উপকার হবে না।

৩. কিয়ামতের দিন অপরাধীরা তাদের অপরাধের বোঝা পিঠে নিয়ে উঠবে।

৪. মুত্তাকিদের জন্য পরকালই উত্তম আর পার্থিব জীবন কষ্টদায়ক।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৩১-৩২ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ হওয়াকে যারা অস্বীকার করে তাদের সম্পর্কে এবং তাদের উদ্দেশ্য সফল না হওয়া ও তাদের নৈরাশ্য সম্পর্কে বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। আল্লাহ পাক বলছেন যে, যখন কিয়ামত হঠাৎ এসে পড়বে তখন তারা তাদের খারাপ আমলের জন্যে কতই না লজ্জিত হবে! তারা বলবে ? হায়! আমরা যদি সত্যের বিরোধিতা না করতাম তবে কতই না ভাল হতো! (আরবী) শব্দের সর্বনামটি পার্থিব জীবনের দিকেও ফিরতে পারে এবং আমলের দিকেও ফিরতে পারে।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তারা তাদের গুনাহর বোঝা নিজেদের পিঠে বহন করবে এবং যেই বোঝা তারা বহন করবে সেটা কতই না জঘন্য বোঝা! হযরত কাতাদা (রঃ) (আরবী) শব্দটিকে (আরবী) পড়তেন। ইবনে আবি হাতিম (রঃ) আবু মিরযাওক (রঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেনঃ যখন কাফির বা পাপী ব্যক্তি কবর থেকে উঠবে তখন একটা অত্যন্ত জঘন্য আকৃতির লোক তাকে অভ্যর্থনা করবে। তার থেকে ভীষণ দুর্গন্ধ ছুটবে! ঐ কাফির ব্যক্তি তখন তাকে জিজ্ঞেস করবে, তুমি কে? সে উত্তরে বলবেঃ “তুমি আমাকে চিনতে পারছো না? আমি তো তোমারই নিকৃষ্ট আমলের প্রতিকৃতি, যে আমল তুমি দুনিয়ায় করতে। দুনিয়ায় বহু দিন যাবত তুমি আমার উপর সওয়ার ছিলে। এখন আমি তোমার উপর সওয়ার হবো। (এটা ইবনে আবি হাতিম আমর ইবনে কায়েসের হাদীস থেকে আবু মিরযাওক হতে বর্ণনা করেছেন) এই পরিপ্রেক্ষিতেই বলা হয়েছে যে, তারা তাদের পিঠের উপর তাদের বোঝা বহন করবে। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, যখনই কোন পাপী ব্যক্তিকে কবরে প্রবেশ করানো হয় তখনই এক অত্যন্ত জঘন্য প্রতিকৃতি তার কাছে এসে থাকে। ঐ প্রতিকৃতি অত্যন্ত কৃষ্ণ বর্ণের এবং ওর পরনের কাপড় খুবই ময়লাযুক্ত। তার থেকে বিকট দুর্গন্ধ ছুটতে থাকে। সে ঐ ব্যক্তির কবরে অবস্থান করতে থাকে। সে তাকে দেখে বলে, তোমার চেহারা কতই জঘন্য।” সে তখন বলে, আমি তোমার জঘন্য কাজেরই প্রতিকৃতি। তোমার কাজগুলো ছিল এই রূপই দুর্গন্ধময়।' সে বলবেঃ তুমি কে?' সেই প্রতিকৃতি উত্তরে বলবেঃ ‘আমি তোমারই আমল। অতঃপর সে কিয়ামত পর্যন্ত তার সাথে তার কবরেই অবস্থান করবে। কিয়ামতের দিন সে তাকে বলবেঃ দুনিয়ায় আমি তোমাকে কাম ও উপভোগের আকারে বহন করে এসেছিলাম। আজ তুমিই আমাকে বহন করবে। অতঃপর তার আমলের প্রতিকৃতি তার পিঠের উপর সওয়ার হয়ে তাকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাবে। এই আয়াতের ব্যাখ্যা এটাই। ইরশাদ হচ্ছে যে, পার্থিব জীবন খেল তামাশা ও আমোদ-প্রমোদের ব্যাপার ছাড়া আর কিছুই নয়, আর মুত্তাকীদের জন্যে পরকালই হচ্ছে মঙ্গলময়।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।