আল কুরআন


সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 149)

সূরা আল-আন‘আম (আয়াত: 149)



হরকত ছাড়া:

قل فلله الحجة البالغة فلو شاء لهداكم أجمعين ﴿١٤٩﴾




হরকত সহ:

قُلْ فَلِلّٰهِ الْحُجَّۃُ الْبَالِغَۃُ ۚ فَلَوْ شَآءَ لَهَدٰىکُمْ اَجْمَعِیْنَ ﴿۱۴۹﴾




উচ্চারণ: কুল ফালিল্লা-হিল হুজ্জাতুল বা-লিগাতু ফালাও শাআ লাহাদা-কুম আজমা‘ঈন।




আল বায়ান: বল, ‘চূড়ান্ত প্রমাণ আল্লাহরই। সুতরাং যদি তিনি চান, অবশ্যই তোমাদের সবাইকে হিদায়াত দেবেন।’




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৪৯. বলুন, চূড়ান্ত প্রমাণ তো আল্লাহরই(১); সুতরাং তিনি যদি ইচ্ছে করতেন, তবে তোমাদের সবাইকে অবশ্যই হিদায়াত দিতেন।




তাইসীরুল ক্বুরআন: চূড়ান্ত সত্য-নির্ভর প্রমাণ তো আল্লাহর কাছে আছে, আল্লাহ যদি চাইতেন তাহলে তিনি অবশ্যই তোমাদের সকলকে সত্যপথে পরিচালিত করতেন।




আহসানুল বায়ান: (১৪৯) বল, ‘চূড়ান্ত প্রমাণ তো আল্লাহরই। তিনি যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে তোমাদের সকলকে সৎপথে পরিচালিত করতেন।’



মুজিবুর রহমান: তুমি বলে দাওঃ সত্য ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ দলীল প্রমাণতো একমাত্র আল্লাহরই রয়েছে, তিনি চাইলে তোমাদের সবাইকে হিদায়াত দান করতেন।



ফযলুর রহমান: বল, “পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ তো আল্লাহর কাছেই। অতএব, তিনি যদি চাইতেন তাহলে অবশ্যই তোমাদের সকলকে সঠিক পথে চালাতেন।”



মুহিউদ্দিন খান: আপনি বলে দিনঃ অতএব, পরিপূর্ন যুক্তি আল্লাহরই। তিনি ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে পথ প্রদর্শন করতেন।



জহুরুল হক: বলো -- "তবে চূড়ান্ত যুক্তি-তর্ক আল্লাহ্‌রই, কাজেই তিনি যদি ইচ্ছা করতেন তবে তোমাদের সবাইকে তিনি সৎপথে পরিচালিত করতেন।"



Sahih International: Say, "With Allah is the far-reaching argument. If He had willed, He would have guided you all."



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৪৯. বলুন, চূড়ান্ত প্রমাণ তো আল্লাহরই(১); সুতরাং তিনি যদি ইচ্ছে করতেন, তবে তোমাদের সবাইকে অবশ্যই হিদায়াত দিতেন।


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ আল্লাহর কাছেই চুড়ান্ত প্রমাণাদি। তাঁর প্রমাণাদি দ্বারা তিনি তোমাদের যাবতীয় ধারণা ও অনুমানের মুলোৎপাটন করতে পারেন। [মুয়াস্‌সার]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৪৯) বল, ‘চূড়ান্ত প্রমাণ তো আল্লাহরই। তিনি যদি ইচ্ছা করতেন, তাহলে তোমাদের সকলকে সৎপথে পরিচালিত করতেন।’


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১৪৮-১৫০ নং আয়াতের তাফসীর:



تَخْرُصُوْنَ অর্থাৎ তোমরা মিথ্যা বলছ।



الْحُجَّةُ الْبَالِغَةُ



অর্থাৎ বাতিল দাবীর বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ।



يَعْدِلُوْنَ অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার সাথে মূর্তি ও অন্যান্য বাতিল মা‘বূদদেরকে সমতুল্য করে।



এ আয়াতগুলোতে একটি বিতর্কের অবতারণা করা হয়েছে। মুশরিকরা তাদের শির্ক ও হালালকে হারাম করে নেয়া সম্পর্কে যে দলীল প্রমাণ পেশ করে থাকে আল্লাহ তা‘আলা তার বর্ণনা দিচ্ছেন।



তাদের দাবী, আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করলে আমাদের মন পরিবর্তন করতে পারতেন। ঈমান আনার তাওফীক দিতে পারতেন। তিনিই ঈমান আনতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন তাই আমরা শির্কে লিপ্ত রয়েছি। অতএব আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছায় আমরা শির্ক করছি। অনুরূপভাবে তারা বলত:



(لَوْ شَا۬ءَ الرَّحْمٰنُ مَا عَبَدْنٰهُمْ)



“দয়াময় আল্লাহ ইচ্ছা করলে আমরা এদের পূজা করতাম না।”(সূরা যুখরুফ ৪৩:২০)



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَقَالَ الَّذِيْنَ أَشْرَكُوْا لَوْ شَا۬ءَ اللّٰهُ مَا عَبَدْنَا مِنْ دُوْنِه۪ مِنْ شَيْءٍ)



“মুশরিকরা বলে, ‘আল্লাহ ইচ্ছা করলে আমাদের পিতৃ-পুরুষেরা ও আমরা তাঁকে ব্যতীত অপর কোন কিছুর ‘ইবাদত করতাম না।’(সূরা নাহল ১৬:৩৫)



আল্লাহ তা‘আলা তাদের এ দাবীর প্রতিবাদ করে বলেন:



(وَقَالُوْا لَوْ شَا۬ءَ الرَّحْمٰنُ مَا عَبَدْنٰهُمْ ط مَا لَهُمْ بِذٰلِكَ مِنْ عِلْمٍ ق إِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُوْن) ‏



“তারা বলে, দয়াময় আল্লাহ ইচ্ছা করলে আমরা এদের পূজা করতাম না। এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই; তারা তো শুধু অনুমানভিত্তিক কথা বলে।”(সূরা যুখরুফ ৪৩:২০)



তাদের এ সব দাবী ও সংশয় কয়েক দিকে থেকে অযৌক্তিক ও ভ্রান্ত। ১. তাদের দাবী সত্য হলে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে শাস্তি দিতেন না। ২. দাবীর নির্ভরযোগ্য প্রমাণ থাকতে হবে। তাদের দাবীর প্রমাণ কেবল ধারণা ও অনুমান যা সত্যের কোন উপকারে আসে না। ৩. সকল অকাট্য প্রমাণ একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার, কারো কোন ওযর বাকি নেই। যে অকাট্য প্রমাণের ব্যাপারে সকল নাবী রাসূল, আসমানি কিতাব ও সুস্থ বিবেক একমত। ৪. আল্লাহ তা‘আলা বান্দার ওপর যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা পালনের ক্ষমতা ও স্বাধীনতা প্রদান করেছেন। সুতরাং তিনি বান্দার ওপর এমন কিছু চাপিয়ে দেননি যা তাদের পক্ষে পালন করা সম্ভব হবে না আর এমন কিছু হারাম করে দেননি যা বর্জন করা অসম্ভব। ৫. আল্লাহ তা‘আলা কোন বান্দাকে কোন কাজ করার জন্য বাধ্য করেননি। বরং তাদের ইখতিয়ারাধীন করে দিয়েছেন। ইচ্ছা হলে করবে, ইচ্ছা না হলে করবে না। (তাফসীর সা’দী পৃঃ ২৭৫-২৭৬)



এ সম্পর্কে এ সূরাতেই পূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।



প্রসিদ্ধ তাবেয়ী যহহাক (রহঃ) বলেন: যারা আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য তাদের কোন প্রমাণ নেই বরং সকল প্রমাণ আল্লাহ তা‘আলার পক্ষে। আল্লাহ তা‘আলা যা ইচ্ছা তাই করেন। তিনি বলেন:



(وَلَوْ شَا۬ءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَّاحِدَةً وَّلَا يَزَالُوْنَ مُخْتَلِفِيْنَ - إِلَّا مَنْ رَّحِمَ رَبُّكَ ط وَلِذٰلِكَ خَلَقَهُمْ ط وَتَمَّتْ كَلِمَةُ رَبِّكَ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِيْنَ)



“তোমার প্রতিপালক ইচ্ছা করলে সমস্ত‎ মানুষকে এক জাতি করতে পারতেন, কিন্তু তারা মতভেদ করতেই থাকবে, তবে তারা নয়, যাদেরকে তোমার প্রতিপালক দয়া করেন এবং তিনি তাদেরকে এজন্যই সৃষ্টি করেছেন। ‘আমি জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করবই; তোমার প্রতিপালকের এ কথা পূর্ণ হবেই।”(সূরা হূদ ১১:১১৮-১১৯)



আল্লাহ তা‘আলার কাছে তাঁর কাজের জন্য কৈফিয়ত চাওয়ার কেউ নেই। কিন্তু তিনি বান্দাদের কাজের জন্য কৈফিয়ত চাইবেন। সুতরাং আল্লাহ তা‘আলাকে দোষ দিয়ে পরকালে পার পাওয়া যাবে না, বরং নিজের কাজের জন্য নিজেকেই আসফোস করতে হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. তাকদীরের দোহাই দিয়ে অপরাধ করা ও তার ওপর বহাল থাকা ইবলিসের স্বভাব।

২. যে প্রমাণের কোন নির্ভরযোগ্য সূত্র নেই তার কোন মূল্য নেই।

৩. সাক্ষ্য দেয়া ও সাক্ষী হাজির করা শরীয়তসম্মত বিষয়।

৪. যারা আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শনাবলী অস্বীকার করে তাদের অনুসরণ করা হারাম।

৫. আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করেন, তাঁর ইচ্ছার ওপর সব কিছু নির্ভর করে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৪৮-১৫০ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে একটা বিতর্কের অবতারণা করা হয়েছে এবং মুশরিকরা নিজেদের শিরক ও হালালকে হারাম করে নেয়া সম্পর্কে যে সন্দেহ পোষণ করতে, আল্লাহ পাক তার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি তাদের শিক ও হারাম করে নেয়া সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করছেন। সেই সন্দেহ ছিল এই যে, তারা বলতো-আল্লাহ ইচ্ছা করলে আমাদের মনকে পরিবর্তন করতে পারতেন, তিনি আমাদেরকে ঈমানের তাওফীক প্রদানে সক্ষম ছিলেন এবং আমাদের প্রতিবন্ধক হয়ে তিনি আমাদেরকে কুফরী থেকে বিরত রাখতে পারতেন। কিন্তু এরূপ যখন তিনি করেননি তখন এটা প্রমাণিত হলো যে, তিনি এটাই চান এবং আমাদের এই কাজে তিনি সম্মত। তাই মহান আল্লাহ তাদের কথার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ আল্লাহ চাইলে আমরা শিক করতাম এবং আমাদের বাপ-দাদারাও না, না আমরা কোন জিনিসকে হারাম করে নিতাম। অনুরূপভাবে তারা বলতোঃ (আরবী) অর্থাৎ “আল্লাহ যদি চাইতেন তবে আমরা তাদের ইবাদত করতাম না।” (৪৩:২০) সুতরাং আল্লাহ তাআলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “এরূপই তাদের পূর্ববর্তী লোকেরাও মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল।” ভাবার্থ এই যে, এভাবেই পূর্ববর্তী লোকেরাও পথভ্রষ্ট হয়েছিল। আর এটা হচ্ছে খুবই নিম্নমানের, ভিত্তিহীন ও ছেলেমি যুক্তি। যদি এটা সঠিক হতো তবে তাদের পূর্ববর্তীদের উপর কখনও আল্লাহর শাস্তি আসতো না এবং তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হতো না। আর মুশরিকদেরকে প্রতিশোধের শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করতে হতো না। আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে সম্বোধন করে বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি ঐ কাফির ও মুশরিকদেরকে বলে দাও-তোমরা কি করে জানতে পারলে যে, আল্লাহ তোমাদের কাজে সন্তুষ্ট? যদি তোমাদের এ দাবীর পিছনে কোন দলীল থাকে তবে তা পেশ কর। তোমরা কখনও এটা প্রমাণ করতে পারবে না। তোমরা শুধু অনুমান ও মিথ্যা ধারণার পিছনে পড়ে রয়েছ। ধারণা দ্বারা এখানে উদ্দেশ্য হচ্ছে বাজে বিশ্বাস। তোমরা শুধুমাত্র আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করছে। এই মুশরিকরা বলে- “আমরা শুধু এই উদ্দেশ্যে মূর্তির উপাসনা করছি যে, তাদের মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবো।” আল্লাহ বলেন যে, তারা তাদের মাধ্যমে কখনও আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারবে না ।

(আরবী) আল্লাহ যদি চাইতেন তবে তারা শিরক করতো না। (৬:১০৭) ভাবার্থ এই যে, আল্লাহ ইচ্ছা করলে সবাই যে হিদায়াত লাভ করতে এতে কোন সন্দেহ নেই। সত্যভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ দলীল প্রমাণ তো একমাত্র আল্লাহরই রয়েছে। তিনি ইচ্ছা করলে সবাই সুপথ প্রাপ্ত হয়ে যাবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, হে মুহাম্মাদ (সঃ)! তুমি বলে দাও যে, আল্লাহর হুজ্জত বা দলীল হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ দলীল এবং তাঁর হিকমত হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ হিকমত। কে যে হিদায়াত লাভের অধিকারী এবং কে পথভ্রষ্ট হওয়ার যোগ্য তা তিনিই ভাল জানেন। সবকিছুই তার ক্ষমতা ও ইচ্ছার মধ্যে রয়েছে। তিনি মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং কাফিরদের প্রতি অসন্তুষ্ট। তিনি ইচ্ছা করলে ভূ-পৃষ্ঠের সমস্ত লোকই ঈমান আনতে। তিনি চাইলে সবকে একই কওম ও একই জাতি বানিয়ে দিতেন। তিনি যে ওয়াদা করেছেন যে, জাহান্নামকে তিনি দানব ও মানব দ্বারা পূর্ণ করবেন। তার এ ওয়াদা পূর্ণ হবেই। বিদ্রোহী ও বিরুদ্ধবাদীদের কোনই দলীল নেই। তাই আল্লাহ পাক স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে সম্বোধন করে বলেনঃ তুমি তাদেরকে বলে দাও-যদি তোমাদের দাবীর অনুকূলে সাক্ষী থাকে তবে তাদেরকে হাযির কর, যারা সাক্ষ্য দেবে যে হ্যাঁ, আল্লাহ এসব জিনিস হারাম করেছিলেন। আর যদি তারা এ ধরনের মিথ্যাবাদী সাক্ষী হাযির করেও দেয় তবে হে নবী (সঃ)! তুমি কিন্তু এরূপ সাক্ষ্য দেবে না। কেননা তাদের এ সাক্ষ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক। তুমি ঐ লোকদের সঙ্গী হয়ো না যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, আখিরাতের উপর বিশ্বাস রাখে না এবং স্বীয় প্রভুর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে অন্যদেরকে তাঁর শরীক ও সমকক্ষ বানিয়ে নেয়।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।